ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

circluar
circluar
ইতিহাসের পাতায় গুলের-ডোম্যান

ইতিহাসের পাতায় গুলের-ডোম্যান

আর্সেনালের জার্সিতে সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে শুরুর একাদশে নেমেই রেকর্ড গড়েছিলেন ম্যাক্স ডোম্যান। এবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার হিসেবে গোল করার রেকর্ড গড়ছেন তিনি। শনিবার রাতে ঘরের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে এভারটনকে ২-০ গোলে হারানোর ম্যাচে এই কীর্তি গড়েন তিনি। গোল করেছেন মাত্র ১৬ বছর ৭৩ দিন বয়সে। এতদিন পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগে সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে গোলের রেকর্ড ছিল এভারটনের জেমস ভনের। ২০০৫ সালে তিনি ওই কীর্তি গড়েন ১৬ বছর ২৭০ দিন বয়সে। এই জয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপার আরও কাছে গেল গানার্সরা। অন্যদিকে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রিয়াল মাদ্রিদের ২১ বছর বয়সী তুর্কি মিডফিল্ডার আর্দা গুলের নিজের গোলপোস্টের কাছাকাছি থেকে শট নিয়ে বল জালে জড়িয়ে রিয়ালের ৪-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন। এই গোলের মাধ্যমে তিনি লা লিগার ইতিহাসে দূরতম দূরত্ব (৬৮ মিটার) থেকে গোল করার দীর্ঘ ২২ বছরের পুরনো এক রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। ২০০৪ সালে আন্তোনিও জোসে নুমানসিয়ার হয়ে সেভিয়ার বিপক্ষে সমান দূরত্ব থেকে গোল করেছিলেন। এ ছাড়া ১৯৯৫ সালের পর রিয়ালের কোনো ফুটবলার এই প্রথম নিজেদের অর্ধ থেকে লা লিগায় গোল করলেন। সর্বশেষ অগাস্তিন লাসা ৫৮ মিটার থেকে গোল করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন, যা পেরিয়ে গেলেন গুলের। রিয়ালের বড় জয়ে গুলের ছাড়াও একটি করে গোল করেছেন আন্তোনিও রুডিগার, ফেদেরিকো ভালভের্দে ও ডিন হুইসেন। ৮৫ মিনিটে আত্মঘাতী গোলের সুবাদে ব্যবধান কমায় এলচে। প্রিমিয়ার লিগের অন্য ম্যাচে ওয়েস্ট হ্যামের বিপক্ষে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হলো ম্যানচেস্টার সিটির। এই ম্যাচে বার্নার্দো সিলভার গোলে মাত্র চার মিনিট লিড ধরে রেখেছিল ম্যানসিটি। কিন্তু আর্সেনালের সাবেক খেলোয়াড় কোন্সতান্তিনোস মাভারোপানোস ওয়েস্ট হ্যামের হয়ে সমতাসূচক গোলে সিটিকে ধাক্কা দেন। এখন শীর্ষ দুই দলের মধ্যে ব্যবধান ৯ পয়েন্টের। অবশ্য আর্সেনাল এক ম্যাচ বেশি খেলেছে। ৩১ ম্যাচে ৭০ পয়েন্ট তাদের। লিগ মৌসুমের ৮ ম্যাচ হাতে রেখে ৬১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে সিটি। এদিকে এভারটনের বিপক্ষে অসংখ্য আক্রমণ ও গোলের জন্য শট নিয়েও সফরকারীদের দেওয়াল ভাঙতে পারছিল না মিকেল আর্তেতার দল। ক্রমেই হতাশা ছড়িয়ে পড়ছিল আর্সেনালের গ্যালারিতে। শেষ মুহূর্তে নিজেদের অর্ধে বল পেয়ে দারুণ গতিতে ছুটে গিয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠান ডোম্যান। এরপর আর্সেনালও সদলবলে তার কাছে ছুটে গিয়ে উৎসবে মাতে। প্রিমিয়ার লিগের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার তালিকায় এরপর যথাক্রমে অবস্থান করছেন-জেমস মিলনার (১৬ বছর ৩৫৬ দিন, ২০০২ লিডস ইউনাইটেড), ওয়েইন রুনি (১৬ বছর ৩৬০ দিন, ২০০২ এভারটন), রিও এনগুমোহা (১৬ বছর ৩৬১ দিন, ২০২৫ লিভারপুল), সেস ফ্যাব্রেগাস (১৭ বছর ১১৩ দিন, ২০০৪ আর্সেনাল) ও মিচেল ওয়েন (১৭ বছর ১৪৩ দিন, ১৯৯৭ লিভারপুল। এই রেকর্ড গড়ার পর ডোম্যানকে প্রংশসা করতে ভোলেননি আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা। তিনি বলেন, ‘এটি অভূতপূর্ব মুহূর্ত। ম্যাচের আগে আমরা কথা বলেছি, জয়ের জন্য ক্লান্তিহীন আকাক্সক্ষা ছিল এবং সেই পথ খুঁজছিলাম। খেলোয়াড়দের নিবেদন, যোগ্যতা এবং প্রতিশ্রুতি অসাধারণ। কিন্তু এটি (ম্যাচ) যেভাবে শেষ হলো এমন কিছু আমরা আশা করিনি। এমিরেটসে আমাদের একসঙ্গে কাটানো সময়ের মাঝে এটি সেরা মুহূর্ত। আমার মনে হয় সে (ডোম্যান) স্টেডিয়ামে ভিন্ন আবহ এনে দিয়েছে। সে কেবল গোলই করেনি, পুরো খেলা পাল্টে দিয়েছে। যখনই বল পেয়েছে, তার কাজটা এমন ছিল যা প্রতিপক্ষের কাছে আমরা আরও হুমকি হয়ে উঠি।’

