ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০২ জুন ২০২৩, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০

ভিন্নখবর

বায়ান্ন বাজার তপ্পিান্ন গলি

বায়ান্ন বাজার তপ্পিান্ন গলি

একদিকে গরম; শুধু গরম কেন বলি, অসহনীয় গরম। অন্যদিকে লোডশেডিং। রাজধানীর সাধারণ মানুষের জীবন একেবারে ‘তেজপাতা’ হয়ে গেছে। গত কদিন ধরেই প্রখর রোদ। টানা তাপপ্রবাহ। ঘরের বাইরে তো বটেই, ভেতরেও অসহনীয় অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গা ঘামছে তো ঘামছেই। শুকোবার সময় পাচ্ছে না। এমনকি যখন সূর্য আড়ালে চলে যাচ্ছে তখনো ভ্যাপসা গরম। বিচ্ছিরি গরমে নাগরিক দুর্ভোগ যখন চরমে তখন আবার দেখা দিয়েছে লোডশেডিং। যে সে লোডশেডিং নয়। মুহূর্তে মুহূর্তে চলে যাচ্ছে বিদ্যুৎ। কখনো এক ঘণ্টার জন্য। কখনো আধা ঘণ্টা। দুই বিতরণ সংস্থা- ঢাকা ইলেকট্রিক কোম্পানি (ডেসকো) ও ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) তথ্য মতে, তারা গত বুধবার ঢাকা শহরে গড়ে তিন ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং করেছে।

ভিন্নখবর বিভাগের সব খবর

‘স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ’ শিল্পকলায় চারুশিল্পী স্মরণ

‘স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ’ শিল্পকলায় চারুশিল্পী স্মরণ

দেশবরেণ্য প্রয়াত চার চারুশিল্পী স্মরণে ‘স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে শিল্পকলা একাডেমি। এরা হলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, পটুয়া কামরুল হাসান, শিল্পী এস এম সুলতান ও শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী। আয়োজনের প্রথম দিন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ও পটুয়া কামরুল হাসান স্মরণে আলোচনা হয় একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে মঙ্গলবার বিকেলে। একাডেমির চারুকলা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় আয়োজনের প্রথম দিন প্রথম পর্বে স্মরণ করা হয় শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনকে। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিল্পী মোস্তফা জামান। এ পর্বের মুখ্য আলোচক ছিলেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। এ ছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন স্থপতি মইনুল আবেদিন ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসনা জাহান খানম। এদিন দ্বিতীয় পর্বে পটুয়া কামরুল হাসান স্মরণে আলোচনা হয়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক। মুখ্য আলোচক ছিলেন শিল্পী হাশেম খান। এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন সুমনা হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। মূল প্রবন্ধে মফিদুল হক বলেন, কামরুল হাসানের জীবনসত্তা ও শিল্পীসত্তা মিশে আছে ওতপ্রোতভাবে। তার শিল্পীসত্তার মতোই রঙে রেখায়, বর্ণে-বিভায় এমন ঔজ্জ্বল্য ও নাটকীয়তায় সমৃদ্ধ তার জীবন যে এই শিল্পীর প্রতিকৃতি আঁকা সহজ নয়। তার ব্যক্তিসত্তা উপমহাদেশের অনেক বড় পরিবর্তনময়তার মধ্যদিয়ে বিকশিত হয়েছে। নানা ভাঙচুরের মধ্যদিয়ে তিনি চলেছেন। সেইসঙ্গে তার শিল্পবোধ ও সৃজন প্রয়াসও ক্রমে প্রসারতা ও গভীরতা অর্জন করেছে। ঝর্ণার উচ্ছলতার মতোই তার কাজ উৎসারিত হয়েছে তীব্র প্রবহমানতা নিয়ে। চিত্রকলার প্রচলিত ধারা কিংবা ছবি প্রদর্শনীর সামাজিকভাবে স্কীকৃত রীতি কোনো কিছুতে তিনি নিজেকে আটকে রাখেননি।

রোদের ছাতায় বৃষ্টি, বৃষ্টির ছাতায় রোদ

রোদের ছাতায় বৃষ্টি, বৃষ্টির ছাতায় রোদ

প্রকৃতি ভালোই খেলছে এখন। কখনো বৃষ্টি। দমকা হাওয়া। কখনো প্রখর রোদ। ক’দিন না গরম, না শীত। ক’দিন আবার ভ্যাপসা গরম। সব মিলিয়ে বিচিত্র হয়ে উঠেছে গ্রীষ্মের প্রকৃতি। প্রথম মাস বৈশাখে গরমই ছিল মুখ্য। মাঝে মধ্যে কালবৈশাখীও আঘাত হানার চেষ্টা করেছে। আর দ্বিতীয় মাস জ্যৈষ্ঠে এসে অনেক বেশি খেয়ালি প্রকৃতি। রোদ ও বৃষ্টি পালাক্রমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। কয়েকদিন আগে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাঘাট তরু লতা সে বৃষ্টির জলে ধুয়ে পরিষ্কার হয়েছে। ঘোলাটে আকাশ, বৃষ্টি আর দমকা হাওয়া দেখে কখনো কখনো মনে হয়েছেÑ এ যেন বর্ষার কাল। উষ্ণতাও এ সময় অনেক কমে গিয়েছিল।

কামিনী সতী কোমল কুসুম অতি...

কামিনী সতী কোমল কুসুম অতি...

শহুরে বাসা বাড়ির বারান্দায় বা ছাদে ভালোই গাছ লাগানো হয় এখন। তবে বেশিরভাগ গাছ পাতাবাহার জাতীয়। বাগানের দিকে তাকালে সারাবছর মূলত পাতা দেখা যায়। সে তুলনায় ফুলের গাছ বা ফুল অনেক কম হয়। তার চেয়েও কম হয় ঘ্রাণ। গোলাপের কথাই ধরুন না, নাকের কাছে নিলে ঘ্রাণ বলতে কিছু কি পাওয়া যায়? তবে এই বাস্তবতার একেবারেই বিপরীত উদাহরণ কামিনী। শুভ্র সুন্দর ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ নাকে এসে লাগতেই মন ভালো হয়ে যায়। দারুণ ¯িœগ্ধ একটা অনুভূতি হয় ভেতরে। হচ্ছে কি আপনারও? ফুলটি কিন্তু ফুটেছে!     বছরে একাধিকবার ফুটে এই ফুল। এখন বিশেষভাবে চোখে পড়ছে। গত কয়েক দিনের বৃষ্টি হয়তো এ ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে।  এখন ছোট ও ঘন সবুজ পাতার মাঝখান থেকে উঁকি দিচ্ছে কামিনী। একসঙ্গে এত ফুল ফুটছে যে, গাছটাকেই সাদা মনে হচ্ছে কখনো কখনো। মজার বিষয় হচ্ছে, গাছের নিচ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময়ও ভীষণ অবাক হবেন আপনি। কারণ, কামিনীর সাদা পাপড়ি বিছানো আছে গাছের নিচে। হ্যাঁ, ফুলের পাপড়ি ক্রমে দুর্বল হয়ে হাল্কা বাতাসে ঝরে পড়ছে। পাশাপাশি অসংখ্য মৌমাছি কামিনীর ফুল থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত এখন। ওদের ওড়াউড়ির কারণেও ফুলের পাপড়ি ভেঙে নিচে পড়ছে।  রবীন্দ্রনাথ অবশ্য কামিনীকে অতি কোমল কুসুম বলে উল্লেখ করেছে। লিখেছেন, ‘জান ত কামিনী সতী কোমল কুসুম অতি/দূর হ’তে দেখিবারে, ছুঁইবারে নহে সে-/দূর হ’তে মৃদু বায়, গন্ধ তার দিয়ে যায়/কাছে গেলে মানুষের শ্বাস নাহি সহে সে।’ পরের অংশে তিনি লিখেছেন, ‘কামিনীকুসুম ছিল বন আলো করিয়া-/মানুষপরশ-ভরে শিহরিয়া সকাতরে/ওই যে শতধা হয়ে পড়িল গো ঝরিয়া।’  কামিনীর বৈজ্ঞানিক নাম ম্যুরায়া প্যানিকুলাটা। আদি নিবাস বাংলা-ভারতের উষ্ণ অঞ্চল, মালয়, চীন ও অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশে বহু কাল ধরে আছে। গুল্ম জাতীয় গাছ। গাছ ওপরের দিকে তেমন বাড়ে না। লম্বায় তিন  থেকে পাঁচ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। দেখতে ঝোপের মতো অনেকটা। ঘন সবুজ পাতার ফাঁকে সাদা সুন্দর ফুল যেন হাসি হয়ে ফোটে। উদ্ভিদবিদ দ্বিজেন শর্মার বর্ণনা অনুযায়ী, কামিনী চিরসবুজ ক্ষুদ্র বৃক্ষ। এর অসংখ্য শাখা-প্রশাখা। ঠাসবুনন। এটি লেবু গোত্রীয়।  গোষ্ঠী বৈশিষ্ট্যে পাতাও ফুলের অংশবিশেষ। ফুলের পাঁচ থেকে সাতটি পত্রিকা। মাঝে হলুদ দেখতে একটি পরাগকেশর। ফুলগুলো সবুজ পাতার মাঝে মঞ্জরিবদ্ধ হয়ে ফুটে থাকে। কামিনীর পাতার সৌন্দর্যও উল্লেখ করার মতো। ছোট ছোট পাতা। ঘন বিন্যস্ত। সবুজ এই পাতা বিয়ের গাড়ি, বাসরঘর সাজাতে ব্যবহার করে দোকানিরা। অন্য ফুলের তোড়া সাজাতেও কামিনীর পাতা ব্যবহার করা হয়। কামিনী থেকে কলম করে কেটে-ছেঁটে নানা আকৃতি তৈরি করা যায়। একই কারণে এ গাছে ভালো বনসাই হয়। কামিনীর এক ধরনের ফলও হয়। গোলাকার রক্তিম ফল পাখির বিশেষ করে বুলবুলির প্রিয় খাদ্য। ঔষধি গুণও আছে। গাছটি থেকে তৈরি ওষুধ শরীরের জ্বর সারাতে ব্যবহার করা হয়। ব্যথানাশক হিসেবেও কাজ করে। উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের মতে, কামিনী গাছে আছে রাসায়নিক উপদানও। তবে ফুলপ্রেমীদের আর কিছু চাই না, কামিনীর মিষ্টি ঘ্রাণটুকু চাই শুধু।

ডিগ্রি পেল সারমেয়

ডিগ্রি পেল সারমেয়

একটি সারমেয়কে (কুকুর) সম্মানজনক ডিপ্লোমা ডিগ্রি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের সেটন হল বিশ্ববিদ্যালয়। গ্রেস মারিয়ানি নামের একজন প্রতিবন্ধী ছাত্রীর সঙ্গে প্রতিদিন ক্যাম্পাসে আসত জাস্টিন নামের এই কুকুর। এ সময় গ্রেস মারিয়ানির প্রতি কুকুরটির দায়িত্ববোধ, ক্লাস চলাকালে মেয়েটির পাশে নিঃশব্দে বসে থাকা, বিরক্ত না করা, ক্লাস শেষে তাকে সঙ্গ দেয়া ও খেলা করা ইত্যাদি কারণে কুকুরটি সেটন হল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। গ্রেস মারিয়ানির শিক্ষা জীবন শেষ হওয়ার পর সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সমাবর্তনে কুকুরটিকেও সম্মানজনক ডিগ্রি দেয় ভার্সিটি কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়টির এক শিক্ষক সংক্ষিপ্ত ভাষণে কুকুরটির ভূয়সী প্রশংসা করেন।

শিল্পের বৈভবে বর্ণিল জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী 

শিল্পের বৈভবে বর্ণিল জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী 

শিল্পানুরাগীদের জন্য শুরু হলো চমৎকার এক আয়োজন।  সেই সুবাদে শিল্পরসিকদের গন্তব্য এখন শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা। এখানে চলছে জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীর ২৫তম আসর। চিত্রশালার সাতটি গ্যালারিজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে বহুমাত্রিক শিল্পসম্ভার। বিবিধ বিষয়ের দেখা মিলছে চিত্রকর্ম থেকে ভাস্কর্য কিংবা স্থাপনাশিল্পের শরীরে। সেসবে ধরা দিয়েছে নিসর্গের নান্দনিকতা থেকে জীবন বাস্তবতা।  মুগ্ধতার হাতছানি ছড়াচ্ছে সমকালীন সময় থেকে বৈশ্বিক সংকট কিংবা বিভিন্ন ইস্যুনির্ভর শিল্পকর্ম। প্রচলিত ধারার কাজের সমান্তরালে উপস্থাপিত হয়েছে নিরীক্ষাধর্মী কাজ। বৈভবময় আয়োজনটিতে চিত্রকলা, ছাপচিত্র, আলোকচিত্র, ভাস্কর্য, প্রাচ্যকলা, মৃৎশিল্প, কারুশিল্প, নিউ মিডিয়া আর্ট,  স্থাপনাশিল্প, পারফরমেন্স আর্টসহ ১১টি মাধ্যমের কাজে সম্মিলন ঘটেছে। দেশের নানা প্রান্তের ২৬১ শিল্পীর সৃজিত ৩০১টি শিল্পকর্মে সেজেছে এ শিল্পযজ্ঞ। এসব শিল্পকর্মের সঙ্গে শিল্পরসিকদের হৃদয় রাঙাচ্ছে ছয়টি কিউরেটেড কাজ। এগুলোর মধ্যে শিল্পপ্রেমীদের নজর কাড়ছে পথিকৃৎ চিত্রকর এস এম সুলতানের চিত্রকর্ম এবং তার আলোকচিত্র ও ব্যবহার্য পণ্য নিয়ে ৫ নং গ্যালারির প্রদর্শনীটি।

পুলিশকে আরও জনবান্ধব  হওয়ার নির্দেশ  রাষ্ট্রপতির

পুলিশকে আরও জনবান্ধব হওয়ার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে তাদের কার্যক্রমে আরও জনবান্ধব হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন রবিবার দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ নির্দেশনা দেন। খবর বাসসর। বৈঠক শেষে প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন রাষ্ট্রপতির বরাত দিয়ে জানান, ‘পুলিশ সদস্যদের কাজ যাতে জনবান্ধব হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’ রাষ্ট্রপতি বলেন, পুলিশকে জনগণের বন্ধু হিসেবে কাজ করতে হবে। জনস্বার্থে বিভিন্ন মামলার নিষ্পত্তিতে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেন তিনি। রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের ফলে সাইবার ক্রাইম বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাইবার ক্রাইম মোকাবিলায় পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে প্রযুক্তি জ্ঞানে প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে।’ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন  সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে ভবিষ্যতেও এই তৎপরতা অব্যাহত রাখার পরামর্শ দেন। পুলিশ মহাপরিদর্শক বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

খুদে শিল্পীদের ক্যানভাসে উঠে এলো বিচিত্র বিষয়

খুদে শিল্পীদের ক্যানভাসে উঠে এলো বিচিত্র বিষয়

প্রদর্শনালয়জুড়ে ছড়িয়ে আছে বিবিধ বিষয়ের ছবি। খুদে চিত্রকরদের রং-তুলির আঁচড়ে মূর্ত হয়েছে যাপিত জীবনচিত্র থেকে নিসর্গের নান্দনিকতা। কারো ক্যানভাসে উঠে এসেছে নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। কেউবা এঁকেছে মেঠাপথের সঙ্গে বৃক্ষ আর লতা-পাতায় শোভিত গ্রামীণ জনপদের দৃশ্যকল্প। শিশু থেকে কিশোর-কিশোরীদের ভাবনার জগৎ থেকে বাদ যায়নি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কৃষ্টি কিংবা সংস্কৃতি। কিছু ক্যানভাসে উদ্ভাসিত হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা। কেউবা এঁকেছে গভীর সমুদ্রে ভেসে বেড়ানো সাম্পানের ছবি। সেসবের মাঝে নজর পড়ে নিপুণ দক্ষতায় চিত্রিত স্টিল লাইফের কিছু চিত্রকর্ম। চারপাশে চেনা জগতের বাইরে নিজস্ব ভাবনা বা কল্পনার আশ্রয়েও আঁকা হয়েছে কিছু ছবি। সব মিলিয়ে দেখা যায়, চিত্রকর্ম সৃজনে শিশু শিল্পীরা ধাবিত হয়েছে বিষয়ের সন্ধানে। শিল্পরসিকের নয়নে ভালো লাগার অনুভব ছড়ানো ছবিগুলো এঁকেছে গ্রিন আর্ট স্কুলের চারুশিক্ষার্থীরা। জলরং, ওয়েল প্যাস্টেল ও অ্যাক্রেলিক মাধ্যমে চিত্রিত চিত্রকর্মগুলো শোভা পাচ্ছে জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে। সেসব ছবি নিয়ে চলছে প্রদর্শনী। ১৫১ শিল্পীর দুই শতাধিক শিল্পকর্মে সজ্জিত এই এই শিল্পায়োজনের সূচনা হয় শনিবার। ক্যানভাসে নিজস্ব অনুভূতিকে মেলে ধরেছে লুবাইয়ানা তাজওয়ার আশেক। অন্তর্গত একাকিত্বের অনুভব উঠে এসেছে তার চিত্রপটে। চারপাশে ছাই রঙের প্রলেপে আবৃত ক্যানভাসে চমৎকারভাবে মূর্ত হয়েছে নারীর অবয়ব। ঊর্ধ্বমুখী ভঙ্গিতে চোখ বন্ধ করে থাকা সে রমণীর দুই হাত আশ্রয় নিয়েছে কাঁধের ওপর। আর ওই দুই হাতের মাঝ দিয়ে ঝরছে বিষণœতার গল্পময় রক্তের স্রোতধারা। মেঘলা দিনে গ্রাম বাংলার মেঠোপথে চড়ে বেড়ানো গৃহপালিত পশুর সমান্তরালে কুঁড়ে ঘরের ছবি এঁকেছে আবিদা আশরাফ মোহনা।