দৈনিক জনকণ্ঠ || Daily Janakantha

ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১

waltonbd
waltonbd
Sopno
Sopno
adbilive
adbilive
SomajVabna
ইংল্যান্ডকে হারিয়ে  সেমির পথে এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে  সেমির পথে এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা

আইসিসি টি২০ বিশ^কাপে শুক্রবার সুপার এইটে  গ্রুপ-২ এর ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ৭ রানে হারিয়েছে ইংল্যান্ডকে। সেন্ট লুসিয়ার গ্রস আইলেটের ড্যারেন সামি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার ১৬৩ রানের জবাবে ইংল্যান্ড ১৫৬ রানের বেশি করতে পারেনি। সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার এটি টানা দ্বিতীয় জয়। ৪ পয়েন্ট নিয়ে তারা গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে এবং এই জয়ে সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল করে তুলল তারা। পক্ষান্তরে সমান ম্যাচে এটা ইংল্যান্ডের প্রথম হার। ২ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে চার দলের মধ্যে দুইয়ে।   মুদ্রা নিক্ষেপের ভাগ্য লড়াইয়ে জিতে আগে প্রতিপক্ষ প্রোটিয়া বাহিনীকে উইলোবাজি করতে পাঠায় ইংরেজ বাহিনী। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬৩ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর নিজেদের রান-একাউন্টে জমা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ওপেনার কাম উইকেট কিপার কুইন্টন ডি কক ছিলেন দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ৩৮ বলে ৪ বাউন্ডারি ও সমসংখ্যক ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ও ১৭১.০৫ স্ট্রাইক রেটে করেন ৬৫ রান। এ ছাড়া ডেভিড মিলারের ৪৩, রিজা হেনডিক্সের ১৯, ট্রিস্টান স্টাবসের ১২* রান ছিল উল্লেখযোগ্য। ইংলিশ গোলকবাজদের মধ্যে উইকেট শিকার করেন জোফরা আর্চার (৩/৪০), আদিল রশিদ (১/২০) ও মঈন আলী (১/২৫)।  জবাবে ১৬৪ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড ১.৫ ওভারেই দলীয় ১৫ রানে তাদের প্রথম উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়। আউট হন ওপেনার ফিল সল্ট (১১), যিনি আগের ম্যাচেই ম্যাচসেরা হয়েছিলেন। ৬.৫ ওভারে ওয়ান ডাউনে নামা জনি বেয়ারস্টো-ও (১৬) দলীয় ৪৩ রানে সাজঘরে ফিরলে বিপদ আরও বাড়ে ইংরেজ বাহিনীর। সেটা আরও গাঢ় হয় যখন অধিনায়ক-ওপেনার জস বাটলারও (১৭) প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন। ৮.৪ ওভারে তখন দলের রান ৩/৫৪। ১০.২ ওভারে মঈন আলী (৯) দলীয় ৬১ রানে আউট হলে তখন ইংল্যান্ডের হার যেন সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।

উৎসবমুখর আবহে  বিশ্ব সংগীত  দিবস উদ্যাপিত

উৎসবমুখর আবহে বিশ্ব সংগীত দিবস উদ্যাপিত

সুরের স্রোতধারা প্রফুল্ল করে হৃদয়কে। অশুভের বিরুদ্ধে জাগ্রত করে শুভবোধকে। বিকশিত করে মননকে। নব নব পত্রপুষ্পে ভরিয়ে তোলে জীবনকে। কল্পনাশক্তির বিকাশ ঘটায়। অন্তরের সূক্ষ্ম অনুভূতিকে স্পর্শ করে উস্কে দেয় মানবিকবোধকে। তাই সংগীত ছাড়া সভ্যতা যেন বিমর্ষ কিংবা অর্থহীন। আর শুক্রবার ছিল জীবনের সঙ্গে সংগীতের নিবিড় সংযোগ স্থাপনের অনন্য এক দিন। বিশ্ব সংগীত দিবস। সুরের আগুনে অসুরকে দমন করে কল্যাণময় পৃথিবীর প্রত্যাশায় উৎসবমুখর আবহে উদ্যাপিত হয়েছে দিবসটি। কণ্ঠশিল্পী থেকে যন্ত্রশিল্পীদের মাঝে বয়ে গেছে প্রাণের প্রচ্ছ্বাস। তাদের অংশগ্রহণে বের হয়েছে বর্ণিল শোভাযাত্রা।

১৫৪ ট্যানারির কাছে  জিম্মি চামড়া  শিল্প খাত

১৫৪ ট্যানারির কাছে জিম্মি চামড়া শিল্প খাত

সাভারের ১৫৪টি ট্যানারির কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে দেশের চামড়া শিল্প খাত। সরকার নির্ধারিত দাম কার্যকর না হওয়ায় বেকায়দায় পড়েছেন ঢাকার বাইরের জেলা শহরের চামড়া ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম, নাটোর, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেটসহ দেশের অন্যান্য জেলায় সংগৃহীত লবণযুক্ত চামড়া বেচাকেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহ নাগাদ জেলা শহরের কাঁচা চামড়া বিক্রির জন্য সাভারের হেমায়েতপুরের শিল্পনগরীতে নিয়ে আসা হবে। এ ছাড়া কয়েকদিনের মধ্যে লবণযুক্ত চামড়া ট্যানারিতে বিক্রির জন্য নিয়ে আসবেন ঢাকার পোস্তা এবং হাজারীবাগের আড়ত মালিক ব্যবসায়ীরা। কিন্তু কাক্সিক্ষত দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন এ খাতের উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তাদের আশঙ্কা, ট্যানারি মালিকরা নানা অজুহাতে সরকার নির্ধারিত দাম কার্যকর করছে না। এতে চামড়া পাচার হয়ে যেতে পারে ভারত ও  চীনে। কারণ এই দুই দেশে কাঁচা চামড়ার ভালো দাম রয়েছে। এই শঙ্কা থেকে সীমান্তে বিজিবি’র কড়া সতর্কতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ঈদের পর ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজার

ঈদের পর ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজার

ঈদের আগে শেয়ারবাজারে টানা দরপতন হলেও ঈদের পর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আগের কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবারও প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্যসূচক বেড়েছে। এর মাধ্যমে ঈদের পর লেনদেন হওয়া দুই কার্যদিবসেই শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মিলল। মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসই এবং সিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। সেই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। ডিএসইতে লেনদেন বেড়ে পাঁচশ’ কোটি টাকার কাছাকাছি চলে এসেছে। এর আগে অব্যাহত দরপতনের মধ্যে পড়ে ঈদের আগে এক মাসের মধ্যে ডিএসইর বাজার মূলধন প্রায় এক লাখ কোটি টাকা কমে যায়। আর ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক কমে প্রায় ৭০০ পয়েন্ট। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের আতঙ্ক দেখা দেয়। বাজারে ক্রেতা সংকট প্রকট হয়ে ওঠে। এ পরিস্থিতিতে ঈদের ছুটি শেষে শেয়ারবাজারে টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সেই সঙ্গে বাজারে ক্রেতা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। বাজারে বিক্রেতার তুলনায় ক্রেতা বেশি থাকায় বৃহস্পতিবার সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। এতে দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২৮৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৫টি প্রতিষ্ঠানের।

কর আদায়ে ১৬ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হবে এনবিআর

কর আদায়ে ১৬ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হবে এনবিআর

সিটি করপোরেশনের বাড়ির মালিকরা বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। অথচ বেশির ভাগেরই নেই করদাতা শনাক্তকরণ নাম্বার (টিআইএন)। করযোগ্য আয় থাকার পরও আয়কর রিটার্ন জমা দেন না তাঁরা। এতে কয়েক হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। কর ফাঁকি রোধ ও করযোগ্য ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে করের আওতায় আনতে নতুন চ্যালেঞ্জে নেমেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। জানা গেছে, এনবিআরের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকারি-বেসরকারি অন্তত ১৬টি প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে আন্তঃসংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে ২৫ শতাংশ, ২০৩১ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে শতভাগ আন্তঃসংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তথ্য বলছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও নারায়ণগঞ্জ শহর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) বর্তমান গ্রাহকসংখ্যা ১০ লাখ ২১ হাজার। এর মধ্যে মাত্র তিন লাখ ৬৫ হাজার ব্যক্তির টিআইএন রয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) বর্তমান গ্রাহকসংখ্যা ১২ লাখ ৪০ হাজার। তাদের আয়করের বিষয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া না গেলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, করজালের বাইরে আছেন অন্তত ৬০-৭০ শতাংশ গ্রাহক। এসব এলাকায় বিদ্যুতের গ্রাহক মানেই তাঁরা সবাই বাড়ি বা ফ্ল্যাটের মালিক। অর্থাৎ বাড়ির মালিক হওয়া সত্ত্বেও আয়কর রিটার্ন বা আয়কর দেন না তাঁরা। এটা মাঠ পর্যায়ে সেবা প্রদানকারী মাত্র দুটি সংস্থার চিত্র। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে গ্রাহকসেবা দিচ্ছে এমন ডজনখানেক সংস্থা। আয়কর কর্মকর্তাদের দাবি, এসব গ্রাহক প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকি দিচ্ছেন। এই রাজস্ব ফাঁকি রোধে এনবিআর তাদের সব সিস্টেমের সঙ্গে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিপিডিসি ও ডেসকো, বিআরটিএ, প্রধান আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের দপ্তর (সিসিআইঅ্যান্ডই), ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি), বিডা, বেপজা, বেজা, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বাংলাদেশ ব্যাংক, আইবাস++, বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংক, সিটি করপোরেশন, ভূমি মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসিকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মূলত আয়কর, ভ্যাট, আমদানি-রপ্তানি ও আবগারি শুল্ক আহরণের কার্যক্রম প্রযুক্তিনির্ভর পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও নিয়ন্ত্রণ করতেই এমন পরিকল্পনার পথে হাঁটছে এনবিআর। করের আওতা বাড়াতে গত কয়েক বছরে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে টিআইএনের আওতায় এনেছে এনবিআর। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি ৪৪টি সেবার বিপরীতে রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যার ইতিবাচক প্রভাব হিসেবে বর্তমানে টিআইএনধারীর সংখ্যা কোটি ছাড়িয়েছে। পাশাপাশি করের আওতা বাড়াতে ও কর ফাঁকি বন্ধ করতে মোটরযান ও নৌযান নিবন্ধন, সব ধরনের ট্রেড লাইসেন্স এবং ঠিকাদার তালিকাভুক্তি কিংবা নবায়নে আয়কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক করতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ২০২২ সাল থেকে চিঠি চালাচালি করে আসছে এনবিআর। বর্তমানে বিআরটিএ থেকে গাড়ি মালিকদের আর জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর থেকে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীদের ডাটা নিয়ে তথ্য যাচাই করার সুযোগ পাচ্ছে এনবিআরের আয়কর বিভাগ। যার সুফল আসতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন কর কর্মকর্তারা।  আয়কর আইন-২০২৩ অনুযায়ী ই-টিআইএন থাকলে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ দাখিল না করার সুযোগ নেই। কিন্তু অনেকেই আয় গোপন ও কর পরিহারের উদ্দেশ্যে রিটার্ন দাখিল থেকে বিরত থাকছেন। সর্বশেষ তথ্যানুসারে দেশে টিআইএনধারীর সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়েছে। যার মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন ৪১ লাখ ৪৫ হাজার ব্যক্তি।

