ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ১৭ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২

circluar
circluar
বাগেরহাটে দখল ও দূষণে ভৈরব নদী অস্তিত্ব সংকটে

বাগেরহাটে দখল ও দূষণে ভৈরব নদী অস্তিত্ব সংকটে

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত এক সময়ের প্রমত্তা ভৈরব নদী এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের অবৈধ দখল এবং হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য নিক্ষেপের ফলে নদীটি এখন মৃতপ্রায় খালে পরিণত হতে চলেছে। কচুয়ার এই ভৈরব নদীতে যেন চলছে দখলের মহাউৎসব। সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর দুই পাড়ে এক শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ভূমিদস্যুরা অবৈধভাবে পাড় দখল করে স্থায়ী ও অস্থায়ী স্থাপনা গড়ে তুলেছে। কোথাও কোথাও নদী ভরাট করে দোকানঘর, এমনকি বাসাবাড়িও নির্মাণ করা হয়েছে। নদীর বুক চিরে গড়ে ওঠা এসব অবৈধ স্থাপনার কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দখলের পাশাপাশি ভৈরব নদীকে যেন ময়লা ফেলার ভাগাড়ে পরিণত করেছে স্থানীয় কতিপয় ব্যবসায়ী। কচুয়া বাজারের বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁর পচা-বাসি খাবার, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং পয়ঃনিষ্কাশনের ড্রেন সরাসরি নদীতে মিশছে। এতে নদীর পানি শুধু ব্যবহারের অনুপযোগীই নয়, বরং ছড়াচ্ছে উৎকট দুর্গন্ধ। স্থানীয় সলেমান সেখ, মিহীন কান্তি দাস ও আমেনা বেগম বলেন, “আমরা ছোটবেলায় এই নদীতে বড় বড় লঞ্চ, স্টিমার ও নৌকা চলতে দেখেছি। এখন নদীটা দখল হতে হতে সরু ড্রেনের মতো হয়ে গেছে। ময়লা ফেলে পানি এতটাই বিষাক্ত করা হয়েছে যে, গায়ের চামড়ায় লাগলে চুলকানি ও পাচড়া হয়।” স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের সামনে দিনদুপুরে দখল ও দূষণ চললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। মাঝেমধ্যে লোকদেখানো উচ্ছেদ অভিযান হলেও কিছুদিন যেতে না যেতেই পরিস্থিতি আগের রূপে ফিরে আসে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে সিএস ম্যাপ অনুযায়ী নদী জরিপ করে সীমানা নির্ধারণ করা এবং নদীর ভেতরে থাকা সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা জরুরি। নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ ও ডাস্টবিনের ব্যবস্থা প্রয়োজন। প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় ভৈরব নদীকে বাঁচাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে এই জনপদের প্রাণপ্রবাহ এই নদী। যার বিরূপ প্রভাব পড়বে কৃষি, নৌচলাচল, পরিবেশ ও জলাবদ্ধতাসহ এ অঞ্চলের জীববৈচিত্র্যের ওপর।