ফেরদৌস ওয়াহিদ-বাপ্পির কণ্ঠে ‘ফাঁকি’

ফেরদৌস ওয়াহিদ-বাপ্পির কণ্ঠে ‘ফাঁকি’

দেশের পপ সংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তি ফেরদৌস ওয়াহিদ এবার নিয়ে এলেন নতুন একটি গান। ‘ফাঁকি’ শিরোনামের এই বিশেষ গানে তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন এ প্রজন্মের জনপ্রিয় পপ শিল্পী খন্দকার বাপ্পি। গানটি গতকাল সন্ধ্যায় খন্দকার বাপ্পি অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রকাশ হয়েছে। মানুষের জীবনের চিরন্তন সত্য, সময়ের মূল্য এবং আত্মউপলব্ধির গল্প উঠে এসেছে এই গানে। ‘মন উজালা মন উতলা / খেলছো তুমি কিসের খেলা’ এমন জীবনমুখী ও অর্থবহ কথায় গানটি লিখেছেন গীতিকার তারেক আনন্দ। সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন মেহেদী বাপন। গানটিকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে একটি দৃষ্টিনন্দন মিউজিক ভিডিও। মডেল হয়েছেন জনপ্রিয় র‌্যাম্প মডেল ও কোরিওগ্রাফার বুলবুল টুম্পা। গান প্রসঙ্গে ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, নতুনদের সঙ্গে কাজ করতে আমার সবসময় ভালো লাগে। ‘ফাঁকি’ গানের মাধ্যমে এ প্রজন্মের সঙ্গে দারুন মেলবন্ধন হলো। আশা করছি গানটি ভালো লাগবে সবার। গীতিকার তারেক আনন্দ বলেন, ফেরদৌস ওয়াহিদ আমাদের সংগীতের এক জাদুকরী নাম। তার চিরচেনা সেই দরাজ কণ্ঠের কথা মাথায় রেখেই ‘ফাঁকি’ গানের কথাগুলো সাজিয়েছি। বাপ্পির গায়কীও অসাধারণ। আশা করি, শ্রোতারা গানটির মাঝে জীবনের দর্শন খুঁজে পাবেন। খন্দকার বাপ্পি তাঁর অনুভূতি জানিয়ে বলেন, ‘ফেরদৌস ওয়াহিদ স্যারের মতো কিংবদন্তির সঙ্গে একই গানে কণ্ঠ দিতে পারা আমার সংগীত জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। তাঁরুণ্যদীপ্ত সেই একই এনার্জি নিয়ে তিনি গানটি গেয়েছেন। গানটি শ্রোতারা পছন্দ করবেন।

নকল শাহেদ ড্রোন দিয়ে হামলা করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল

নকল শাহেদ ড্রোন দিয়ে হামলা করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল

ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোনের আদলে তৈরি লুকাস ড্রোন ব্যবহার করে এই অঞ্চলে হামলা চালাচ্ছে এবং এর দায় ইরানের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। ইরানি গণমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তর অভিযোগ করেছে- সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তুরস্ক, কুয়েত এবং ইরাকের মতো প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর বিভিন্ন কেন্দ্রে চালানো বর্বরোচিত হামলা এবং এসব হামলার দায় ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর ওপর চাপানো এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। খবর ইরনার। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে- এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো ইরানি সামরিক বাহিনীর প্রতিরক্ষামূলক, আইনি এবং বৈধ পদক্ষেপগুলোকে খাটো করা এবং তেহরানের সঙ্গে তার প্রতিবেশীদের বিবাদ ও বিভেদ সৃষ্টি করা। খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তর আরও জানায়, ইরান শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের লক্ষ্যবস্তু ও স্বার্থের ওপরই হামলা চালায়। এছাড়া ইরান যেখানেই হামলা চালাবে, সে বিষয়ে সরকারিভাবে ঘোষণা দিয়ে দায় স্বীকার করবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। শিল্পনগরী ইস্ফাহানে যৌথ বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন হতাহতের খবর পাওয়া যায়। একই সময়ে তেহরানে আরেক হামলায় ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া জরুরি কমান্ডের গোয়েন্দা শাখার দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, আবদুল্লাহ জালালি-নাসাব ও আমির শরিয়াত নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে নেতানিয়াহু বাহিনী।

পরমাণু ক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উ. কোরিয়ার

পরমাণু ক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উ. কোরিয়ার

একযোগে ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার একদিন পর রবিবার পরমাণু ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর চলমান বসন্তকালীন সামরিক মহড়ার মাঝে রবিবার এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে। খবর কেসিএনের। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ক্ষেপণাস্ত্রের ওই পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেছেন। এ সময় তিনি ১২টি ৬০০ মিলিমিটার ক্যালিবারের অতি-নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম মাল্টিপল রকেট লঞ্চার সিস্টেমের পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেন। কিম জং উন বলেছেন, এই পরীক্ষা ৪২০ কিলোমিটার (প্রায় ২৬০ মাইল) দূরত্বের মধ্যে থাকা পিয়ংইয়ংয়ের শত্রুদের মাঝে এক ধরনের অস্বস্তি ও কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি তৈরি করেছে। উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর ছোড়া সব রকেট পূর্ব সাগরে ৩৬০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরের একটি দ্বীপের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এসব রকেট লঞ্চারকে অত্যন্ত প্রাণঘাতী অস্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন কিম জং উন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, বড় বড় যানবাহন থেকে কয়েকটি রকেট আকাশে নিক্ষেপ করা হচ্ছে। অন্য একটি ছবিতে কিম এবং তার মেয়ে জু আয়েকে সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে দূর থেকে এই উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়। সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার সরকারের উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জু আয়েকে নিয়ে ঘন ঘন হাজির হতে দেখা যাচ্ছে কিম জং উনকে। জু আয়ে উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী শাসক হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ বলেছে, শনিবার উত্তর থেকে পূর্ব সাগরের দিকে একাধিক উৎক্ষেপণ শনাক্ত করা হয়েছে। সিউলের ব্লু হাউস এই উৎক্ষেপণকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘনকারী উসকানি আখ্যা দিয়ে নিন্দা এবং পিয়ংইয়ংকে অবিলম্বে এ ধরনের কাজ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

আফগানিস্তানের পাল্টা হামলায় ১৪ পাকিস্তানি সেনা নিহত

আফগানিস্তানের পাল্টা হামলায় ১৪ পাকিস্তানি সেনা নিহত

পাকিস্তানের হামলার জবাবে চালানো পল্টা অভিযানে পূর্বাঞ্চলের কুনার ও নানগারহার প্রদেশের ডুরান্ড লাইন সীমান্তের কাছে একটি পাকিস্তানি সামরিক চৌকি দখল করেছে আফগানিস্তান। এতে পাকিস্তানের ১৪ সেনা নিহত এবং আরও ১১ জন আহত হয়েছেন। রবিবার আফগানিস্তানের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আলজাজিরা ও টোলো নিউজের। আফগান মন্ত্রণালয় আরও জানায়, গত শুক্রবার বিকেল প্রায় ৫টার দিকে রাদ-উল-জুলুম নামের অভিযানের সময় পাকিস্তানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা হামজাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এ স্থাপনাটি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের ফয়জাবাদ এলাকায় অবস্থিত বলে ধরা হয়। সামরিক বিশ্লেষক সাদিক শিনওয়ারি বলেন, ইসলামিক এমিরেটের প্রতিরক্ষাবাহিনীর পালটা হামলা দেখিয়ে দিয়েছে যে আফগানিস্তানের বাহিনী পাকিস্তানের ভেতরেও বিমান হামলা চালিয়ে দেশটির সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীও তাদের হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং পাকতিকা ও কুনার প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হেনেছে। কুনার প্রদেশের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান জিয়াউর রহমান স্পিংঘার বলেন, গত ৪৮ ঘণ্টায় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী তথাকথিত ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন এলাকায় ২৭১টির বেশি রকেট নিক্ষেপ করেছে। এতে অন্তত তিনজন স্থানীয় বাসিন্দা আহত হয়েছেন। অন্যদিকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুক্রবার ইসলামিক এমিরেটের পক্ষ থেকে চালানো ড্রোন হামলার বিষয়টি তারা নিশ্চিত করেছে। এসব হামলায় কুয়েটা, কোহাট ও রাওয়ালপিণ্ডি শহরের কিছু স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হয়েছিল। এদিকে আফগানিস্তানে সামরিক স্থাপনা এবং সন্ত্রাসীদের আস্তানাকে নিশানা বানিয়ে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানার দাবি করেছে।

সরবরাহ কম, দাম বাড়ছে সয়াবিন ও পাম তেলের

সরবরাহ কম, দাম বাড়ছে সয়াবিন ও পাম তেলের

দেশের কোনো কোনো জায়গায় সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের (এমআরপি) চেয়েও বেশি দরে ভোজ্যতেল বিক্রি হচ্ছে। পবিত্র রমজান মাসের মাঝামাঝি থেকেই এমন পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, কোনো কোনো জায়গায় পাঁচ লিটারের বোতলের ভোজ্যতেলই পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কেউ কেউ এক বোতলের বেশি বিক্রি করছেন না ভোজ্যতেল। খুচরা বাজারে লিটারে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দামে সয়াবিন তেল কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। স্বপ্ন, মীনা বাজারের মতো চেন শপগুলোতে লেখা রয়েছে, ভোজ্যতেলের মজুত সীমিত এবং এক বোতলের বেশি বিক্রি করা হবে না। এক লিটারের সয়াবিন তেলের বোতলের এমআরপি ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা। আর পাঁচ লিটারের এমআরপি ৯২০ থেকে ৯৫৫ টাকা। গত ৭ ডিসেম্বর থেকে এ দর চলছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, গত এক সপ্তাহে পাঁচ লিটারের এক বোতল সয়াবিন তেলের সর্বনিম্ন দাম ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৯৫০-৯৫৫ টাকায়। খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে বেড়েছে ৭ থেকে ১০ টাকা। বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ১৮৫-১৯৩ টাকা দরে। অন্যদিকে খোলা পাম তেলের দাম বেড়েছে ৬ থেকে ১৩ টাকা, বিক্রি হচ্ছে ১৬৩-১৬৮ টাকা দরে। ঢাকার নিউ ইস্কাটনে দিলু রোডের গলিতে ১২টি বড় আকারের মুদিদোকান রয়েছে। রমিজ মোল্লা নামের দোকানদার বলেন, ‘ডিলারদের কাছ থেকে আমরা তেল পাচ্ছি না। তাঁদের কাছ থেকে আমাদেরই কিনতে হচ্ছে এমআরপি দরে।’ তিনি বলেন, ‘তেল না থাকলে কাস্টমাররা অন্য দোকানে চলে যান বলে কম লাভ হলেও তেল রাখতে হচ্ছে।’ তাঁর প্রশ্ন, ‘এক বোতল তেল বিক্রি করে ৫ থেকে ১০ টাকা লাভ না থাকলে পোষাবে?’ সোহাগ মিয়া নামের এক ক্রেতাকে রমিজ মোল্লার সঙ্গে ঝগড়া করতেও দেখা গেছে। তিনি বলছিলেন, ‘ছোট-বড় সব ব্যবসায়ীই এক। কোনো না কোনো উসিলায় খালি কীভাবে পাবলিকের গলা কাটা যায়।’ তবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এমআরপির চেয়ে বেশি দামে বিক্রিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে উল্লেখ করলেন। গতকাল সিলেট এলাকার কিছু বাজার ঘোরার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আপনি যে উদাহরণ দিলেন, তা সারা দেশের সাধারণ চিত্র নয়। সিলেটের প্রান্তিক এলাকায় আমি এমআরপি দরেই ভোজ্যতেল বিক্রি হতে দেখেছি। দিলু রোডের গলির এক পাশে চেন শপ স্বপ্ন, আরেক পাশে মীনা বাজার। উভয়টিতেই গিয়ে দেখা যায়, লেখা রয়েছে ‘স্টক সীমিত। সকল গ্রাহকের সয়াবিন তেল কেনার অধিকার নিশ্চিত করতে সাময়িকভাবে প্রতি গ্রাহক সর্বোচ্চ ১ পিস (বোতল) তেল কিনতে পারবেন।’ তবে এমআরপির চেয়ে বেশি দাম রাখা হচ্ছে না এসব শপে। ডিলারদের কাছ থেকে আমরা তেল পাচ্ছি না। তাঁদের কাছ থেকে আমাদেরই কিনতে হচ্ছে এমআরপি দরে। দিলু রোড থেকে ঢাকার কাওরান বাজারে বিসমিল্লাহ ট্রেডিংয়ে গিয়ে দেখা যায়, এমআরপি দরেই ভোজ্যতেল বিক্রি হচ্ছে। তবে সরবরাহের ঘাটতি রয়েছে। মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ফ্রেশ ব্র্যান্ডের ভোজ্যতেল ছাড়া এ দোকানে কোনো ভোজ্যতেল নেই। ম্যানেজার আবদুর রহমান বলেন, ‘রূপচাঁদাসহ সব কোম্পানির মালই চাচ্ছি। কিন্তু কেউ দিতে পারছে না। ফ্রেশ পেয়েছি, সেটাই বিক্রি করছি।’ সরকারের পক্ষ থেকে ভোজ্যতেলের সার্বিক সরবরাহ পর্যালোচনা বৈঠক হয়েছে ৯ মার্চ। বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানার মালিকেরাও উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) ওই বৈঠকে ভোজ্যতেলের সরবরাহ ও দাম পরিস্থিতি নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরে। এতে ভোজ্যতেলের সরবরাহ ঘাটতির কথা উল্লেখ রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে বলে তাঁরা সরকারের কাছে ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয়ের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু সরকার তাতে কর্ণপাত করছে না। বৈঠকে জানানো হয়, বর্তমানে সাতটি পরিশোধন কারখানা ভোজ্যতেল ব্যবসায়ে জড়িত। এগুলো হচ্ছে মেঘনা গ্রুপ, টি কে গ্রুপ, সিটি এডিবল অয়েল, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল, বসুন্ধরা মাল্টি ফুড প্রোডাক্টস, স্মাইল ফুড প্রোডাক্টস ও মীর বনস্পতি প্রোডাক্টস। বৈঠকে জানানো হয়, পরিশোধিত ও অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেলের মজুত রয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৯ টন। সাতটির মধ্যে চার কারখানার ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে ৫৫ হাজার ৫০০ টন এবং চার কারখানার ভোজ্যতেল পাইপলাইনে রয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৩৫৩ টন। কারখানাগুলো প্রতিদিন ৯ হাজার ৮৮ টন করে ভোজ্যতেল বাজারে ছাড়ছে এবং ৯ মার্চ পর্যন্ত ১৫ দিনে সরবরাহ করেছে ৫৭ হাজার ৬৪৪ টন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী দেশে ভোজ্যতেলের বার্ষিক চাহিদা ২৪ থেকে ২৫ লাখ টন। স্থানীয়ভাবে শর্ষে ও রাইস ব্র্যান মিলে ভোজ্যতেল উৎপাদন হয় চার লাখ টন।

নন-বন্ডেড পোশাক কারখানার কাঁচামাল সংগ্রহে উদ্যোগ নিচ্ছে এনবিআর

নন-বন্ডেড পোশাক কারখানার কাঁচামাল সংগ্রহে উদ্যোগ নিচ্ছে এনবিআর

দেশে বন্ড লাইসেন্সের আওতার বাইরে থাকা রপ্তানিকারকদের জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে কাঁচামাল সংগ্রহের বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে শত শত পোশাক কারখানার জন্য কাঁচামাল সংগ্রহ সহজ হবে এবং রপ্তানি কার্যক্রমও গতি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, এ বাধা অপসারণে রাজস্ব বোর্ড সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারকদের কাছ থেকে বন্ড লাইসেন্সের আওতার বাইরে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঁচামাল সংগ্রহে বিদ্যমান বাধা অপসারণে আমরা কাজ করছি। যত দ্রুত সম্ভব এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।’ এনবিআর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় আইনি সংশোধন সম্পন্ন হলে শীঘ্রই এ বিষয়ে একটি আদেশ জারি করা হতে পারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের ভ্যাট বিভাগের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, ইতোমধ্যে আইনি সংশোধনের লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য একটি সামারি (সারসংক্ষেপ) তৈরি করা হয়েছে। এটি পাশ হলে ভ্যাট পলিসি বিভাগ থেকে একটি আদেশ জারি করা হবে। এর ভিত্তিতে কিছু শর্তসহ কাস্টমস বন্ড উইং আরেকটি আলাদা আদেশ জারি করবে, যাদের অধীনে এ সুবিধা দেওয়া হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বর্তমানে বন্ডেড লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালিত ১,১০০-এর বেশি তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এসব কারখানা স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত কাঁচামালের ওপর নির্ভর করে রপ্তানি কার্যক্রম চালায়। এসব কারখানার বার্ষিক রপ্তানির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬ বিলিয়ন ডলার এবং শ্রমিক সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ বলে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন- বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) জানিয়েছে। এই সুবিধা দিলে যে অনিয়মের সুযোগ থাকবে, তা কীভাবে রোধ করা যাবে- এমন প্রশ্নে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, স্বয়ংক্রিয়তা (অটোমেশন) ও ডেটা সিস্টেমের সমন্বয়ের মাধ্যমে অপব্যবহার কমানো সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা অটোমেশনের দিকে চলে যাচ্ছি। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ইন্টিগ্রেশনের ফলে তথ্য সংগ্রহ করা এবং কার্যক্রমের মনিটরিং করা সম্ভব হবে। ফলে অনিয়মের সুযোগ কমে আসবে।’ পোশাক শিল্পের নেতারা বহু বছর ধরে এই সমস্যা সমাধানে এনবিআরের কাছে দাবি জানিয়ে আসছেন। এতদিনেও কেন জটিলতা দূর হয়নি এ প্রশ্নের জবাবে এনবিআরের কাস্টমস উইংয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, বন্ড লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের মধ্যে কাঁচামাল ক্রয় করে রপ্তানি না করলে বা অন্য কোন অনিয়ম করলে তা বের করা অপেক্ষাকৃত সহজ। কিন্তু, নন-বন্ডেড প্রতিষ্ঠানকে কাঁচামাল সরবরাহ করলে তা বের করা করা বিদ্যমান ব্যবস্থায় কঠিন। মূলত এসব অনিয়ম বের করার ক্ষেত্রে কাস্টমসের সক্ষমতার ঘাটতির কারণে এ ব্যবস্থা এতদিন চলমান ছিল। ২০২৪ সালের আগস্টে, গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর বিষয়টি আবারও উত্থাপন করে বিজিএমইএ। ২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর এনবিআরকে পাঠানো এক চিঠিতে সংগঠনটি জানায়, ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খুলতে না পারা বা বন্ডেড কোম্পানি থেকে কাঁচামাল ও আনুষঙ্গিক (এক্সেসরিজ) পণ্য সংগ্রহ করতে না পারার কারণে ইতোমধ্যে শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘বাদবাকি কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতাও কমছে এবং তারাও বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।’ রপ্তানিকারকেরা মনে করেন, প্রস্তাবিত সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশের ব্যবসা সহজীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিজিএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, যিনি গত এক বছর ধরে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এনবিআরের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ রাখছেন, উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে। সমস্যা সমাধানে একাধিক কমিটি গঠন করা হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। ১১ মাস আগে আমাদের চিঠির পর এনবিআর কিছু উদ্যোগ নিলেও পরে প্রক্রিয়াটি থেমে যায়। তবে দুই সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো গেছে।’ এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পোশাক, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ৬,০০০ কারখানা বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত কাঁচামাল সংগ্রহের সুবিধা পাচ্ছে। অন্যদিকে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বলছে, বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ৮৭ ধরনের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎপাদিত পণ্যের মোট রপ্তানি ছিল প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার, যার ৮০ শতাংশের বেশি এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। রাজস্ব কর্মকর্তারা জানান, এই সুবিধা দিতে এতদিন সরকারের অনীহার কারণ ছিল মূলত এই আশঙ্কা যে, শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা কাঁচামাল রপ্তানি না করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দিলে একদিকে সরকারের রাজস্ব হারানার শঙ্কা, অন্যদিকে একই পণ্য শুল্ক পরিশোধ করে আনা আমদানিকারকরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারেন।

শ্রম ইস্যুতে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র

শ্রম ইস্যুতে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র

পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশ যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে দেশগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানায়। এর আগে গত বুধবার উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও অতিরিক্ত উৎপাদন করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে দেশটি। ইউএসটিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১(বি) ধারা অনুযায়ী নতুন এ তদন্ত করা হবে। এতে দেখা হবে, পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রমের ব্যবহার থাকলে সেই পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইন, নীতি ও বাস্তব প্রয়োগ কতটা যুক্তিযুক্ত বা বৈষম্যমূলক। একই সঙ্গে যাচাই করা হবে, এসব নীতি বা অনুশীলন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের ওপর কোনো ধরনের বোঝা বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে কি না। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ঐকমত্য থাকা সত্ত্বেও সরকারগুলো তাদের বাজারে জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সেগুলো কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

উৎসবের জুতা

উৎসবের জুতা

ঈদ মানেই নতুন পোশাক, নতুন সাজ আর আনন্দের দিন। নতুন পোশাকের সঙ্গে মানানসই জুতা না হলে পুরো সাজটাই যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাই ঈদের কেনাকাটার তালিকায় পোশাকের পাশাপাশি জুতাও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে থাকে। তবে শুধু দেখতে সুন্দর হলেই চলবে না-ঈদের জুতা হতে হবে আরামদায়ক, টেকসই এবং পোশাকের সঙ্গে মানানসই। আরামই হোক প্রথম শর্ত ঈদের দিনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া-আসা, আত্মীয়স্বজনের বাসায় বেড়ানো কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা-সব মিলিয়ে অনেক সময় জুতা পায়ে থাকে। তাই ঈদের জুতা কেনার সময় আরামকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। নরম সোল, হালকা ওজন এবং ভালো ফিটিংয়ের জুতা হলে দীর্ঘ সময় পরেও পায়ে অস্বস্তি হবে না। পোশাকের সঙ্গে মিল ঈদের পোশাকের রং ও ডিজাইনের সঙ্গে জুতার মিল থাকা জরুরি। ছেলেদের পাঞ্জাবি-পায়জামার সঙ্গে লোফার, নাগরা বা স্যান্ডেল ভালো মানায়। অন্যদিকে মেয়েদের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ বা ফিউশন পোশাকের সঙ্গে হিল, কিটেন হিল বা স্টাইলিশ স্যান্ডেল বেশ মানানসই। বর্তমানে মিনিমাল ডিজাইনের জুতা বেশ জনপ্রিয়, যা প্রায় সব ধরনের পোশাকের সঙ্গেই মানিয়ে যায়। আবহাওয়ার কথাও ভাবুন ঈদ অনেক সময় গরমের সময় পড়ে। তাই এমন জুতা নির্বাচন করা ভালো যাতে পা ঘেমে না যায়। খোলা ডিজাইনের স্যান্ডেল বা বাতাস চলাচল করতে পারে এমন উপকরণের জুতা হলে আরাম বেশি পাওয়া যায়। মানসম্মত উপকরণ জুতা কেনার সময় শুধু ডিজাইন নয়, উপকরণের দিকেও নজর দিতে হবে। ভালো মানের চামড়া বা টেকসই কৃত্রিম উপকরণের জুতা হলে তা দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। সোল শক্ত হলেও যেন খুব শক্ত না হয়, আবার খুব নরমও না হয়-এমন ভারসাম্যপূর্ণ জুতা বেছে নেওয়াই ভালো। ট্রেন্ডি জুতা এখনকার ফ্যাশনে অতিরিক্ত ভারী বা জটিল ডিজাইনের জুতার চেয়ে হালকা, পরিষ্কার ডিজাইনের জুতা বেশি জনপ্রিয়। নিউট্রাল রং যেমন-কালো, বাদামি, বেইজ বা সোনালি-সহজেই বিভিন্ন পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যায়। তাই অনেকেই এখন এমন জুতা বেছে নিচ্ছেন যা ঈদের পরেও নিয়মিত ব্যবহার করা যায়। সঠিক সাইজ নিশ্চিত করুন অনেকে তাড়াহুড়ো করে জুতা কিনে পরে বুঝতে পারেন সাইজ ঠিক হয়নি। তাই কেনার সময় অবশ্যই জুতা পায়ে পরে দেখে নেওয়া উচিত। খুব টাইট বা খুব ঢিলা জুতা দুইটাই সমস্যার কারণ হতে পারে। সব মিলিয়ে ঈদের জুতা হওয়া উচিত স্টাইলিশ, আরামদায়ক ও ব্যবহার উপযোগী। কারণ ঈদের আনন্দ যেন অস্বস্তিকর জুতার কারণে ম্লান না হয়ে যায়। সঠিক জুতা বেছে নিতে পারলে ঈদের সাজও হবে পরিপূর্ণ, আর দিনটাও কাটবে স্বাচ্ছন্দ্যে ও আনন্দে। ফ্যাশন প্রতিবেদক

শিশুর স্বাচ্ছন্দ্য

শিশুর স্বাচ্ছন্দ্য

ঈদের উৎসব প্রতিটি শিশুর কাছে অনেক রঙিন। রোজার শুরু থেকেই তাদের ঈদ নিয়ে থাকে নানা জল্পনা-কল্পনা। বন্ধুদের মধ্যে হয় উৎসবমুখর কথোপকথন। কে কয়টা ড্রেস কিনল, কীভাবে সাজবে এমন অনেক কিছু। সকাল, দুপুর ও রাতের পোশাকের সঙ্গে সাজ ও গহনা এক্সেসরিজের বিষয়ে বর্তমানে বড়দের থেকে ছোটরা  বেশি স্মার্ট ও সচেতন। আর তাদের বায়না পূরণ করতে বাবা-মায়েরা ছুটছে বিভিন্ন শপিং মল ও মার্কেটে। প্রকৃতির বদলের খেলায় বাড়ছে তাপদাহ। তাই পরিবর্তন আসেেছ পোশাকেও। বিশেষ করে এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ভাবতে হয় বাড়ির শিশুদের নিয়ে। কেননা গরমে শিশুর পোশাক কেমন হবে, কী ধরনের পোশাক শিশুদের জন্য আরামদায়ক হবে। এসব ভাবনা চলে আসে প্রকৃতির রূপ বদলের সঙ্গে সঙ্গে। এ কারণে আমাদের দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোও এ সময়ে শিশুদের জন্য তৈরি করে ফ্যাশনেবল সব আরামদায়ক পোশাক। বাজার ঘুরে দেখা গেল, বিভিন্ন রং ও নকশায় অলঙ্কৃত করা হয়েছে শিশুদের পোশাক। প্রায় সব মার্কেট আর ফ্যাশন হাউসে এখন মিলবে শিশুদের জন্য সুতির পোশাক। ভয়েল, সুইস ভয়েল, আদ্দি, ভিসকস, মিক্সড ভয়েল, বেক্সি ভয়েলসহ নানারকম সুতি কাপড়ে তৈরি হচ্ছে কোমলমতিদের পোশাক। এ ছাড়া কটনের সঙ্গে ফেব্রিক দিয়েও তৈরি হচ্ছে পোশাক। বাজারে আছে সুতি, লিনেন ও গেঞ্জি কাপড়ের বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক। আরামদায়ক উপকরণ হিসেবে ডিজাইনাররা বেছে নিয়েছেন সুতি, গ্যাবার্ডিন, লিনেন ও নরম জিন্স এর মতো নরম কাপড়। শিশুরা যেহেতু বেশি ছোটাছুটি করে তাই ঘাম হয় বেশি। এ কারণে গরমকালে শিশুদের পোশাক নির্বাচনে সুতির কাপড় বেছে নিতে হবে। বিভিন্ন ধরনের ভয়েল, পাতলা তাঁত কাপড়ও আরামদায়ক। গরমে যেসব কাপড় তাপ শোষণ করে কম এমন হালকা রঙের পোশাক যেমন আকাশি, হালকা সবুজ, গোলাপি, সাদা, ধূসর, বাদামি ইত্যাদির ওপর রঙিন ছাপা বা প্রিন্টের পোশাক বেছে নিতে পারেন। এতে শিশুদের দেখতে বেশ ভালো লাগে। তবে তারা যেহেতু খেলাধুলা বা ছোটাছুটি করে বেশি, তাই রঙিন পোশাক পরাতে চাইলে ব্লক বা বাটিকের পাতলা সুতি পোশাক বেছে নিতে পারেন। এছাড়াও শিশুদের জন্য ছোট বা মাঝারি প্রিন্টের পোশাক বেশি মানানসই। ফুল, পাতা, পাখি, জ্যামিতিক নকশা বা বল প্রিন্টের পোশাকও পরাতে পারেন। এতে শিশুদের প্রাণবন্ত ও উচ্ছল লাগে। তবে শিশুদের জন্য যে ধরনের পোশাকই নির্বাচন করা হোক না কেন, তা যেন খুব বেশি আটসাঁট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাতাস চলাচল করতে পারে এমন ঢিলেঢালা পোশাক শিশুদের জন্য বেশি উপযোগী। ছেলে ও মেয়ে শিশুদের পোশাকে খুব একটা পার্থক্য দেখা যায় না বললেই চলে। ছেলেদের জন্য আছে ঢিলেঢালা গেঞ্জি, টি-শার্ট, ফতুয়া, নিমা, হাফ-প্যান্ট ও থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট, ট্রাউজার, ফুল-প্যান্ট। মেয়েদের জন্য এসব ছাড়াও পাওয়া যাচ্ছে নানারকম ডিজাইনের ফ্রক, লেহেঙ্গা, সালোয়ার-কামিজ, স্কার্ট, টপস, প্লাজো, শার্ট, টি-শার্ট, পোলো টি-শার্ট ইত্যাদি। এক ডিজাইনার বলেছেন, ‘আমরা সবসময়ই বাংলাদেশের আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে কাপড় বেছে নেই। গরমে শিশুদের পোশাকটা যেন স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়। সোনামণিদের পোশাকে প্যার্টানের দিক থেকে রয়েছে লিল্যাকজিন সিস্টেম যেমন প্রয়োজনে পোশাকটি ছোট-বড় করা যাবে এবং ঢিলেঢালা হলে টাইট করে নিতে পারবেন।’ কোথায় পাবেন লা রিভ, টুয়েলভ, আড়ং, রঙ বাংলাদেশ, বিশ্বরঙ, কে ক্র্যাফট, অঞ্জন’স, মেনজ ক্লাব, সীমান্ত স্কয়ার, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্কসহ বিভিন্ন শপিং মল ও মার্কেটে পাবেন শিশুর আরামদায়ক পোশাক। দাম পড়বে ৫০০ থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে। একটু কম দামের জন্য বেছে নিতে পারেন রাজধানীর নিউমার্কেট, নুরজাহান মার্কেট, বঙ্গবাজার, মৌচাক মার্কেট, তালতলা মার্কেট। গ্যাবার্ডিন ও জিনসের প্যান্টগুলোর দাম পড়বে ৩০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে।

বেচা- কেনা জমজমাট হলেও বাড়তি দামে নাখুশ  ক্রেতারা

বেচা- কেনা জমজমাট হলেও বাড়তি দামে নাখুশ ক্রেতারা

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে শেষ সময়ে পুরোপুরি জমে উঠেছে ময়মনসিংহের ঈদ বাজার। সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততই ভিড় বাড়ছে ময়মনসিংহের বিপনি-বিতানগুলোতে। এবারের ঈদে দেশীয় পোশাকের পাশাপাশি ইন্ডিয়ান ও পাকিস্তানী পোশাকের চাহিদা তুঙ্গে। দাম নিয়ে ক্রেতা- বিক্রাতাদের দর কষাকষি চললেও ক্রেতারা কিনে নিচ্ছেন পছন্দের পোশাক। তবে শাড়ীর বাজার মন্দা থাকায় কিছুটা অখুশি ব্যবসায়ীরা। এদিকে শপিংমল ও বিপনি-বিতানসহ বিভিন্ন পয়েন্ট চিহৃিত করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন ফুটপাত, মার্কেট শপিংমল ঘুরে দেখা যায়, ঈদকে কেন্দ্র করে নগরীর তাজমহল, স্টেশন রোড, গাঙ্গিনারপাড়, নতুন বাজার, চরপাড়াসহ বিভিন্ন শপিংমল ও বিপনি-বিতানগুলো সেজেছে নতুন সাজে। বাহারি নামে ও ডিজাইনে শাড়ী, থ্রি-পিছ, টপস, শার্ট, প্যান্ট, টিশার্ট শোভা পাচ্ছে শোরুমগুলোতে। গাঙ্গিনারপাড় এলাকার ফুটপাতেও নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। দাম কষাকষি করে পছন্দের পোষাক কিনে নিচ্ছেন ক্রেতারা। তবে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবছর পোষাকের দাম বেশি বলে অভিযোগ তাদের। ক্রেতারা জানান, প্রত্যেকটি শপিংমল, বিপনি-বিতানসহ ফুটপাতে পছন্দের পোশাক কিনছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তবে গত বছরের তুলনায় এবার দাম বেশি নিচ্ছেন বিক্রেতারা। এতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতারা। তারা কিছুটা কম দামে কিন্তে এক শোরুম থেকে আরেক শোরুমে ছুটে যাচ্ছেন । অনেকে কম দামে পছন্দের পোশাক পেতে ফুটপাতকে বেছে নিচ্ছেন। শহরের বাড়িপ্লাজা শপিংমল থেকে পরিবারের জন্য পছন্দের পোশাক কিনতে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরছিলেন আবু বকর । কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, যেসব থ্রী পিছ গত বছর দাম চেয়েছিল ৮শ থেকে ১ হাজার টাকা । সেই থ্রী পিছ এখন ১৫শ টাকায় কিনতে হচ্ছে। মেয়ের জন্য এক থ্রী পিছ কিনেছি। এখন পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য পোশাক কিনতে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে যাচ্ছি। তবে বিক্রেতারা বেশি দামে বিক্রি করায় পকেটে টাকার হিসেবে মেলাতে হিমসিম খাচ্ছি। গাঙ্গিনারপাড় এলাকায় ফুটপাত থেকে বাচ্চার টিশার্ট ও প্যান্ট কিনছিলেন সানিয়া আক্তার । তিনি বলেন, এক দরের শোরুমগুলোতে দাম লিখে রাখা হয়েছে। অন্য শোরুমেও দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে। এঅবস্থায় নিজের বাজেটের মধ্যে পোশাক কিনতে ফুটপাতে এসেছি। বিক্রেতারা জানান, ঈদের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ক্রেতাদের ভিড় ততই বাড়ছে। তবে মানুষের হাতে টাকা না থাকায়, দামি কাপড় কিনতে সাহস পাচ্ছেন না। ঈদুল ফিতর সামনে রেখে বেশি বিক্রি হচ্ছে সারারা, গারারা, সিল্ক, শিফন, সুতির সালোয়ার-কামিজ, কুর্তিসহ বাহারি ডিজাইনের কাপড়। শিশুদের পোশাক, নারীদের শাড়ি, লেহেঙ্গার দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ঈদের কেনাকাটা। দাম একটু বেশি থাকলেও ভালো বিক্রি হওয়ায় খুশি দোকানীরা। আজাদ শপিংমলের ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে বেচাকেনা জমজমাট হয়ে উঠেছে। গতবছরের চেয়ে এবার পোশাকের পাইকারি দাম একটু বেশি। তাই ক্রেতাদের কাছে কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে বিক্রি কমছে না। শেষ সময়ে বেচাকেনা আরও জমজমাট হবে বলে প্রত্যাশা করছি। ফুটপাতের ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল জনকন্ঠকে বলেন, শপিংমল ও বিপনি-বিতানগুলোতে দাম বেশি থাকার কারনে অনেকেই কিনাকাটা করতে পারছেন না। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতারা ফুটপাতে ভিড় করছেন। তারা কম দামে পছন্দের পোশাক কিনতে পারছেন। এতে আমাদেরও ব্যবসাও ভালোই হচ্ছে । জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুস ছালাম বলেন, অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়িয়ে কোনোকিছু বিক্রি করা যাবে না। দেশে তৈরি পোশাক ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানি বা অন্য কোনো দেশের বলেও বিক্রি করা যাবে না। ক্রেতা ঠকিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা পকেট ভারি করতে চেষ্টা করলে অভিযান চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ-আল্-মামুন বলেন, বিভিন্ন শপিংমলের সামনে পোশাক ও সাদা পোশাকে পুলিশের টহল রয়েছে। চুরি- ছিনতাই রোদে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা ঈদে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে।