জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাজিফা তুষি। প্রথমবারের মতো ঈদে মুক্তি পাচ্ছে তার অভিনীত সিনেমা। ঈদে তাকে দেখা যাবে রায়হান রাফীর ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমায়। এরমধ্যে সিনেমাটির টিজারেই দর্শকের মনে বিপুল আগ্রহ তৈরি করেছে ছবিটি। অভিনেত্রী জানান, তার চরিত্র, ছবির গল্প, ভিজ্যুয়াল-সবকিছুর প্রশংসা করছেন দর্শক।
প্রথমবার ঈদে প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা মুক্তি নিয়ে তুষি বলেন, ‘এটা ঠিক, বড় উৎসবে ছবি মুক্তি পাওয়া বাড়তি আনন্দের। তবে আমার মতে, ছবিটা দর্শকের কাছে পৌঁছানো এবং তাদের ভালো লাগাই আসল ব্যাপার।’
‘প্রেশার কুকার’-এ কিভাবে এবং কেন যুক্ত হওয়া সেটি নিয়েও অভিনেত্রী কথা বলেন। তার ভাষ্য, রাফীর সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব। নানা বিষয়ে আমাদের কথা হয়। প্রথমে ও আমাকে ‘আন্ধার’-এ কাস্ট করল। এরপর একদিন আরও দুটি গল্প শোনায়; একটি লাভ স্টোরি, অন্যটা এই ‘প্রেশার কুকার’। আমার কাছে মতামত জানতে চায়, কোন গল্পটা ভালোমানে বন্ধুদের মধ্যে যেমন মতামত বিনিময় হয় আরকি। আমার কাছে ‘প্রেশার কুকার’ বেশি ভালো লাগল।’
তুষি বলেন, ‘কমার্শিয়াল ছবির সঙ্গে নারীকেন্দ্রিক, শিশুতোষ, ইনডিপেন্ডেন্ট সব ধরনের ছবিই তো হওয়া উচিত। নারীকেন্দ্রিক ছবি ব্যবসা করে না এ রকম একটা ধারণা আছে অনেকের। এটা তো সত্য নয়। পুরুষকেন্দ্রিক গল্পও তো ফ্লপ হয়, তখন কি এভাবে বলে কেউ? মূল বিষয় হলো গল্প। গল্প দুর্বল হলে ছবি ভালো হবে না, দর্শকও দেখবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সুতরাং নারীকেন্দ্রিক ছবি বলে দয়া দেখানোর কিছু নেই। দেখুন, আমি কিন্তু চাইলে রাফীর ওই লাভ স্টোরিটা করতে পারতাম, সেখানে প্রধান চরিত্রে শুধু আমি আর নায়ক থাকতাম। কিন্তু আমি ভালো গল্পটা বেছে নিয়েছি। আরেকটা বিষয়, এই ছবির একেবারে চিত্রনাট্য থেকে শুরু করে সম্পাদনা-প্রত্যেকটা ধাপে আমি জড়িত ছিলাম।’
অন্য চরিত্রের শিল্পীদের কাস্টিংয়ে তুষির সংশ্লিষ্টতা ছিল? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘শুধু কাস্টিং না, স্ক্রিপ্ট রাইটিং, সিনেমাটোগ্রাফি, সাউন্ড ডিজাইন, সম্পাদনা, কালার কারেকশন প্রত্যেকটা সেকশনে আমি সরাসরি যুক্ত ছিলাম। অভিনয়ের পাশাপাশি নেপথ্যের কাজগুলো আমি খুব উপভোগ করি। এতে চরিত্রটা বেশি প্রাণবন্ত হয় বলে আমার বিশ্বাস।’
ভবিষ্যতে তুষি প্রযোজনা করবেন বলেও ইচ্ছে প্রকাশ করেন। তার মতে, অভিনয়ের জন্য এটা দরকার। বিশ্বের বড় বড় তারকারা এভাবেই কাজ করেন। ইটস অল অ্যাবাউট অ্যাকটিং।
‘প্রেশার কুকার’ ছবির কোন দিকটা এ গ্ল্যামারকন্যার জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল? উত্তরে তিনি বলেন, ‘যেহেতু রাফীর সঙ্গে অনেক আগে থেকেই বন্ধুত্ব, আবার কিছুদিন আগেই ‘আন্ধার’ করলাম। ফলে স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গা তো ছিলই। তবে এখানে আমার চরিত্র এক ম্যাসাজ গার্লের। এর জন্য প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল বেশ। থাইল্যান্ডে গিয়েছি, ম্যাসাজ গার্লদের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের সঙ্গে থেকেছি, কাজটা বোঝার চেষ্টা করেছি। শুধু একটা পোশাক পরলেই তো ম্যাসাজ গার্ল হয়ে যাব না! আমার মধ্যে সে ব্যাপারটা ফুটে ওঠা জরুরি। এসব চেষ্টা বা চ্যালেঞ্জ ছিল এবং আমি তা উপভোগ করেছি।