স্বল্প আয়ের মানুষের ব্যাংক হিসাব ও আমানত বেড়েছে

স্বল্প আয়ের মানুষের ব্যাংক হিসাব ও আমানত বেড়েছে

দেশে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের ব্যাংক হিসাব ও আমানতের স্থিতি বেড়েছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে বড় আমানতকারী তথা কোটিপতিদের ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা কমে গেছে। জানা গেছে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সুবিধা দিতে ১০, ৫০ ও ১০০ টাকার ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ করে দিয়েছিল সরকার। এগুলোকে নো ফ্রিলস অ্যাকাউন্ট (এনএফএ) বলা হয়। তবে স্কুল ব্যাংকিং ও কর্মজীবী শিশুদের অ্যাকাউন্ট এই হিসাবের বাইরে। এই নো ফ্রিলস অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম ব্যালান্স বা সার্ভিস চার্জ/ফি নেই। সমাজের সবস্তরের মানুষের আর্থিক সেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন উদ্যোগের আওতায় এসব অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে।  এ ছাড়া সাধারণ চলমান সঞ্চয় হারের তুলনায় নো ফ্রিলস অ্যাকাউন্টগুলোতে বেশি হারে সুদ দেওয়া হয়। এই ব্যাংকিং সুবিধাভোগীর মধ্যে আছেন কৃষক, পোশাক শ্রমিক, অতিদরিদ্র, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধাভোগীসহ অনেকে। ২০২৪ সালের মার্চ শেষে ব্যাংকগুলোতে এসব স্বল্প আয়ের মানুষের হিসাব সংখ্যা, আমানত, প্রবাসী আয় আসা ও দুটি পুনঃঅর্থায়ন স্কিম থেকে ঋণগ্রহণ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে ১০, ৫০ ও ১০০ টাকা দিয়ে খোলা স্বল্প আয়ের মানুষের ব্যাংক হিসাবে আমানতের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৪৬৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আর চলতি বছরের মার্চ শেষে এসব হিসাবে আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৯১ কোটি ১০ লাখ টাকা। সেই হিসাবে ৩ মাসে ১০, ৫০ ও ১০০ টাকা দিয়ে খোলা হিসাবে আমানত বেড়েছে ২২৫ কোটি ৭ লাখ টাকা বা ৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ। প্রতিবেদন বলছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকগুলোতে নো ফ্রিল অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৬৯ লাখ ৮৩ হাজার ৫৬০টি। আর চলতি বছরের মার্চ শেষে ব্যাংকগুলোতে স্বল্প আয়ের মানুষের অ্যাকাউন্ট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৭২ লাখ ৬৩ হাজার ৮৬১টি। সেই হিসাবে তিন মাসে অ্যাকাউন্ট সংখ্যা বেড়েছে ২৮ হাজার ৩০১টি বা ১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে ১০, ৫০ ও ১০০ টাকার হিসাবধারীদের ২০০ কোটি ও ৫০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ ছিল ৭১১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। চলতি বছরের মার্চ শেষে ১০, ৫০ ও ১০০ টাকার হিসাবধারীদের দুটি পুনঃঅর্থায়ন স্কিম থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৬৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এ ছাড়া গত বছরের ডিসেম্বর শেষে এসব হিসাবের মাধ্যমে আসা মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল ৬৭৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। আর চলতি বছরের মার্চ শেষে এসব হিসাবের মাধ্যমে পাওয়া প্রবাসী আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৮৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

কৃষিতে নারীর শ্রম ॥ প্রয়োজন নিবন্ধন ও প্রণোদনা

কৃষিতে নারীর শ্রম ॥ প্রয়োজন নিবন্ধন ও প্রণোদনা

কৃষক পরিবারের নারীরা উদয়-অস্ত পরিশ্রম করেন। শুধু  তাই নয়- কখনো কখনো গভীর রাত পর্যন্ত পরিশ্রম করেন। তাদের পরিশ্রম পরিবার প্রধান কৃষক পুরুষের চেয়েও কোনো অংশে কম নয়। বরং ক্ষেত্র বিশেষে পরিশ্রম বেশি হয়ে থাকে। কৃষক পরিবারে নারীরা ধানকাটা মৌসুমে নাওয়া খাওয়ার সময় পান না।  তবে পরিবারের সদস্যদের জন্য নিত্যদিন রান্না করে তিন বেলা খাবারের জোগান নারীরাই দেন।  কবি কাজী নজরুল ইসলাম ‘নারী’ কবিতায় লিখেছেন, ‘জ্ঞানের লক্ষ্মী, গানের লক্ষ্মী, শস্য-লক্ষ্মী নারী,/ সুষমা-লক্ষ্মী নারী ওই ফিরিছে রূপে রূপে সঞ্চারী।/ শস্যক্ষেত্র উর্বর হলো, পুরুষ চালালো হাল,/ নারী সেই মাঠে শস্য রোপিয়া করিল সু শ্যামল।/ নর বাহে হাল, নারী বহে জল, সেই জল মাটি মিশে/ ফসল হইয়া ফলিয়া উঠিল সোনালী ধানের শীষে।’ যে নারী কৃষিতে শ্রম দেন, যে নারী আমাদের কৃষি, সমাজ ও সংসারকে মহিমান্বিত করেছেন জীবনের সবটুকু বিনিয়োগ দিয়ে; তার কষ্ট আসলেই এখনো অমানবিক। সমাজে সংসারে তাদের মর্যাদা এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ জনপদে কৃষিতে নারীর সংশ্লিষ্টতা অন্যতম নিয়ামক শক্তি, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কৃষি পরিবারে নারীরা ঘরে বীজ সংরক্ষণ করে থাকেন। তবে এখন বীজ সংরক্ষণ প্রক্রিয়াটা কৃষি পরিবারে নাই বললেও চলে। কারণ প্রতি মৌসুমে ফসলের বীজ প্যাকেটজাত হয়ে বাজারের বিপণন হয়।  তবে হাঁস, মুরগি পালন, গরু ছাগল পালন; গরুর দুধ দোহন, গরু মোটাতাজাকরণ, হাঁস-মুরগির ডিম ফোটানো, বসতবাড়িতে শাক-সবজি, ফল-ফুল চাষ, শীতল পাটি তৈরি, জ্যাম জেলি আচার, স্যুপ আমসত্ত্ব তালসত্ত্ব, আলুর কলার চিপস, চানাচুর তৈরি, ছাদ বাগান পরিচর্চা, জ্বালানি সংগ্রহ, কৃষি বনায়ন, সামাজিক বনায়নের সবগুলোতেই গ্রামের নারীরা সম্পৃক্ত। গ্রামের সাঁওতাল, উঁড়াও, গারোসহ নৃগোষ্ঠীর নারীরা মাঠে কৃষি কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করে।  শ্রম শক্তির মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি নারী কৃষি, বনায়ন ও মৎস্য খাতের সঙ্গে জড়িত। কর্মক্ষম নারীদের মধ্যে কৃষি কাজে সবচেয়ে বেশি নারী নিয়োজিত আছেন। যা দিন দিন আরও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখানে একটি কথা বিশেষভাবে উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যাপক তরুণী নিজেকে আধুনিক কৃষিতে আত্মনিয়োগ করছেন। পাশাপাশি এ দেশে তৈরি হচ্ছে উল্লেখযোগ্য কৃষি নারী উদ্যোক্তা।