বাকেরগঞ্জে নদীগর্ভে বিলীন বসতবাড়ি ও ফসলি জমি

বাকেরগঞ্জে নদীগর্ভে বিলীন বসতবাড়ি ও ফসলি জমি

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের দক্ষিণ সাদিস, আমতলী, আমিনবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় পান্ডব নদীর অব্যাহত ভাঙনে বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পারিবারিক কবরস্থান ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে করে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ চরম আতঙ্ক ও দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।  স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুকনা মৌসুমে পানি কমে যাওয়ায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পান্ডব নদীর তীব্র ¯্রােত ও ভাঙনের কারণে কলসকাঠী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম নদী তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি, দক্ষিণ সাদিস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পারিবারিক কবরস্থান এবং শত শত একর আবাদি জমি। ভাঙনের ফলে অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কেউ কেউ ভাঙনের আতঙ্কে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই পান্ডব নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। কিন্তু স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে দিন দিন নদীর তীরবর্তী জনপদ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এলাকার ভুক্তভোগীরা দ্রুত নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। দক্ষিণ সাদিস গ্রামের বাসিন্দা আবু সালে জানান, যুগের পর যুগ ধরে পান্ডব নদীর ভাঙনে আমিনপুর গ্রাম কলসকাঠীর মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে। শত শত মানুষ হারিয়েছেন তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই। একটি গ্রাম নদীতে হারিয়ে গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নদী ভাঙন রোধে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এভাবে ভাঙতে থাকলে দ্রুত সময়ের মধ্যে দক্ষিণ সাদিস গ্রাম পান্ডব নদীতে হারিয়ে যাবে।  এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, নদী ভাঙনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এদিকে পান্ডব নদীর অব্যাহত ভাঙনে এলাকার মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও বহু ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানান, পান্ডব নদীর ভাঙন স্থান পরিদর্শন করে কি পরিমাণ বরাদ্দ দরকার সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই ঈদে তারিক আনাম খান

এই ঈদে তারিক আনাম খান

বাংলাদেশের নাটক ও চলচ্চিত্রের গুণী অভিনেতা, নির্মাতা তারিক আনাম খান। বাংলাদেশের অন্যতম নাট্যদল নাট্যকেন্দ্রর প্রতিষ্ঠাতা তিনি। ‘দেশা দ্য লিডার’ ও ‘আবার বসন্তে’ সিনেমায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত গুণী এই অভিনেতাকে ১৯ মার্চ থেকে হৈ চৈ ওটিটি প্ল্যাটফর্মে প্রচারে আসা ওয়েব ফিল্ম ‘একসাথে আলাদা’য় একজন অবসরপ্রাপ্ত আর্মি অফিসারের ভূমিকায় অভিনয়ে দেখা যাচ্ছে। এটি নির্মাণ করেছেন রেজাউর রহমান। এছাড়াও এই ঈদে তিনটি নাটকেও তারিক আনাম খানকে দেখা যেতে পারে। নাটকগুলো হচ্ছে শহীদ উন নবীর ‘ভূত শ্বশুর’, আশিকুর রহমানের ‘লিলিথ’ ও তাইফুর জাহান আশিকের ‘গুলনাহার’। তারিক আনাম খান বলেন,‘ এবারের ঈদ উপলক্ষে মূলত তিনটি নাটকে অভিনয় করেছি। তারমধ্যে ভূত শ্বশুর ও গুলনাহার কমেডি ঘরানার গল্পের নাটক।

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল এগিয়ে থাকলেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল এগিয়ে থাকলেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

ভারতে পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিভিন্ন জরিপে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে থাকলেও ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বেশ কয়েকটি নির্বাচনী আসনে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখায় ভোটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। খবর আনন্দবাজার অনলাইনের।  তৃণমূলের জনভিত্তি অটুট থাকলেও, দুর্নীতি ও উন্নয়নের বিষয়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের মতো দলগুলো কড়া টক্কর দিচ্ছে। মাতৃজ-আইএএনএস জনমত জরিপে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বি^তা হওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপি-নেতৃত্বাধীন জোটের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। জরিপের ফল বলছে, স্পষ্টতই মমতার ক্ষমতাসীন দল ভোটে এগিয়ে থাকবে। তবে বিজেপি তাদের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে থাকবে। সেকারণে পশ্চিমবঙ্গে আগেরবারের নির্বাচনগুলোর চেয়ে এবারের নির্বাচনে লড়াইটা অনেকটা কঠিন হবে বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরও। পশ্চিমবঙ্গের এবারের নির্বচনে মমতা ব্যানার্জী চতুর্থ বারের জন্য ভোটে জিতলে ভারতের দীর্ঘমেয়াদী নারী মুখ্যমন্ত্রীর তকমা ছিনিয়ে ইতিহাস গড়বেন। এর আগে রাজধানী দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত টানা ১৫ বছর ২৫ দিন মুখ্যমন্ত্রীর গদিতে বসে দীর্ঘ মেয়াদী নারী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে রেকর্ড গড়েছিলেন। সেই রেকর্ডও এবার মমতা ভেঙে দেবেন কিনা প্রশ্ন সেটি। বর্তমানে তৃতীয় মেয়াদে মুখ্যমন্ত্রী পদে রয়েছেন মমতা। ২০১১ সালে দীর্ঘ ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস।

ট্রাম্পের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান

ট্রাম্পের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান

ইরানের অব্যাহত হামলার মুখে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না অস্ট্রেলিয়া ও জাপানসহ কয়েক দেশ। সোমবার অস্ট্রেলিয়া সরকারের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা প্রথমে জানানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র জাপানও একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে তিনি প্রায় সাতটি দেশের কাছে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন। উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে এই আহ্বান জানান তিনি। খবর আলজাজিরা ও জাপান টাইমস অনলাইনের।  সোমবার অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনকে (এবিসি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পরিবহনমন্ত্রী ক্যাথরিন কিং বলেন, এ ধরনের কোনো অনুরোধের বিষয়ে তিনি অবগত নন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আমরা হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজ পাঠাচ্ছি না। আমরা জানি এটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এ ধরনের কোনো অনুরোধ আমাদের কাছে আসেনি এবং আমরা এতে অংশ নিচ্ছি না। অস্ট্রেলিয়া গত সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ইরানি হামলা থেকে রক্ষায় একটি বিমান বাহিনীর নজরদারি উড়োজাহাজ এবং আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করার কথা জানিয়েছিল। তবে সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ‘আক্রমণাত্মক পদক্ষেপে’ অংশ নিচ্ছে না। এদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে সোমবার জানিয়েছেন যে হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিতে সেখানে নিজেদের নৌবাহিনীর কোনো জাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা টোকিওর নেই। ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী শীঘ্রই হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোকে পাহারা দেওয়া শুরু করবে। তবে গতকাল ১৫ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প এই কাজে জাপানসহ মিত্র ৬ দেশকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। বাকি দেশগুলো হলো চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ব্রিটেন। ট্রুথ সোশ্যালে এই বার্তা পোস্ট করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি চাই এই দেশগুলো এগিয়ে আসুক এবং নিজেদের এলাকা রক্ষা করুক; কারণ এটা (হরমুজ প্রণালি) তাদের এলাকা, এই এলাকা থেকেই তারা তাদের জ্বালানির সরবরাহ পায়।’ ট্রাম্পের এই আহ্বানের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ ইস্যুতে বিবৃতি আসে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দপ্তর থেকে। সেই বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বলেন, আমরা এখনও (হরমুজ প্রণালীতে) নিরাপত্তা জাহাজ পাঠানোর কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। আইনি ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে জাপান স্বাধীনভাবে কী কী করতে পারে, সে সম্পর্কে আমরা চিন্তাভাবনা করছি।  জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমিও একই বক্তব্য জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এক বার্তায় তিনি বলেছেন,  আমরা কী করতে পারি এবং বর্তমান পরিস্থিতি আমদের তা করা উচিত কিনা— সেটি অবশ্যই আলাদা বিষয়। ট্রাম্পের আহ্বানের পর প্রথম দেশ হিসেবে তা প্রত্যাখ্যান করল জাপান।

আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য ডিজিটাল সিস্টেম চালু করল এনবিআর

আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য ডিজিটাল সিস্টেম চালু করল এনবিআর

আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানোর আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করতে একটি অনলাইন সিস্টেম চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চলতি বছর ব্যক্তিগত করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে যেসব করদাতা ৩১ মার্চের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন না, তারা অতিরিক্ত সময়ের জন্য আবেদন করতে পারবেন। করদাতার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর কমিশনার রিটার্ন দাখিলের সময় সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পারেন বলে এনবিআর সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, রিটার্ন দাখিলের জন্য সময় বৃদ্ধির আবেদন এবং অতিরিক্ত সময়ের অনুমোদনের কাজটি সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ এবং স্বস্তিদায়ক করার লক্ষ্যে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য অনলাইন সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, করদাতাগণ এখন সহজেই ই-রিটার্ন সিস্টেমে লগইন করে ‘টাইম এক্সটেনশন’ মেন্যু ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের জন্য সময় বৃদ্ধির আবেদন করতে পারবেন।

ঈদে টানা ব্যাংক বন্ধ, টাকা তুলবেন কীভাবে

ঈদে টানা ব্যাংক বন্ধ, টাকা তুলবেন কীভাবে

এবার ঈদের কারণে টানা সাত দিন ছুটির কবলে পড়ছে দেশ। ফলে এই সময়ে বন্ধ থাকবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। তাহলে কি এই সময়ে টাকাপয়সার লেনদেন বন্ধ থাকবে? অবশ্যই নয়। এই সময়ে খোলা থাকবে সব বিকল্প ব্যাংকিং বা লেনদেনের ব্যবস্থা। বন্ধের সময় নগদ টাকার প্রয়োজন হয়। এই সময় এটিএম বুথ এবং এমএফএসের ক্যাশআউটই ভরসা। কার্ড দিয়ে এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলা যাবে, চাইলে পয়েন্ট অব সেলে (পিওএস) গিয়ে লেনদেন করা যাবে। এ সময় সব ধরনের ইন্টারনেটভিত্তিক লেনদেনের ব্যবস্থা চালু থাকবে। পাশাপাশি বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) চালু থাকবে। ফলে ব্যাংক বন্ধ থাকলেও আর্থিক লেনদেন চালু রাখতে সমস্যা হবে না বলে মনে করছেন এ খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে দীর্ঘ ছুটিতে অনেক সময় এটিএম বুথে টাকার সংকট দেখা যায়। নির্দেশনায় যা আছে ॥ পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে ব্যাংকের এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখার জন্য সব ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইতিমধ্যে সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঈদের সময় বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলার চাহিদা বাড়ে। এটিএম বুথের সামনে গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। শুধু এটিএম নয়, পয়েন্ট অব সেল (পিওএস), কিউআর কোড, ইন্টারনেট ব্যাংক, অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। বিকল্প কী ॥ এখন বেসরকারি ব্যাংকগুলো হিসাব খোলার সময় চেকের পাশাপাশি এটিএম কার্ড নেওয়া বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে। ফলে নতুন গ্রাহকদের সবার এটিএম কার্ড রয়েছে। ব্যাংক শাখা খোলা থাকলে শাখায় গিয়ে টাকা উত্তোলন ও জমা দেওয়া যায়। একইভাবে এখন ক্যাশ রিসাইকেল মেশিনে (সিআরএম) টাকা উত্তোলনের পাশাপাশি জমা দেওয়া হয়। বেশির ভাগ ব্যাংক এটিএমের পরিবর্তে সিআরএম স্থাপন করছে। পাশাপাশি কার্ড দিয়ে পিওএসে গিয়ে কেনাকাটা ও লেনদেন করা যায়।

চ্যালেঞ্জের মুখে দেশের রপ্তানি খাত

চ্যালেঞ্জের মুখে দেশের রপ্তানি খাত

বিশ্ব রাজনীতির নতুন উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দ্বন্দ্ব। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ ও সমুদ্রপথের বাণিজ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে অনেক দূরে থাকা দেশগুলোর অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশের মতো রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রথম ধাক্কাটি আসে জ্বালানি বাজারে। তেলের দাম বেড়ে গেলে তার প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন এবং শিল্প উৎপাদনের ওপর। বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এটি একটি বড় ঝুঁকি।

উৎসবের জুতা

উৎসবের জুতা

ঈদ মানেই নতুন পোশাক, নতুন সাজ আর আনন্দের দিন। নতুন পোশাকের সঙ্গে মানানসই জুতা না হলে পুরো সাজটাই যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাই ঈদের কেনাকাটার তালিকায় পোশাকের পাশাপাশি জুতাও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে থাকে। তবে শুধু দেখতে সুন্দর হলেই চলবে না-ঈদের জুতা হতে হবে আরামদায়ক, টেকসই এবং পোশাকের সঙ্গে মানানসই। আরামই হোক প্রথম শর্ত ঈদের দিনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া-আসা, আত্মীয়স্বজনের বাসায় বেড়ানো কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা-সব মিলিয়ে অনেক সময় জুতা পায়ে থাকে। তাই ঈদের জুতা কেনার সময় আরামকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। নরম সোল, হালকা ওজন এবং ভালো ফিটিংয়ের জুতা হলে দীর্ঘ সময় পরেও পায়ে অস্বস্তি হবে না। পোশাকের সঙ্গে মিল ঈদের পোশাকের রং ও ডিজাইনের সঙ্গে জুতার মিল থাকা জরুরি। ছেলেদের পাঞ্জাবি-পায়জামার সঙ্গে লোফার, নাগরা বা স্যান্ডেল ভালো মানায়। অন্যদিকে মেয়েদের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ বা ফিউশন পোশাকের সঙ্গে হিল, কিটেন হিল বা স্টাইলিশ স্যান্ডেল বেশ মানানসই। বর্তমানে মিনিমাল ডিজাইনের জুতা বেশ জনপ্রিয়, যা প্রায় সব ধরনের পোশাকের সঙ্গেই মানিয়ে যায়। আবহাওয়ার কথাও ভাবুন ঈদ অনেক সময় গরমের সময় পড়ে। তাই এমন জুতা নির্বাচন করা ভালো যাতে পা ঘেমে না যায়। খোলা ডিজাইনের স্যান্ডেল বা বাতাস চলাচল করতে পারে এমন উপকরণের জুতা হলে আরাম বেশি পাওয়া যায়। মানসম্মত উপকরণ জুতা কেনার সময় শুধু ডিজাইন নয়, উপকরণের দিকেও নজর দিতে হবে। ভালো মানের চামড়া বা টেকসই কৃত্রিম উপকরণের জুতা হলে তা দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। সোল শক্ত হলেও যেন খুব শক্ত না হয়, আবার খুব নরমও না হয়-এমন ভারসাম্যপূর্ণ জুতা বেছে নেওয়াই ভালো। ট্রেন্ডি জুতা এখনকার ফ্যাশনে অতিরিক্ত ভারী বা জটিল ডিজাইনের জুতার চেয়ে হালকা, পরিষ্কার ডিজাইনের জুতা বেশি জনপ্রিয়। নিউট্রাল রং যেমন-কালো, বাদামি, বেইজ বা সোনালি-সহজেই বিভিন্ন পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যায়। তাই অনেকেই এখন এমন জুতা বেছে নিচ্ছেন যা ঈদের পরেও নিয়মিত ব্যবহার করা যায়। সঠিক সাইজ নিশ্চিত করুন অনেকে তাড়াহুড়ো করে জুতা কিনে পরে বুঝতে পারেন সাইজ ঠিক হয়নি। তাই কেনার সময় অবশ্যই জুতা পায়ে পরে দেখে নেওয়া উচিত। খুব টাইট বা খুব ঢিলা জুতা দুইটাই সমস্যার কারণ হতে পারে। সব মিলিয়ে ঈদের জুতা হওয়া উচিত স্টাইলিশ, আরামদায়ক ও ব্যবহার উপযোগী। কারণ ঈদের আনন্দ যেন অস্বস্তিকর জুতার কারণে ম্লান না হয়ে যায়। সঠিক জুতা বেছে নিতে পারলে ঈদের সাজও হবে পরিপূর্ণ, আর দিনটাও কাটবে স্বাচ্ছন্দ্যে ও আনন্দে। ফ্যাশন প্রতিবেদক

শিশুর স্বাচ্ছন্দ্য

শিশুর স্বাচ্ছন্দ্য

ঈদের উৎসব প্রতিটি শিশুর কাছে অনেক রঙিন। রোজার শুরু থেকেই তাদের ঈদ নিয়ে থাকে নানা জল্পনা-কল্পনা। বন্ধুদের মধ্যে হয় উৎসবমুখর কথোপকথন। কে কয়টা ড্রেস কিনল, কীভাবে সাজবে এমন অনেক কিছু। সকাল, দুপুর ও রাতের পোশাকের সঙ্গে সাজ ও গহনা এক্সেসরিজের বিষয়ে বর্তমানে বড়দের থেকে ছোটরা  বেশি স্মার্ট ও সচেতন। আর তাদের বায়না পূরণ করতে বাবা-মায়েরা ছুটছে বিভিন্ন শপিং মল ও মার্কেটে। প্রকৃতির বদলের খেলায় বাড়ছে তাপদাহ। তাই পরিবর্তন আসেেছ পোশাকেও। বিশেষ করে এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ভাবতে হয় বাড়ির শিশুদের নিয়ে। কেননা গরমে শিশুর পোশাক কেমন হবে, কী ধরনের পোশাক শিশুদের জন্য আরামদায়ক হবে। এসব ভাবনা চলে আসে প্রকৃতির রূপ বদলের সঙ্গে সঙ্গে। এ কারণে আমাদের দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোও এ সময়ে শিশুদের জন্য তৈরি করে ফ্যাশনেবল সব আরামদায়ক পোশাক। বাজার ঘুরে দেখা গেল, বিভিন্ন রং ও নকশায় অলঙ্কৃত করা হয়েছে শিশুদের পোশাক। প্রায় সব মার্কেট আর ফ্যাশন হাউসে এখন মিলবে শিশুদের জন্য সুতির পোশাক। ভয়েল, সুইস ভয়েল, আদ্দি, ভিসকস, মিক্সড ভয়েল, বেক্সি ভয়েলসহ নানারকম সুতি কাপড়ে তৈরি হচ্ছে কোমলমতিদের পোশাক। এ ছাড়া কটনের সঙ্গে ফেব্রিক দিয়েও তৈরি হচ্ছে পোশাক। বাজারে আছে সুতি, লিনেন ও গেঞ্জি কাপড়ের বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক। আরামদায়ক উপকরণ হিসেবে ডিজাইনাররা বেছে নিয়েছেন সুতি, গ্যাবার্ডিন, লিনেন ও নরম জিন্স এর মতো নরম কাপড়। শিশুরা যেহেতু বেশি ছোটাছুটি করে তাই ঘাম হয় বেশি। এ কারণে গরমকালে শিশুদের পোশাক নির্বাচনে সুতির কাপড় বেছে নিতে হবে। বিভিন্ন ধরনের ভয়েল, পাতলা তাঁত কাপড়ও আরামদায়ক। গরমে যেসব কাপড় তাপ শোষণ করে কম এমন হালকা রঙের পোশাক যেমন আকাশি, হালকা সবুজ, গোলাপি, সাদা, ধূসর, বাদামি ইত্যাদির ওপর রঙিন ছাপা বা প্রিন্টের পোশাক বেছে নিতে পারেন। এতে শিশুদের দেখতে বেশ ভালো লাগে। তবে তারা যেহেতু খেলাধুলা বা ছোটাছুটি করে বেশি, তাই রঙিন পোশাক পরাতে চাইলে ব্লক বা বাটিকের পাতলা সুতি পোশাক বেছে নিতে পারেন। এছাড়াও শিশুদের জন্য ছোট বা মাঝারি প্রিন্টের পোশাক বেশি মানানসই। ফুল, পাতা, পাখি, জ্যামিতিক নকশা বা বল প্রিন্টের পোশাকও পরাতে পারেন। এতে শিশুদের প্রাণবন্ত ও উচ্ছল লাগে। তবে শিশুদের জন্য যে ধরনের পোশাকই নির্বাচন করা হোক না কেন, তা যেন খুব বেশি আটসাঁট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাতাস চলাচল করতে পারে এমন ঢিলেঢালা পোশাক শিশুদের জন্য বেশি উপযোগী। ছেলে ও মেয়ে শিশুদের পোশাকে খুব একটা পার্থক্য দেখা যায় না বললেই চলে। ছেলেদের জন্য আছে ঢিলেঢালা গেঞ্জি, টি-শার্ট, ফতুয়া, নিমা, হাফ-প্যান্ট ও থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট, ট্রাউজার, ফুল-প্যান্ট। মেয়েদের জন্য এসব ছাড়াও পাওয়া যাচ্ছে নানারকম ডিজাইনের ফ্রক, লেহেঙ্গা, সালোয়ার-কামিজ, স্কার্ট, টপস, প্লাজো, শার্ট, টি-শার্ট, পোলো টি-শার্ট ইত্যাদি। এক ডিজাইনার বলেছেন, ‘আমরা সবসময়ই বাংলাদেশের আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে কাপড় বেছে নেই। গরমে শিশুদের পোশাকটা যেন স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়। সোনামণিদের পোশাকে প্যার্টানের দিক থেকে রয়েছে লিল্যাকজিন সিস্টেম যেমন প্রয়োজনে পোশাকটি ছোট-বড় করা যাবে এবং ঢিলেঢালা হলে টাইট করে নিতে পারবেন।’ কোথায় পাবেন লা রিভ, টুয়েলভ, আড়ং, রঙ বাংলাদেশ, বিশ্বরঙ, কে ক্র্যাফট, অঞ্জন’স, মেনজ ক্লাব, সীমান্ত স্কয়ার, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্কসহ বিভিন্ন শপিং মল ও মার্কেটে পাবেন শিশুর আরামদায়ক পোশাক। দাম পড়বে ৫০০ থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে। একটু কম দামের জন্য বেছে নিতে পারেন রাজধানীর নিউমার্কেট, নুরজাহান মার্কেট, বঙ্গবাজার, মৌচাক মার্কেট, তালতলা মার্কেট। গ্যাবার্ডিন ও জিনসের প্যান্টগুলোর দাম পড়বে ৩০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে।

বেচা- কেনা জমজমাট হলেও বাড়তি দামে নাখুশ  ক্রেতারা

বেচা- কেনা জমজমাট হলেও বাড়তি দামে নাখুশ ক্রেতারা

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে শেষ সময়ে পুরোপুরি জমে উঠেছে ময়মনসিংহের ঈদ বাজার। সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততই ভিড় বাড়ছে ময়মনসিংহের বিপনি-বিতানগুলোতে। এবারের ঈদে দেশীয় পোশাকের পাশাপাশি ইন্ডিয়ান ও পাকিস্তানী পোশাকের চাহিদা তুঙ্গে। দাম নিয়ে ক্রেতা- বিক্রাতাদের দর কষাকষি চললেও ক্রেতারা কিনে নিচ্ছেন পছন্দের পোশাক। তবে শাড়ীর বাজার মন্দা থাকায় কিছুটা অখুশি ব্যবসায়ীরা। এদিকে শপিংমল ও বিপনি-বিতানসহ বিভিন্ন পয়েন্ট চিহৃিত করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন ফুটপাত, মার্কেট শপিংমল ঘুরে দেখা যায়, ঈদকে কেন্দ্র করে নগরীর তাজমহল, স্টেশন রোড, গাঙ্গিনারপাড়, নতুন বাজার, চরপাড়াসহ বিভিন্ন শপিংমল ও বিপনি-বিতানগুলো সেজেছে নতুন সাজে। বাহারি নামে ও ডিজাইনে শাড়ী, থ্রি-পিছ, টপস, শার্ট, প্যান্ট, টিশার্ট শোভা পাচ্ছে শোরুমগুলোতে। গাঙ্গিনারপাড় এলাকার ফুটপাতেও নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। দাম কষাকষি করে পছন্দের পোষাক কিনে নিচ্ছেন ক্রেতারা। তবে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবছর পোষাকের দাম বেশি বলে অভিযোগ তাদের। ক্রেতারা জানান, প্রত্যেকটি শপিংমল, বিপনি-বিতানসহ ফুটপাতে পছন্দের পোশাক কিনছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তবে গত বছরের তুলনায় এবার দাম বেশি নিচ্ছেন বিক্রেতারা। এতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতারা। তারা কিছুটা কম দামে কিন্তে এক শোরুম থেকে আরেক শোরুমে ছুটে যাচ্ছেন । অনেকে কম দামে পছন্দের পোশাক পেতে ফুটপাতকে বেছে নিচ্ছেন। শহরের বাড়িপ্লাজা শপিংমল থেকে পরিবারের জন্য পছন্দের পোশাক কিনতে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরছিলেন আবু বকর । কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, যেসব থ্রী পিছ গত বছর দাম চেয়েছিল ৮শ থেকে ১ হাজার টাকা । সেই থ্রী পিছ এখন ১৫শ টাকায় কিনতে হচ্ছে। মেয়ের জন্য এক থ্রী পিছ কিনেছি। এখন পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য পোশাক কিনতে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে যাচ্ছি। তবে বিক্রেতারা বেশি দামে বিক্রি করায় পকেটে টাকার হিসেবে মেলাতে হিমসিম খাচ্ছি। গাঙ্গিনারপাড় এলাকায় ফুটপাত থেকে বাচ্চার টিশার্ট ও প্যান্ট কিনছিলেন সানিয়া আক্তার । তিনি বলেন, এক দরের শোরুমগুলোতে দাম লিখে রাখা হয়েছে। অন্য শোরুমেও দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে। এঅবস্থায় নিজের বাজেটের মধ্যে পোশাক কিনতে ফুটপাতে এসেছি। বিক্রেতারা জানান, ঈদের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ক্রেতাদের ভিড় ততই বাড়ছে। তবে মানুষের হাতে টাকা না থাকায়, দামি কাপড় কিনতে সাহস পাচ্ছেন না। ঈদুল ফিতর সামনে রেখে বেশি বিক্রি হচ্ছে সারারা, গারারা, সিল্ক, শিফন, সুতির সালোয়ার-কামিজ, কুর্তিসহ বাহারি ডিজাইনের কাপড়। শিশুদের পোশাক, নারীদের শাড়ি, লেহেঙ্গার দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ঈদের কেনাকাটা। দাম একটু বেশি থাকলেও ভালো বিক্রি হওয়ায় খুশি দোকানীরা। আজাদ শপিংমলের ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে বেচাকেনা জমজমাট হয়ে উঠেছে। গতবছরের চেয়ে এবার পোশাকের পাইকারি দাম একটু বেশি। তাই ক্রেতাদের কাছে কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে বিক্রি কমছে না। শেষ সময়ে বেচাকেনা আরও জমজমাট হবে বলে প্রত্যাশা করছি। ফুটপাতের ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল জনকন্ঠকে বলেন, শপিংমল ও বিপনি-বিতানগুলোতে দাম বেশি থাকার কারনে অনেকেই কিনাকাটা করতে পারছেন না। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতারা ফুটপাতে ভিড় করছেন। তারা কম দামে পছন্দের পোশাক কিনতে পারছেন। এতে আমাদেরও ব্যবসাও ভালোই হচ্ছে । জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুস ছালাম বলেন, অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়িয়ে কোনোকিছু বিক্রি করা যাবে না। দেশে তৈরি পোশাক ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানি বা অন্য কোনো দেশের বলেও বিক্রি করা যাবে না। ক্রেতা ঠকিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা পকেট ভারি করতে চেষ্টা করলে অভিযান চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ-আল্-মামুন বলেন, বিভিন্ন শপিংমলের সামনে পোশাক ও সাদা পোশাকে পুলিশের টহল রয়েছে। চুরি- ছিনতাই রোদে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা ঈদে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে।