ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

যেসব জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস

যেসব জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস

দেশের কয়েকটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। একই সঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দুপুর ১টা পর্যন্ত দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। সতর্কবার্তায় বলা হয়, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।  এ কারণে এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে মঙ্গলবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

circluar
circluar
জুলাই গণঅভ্যুত্থান: ইনুর বিরুদ্ধে মামলার রায় আজ মঙ্গলবার

জুলাই গণঅভ্যুত্থান: ইনুর বিরুদ্ধে মামলার রায় আজ মঙ্গলবার

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে দমন-পীড়নে সহায়তা এবং উসকানিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের আটটি অভিযোগে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় আজ মঙ্গলবার ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল বেলা দেড়টার পর এ রায় ঘোষণা করবেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এ মামলায় হাসানুল হক ইনুই একমাত্র আসামি। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, আব্দুস সাত্তার তরাফদার, মীজানুল ইসলাম, ফারুক আহমেদ ও আব্দুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর। অন্যদিকে আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও নাজনীন আহসান। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়া শহরে শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন। এ ছাড়া বহু নিরীহ মানুষ আহত হন। এসব ঘটনায় হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে উসকানি, প্ররোচনা, ষড়যন্ত্র ও দমন-পীড়নে সহায়তাসহ আটটি অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ ইনুর বিরুদ্ধে ৩৯ পৃষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগপত্রে ২০ জনকে সাক্ষী করা হলেও বিচার চলাকালে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপক্ষ তাদের সাক্ষ্য উপস্থাপন শেষ করে।

এমপি হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না আসলাম চৌধুরী

এমপি হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না আসলাম চৌধুরী

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী ঋণখেলাপি হওয়ায় জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না বলে রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের এ আদেশের ফলে ঋণখেলাপি-সংক্রান্ত জটিলতা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আসলাম চৌধুরী সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না। আসলাম চৌধুরীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী। তাদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী রোকন উদ্দিন মো. ফারুক। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে ব্যাংক এশিয়া পিএলসির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামাল উল আলম। এর আগে গত ১৫ জুন শুনানি শেষে আপিল বিভাগ রায়ের জন্য ৩০ জুন দিন ধার্য করেছিলেন।

মাতৃত্বকালীন ছুটি সীমিতকরণে হাইকোর্টের রুল

মাতৃত্বকালীন ছুটি সীমিতকরণে হাইকোর্টের রুল

মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা সীমিত করার বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ৪৬(২) ধারা, ৪৬(১) ধারার প্রভিসো এবং বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের ১৯৭ নম্বর রুল কেন সংবিধানের ৭, ১৫, ১৮, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকার কেন সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের কর্মজীবী নারীদের জন্য সমান মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা ও সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এ বিষয়ে কেন একটি অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও রুলে জানতে চেয়েছেন আদালত। সোমবার (২৯ জুন) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আশিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ রুল জারি করেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী তানজিলা রহমান, মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান ও ইফাত হাসান শাম্মি। গত ১৫ জুন দেশের কর্মজীবী নারীদের মাতৃত্বকালীন অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করা হয়। এতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ১২ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। রিট আবেদনে বলা হয়, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা কোনো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নয়; বরং এটি মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য, মর্যাদা, সমতা এবং সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তৃতীয় বা পরবর্তী সন্তানের ক্ষেত্রে কর্মজীবী নারীদের এ অধিকার থেকে বঞ্চিত করা বৈষম্যমূলক ও সংবিধানবিরোধী। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভিন্ন ভিন্ন নীতিমালা থাকায় কর্মজীবী নারীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে, যা সংবিধানে নিশ্চিত সমতা ও আইনের সমান সুরক্ষার নীতির পরিপন্থী। পরে রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান সাংবাদিকদের বলেন, দেশের সব কর্মজীবী নারীর জন্য বৈষম্যহীন ও সমান মাতৃত্বকালীন অধিকার নিশ্চিত করতেই এ রিট করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মাতৃত্ব কোনো শাস্তির বিষয় নয়, এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়।’ তাঁর মতে, এ মামলার চূড়ান্ত রায় মাতৃত্বকালীন অধিকার, কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গসমতা এবং শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

ভারতীয় ভিসা আবেদন জমার প্রথম দিনেই দীর্ঘ লাইন

ভারতীয় ভিসা আবেদন জমার প্রথম দিনেই দীর্ঘ লাইন

জনকণ্ঠ রিপোর্ট প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পুনরায় পর্যটন (ট্যুরিস্ট) ভিসা চালু করেছে ভারত। গত রবিবার থেকে দেশের পাঁচটি ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক)-এ আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়। সোমবার ছিল আবেদনপত্র জমা নেওয়ার প্রথম দিন। আর প্রথম দিনেই রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত আইভ্যাক কেন্দ্রে আবেদনকারীদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। সকালের প্রথম প্রহর থেকেই অনেক আবেদনকারী ভিসা আবেদন জমা দিতে কেন্দ্রের সামনে ভিড় করেন। দীর্ঘদিন পর পর্যটন ভিসা চালু হওয়ায় আবেদনকারীদের মধ্যে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র পরিদর্শনকালে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পুনরায় ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারত নিয়মিত ভিসা ইস্যু স্থগিত করে। এরপর সীমিত পরিসরে মেডিকেল, বিজনেস ও স্টুডেন্ট ভিসা চালু থাকলেও পর্যটন ভিসা সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। ভারতের নতুন হাইকমিশনার দায়িত্ব গ্রহণের পর সেই অচলাবস্থার অবসান হলো। প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনার আইভ্যাক কেন্দ্রে ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য কেন্দ্রেও এ সেবা চালু করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

উৎসবের জুতা

উৎসবের জুতা

ঈদ মানেই নতুন পোশাক, নতুন সাজ আর আনন্দের দিন। নতুন পোশাকের সঙ্গে মানানসই জুতা না হলে পুরো সাজটাই যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাই ঈদের কেনাকাটার তালিকায় পোশাকের পাশাপাশি জুতাও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে থাকে। তবে শুধু দেখতে সুন্দর হলেই চলবে না-ঈদের জুতা হতে হবে আরামদায়ক, টেকসই এবং পোশাকের সঙ্গে মানানসই। আরামই হোক প্রথম শর্ত ঈদের দিনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া-আসা, আত্মীয়স্বজনের বাসায় বেড়ানো কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা-সব মিলিয়ে অনেক সময় জুতা পায়ে থাকে। তাই ঈদের জুতা কেনার সময় আরামকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। নরম সোল, হালকা ওজন এবং ভালো ফিটিংয়ের জুতা হলে দীর্ঘ সময় পরেও পায়ে অস্বস্তি হবে না। পোশাকের সঙ্গে মিল ঈদের পোশাকের রং ও ডিজাইনের সঙ্গে জুতার মিল থাকা জরুরি। ছেলেদের পাঞ্জাবি-পায়জামার সঙ্গে লোফার, নাগরা বা স্যান্ডেল ভালো মানায়। অন্যদিকে মেয়েদের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ বা ফিউশন পোশাকের সঙ্গে হিল, কিটেন হিল বা স্টাইলিশ স্যান্ডেল বেশ মানানসই। বর্তমানে মিনিমাল ডিজাইনের জুতা বেশ জনপ্রিয়, যা প্রায় সব ধরনের পোশাকের সঙ্গেই মানিয়ে যায়। আবহাওয়ার কথাও ভাবুন ঈদ অনেক সময় গরমের সময় পড়ে। তাই এমন জুতা নির্বাচন করা ভালো যাতে পা ঘেমে না যায়। খোলা ডিজাইনের স্যান্ডেল বা বাতাস চলাচল করতে পারে এমন উপকরণের জুতা হলে আরাম বেশি পাওয়া যায়। মানসম্মত উপকরণ জুতা কেনার সময় শুধু ডিজাইন নয়, উপকরণের দিকেও নজর দিতে হবে। ভালো মানের চামড়া বা টেকসই কৃত্রিম উপকরণের জুতা হলে তা দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। সোল শক্ত হলেও যেন খুব শক্ত না হয়, আবার খুব নরমও না হয়-এমন ভারসাম্যপূর্ণ জুতা বেছে নেওয়াই ভালো। ট্রেন্ডি জুতা এখনকার ফ্যাশনে অতিরিক্ত ভারী বা জটিল ডিজাইনের জুতার চেয়ে হালকা, পরিষ্কার ডিজাইনের জুতা বেশি জনপ্রিয়। নিউট্রাল রং যেমন-কালো, বাদামি, বেইজ বা সোনালি-সহজেই বিভিন্ন পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যায়। তাই অনেকেই এখন এমন জুতা বেছে নিচ্ছেন যা ঈদের পরেও নিয়মিত ব্যবহার করা যায়। সঠিক সাইজ নিশ্চিত করুন অনেকে তাড়াহুড়ো করে জুতা কিনে পরে বুঝতে পারেন সাইজ ঠিক হয়নি। তাই কেনার সময় অবশ্যই জুতা পায়ে পরে দেখে নেওয়া উচিত। খুব টাইট বা খুব ঢিলা জুতা দুইটাই সমস্যার কারণ হতে পারে। সব মিলিয়ে ঈদের জুতা হওয়া উচিত স্টাইলিশ, আরামদায়ক ও ব্যবহার উপযোগী। কারণ ঈদের আনন্দ যেন অস্বস্তিকর জুতার কারণে ম্লান না হয়ে যায়। সঠিক জুতা বেছে নিতে পারলে ঈদের সাজও হবে পরিপূর্ণ, আর দিনটাও কাটবে স্বাচ্ছন্দ্যে ও আনন্দে। ফ্যাশন প্রতিবেদক

শিশুর স্বাচ্ছন্দ্য

শিশুর স্বাচ্ছন্দ্য

ঈদের উৎসব প্রতিটি শিশুর কাছে অনেক রঙিন। রোজার শুরু থেকেই তাদের ঈদ নিয়ে থাকে নানা জল্পনা-কল্পনা। বন্ধুদের মধ্যে হয় উৎসবমুখর কথোপকথন। কে কয়টা ড্রেস কিনল, কীভাবে সাজবে এমন অনেক কিছু। সকাল, দুপুর ও রাতের পোশাকের সঙ্গে সাজ ও গহনা এক্সেসরিজের বিষয়ে বর্তমানে বড়দের থেকে ছোটরা  বেশি স্মার্ট ও সচেতন। আর তাদের বায়না পূরণ করতে বাবা-মায়েরা ছুটছে বিভিন্ন শপিং মল ও মার্কেটে। প্রকৃতির বদলের খেলায় বাড়ছে তাপদাহ। তাই পরিবর্তন আসেেছ পোশাকেও। বিশেষ করে এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ভাবতে হয় বাড়ির শিশুদের নিয়ে। কেননা গরমে শিশুর পোশাক কেমন হবে, কী ধরনের পোশাক শিশুদের জন্য আরামদায়ক হবে। এসব ভাবনা চলে আসে প্রকৃতির রূপ বদলের সঙ্গে সঙ্গে। এ কারণে আমাদের দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোও এ সময়ে শিশুদের জন্য তৈরি করে ফ্যাশনেবল সব আরামদায়ক পোশাক। বাজার ঘুরে দেখা গেল, বিভিন্ন রং ও নকশায় অলঙ্কৃত করা হয়েছে শিশুদের পোশাক। প্রায় সব মার্কেট আর ফ্যাশন হাউসে এখন মিলবে শিশুদের জন্য সুতির পোশাক। ভয়েল, সুইস ভয়েল, আদ্দি, ভিসকস, মিক্সড ভয়েল, বেক্সি ভয়েলসহ নানারকম সুতি কাপড়ে তৈরি হচ্ছে কোমলমতিদের পোশাক। এ ছাড়া কটনের সঙ্গে ফেব্রিক দিয়েও তৈরি হচ্ছে পোশাক। বাজারে আছে সুতি, লিনেন ও গেঞ্জি কাপড়ের বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক। আরামদায়ক উপকরণ হিসেবে ডিজাইনাররা বেছে নিয়েছেন সুতি, গ্যাবার্ডিন, লিনেন ও নরম জিন্স এর মতো নরম কাপড়। শিশুরা যেহেতু বেশি ছোটাছুটি করে তাই ঘাম হয় বেশি। এ কারণে গরমকালে শিশুদের পোশাক নির্বাচনে সুতির কাপড় বেছে নিতে হবে। বিভিন্ন ধরনের ভয়েল, পাতলা তাঁত কাপড়ও আরামদায়ক। গরমে যেসব কাপড় তাপ শোষণ করে কম এমন হালকা রঙের পোশাক যেমন আকাশি, হালকা সবুজ, গোলাপি, সাদা, ধূসর, বাদামি ইত্যাদির ওপর রঙিন ছাপা বা প্রিন্টের পোশাক বেছে নিতে পারেন। এতে শিশুদের দেখতে বেশ ভালো লাগে। তবে তারা যেহেতু খেলাধুলা বা ছোটাছুটি করে বেশি, তাই রঙিন পোশাক পরাতে চাইলে ব্লক বা বাটিকের পাতলা সুতি পোশাক বেছে নিতে পারেন। এছাড়াও শিশুদের জন্য ছোট বা মাঝারি প্রিন্টের পোশাক বেশি মানানসই। ফুল, পাতা, পাখি, জ্যামিতিক নকশা বা বল প্রিন্টের পোশাকও পরাতে পারেন। এতে শিশুদের প্রাণবন্ত ও উচ্ছল লাগে। তবে শিশুদের জন্য যে ধরনের পোশাকই নির্বাচন করা হোক না কেন, তা যেন খুব বেশি আটসাঁট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাতাস চলাচল করতে পারে এমন ঢিলেঢালা পোশাক শিশুদের জন্য বেশি উপযোগী। ছেলে ও মেয়ে শিশুদের পোশাকে খুব একটা পার্থক্য দেখা যায় না বললেই চলে। ছেলেদের জন্য আছে ঢিলেঢালা গেঞ্জি, টি-শার্ট, ফতুয়া, নিমা, হাফ-প্যান্ট ও থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট, ট্রাউজার, ফুল-প্যান্ট। মেয়েদের জন্য এসব ছাড়াও পাওয়া যাচ্ছে নানারকম ডিজাইনের ফ্রক, লেহেঙ্গা, সালোয়ার-কামিজ, স্কার্ট, টপস, প্লাজো, শার্ট, টি-শার্ট, পোলো টি-শার্ট ইত্যাদি। এক ডিজাইনার বলেছেন, ‘আমরা সবসময়ই বাংলাদেশের আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে কাপড় বেছে নেই। গরমে শিশুদের পোশাকটা যেন স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়। সোনামণিদের পোশাকে প্যার্টানের দিক থেকে রয়েছে লিল্যাকজিন সিস্টেম যেমন প্রয়োজনে পোশাকটি ছোট-বড় করা যাবে এবং ঢিলেঢালা হলে টাইট করে নিতে পারবেন।’ কোথায় পাবেন লা রিভ, টুয়েলভ, আড়ং, রঙ বাংলাদেশ, বিশ্বরঙ, কে ক্র্যাফট, অঞ্জন’স, মেনজ ক্লাব, সীমান্ত স্কয়ার, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্কসহ বিভিন্ন শপিং মল ও মার্কেটে পাবেন শিশুর আরামদায়ক পোশাক। দাম পড়বে ৫০০ থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে। একটু কম দামের জন্য বেছে নিতে পারেন রাজধানীর নিউমার্কেট, নুরজাহান মার্কেট, বঙ্গবাজার, মৌচাক মার্কেট, তালতলা মার্কেট। গ্যাবার্ডিন ও জিনসের প্যান্টগুলোর দাম পড়বে ৩০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে।