ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১

ভিন্নখবর

নারীর শরীরী অভিব্যক্তিকে উপজীব্য করে আঁকা ছবির প্রদর্শনী

নারীর শরীরী অভিব্যক্তিকে উপজীব্য করে আঁকা ছবির প্রদর্শনী

প্রতিটি ক্যানভাসে ধরা দিয়েছে গতিশীলতা। রঙের পরিমিত ব্যবহারের সঙ্গে গতিময় রেখার আঁচড়ে সজ্জিত হয়েছে চিত্রপটসমূহ। মূলত প্রকৃতির সমান্তরালে নারীর শরীরী অভিব্যক্তিকে উপজীব্য করে আঁকা হয়েছে ছবিগুলো। ড্যান্স বা নৃত্য সিরিজের ছবিগুলোতে সেই শরীরী ভঙ্গিমার অনন্য রূপায়ণ ঘটেছে। এই সিরিজের একটি বিশাল আকৃতির চিত্রপটে একসঙ্গে উপস্থাপিত হয়েছে সাত নারী। এই নারীকুলের সবাই ব্যস্ত দৈনন্দিন কাজে। শরীর অবনত করে কলসে জল ভরা কিংবা  কাঁধে বা মাথায় কলস নিয়ে হেঁটে যাওয়া ভঙ্গিমার মাঝে সৃষ্টি হয়েছে নাচের ছন্দোময়তা। বাঁক খেলানো দেহের সচলতায় পরিপূর্ণতা দিয়েছে শিল্পরূপকে।  সব মিলিয়ে পুরো ফ্রেমজুড়ে যেন ভেসে বেড়ায় ঐকতানের সুর। এই সিরিজের আরেক ছবিতে সমুদ্রতটের বেলাভূমিতে বিচণাকারী নারীর বিচিত্র ভঙ্গিমার শরীরী প্রকাশ দেখা যায়।  সেখােেন ফর্মের  খেলায় মূর্ত গতিশীলতার অভিব্যক্তি।  ফিগার কম্পোজিশন সিরিজের ছবিতেও গতিশীলতায় মূর্ত হয়েছে নারীর শরীরী ভঙ্গিমা। দৌড় শিরোনামের ছবিতে ঘোড়ার ছুটে চলা পদযুগলের ক্ষিপ্রতার সঙ্গে হুবহু মিলে যায় এক দৌড়বিদের পদক্ষেপ। এভাবেই গ্রামীণ নারী থেকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী শিরোনামের ছবিগুলো হয়ে উঠেছে গতিময়তার প্রতীক। শিল্পরসিকের নয়নে মুগ্ধতা ছড়ানো ছবিগুলো এঁকেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রকর জাহাঙ্গীর হোসেন। সেসব চিত্রকর্ম নিয়ে রাজধানীর প্রগতি সরণির অবিন্তা গ্যালারিতে চলছে প্রদর্শনী। শিল্পায়োজনটির শিরোনাম উইন্ডস অফ ফ্লেভার।  শুক্রবার ছুটির দিনে বিকেলে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়।এ সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুই প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম ও ফরিদা জামান। অতিথি হিসেবে আরও ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস ও তার স্ত্রী এবং ঢাকায় নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস  সেসা। সভাপতিত্ব করেন অবিন্তা গ্যালারি অফ ফাইন আর্টসের চেয়ারপারসন নীলু রওশন মোরশেদ। অনুভূতি প্রকাশ করেন শিল্পী জাহাঙ্গীর হোসেন।  জাহাঙ্গীর হোসেনের শিল্প সৃজনের মূল ভাবনায় রয়েছে মানবজীবনের গতিময়তা, গতিশীলতা এবং প্রকৃতি ও আশপাশের জীবনধারা। এই চিত্রশিল্পী প্রাচ্যের জীবন এবং তার শিল্পিত দর্শনকে মেলে ধরেছেন পশ্চিমা সমকালীন ধারায় অংকিত শিল্পকর্মে। প্রতিটি চিত্রকর্ম সৃজনে তিনি ভিন্ন ধারা এবং আঙ্গিকের আশ্রয়ে বিষয়বস্তুকে উপস্থাপন করেছেন। সেখানে গতিশীল মানুষের  দেহ হয়ে উঠেছে শিল্পীর সৃজনের মূল বিষয়। বিভিন্ন কর্মকান্ডে নিযুক্ত মানুষ তার সৃষ্টিশীলতার তাড়নাকে উস্কে দিয়েছে কিংবা প্রাণিত করেছে। অন্যদিকে নারী  দেহের  বাঁকক্রীড়ায় শুধু প্রেমাতুর আকাক্সক্ষার ছবি আঁকেননি শিল্পী। বরং কর্মের মধ্যেও নিয়ত অজস্র দেহজ মুদ্রার ছান্দসিক প্রকাশকেও মেলে ধরেছেন চিত্রপটে। এঁকেছেন কর্মনিষ্ঠ শ্রমী মানবীর বিচিত্ররূপ। আর শুধু বাঙালি নারীর নয়, অন্য নৃগোষ্ঠী নারীর  দেহসৌষ্ঠব ও তাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যে ভিন্ন পাঠ রয়েছে তা নৃতাত্ত্বিক মনোযোগে পাঠ করেছেন শিল্পী জাহাঙ্গীর। তাঁর ছবিতে প্রধান দ্রষ্টব্য গতি হলেও পরিণামে গতি ও স্থিতির দ্বান্দ্বিক সমীকরণেই তিনি আস্থা খুঁজে পেয়েছেন। নন্দতত্ত্বের বিবেচনায় এ শিল্পীর কাজে প্রাচ্য আদর্শ ও পশ্চিমের  রেনেসাঁজাত শিল্পব্যাকরণের ঐক্য খুঁজে পাওয়া যায়। নকশাধর্মিতা ও অমিশ্র রঙের ব্যবহারের পাশাপাশি রয়েছে আলো-ছায়ার বিলি-বণ্টনে জ্যুম প্রমাণের উদ্যোগ। উল্লিখিত দুই আদর্শের শিল্প রচনা করে জাহাঙ্গীর হোসেন নিজের সৃজন ক্ষমতা পরখ করে  দেখেছেন। এই  দ্বৈরথেই তাঁর চিত্তের আনন্দ চলমান রয়েছে বিচিত্র পথে। সব মিলিয়ে ৬৩টি শিল্পকর্মের সম্মিলনে সেজেছে এই শিল্পায়োজন। আগামী ২৭ জুলাই পর্যন্ত চলবে এই প্রদর্শনী।   

ভিন্নখবর বিভাগের সব খবর

একাত্তরের বীরদের বঙ্গবন্ধু বলতেন লালঘোড়া 

একাত্তরের বীরদের বঙ্গবন্ধু বলতেন লালঘোড়া 

আজকের বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধকে বোঝা, ভেতর থেকে উপলব্ধি করা আসলেই একটু কঠিন। দেশমাতার প্রয়োজনে অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়া, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সামনে বুক ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়া কোনো মামুলি ব্যাপার ছিল না। কিন্তু বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সেই আত্মত্যাগের কথা, লড়াইয়ের কথা ক’জন আর মনে রেখেছে? বরং দালালদের রাজাকারদের সন্তানরা নাতিপুতিরা সুযোগ পেলেই হুক্কাহুয়া ডাক দিচ্ছে। ডাক শুনে কিছু মানুষ বিভ্রান্তও হচ্ছেন।  তবে যে মহান নেতার নামে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল সেই শেখ মুজিবুর রহমান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সবার ওপরে স্থান দিয়েছিলেন। সম্মানের আসন দিয়েছিলেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তিনি বলতেন, ‘তোমরা আমার লালঘোড়া।’ এই লালঘোড়া দিয়ে দেশবিরোধীদের অন্যায়কারীদের প্রতিহত করতে চেয়েছিলেন তিনি।  ১৯৭৩ সালের ২১ জানুয়ারি ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সম্মেলনে বক্তৃতা করেন বঙ্গবন্ধু। এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে নিজের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন তুলে ধরেন তিনি। পুরনো পত্র-পত্রিকা ঘেঁটে দেখা যায়, তিনি বলছেন, মুক্তিযোদ্ধা ভাইয়েরা তোমরাই আমার লালঘোড়া। বাংলার স্বাধীনতা অর্জনে তোমরা যেমন সর্বস্ব ত্যাগ করিয়াছ, আশা করি, আমি হুকুম দিলে তোমরা সমাজবিরোধী গাড়ি-বাড়ি হাইজ্যাককারী, চোর ডাকাতদের নির্মূল করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করিবে।’  অর্থাৎ, যুদ্ধ বিধ্বস্ত সদ্য স্বাধীন দেশে যখন অরাজকতা বাড়ছিল তখনো  বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিই আস্থা রেখেছিলেন তিনি। তাঁদের সহায়তা নিয়ে, শক্তি কাজে লাগিয়ে দেশ গঠন করতে চেয়েছিলেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আসন কত উঁচুতে তা বোঝাতে একই মঞ্চে  শেখ মুজিব বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ যতদিন আছে, বাংলার ইতিহাস যতদিন থাকিবে, মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের ইতিহাস ততদিন অবিস্মরণীয় গাথা হইয়া বিরাজ করিবে।’  ১৯৭১ সালের ৩১ জানুয়ারি ঢাকার পল্টনে অস্ত্র সমর্পণ করেন মুজিব বাহিনীর যোদ্ধারা। এই সমাবেশে বঙ্গবন্ধু যে বক্তৃতা করেন সেখানেও রণাঙ্গনের বীরদের ত্যাগের কথা এসেছে। সমবেত বীরদের উদ্দেশ্যে  তিনি বলেন, স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশের যুবকরা যে ত্যাগ স্বীকার করেছে তাতে বাংলাদেশ জাতি সারা দুনিয়ায় চিরকাল মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে। আপনাদের কাছে কিছুই ছিল না। কিন্তু আমি জানি, যে জাতি সংঘবদ্ধ হয়, মুক্তির জন্য অস্ত্র হাতে তুলে নেয়, সে জাতিকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারে না। 

বাপ-দাদার পেশা বহু কষ্টে বাঁচিয়ে রেখেছেন কেউ কেউ

বাপ-দাদার পেশা বহু কষ্টে বাঁচিয়ে রেখেছেন কেউ কেউ

‘আমি প্রায় ২০ বছর ধরে বায়োস্কোপ চালানোর সঙ্গে জড়িত। আমার পূর্ব পুরুষের এটাই ছিল পেশা। গ্রাম্য মেলা, এমনকি পাড়া মহল্লায়ও এক সময় বায়োস্কোপ দেখার জন্যে ভিড় পড়ে যেত। গ্রাম-গঞ্জের মেলায় এখন বায়োস্কোপ চালালে চালের দামও ওঠে না। অনেক কষ্টের মধ্যে আছি। এই পেশা অনেকেই ছেড়ে দিয়েছে। এখনো আমি সেই পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছি’ এসব কথা বলছিলেন ঢাকার কেরানীগঞ্জের বায়োস্কোপওয়ালা তাপস চন্দ্র মোদক। ‘কী চমৎকার দেখা গেলো/ তারা সবে চইলা গেলো/ ঢাকা শহর আইয়া পড়লো/ মীরজুমলার কামান দেখেন/ সদরঘাটের জাহাজ দেখেন/ ও দাদা দেখেন নজর কইরা ওইযে দেখা যাচ্ছে..। এসব চটকদারি কথার মালা আর সুরের বয়ান দিয়ে গ্রাম্য মেলা বা বাজারে শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষদের আকর্ষণ করত বায়োস্কোপ। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বায়োস্কোপের ব্যাপক প্রচলন ছিল। কাঁধে বায়োস্কোপের বাক্স ঝুলিয়ে ডুগডুগি বাজাতে বাজাতে যেতেন এর চালকরা। পেছন পেছন ছুটত শিশু-কিশোররা। চাল বা সামান্য কিছু টাকা দিলেই তাদের দেখাতেন বায়োস্কোপ। বাঙালির ঐতিহ্যবাহী এ শিল্প কালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। টেলিভিশন আসার পর থেকে বায়োস্কোপের গুরুত্ব কমতে শুরু করে। রঙিন টেলিভিশন, স্যাটেলাইট চ্যানেল বায়োস্কোপের পতনকে ত্বরান্বিত করেছে। বর্তমানে জাদুঘরে রাখার পরিস্থিতিতে এটি। নতুন প্রজন্মের অনেকেই হয়তো জানেন না ‘বায়োস্কোপ’ নামের একটি ঐতিহ্য ছিল। আধুনিক প্রযুক্তির দাপটে গ্রাম বাংলার মেলা ও হাট-বাজারে এখন আর বায়োস্কোপের দেখা মিলে না। এতে দেশ-বিদেশের নানা ঐতিহ্য স্থিরচিত্রে মাধ্যমে ইতিহাসের কথা জানতে পারত। বায়োস্কোপ দেখতে বায়না ধরত শিশু-কিশোররা। ক্ষণিকের জন্য হলেও গ্রামের সহজ-সরল মানুষেরা আনন্দ উপভোগ করত। কেউ আর ডিজিটাল যুগে এসে এই বায়োস্কোপ দেখতে চায় না। এমনকি কেউ খোঁজ-খবরও নিচ্ছে না বায়োস্কওয়ালার। তাদেরই একজন ঢাকার কেরানীগঞ্জের তাপস চন্দ্র মোদক। প্রায় ২০ বছর ধরে বাপ-দাদার দেখানো বায়োস্কোপের ঐতিহ্য এখনো ধরে রেখেছেন। বিভিন্ন মেলা বা অনুষ্ঠানে গিয়ে এখনো প্রেমজুড়ির সঙ্গে সঙ্গে সুর করে বলেন, এই যে মজা লাইগ্যা গেল কি চমৎকার দেখা গেল তাজমহল চইল্যা আইল, এই যে মজা লাইগ্যা গেল কি চমৎকার দেখা গেল টাইগার আইয়া পড়লসহ বিভিন্ন রকম মজাদার কথার গাঁথুনি। তাপস চন্দ্র মোদক জানালেন, এটা দিয়ে এখন সংসার চালানো তার পক্ষে সম্ভব নয়। গ্রাম-গঞ্জের মেলায় এখন আর তেমন দেখান না বায়োস্কোপ। কারণ সেখানে গেলে চালের দামও ওঠে না। শুধুমাত্র কোনো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেলে সেখানে যান। পূর্ব পুরুষের যে ঐতিহ্য ছিল তার একমাত্র পেশা, সেটাকে বাদ দিয়ে এখন পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন ইজিবাইক চালানো। তাপস চন্দ্র মোদক জনকণ্ঠকে বললেন, আমি প্রায় ২০ বছর ধরে বায়োস্কোপ চালানোর সঙ্গে জড়িত। আমার দাদা শম্ভু নাথ চন্দ্র মোদক এটা দেখাতেন। এর আগে আমাদের আরেক ঐতিহ্য ছিল সার্কাস দেখানো। মূলত আমার পূর্বপুরুষ সার্কাসে খেলাধুলা করত। সেটাও এখন আর নেই। আমার দাদা বেঁচে নেই। এখন আমি সেই পারিবারিক ব্যক্তিকে ধরে রাখার চেষ্টা করছি। মাঝেমধ্যে কোনো অনুষ্ঠানে বায়োস্কোপ দেখাই। মেলায় এখন তেমন চলে না। অনেক কষ্টে থাকা লাগে। এক জায়গায় নিয়ে বসলে চালের টাকাও হয় না। বড়জোর ২০০/৩০০ টাকা হয়। এ দিয়ে আমার পরিবার কি করে চালাব! পাশাপাশি ইজিবাইক চালাই। বায়োস্কোপ এখন আমার পেশা নাই। ঐহিত্যকে ধরে রেখেছি। এখন মেলাতে গেলে নিজের খোরাক হয় না। এতে দর্শকদের কি দেখান? এমন প্রশ্নের জবাবে তাপস বলেন, আমার বায়োস্কোপে আছে তাজমহল, বাংলার ঐতিহ্য কাঁঠাল, দোয়েল পাখি, ইলিশ মাছ, টাইগার, পুরনো রাজবাড়ী, ঢাকার নবাব বাড়ী, জয়দেবপুরের রাজবাড়ী, নাটোরের রাজবাড়ী, দিনাজপুরের কান্তজীর মন্দির, বাগের হাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ, বঙ্গবন্ধুর ছবি, ইন্দিরাগান্ধী, ইয়াহিয়া খানসহ বহু রাজনৈতিক নেতা ও সংস্কৃতির মানুষ।   বয়োস্কোপওয়ালা কুমিল্লার রহমত মিঞা। এক হাতে প্রেমজুড়ি বাজিয়ে অন্য হাতে বাক্সের চাবি ঘুরিয়ে স্থির চিত্র প্রদর্শন করে বেড়াতেন তিনি। বললেন, বাক্সের আতশ কাঁচে চোখ রেখে স্থিরচিত্র দেখে উৎফুল্ল হতো শিশু, কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষ। আমি বায়োস্কপে কী কী প্রদর্শন করা আছে, তা ছন্দে-নেচে গেয়ে তার বর্ণনা দিতাম। বর্ণনাটা এমন ছিল ‘এইতো দেখেন গোলাগুলি বাইজ্যা গ্যাছে, হাজার হাজার সৈন্য আছে, কত সৈন্য শহীদ হলো, ডানে-বামে লক্ষ্য করেন, এবারেতে দেখেন ভাল শহীদ মিনার কাছে আছে, এবারেতে দেখেন ভাল বঙ্গবন্ধুর ছবি আছে।

ব্রাহমা জাতের গরু কি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ?

ব্রাহমা জাতের গরু কি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ?

দীর্ঘদিন ধরে দেশে বিতর্ক চলছে ব্রাহমা জাতের গরু আমদানি ও পালন নিষিদ্ধ কি না। সম্প্রতি এক ঘটনায় এ আলোচনা আরও বেড়েছে। সরকারি আইন-কানুনের পাশাপাশি অভিজ্ঞজনরাও বলছেন, ব্রাহমা নিষিদ্ধ নয়। তবে দেশে দুধের উৎপাদন যেন না কমে সেজন্য এটি বাণিজ্যিকভাবে লালন-পালনে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।   বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪-র অনুযায়ী, আদেশের ৩৪ ধারায় গবাদিপশুর হিমায়িত সীমেন (এইচএস হেডিং ০৫.১১ এর অধীন শ্রেণিবিন্যাসযোগ্য) আমদানি বিষয়ে জানানো হয়েছে। ক-উপধারায় দেখা যাচ্ছে, (ক) গবাদিপশুর হিমায়িত সীমেন ও এমব্রায়ো, ফ্রিজিয়ান, ফ্রিজিয়ান ক্রস, শাহিওয়াল, শাহিওয়াল ক্রস, ফ্রিজিয়ান-শাহিওয়াল ক্রস, এএফএস, এএফএস ক্রস জাতের গবাদি পশুর হিমায়িত সীমেন (ডিপ ফ্রোজেন সীমেন) ব্যতীত অন্যান্য গরুর সীমেন আমদানি নিষিদ্ধ। তবে শর্ত থাকে যে, ফ্রিজিয়ান, ফ্রিজিয়ান ক্রস, শাহিওয়াল, শাহিওয়াল ক্রস, ফ্রিজিয়ান-শাহিওয়াল ক্রস, এএফএস, এএফএস ক্রস, ব্রামাহ, মুরাহ, নিলিরাভি এবং Mediterannean মহিষের জাতের গবাদি পশুর হিমায়িত সীমেন (ডিপ ফ্রোজেন সীমেন), এমব্রায়ো আমদানি করা যাইবে। অর্থাৎ এই নীতি আদেশে ব্রাহমা জাতের গরুর সীমেন আমদানিতে কোনো বাধা দেওয়া নেই।