ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

circluar
circluar
প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে দ্য হান্ড্রেডে মুস্তাফিজ

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে দ্য হান্ড্রেডে মুস্তাফিজ

আগামী ২১ জুলাই শুরু হয়ে ৬ আগস্ট পর্যন্ত চলবে ইংল্যান্ডের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট দ্য হান্ড্রেডের সপ্তম আসর। বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে টি২০ এই টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো দল পেয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। বার্মিংহ্যাম ফিনিক্সের হয়ে মাঠ মাতাবেন টাইগার এই পেসার। ইংল্যান্ডের এই লিগে বাঁ হাতি পেসারের ভিত্তিমূল্য ছিল ১ লাখ পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বেশি। নিলামের জন্য হান্ড্রেডের চূড়ান্ত তালিকায় টাইগার দলের আরেক ক্রিকেটার রিশাদ হোসেনের নাম থাকলেও দল পাননি তিনি। শুক্রবার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটিতে দল পেয়ে মুস্তাফিজুর রহমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘দ্য হানড্রেডে খেলার সুযোগ পেয়ে আনন্দিত। বার্মিংহ্যাম ফিনিক্সের সঙ্গে আসন্ন মৌসুম দারুণভাবে কাটানোর জন্য অধীর অপেক্ষায় আছি। ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।’ এর আগে দ্য হান্ড্রেডের ছয়টি আসরে ক্রিকেটার বাছাই হতো প্লেয়ার্স ড্রাফটের মাধ্যমে। তবে ২০২৬ আসরের জন্য প্রথমবার তারা নিলামের আয়োজন করে। বেশ কয়েক বিদেশি তারকা ক্রিকেটারকে বার্মিংহ্যাম ফিনিক্সে সতীর্থ হিসেবে পাচ্ছেন মুস্তাফিজ।

ঈদে একাধিক অনুষ্ঠানে রিজিয়া পারভীন

ঈদে একাধিক অনুষ্ঠানে রিজিয়া পারভীন

রিজিয়া পারভীন, বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী। কখনো দেশে কখনো দেশের বাইরে স্টেজ শো নিয়ে তিনি ভীষণ ব্যস্ত থাকেন। এই সময়টাতে তিনি দেশেই আছেন। আবারও আগামী ৪ মে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে উড়াল দেবেন স্টেজ শোতে পারফর্ম করার জন্য। তবে এবারের ঈদুল ফিতরটা তার জন্য বেশ বর্ণাঢ্য বলেই জানালেন তিনি। কারণ, এবারের ঈদে বিটিভি, বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র, বৈশাখী টিভির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গাইতে দেখা যাবে রিজিয়া পারভীনকে। এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রিজিয়া পারভীন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের ঈদ বিশেষ সংগীতানুষ্ঠানের জন্য পাঁচটি গান গেয়েছেন। গানগুলো হলো ‘সবার জীবনে প্রেম আসে’, ‘আশা আমার ভালোবাসা’, ‘তুমি আমার চাঁদ’, ‘ফুলের কানে ভ্রমর এসে’, ‘তুমি আমার জীবন’। আবার দেশের প্রখ্যাত প্রয়াত কিংবদন্তি গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ারকে নিয়ে বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান ‘এই মন তোমাকে দিলাম’-এ রিজিয়া পারভীনকে গাইতে দেখা যাবে ‘আয়রে মেঘ আয়রে’ গানটি। এছাড়াও বিটিভির আরও দুটি ভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে একটিতে ইথুন বাবুর কথা ও সুরে গাইবেন, যার শূটিং হবে আগামীকাল বাংলাদেশ টেলিভিশনে। এছাড়াও আগামী ১৭ মার্চ ‘অভিনন্দন’ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে গান গাইবেন রিজিয়া পারভীন ও পলাশ, দেলোয়ার আরজুদা শরফের লেখা ও সুরে। বৈশাখী টিভিতে ঈদের দিন সকালে বিশেষ সংগীতানুষ্ঠানে রিজিয়া পারভীনকে তার ও শ্রোতা-দর্শকের ভালোলাগার সাতটি গান গাইবেন। রিজিয়া পারভীন বলেন, এবারের ঈদটা বিগত অন্যান্য বছরের তুলনায় একটু বেশিই বর্ণাঢ্য আমার জন্য। কারণ বিটিভি, বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র, বৈশাখী টিভি সব মিলিয়ে কয়েকটি অনুষ্ঠানে আমাকে সংগীত পরিবেশন করতে দেখা যাবে। এই সময়ে এসেও শ্রোতা দর্শকের আমার গানের প্রতি যে ভালোলাগা আমি দেখি, তা সত্যিই আমাকে ভীষণ পুলকিত করে।

এবার প্রকাশ্যে এলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দুর্বলতা!

এবার প্রকাশ্যে এলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দুর্বলতা!

ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা না গেলেও, চলমান এই সংঘাত বিশ্বরাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যের সীমাবদ্ধতাকে নগ্নভাবে প্রকাশ করে দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইরানের অপ্রত্যাশিত প্রতিরোধক্ষমতা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করছেন, যা হোয়াইট হাউসের প্রাথমিক হিসাব-নিকাশকে তছনছ করে দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিশাল সমরাস্ত্রের শক্তি নিয়েও পরমাণু যুদ্ধের ঝুঁকি ছাড়া ইরানের মতো একটি লড়াকু দেশকে কাবু করা এখন ওয়াশিংটনের জন্য অকল্পনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঈদ সামনে রেখে মুরগির দাম বাড়লেও কমেছে পেঁয়াজের

ঈদ সামনে রেখে মুরগির দাম বাড়লেও কমেছে পেঁয়াজের

প্রতি বছর ঈদুল ফিতর ঘিরে বাজারে মুরগির চাহিদা বাড়ে। চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে দাম। এ বছরও ঈদ সামনে রেখে চড়া মুরগির বাজার। গত এক সপ্তাহ ধরে বাজারে মুরগির দাম বাড়ছে। এ সময়ের ব্যবধানে প্রতি কেজি মুরগির দাম প্রায় ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সঙ্গে বেশ কয়েক মাস নিম্নমুখী থাকা ডিমের দামও কিছুটা বেড়েছে। তবে ঈদের আগে চাল, ডাল, চিনি, ছোলাসহ অধিকাংশ পণ্য স্থিতিশীল রয়েছে। আর চাহিদা কমায় পেঁয়াজসহ রমজানের পণ্যসহ বেশকিছু সবজির দাম কমেছে। দাম কমে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। নিত্যপণ্যের বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে ব্রয়লার, সোনালি, লেয়ার ও দেশি সব ধরনের মুরগির দামই বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, ঈদে মুরগির চাহিদা বাড়ে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২২০-২৩০ টাকা, সোনালি মুরগি ও লেয়ার মুরগি ৩৩০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, গত এক সপ্তাহে এসব মুরগি কেজিতে ৫০ টাকা বেড়েছে। যেখানে গত সপ্তাহেও ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৭০-১৮০ টাকা, সোনালি ২৮০-৩০০ টাকায় আর লেয়ার মুরগির ২৭০-২৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো। অন্যদিকে, বাজারে এখন প্রতি কেজি দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৬৫০-৭০০ টাকায়, যা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ৬০০ থেকে ৬২০ টাকা। রাজধানীর রামপুরা বাজারের মুরগি বিক্রেতা ফরিদ হোসেন বলেন, রমজানের ঈদে অধিকাংশ মানুষ মুরগি খায়। বড়লোকরাও খায়, গরিবরা আরও বেশি খায়। রেস্টুরেন্টেও চাহিদা বাড়ে। যে কারণে এরই মধ্যে কিছুটা চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। কিন্তু চাহিদা বাড়লেও সেভাবে সাপ্লাই নেই। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে সেভাবে মুরগি সরবরাহ হচ্ছে না। আর পাইকারি বাজারে প্রতিদিন ৫-১০ টাকা করে দাম বাড়ছে’ বলেন তিনি। অন্যদিকে, বাজারে অনেকদিন ধরে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম নিম্নমুখী ছিল। এখন সেই দামও কিছুটা বেড়েছে। এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০-১২০ টাকায়। প্রতি ডজনে দাম বেড়েছে ১০ টাকা। রমজান শেষ হয়ে আসায় বাজারে ছোলা ও ডালের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১০ টাকা কমে বিক্রি হতে দেখা গেছে। চিনির দামও আগের মতো ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া বাজারে কিছুদিন ভোজ্যতেলের সংকট থাকলেও এখন সরবরাহ আগের চেয়ে বেড়েছে। যদিও তাতে সংকট পুরোপুরি কাটেনি। ক্রেতারা এক দোকানে না পেলেও অন্য দোকান ঘুরে তেল পাচ্ছেন। প্রতি লিটার বোতলজাত তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকা দরে। এ ছাড়া বাজারে বেশকিছু সবজির দাম কম দেখা গেছে। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা দরে, যা গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিপ্রতি ২০ টাকা কম। মূলত, ৬০ টাকার মধ্যেই করলা ছাড়া অন্যান্য প্রায় অধিকাংশ সবজি কেনা যাচ্ছে। বাজারে এখন প্রতি কেজি আলু ১৫ থেকে ২০ টাকা ও পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। শান্তিনগর বাজারের সবজি বিক্রেতা মহিবুল বলেন, এখন অনেক মানুষ ঢাকা ছাড়ছে। ফলে বাজারে ক্রেতা কম। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা কম থাকায় দাম কমছে। সোনালির পাশাপাশি দাম বেড়েছে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের মাছের দামও আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। আর বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। তবে বাজারে স্থিতিশীল রয়েছে সবজির দাম। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ঈদুল ফিতরের আর মাত্র ৮-৯ দিন বাকি। ঈদের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অনেকে এখন থেকেই মুরগি কিনে রাখছেন। এতে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি হওয়ায় দাম বেড়েছে। রোজার শুরুতে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে ২০০-২২০ টাকা কেজি হয়েছিল। এর কয়েক দিন পর দাম কমতে থাকে। দুই সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকায় কেনা গেছে। এরপর দাম আবার বাড়তে থাকে। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকা ছাড়ায়। সর্বশেষ গত তিন দিনে সেই দাম আরও বেড়েছে। আজ ঢাকার তিনটি বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ২২০ টাকায়; অর্থাৎ দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ৬০ টাকা বেড়েছে। আর তিন দিনের মধ্যে কেজিতে ২০ টাকা দাম বেড়েছে। এদিকে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৫০ টাকা বেড়েছে। আজ রাজধানীতে মানভেদে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে ৩২০-৩৫০ টাকায়। কোনো কোনো বাজারে ৩৬০ টাকা দরেও সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি সোনালির দাম ছিল ২৭০-৩০০ টাকা। বাজারে অনেক দিন ধরে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম স্থিতিশীল ছিল। এখন সেই দামও বেড়েছে। আজ এক ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১১০-১২০ টাকায়। প্রতি ডজনে দাম বেড়েছে ১০ টাকা।

দুই লাখ কোটি টাকা বাণিজ্যের আশা ব্যবসায়ীদের

দুই লাখ কোটি টাকা বাণিজ্যের আশা ব্যবসায়ীদের

দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই রাজধানীসহ সারা দেশে বাড়ছে মানুষের কেনাকাটার ধুম। ইফতারের পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে নেমে আসে ক্রেতাদের ঢল। অনেকেই ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার আগে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা সেরে নিতে মার্কেটে ভিড় করছেন। পরিবার-পরিজনের জন্য নতুন পোশাক ও প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে খুশি মনেই বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন লাখো মানুষ। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদ আনন্দকে ঘিরে শহরের অলিগলি থেকে বড় মার্কেট, সবখানেই এখন উৎসবমুখর পরিবেশ। নতুন পোশাক, জুতা, প্রসাধনী ও উপহারসামগ্রীর খোঁজে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মানুষের পদচারণায় মুখর  মার্কেট ও শপিংমলগুলো। বিশেষ করে ইফতারের পর কেনাকাটার চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।   ব্যবসায়ীরা জানান, এবারের ঈদকে ঘিরে দেশের বাজারে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকার বাণিজ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই বছর আগের মন্দাভাব কাটিয়ে এবার দেশীয় বিপণিবিতান ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। পোশাক, জুতা, প্রসাধনী, ব্যাগ, ঘড়ি ও উপহারসামগ্রীসহ সব ধরনের দোকানে ক্রেতাদের উপস্থিতিতে জমে উঠেছে কেনাকাটা। বিগত কয়েক মৌসুমের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে এবার ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছিলেন। সেই আস্থার প্রতিদান মিলছে এখন। বিশেষ করে সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-বোনাস হাতে আসায় বাজারে নতুন গতি এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজধানীর নিউমার্কেট, গাউছিয়া মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন বিপণিবিতান ঘুরে দেখা গেছে, নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভিড়। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একসঙ্গে মার্কেটে আসছেন। শিশু ও কিশোরদের পোশাকের দোকানগুলোতে আগ্রহ তুলনামূলক বেশি লক্ষ্য করা গেছে। সন্ধ্যার পর মার্কেটগুলোতে কেনাকাটার চাপ আরও বাড়তে দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ মৌসুমে বছরের বড় একটি অংশ বিক্রি হয়ে থাকে। ফলে এ সময়কে কেন্দ্র করে আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়। দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলো নতুন নতুন নক্সার পোশাক বাজারে এনেছে। পাশাপাশি বিদেশি ব্র্যান্ডের পোশাকও পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন শপিংমলে। শুধু আধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শপিংমল নয়, সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছে ফুটপাত ও অস্থায়ী বাজারগুলোও। নিউমার্কেট-সংলগ্ন রাস্তার ধারের দোকানগুলোতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ভিড় চোখে পড়ার মতো। সেখানে সাধ্যের মধ্যে পছন্দের জিনিসটি খুঁজে নিতে ব্যস্ত ক্রেতারা। টি-শার্ট, জিন্স কিংবা বাচ্চাদের রঙিন জামার পসরা সাজিয়ে বসেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসান মাহমুদ জনকণ্ঠকে বলেন, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ব্যবসায়ীরা অনেকটা স্বস্তিবোধ করছেন। বিশেষ করে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার থাকায় রাজনৈতিক স্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ব্যবসায় স্বস্তি ফিরেছে। এ বছর সারা দেশে ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা করা হচ্ছে। গত বছর সারা দেশে প্রায় ১৪০ থেকে ১৫০ হাজার কোটি টাকার ঈদ ব্যবসা হয়েছিল। আশা করছি এ বছর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, কিছুদিন আগেও ব্যবসায়ীরা নানা ধরনের হয়রানি ও মব আতঙ্কে ছিলেন। তবে নির্বাচনের পর পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। অতীতে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনেক ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছিলেন। তাই ঢালাওভাবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা ঠিক নয়। তবে যারা অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাতের পোশাক ব্যবসায়ী মো. মাহবুব জনকণ্ঠকে বলেন, শুরুতে বিক্রি খুব বেশি ছিল না। তবে গত কয়েক দিনে ক্রেতা বাড়তে শুরু করেছে। সারাদিন কিছুটা কম থাকলেও ইফতারের পর ভিড় অনেক বেড়ে যায়। এখন প্রতিদিনই রাত ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত কেনাকাটা হয়। গাউছিয়া মার্কেটের মেয়েদের পাইকারি থ্রি-পিস ব্যবসায়ী ‘ফেব্রিক্স প্লাস’-এর কর্ণধার শামিম রহমান জনকণ্ঠকে জানান, প্রতিবছর ঈদকে কেন্দ্র করে আমাদের ব্যবসা ভালো হয়। এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার খুচরা ব্যবসায়ীদের চাহিদা বেশি। সব মিলিয়ে ব্যবসা আশানুরূপ হয়েছে। পোশাকের পাশাপাশি গহনা ও প্রসাধনীর দোকানগুলোতেও নারী ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। চাঁদনি চক ও গাউছিয়া মার্কেটে মেকআপ সামগ্রী ও ইমিটেশন গহনার বিক্রি কয়েকগুণ বেড়েছে। অন্যদিকে জুতার দোকানগুলোতেও ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বাটা বা এপেক্সের মতো বড় ব্র্যান্ডের পাশাপাশি স্থানীয় কারিগরদের তৈরি জুতাও বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। গাউছিয়া মার্কেটের গহনা ব্যবসায়ী মো. রাসেল জনকণ্ঠকে বলেন, আমরা এক মাস ধরে দিন-রাত পরিশ্রম করেছি। ক্রেতাদের যে সাড়া পাচ্ছি, তাতে পেছনের সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে। এবারের বাণিজ্য আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার চেষ্টা করছেন যাতে শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়ানো যায়। আবার অনেকেই ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার আগে পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন। নিউমার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী জুবায়ের আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন পোশাক কেনা ঈদের অন্যতম আনন্দের অংশ। তবে এবার খরচ কিছুটা হিসাব করে করতে হচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের চাপ থাকায় ঈদ বাজেট সীমিত রাখতে হচ্ছে। এদিকে ঈদকে সামনে রেখে বাজার এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও মার্কেট এলাকায় পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে।