ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১

রাজনীতি

রাজনীতি বিভাগের সব খবর

বিএনপি ক্ষমতায় আসে নিতে, আওয়ামী লীগ দিতে

বিএনপি ক্ষমতায় আসে নিতে, আওয়ামী লীগ দিতে

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে দেশের জনগণকে কিছু দেওয়ার জন্য, আর বিএনপি আসে শুধুই নিতে। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে দেশের মানুষকে সব সময় কিছু দেয়। আর বিএনপি শুধু নেয়। আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণের পাশে থাকে এবং তাদের কল্যাণে কাজ করে।  বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে দলীয় নেতা-কর্মী, বিভিন্ন পেশাজীবী, বিচারক, বিদেশী কূটনীতিক এবং পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরে রবিবার বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ভিডিওবার্তায় দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী তাঁর দলকে ভোট দিয়ে বারবার ক্ষমতায় আনার জন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। একইসঙ্গে তাঁর নির্দেশে রমজান মাসে ইফতার পার্টি না করে জনগণের মধ্যে ইফতারসামগ্রী বিতরণ করায় দলীয় নেতাকর্মীদেরও প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রমজান মাসে বিএনপি এক হাজার ইফতার পার্টি করেছে এবং খাবার খেয়েছে আর আওয়ামী লীগ জনগণের মধ্যে ইফতারসামগ্রী বিতরণ করেছে। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে, দেশের মানুষকে সব সময় কিছু দেয়। দেশের মানুষের কল্যাণ করে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা এবং পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকেও দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, যারা আজ গণভবনে এসেছেন, তাদের জন্য সীমাহীন আনন্দ। ঈদ সবার জীবনে বয়ে আনুক আনন্দ। তিনি এ সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পথ অনুসরণ করে দেশবাসীর জন্য খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এ সময় জাতির পিতার কনিষ্ঠ কন্যা ও প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা এবং আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।  দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর ॥ রবিবার শুভ বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে এক শুভেচ্ছা বার্তায় (ভিডিও) দেশবাসীকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আসুন, নতুন বছরে অতীতের সকল ব্যর্থতা-দুঃখ-গ্লানি পেছনে ফেলে সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের লক্ষ্যে একযোগে কাজ করি। ভিডিও শুভেচ্ছা বার্তায় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে উদ্দেশ করে বলেন, বর্ষ পরিক্রমায় আবারও আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে নতুন বছর। আপনারা যারা দেশ-বিদেশে অবস্থান করছেন বাংরাদেশের সকল ভাইবোনকে জানাই বঙ্গাব্দ ১৪৩১-এর শুভেচ্ছা। শুভ নববর্ষ।  টানা চতুর্থবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কবি সুফিয়া কামালের ভাষায় উচ্চারণ করে বলেন- ‘পুরাতন গত হোক। যবনিকা করি উন্মোচন করি এসো হে নবীন/ হে বৈশাখ। নববর্ষ। এসো হে নতুন।’ শুভ নববর্ষ।  শহীদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ঈদের উপহার ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুর গজনবী রোডে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্র (মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১) এ বসবাসরত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ফলমূল ও মিষ্টি পাঠিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকু, উপ প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার, সহকারী প্রেস সচিব এবিএম সরওয়ার-ই-আলম সরকার এবং এসাইনমেন্ট অফিসার মুহাম্মদ আরিফুজ্জামান নূরনবী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ফল ও মিষ্টি পৌঁছে দেন। যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যরা এ সময় প্রতিটি রাষ্ট্রীয় দিবস ও উৎসবে যেমন স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, পবিত্র ঈদ এবং বাংলা নববর্ষের দিনে তাঁদের স্মরণ করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যগণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।  তাঁরা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনাই দেশকে সঠিক নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ ছাড়া কোনো সরকার সাধারণ মানুষ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য চিন্তা করেনি। তাঁরা বলেন, একমাত্র শেখ হাসিনার হাত ধরেই বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশে পরিণত হতে পারে। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

জেলে থাকা নেতাকর্মীর সংখ্যা নিয়ে মিথ্যাচার করছে বিএনপি

জেলে থাকা নেতাকর্মীর সংখ্যা নিয়ে মিথ্যাচার করছে বিএনপি

বিএনপি জেলে থাকা তাদের নেতাকর্মীর সংখ্যা নিয়ে মিথ্যাচার করছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ছিল ২০ হাজার এখন সেটা ৬০ লাখ হলো কী করে? বিএনপি মহাসচিবকে এ বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করে এই ৬০ লাখ বন্দির তালিকা প্রকাশ করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তালিকা প্রকাশ করুন, না হয় মিথ্যাচারের জন্য জাতির কাছে মির্জা ফখরুলকে ক্ষমা চাইতে হবে। সোমবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপিকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ দিবস। সেই দিনটিকে তারা অস্বীকার করে। ১০ এপ্রিল প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার গঠন হয়, সেটা অস্বীকার করে। স্বাধিকার আন্দোলনের মাইলফলক ৭ জুন অস্বীকার করে বিএনপি।

গণতন্ত্রের প্রতি বিএনপির দায়বদ্ধতা নেই

গণতন্ত্রের প্রতি বিএনপির দায়বদ্ধতা নেই

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, গণতন্ত্রের হত্যাকারীরা আজ যখন গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলে- তখন বুঝতে হবে, তাদের ভিন্ন উদ্দেশ্য আছে। এটা গণতন্ত্রের জন্য তাদের মায়াকান্না ছাড়া আর কিছু নয়। গণতন্ত্রের প্রতি বিএনপির কোনো দায়বদ্ধতা নেই। গণতন্ত্রের জন্য তাদের এই আহাজারি মূলত একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ড, হাওয়া ভবন-খোয়াব ভবনের অধিপতি, দুর্নীতি-সন্ত্রাস ও দুর্বৃত্তায়নের বরপুত্র তারেক রহমানের দুঃশাসনের যুগে দেশকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য। এদেশের গণতন্ত্রকামী দেশপ্রেমিক নাগরিক সমাজ এই অন্ধকারের অপশক্তির বিরুদ্ধে আজ ঐক্যবদ্ধ। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি নেতৃবৃন্দের মিথ্যাচার ও দুরভিসন্ধিমূলক বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এই বিবৃতি দেওয়া হয়। বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে বাংলাদেশ স্বপ্নের পথে যাত্রা শুরু করে।

সরকার মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে 

সরকার মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে 

আওয়ামী লীগ সরকার দেশের মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার রাজধানীর ইস্কাটন লেডিস ক্লাবে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। এতে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বক্তব্য রাখেন।  ফখরুল বলেন, ভয়ংকর ভয়াবহ দানবের আক্রমণ আমাদের ওপর চলছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের গুম করা হচ্ছে, পঙ্গু করা হচ্ছে, খুন করা হচ্ছে। বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের সকল স্তম্ভ আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার তাদের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে চায়। এর আগেও তারা এই চেষ্টা করেছিল। তখন সফল হয়নি, এবারও সফল হবে না। ফখরুল বলেন, রমজান মাস পবিত্র মাস। আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছি আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করে দেন। যে সরকার আমাদের বুকে চেপে বসেছে তা থেকে মুক্তি যেন দেন। এ সরকারকে সরাতে না পারলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই এদের বিতাড়িত করে দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।  ফখরুল বলেন, প্রতিটি বড় বিজয়ের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। আমাদের নবীজীও একদিনে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। তাই আমাদের অত্যাচারিত নিপীড়িত নেতাকর্মীরাও হতাশ নয়। তারা বলছে আপনারা যদি সঠিক দিকনির্দেশনা দেন, আন্দোলনের ডাক দেন, আমরা রাজপথে প্রাণ দিয়ে হলেও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করব। মির্জা ফখরুল বলেন, কারাগারের ভেতরে ঢাকা মহানগরের হাজারও নেতাকর্মীদের আমি দেখেছি। পবিত্র রমজানেও তারা বিনাদোষে বন্দি জীবনযাপন করছেন।