ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১

জাতীয়

জাতীয় বিভাগের সব খবর

পিএসসিতে শুদ্ধি অভিযান

পিএসসিতে শুদ্ধি অভিযান

সরকারি চাকরির নিয়োগে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা সামনে আসার পর চরমভাবে আস্থার সংকটে পড়েছে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)। উধ্বর্তন কর্মকর্তাসহ কর্মচারীদের প্রশ্নফাঁসে সংশ্লিষ্টতার কারণে চরমভাবে বিব্রত প্রতিষ্ঠানটি। অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বড় কর্তাদের নামও গোয়েন্দা তদন্তে উঠে আসছে।  এমন পরিস্থিতিতে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে সাংবিধানিক দপ্তর পিএসসি। চাকরির পাশাপাশি অন্য পেশায় যুক্ত থাকায় পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মনিরুল ইসলামকে কোচিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শোকজ করা হয়েছে। বাকি চারজনের বিষয়ে তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি জানিয়েছে কমিশন।  সূত্রের দাবি এই চারজনের মধ্যে দুইজন সহকারী পরিচালক পদমর্যাদার ব্যক্তি রয়েছেন। এরই মধ্যে কমিশনের সর্বনি¤œ পদের কর্মচারী থেকে সর্বোচ্চ পদধারী ব্যক্তিকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পদের হিসাব চাওয়া হচ্ছে। নেওয়া হচ্ছে গোপন খোঁজখবর। অসামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু পাওয়া গেলেই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় পিএসসির ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী কারান্তরীণ রয়েছেন। নতুন করে আরও ৫ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। সূত্র বলছে আরও কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকে দপ্তরের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হতে পারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিএসসির একাধিক সদস্য জনকণ্ঠকে জানান, প্রশ্নফাঁসের ঘটনা প্রকাশের পর থেকেই প্রশ্ন প্রণয়ন থেকে ফল প্রকাশ প্রতিটি ধাপে গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। কোনো ধাপে ক্রটি আছে কি না তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এদিকে বুধ ও বৃহস্পতিবার পিএসসির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যে অনিয়ম পাওয়া গেছে তার একটি চিঠি জনকণ্ঠের হাতে এসেছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, মো. মনিরুল ইসলাম, অফিস সহকারী কাম কম্পি. মুদ্রাক্ষরিক, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয় কোচিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আছেন বলে জানা গেছে। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯ এর ১৭ বিধিতে উল্লেখ রয়েছে,  ‘কোনো সরকারি কর্মচারী সরকারের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে সরকারি কার্য ব্যতীত অন্য কোনো ব্যবসায়ে জড়িত হতে অথবা অন্য কোনো চাকরি বা কার্য গ্রহণ করতে পারবেন না।’ এমতাবস্থায়, আপনি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত কোচিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হয়েছেন, যা দাপ্তরিক শৃঙ্খলার পরিপন্থি। এরূপ আচরণের জন্য বিধি অনুযায়ী আপনার বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না সে বিষয়ে পত্র প্রাপ্তির সাত কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য বলা হলো। পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ইকরাম আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, কর্ম কমিশন শুধুই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়। এটি প্রজাতন্ত্রেরও অন্যতম প্রতিষ্ঠান। ফলে এখানকার কর্মরতদের জন্য সরকারি চাকরি আচরণ বিধিমালা রয়েছে। তবে শুধু বিধি দিয়ে আটকে থাকলেই হবে না। এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নীতি নৈতিকতা যে লোপ পেয়েছে তা সাম্প্রতিক ঘটনায় উঠে এসেছে। তাদের ভুলে গেলে চলবে না এখানে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয় তারা দেশের সম্মুখ সিটে বসে দেশ পরিচালনা করবেন। ফলে এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগের সময় আরও যাচাই-বাছাই, অতীত রেকর্ড মুখ্য বিবেচনায় নেওয়া উচিত। বিসিএসসহ ৩০টি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) ঊর্ধ্বতন তিন কর্মকর্তাসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এরই মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাময়িক বরখাস্ত করেছে পিএসসি। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি। এ পাঁচজন হলেন, উপ-পরিচালক মো. আবু জাফর ও জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী পরিচালক মো. আলমগীর কবির এবং পিএসসির কর্মচারী ডেসপাস রাইডার খলিলুর রহমান ও অফিস সহায়ক সাজেদুল ইসলাম।  চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র অবৈধ উপায়ে সংগ্রহ, পরীক্ষার পূর্বে প্রশ্নপত্র প্রকাশ এবং বিতরণ করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী হিসেবে অপরাধ সংঘটনে জড়িত থাকার অভিযোগে কর্ম কমিশনের পাঁচজনসহ অন্যদের আসামি করে পল্টন থানার মামলা হয়েছে। 

সরকার চাইলে কোটা পরিবর্তন পরিবর্ধন করতে পারবে

সরকার চাইলে কোটা পরিবর্তন পরিবর্ধন করতে পারবে

প্রয়োজনে সরকার কোটা সংস্কার করতে পারবে বলে  হাইকোর্টের রায় প্রকাশ করেছেন।  সরকারি চাকরিতে কোটা ইস্যুতে রায়ের মূল অংশ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, সরকার চাইলে কোটা পরিবর্তন, পরিবর্ধন করতে পারবে। কোটা পূরণ না হলে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে পারবে। শূন্য পদ পূরণ করায় বিবাদীদের স্বাধীনতা থাকছে।  বৃহস্পতিবার বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় প্রকাশ করেন। আদালত বলেছেন, বিবাদীরা (সরকার) যদি প্রয়োজন মনে করে তা হলে কোটা রিডিউস (হ্রাস), ইনক্রিজ (বাড়ানো), দ্য রেশিও অব দ্য পার্সেন্টেজ (শতকরা হার) পরিবর্তন-পরিবর্ধন করতে পারে। যদি কোটা থেকে চাকরিপ্রার্থী না পাওয়া যায়, তা হলে সাধারণ মেধা তালিকা থেকে প্রার্থীর মাধ্যমে তা পূরণ করা যাবে। এ রায় সরকারের পরিবর্তন-পরিবর্ধনে কোনো বাধা হবে না।   রায়ে আদালত বলেছেন, ২০১২ সালে করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দেওয়া রায় ও আদেশ, ২০১৩ সালের লিভ টু আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগে তা বহাল ও সংশোধিত আদেশ এবং ২০১১ সালের ১৬ জানুয়ারির অফিস আদেশের (মুক্তিযোদ্ধার সন্তান  ও নাতি-নাতনির কোটা) আলোকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ান/নাতি-নাতনিদের জন্য কোটা পুনর্বহাল করতে বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হলো। একইসঙ্গে জেলা, নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীসহ যদি অন্যান্য থাকে, সে ক্ষেত্রে কোটা বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হলো। এ বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব, আদেশ পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে পরিপত্র জারি করতে নির্দেশ দেওয়া হলো। কোটা পুনর্বহাল করে দেওয়া হাইকোর্টের আলোচিত রায়ের মূল অংশ প্রকাশ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ (এসকে) সাইফুজ্জামান জামান।  তিনি বলেন, ‘এক পৃষ্ঠার রায়টি পেয়েছি। এটি পূর্ণাঙ্গ রায় না। এই এক পৃষ্ঠার রায়ে কার্যকরী ও নির্দশনা (অপারেটিভ পোরশন) অংশ রয়েছে।’ এই রায় দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করবে কি না, জানতে চাইলে এ আইন কর্মকর্তা বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ রায় পেলেই লিভ টু আপিল করা হবে।’ ২০১৮ সলে কোটা পদ্ধতি বাতিল করার আগ পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে নিয়োগে ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষণ করা হতো। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ছিল ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ কোটা। এই কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে ছয় বছর আগে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানের আন্দোলন গড়ে তোলেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। সে সময় এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন নুরুল হক নুরসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এর আগে আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত কোটাপদ্ধতি বাতিল করে পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তখন সরকারি চাকরিতে (৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড) মুক্তিযোদ্ধা কোটা ছিল ৩০ শতাংশ। এ ছাড়া ১০ শতাংশ নারী, ১০ শতাংশ জেলা, ৫ শতাংশ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী এবং ১ শতাংশ প্রতিবন্ধী কোটা ছিল। সব মিলিয়ে ৫৬ শতাংশ। গত ৫ জুন সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত  অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। এরপর ৯ জুন হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ওই দিন এই আবেদন শুনানির জন্য আপিল বিভাগে পাঠিয়ে দেন চেম্বার আদালত। সেদিন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেছিলেন, কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকবে নাকি বাতিল হবে এ বিষয়ে আপিল বিভাগই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে সরাসরি নিয়োগে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি তুলে দিয়ে পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।  এর মধ্যে বুধবার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের এই রায়ের ওপর চার সপ্তাহের স্থিতাবস্থা জারি করেন আপিল বিভাগ।

প্রধানমন্ত্রীর সফর চীনা গণমাধ্যমে ফলাও প্রচার

প্রধানমন্ত্রীর সফর চীনা গণমাধ্যমে ফলাও প্রচার

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি চীন সফর করে এলেন। তার এই সফর দেশটির প্রথম সারির গণমাধ্যমগুলো ফলাও করে প্রচার করেছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বেজিং-ঢাকা সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটির প্রথম সারির প্রায় সব সংবাদমাধ্যম শেখ হাসিনার তিন দিনের বেজিং সফর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। খবর ওয়েবসাইটের।   সফরের শেষ দিন বুধবার বিকেলে বেজিংয়ের গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তাদের বৈঠক শেষে চীনের আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম সিজিটিএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে একটি ‘বিস্তৃত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বে’ উন্নীত করেছে। চীনা প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকে প্রাধান্য দিয়েই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়।