ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০

স্বাস্থ্য

স্বাস্থ্য বিভাগের সব খবর

হাসপাতাল পরিচালনায় ১০ শর্ত

হাসপাতাল পরিচালনায় ১০ শর্ত

সম্প্রতি রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতাল, ল্যাবএইড হাসপাতাল ও জেএস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর ঘটনায় বেসরকারি হাসপাতাল পরিচালনায় নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। দেশজুড়ে অন্তত : ১২শ’টি বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নিবন্ধন নেই উল্লেখ করে স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালনায় নতুন করে দশটি শর্ত আরোপ করেছে মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে রয়েছে অ্যানেস্থেশিস্ট না থাকলে কোনো হাসপাতাল রোগীর অপারেশন করতে পারবে না। হাসপাতালের নিবন্ধন নম্বর অবশ্যই হাসপাতালের প্রবেশমুখে টাঙিয়ে রাখতে হবে। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেনের নির্দেশে জারিকৃত ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) কর্তৃক স্বাক্ষরিত নতুন এ আদেশ জারি করা হয়েছে। বেসরকারি মেডিক্যাল/ ক্লিনিক/ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পালনীয় শর্তাবলি হলো, বেসরকারি ক্লিনিক/হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিকের লাইসেন্সের কপি ওই প্রতিষ্ঠানের মূল প্রবেশপথের সামনে দৃশ্যমান স্থানে অবশ্যই স্থায়ীভাবে প্রদর্শন করতে হবে, সব বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ওই প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় তথ্যাদি সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য ০১ (এক) জন  নির্ধারিত দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা/কর্মচারী থাকতে হবে এবং তার ছবি ও মোবাইল নম্বর দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে, যে সব প্রতিষ্ঠানের নাম ডায়াগনস্টিক ও হাসপাতাল হিসেবে আছে কিন্তু শুধু ডায়াগনস্টিক অথবা হাসপাতালের লাইসেন্স রয়েছে তারা লাইসেন্স ব্যতিরেকে কোনোভাবেই নামে উল্লেখিত সেবা প্রদান করতে পারবে না, ডায়াগনস্টিক সেন্টার/ প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি এর ক্ষেত্রে যে ক্যাটারগরিতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত শুধু  সে ক্যাটাগরিতে নির্ধারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ব্যতীত কোনোভাবেই অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাবে না এবং ক্যাটারগরি অনুযায়ী প্যাথলজি/ মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি ও রেডিওলজি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করতে হবে, বেসরকারি ক্লিনিক/হাসপাতালের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের প্রকারভেদ ও শয্যা সংখ্যা অনুযায়ী সব শর্তাবলি বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, হাসপাতাল/ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিযোজিত সব চিকিৎসকের পেশাগত ডিগ্রির সনদ, বিএমডিসির হালনাগাদ নিবন্ধন ও নিয়োগপত্রের কপি অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে, হাসপাতাল/ ক্লিনিক এর ক্ষেত্রে যে কোনো ধরনের অপারেশন/ সার্জারি/প্রসিডিউর এর জন্য অবশ্যই  রেজিস্টার্ড চিকিৎসককে সার্জনের সহকারী হিসেবে রাখতে হবে, কোনো অবস্থাতেই লাইসেন্সপ্রাপ্ত/ নিবন্ধিত হাসপাতাল ও ক্লিনিক ব্যতীত চেম্বারে অথবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অ্যানেসথেশিয়া প্রদান করা যাবে না। বিএমডিসি স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ অবেদনবিদ ছাড়া যে কোনো ধরনের অপারেশন/সার্জারি/ ইন্টারভেনশনাল প্রসিডিউর করা যাবে না, সকল বেসরকারি নিবন্ধিত/ লাইসেন্সপ্রাপ্ত হাসপাতাল/ ক্লিনিকে লেবার রুম প্রোটোকল অবশ্যই  মেনে চলতে হবে এবং নিবন্ধিত/ লাইসেন্স প্রাপ্ত হাসপাতাল/ ক্লিনিকে অপারেশন থিয়েটারে অবশ্যই অপারেশন থিয়েটার এটিকেট মেনে চলতে হবে। এদিন গাজীপুরের রাজন্দ্রপুরে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউট কর্তৃক আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, এখন থেকে সরকারের নির্দিষ্ট শর্ত মেনে বেসরকারি মেডিক্যাল/ ক্লিনিক/ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালাতে হবে।

স্ট্রেস মোকাবিলা

স্ট্রেস মোকাবিলা

০ খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করুন : খারাপ অভ্যাস যেমন অধিক মদ্যপান, ধূমপান, জুয়া খেলা অতি খাদ্যগ্রহণ ইত্যাদি ত্যাগ করুন। এই কুঅভ্যাসগুলো অযথা আপনার মনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। ০ ছোট ঘুম দুপুরে : দুপুরে ১০ থেকে ৪৫ মিনিটের একটি ছোট ঘুম দিন। আপনার শারীরিক মানসিক বল কাজ করার ক্ষমতা ও মেধাকে উজ্জীবিত করে। ০ রাগকে দমন করুন : অসতর্ক রাগ-ক্ষোভ প্রকাশ শরীরের ওপর অযথা চাপ সৃষ্টি করে নার্ভের ওপর চাপ বাড়ে। হার্ট ও রক্তনালীর ক্ষতিসাধন করে এমনকি হঠাৎ মৃত্যুর কারণ হতে পারে। ০ কিছুক্ষণের জন্য পলায়ন : ঘটনাগুলো আপনার আয়ত্তের বাইরে অথবা আপনি খুবই মানসিক চাপে আছেন তখন কিছুক্ষণের জন্য হলেও ছুটি নিন এবং স্থির হোন। ০ আপনার মনের অনুভূতিকে প্রিয়জনের কাছে প্রকাশ করুন। হালকা হোন। তা না হলে অদমিত অনুভূতি আপনার স্নায়ু বিকলের কারণ হতে পারে।

শিশুর ঠান্ডা জ্বরে করণীয়

শিশুর ঠান্ডা জ্বরে করণীয়

শিশুদের ঠান্ডা  জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। তাতে অভিভাবক ও চিকিৎসকদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ঠান্ডা জ্বর, টাইফয়েড জ্বর, প্রস্র্রাবে সংক্রমণজনিত জ্বর, রক্ত আমাশয়ও দেখা দিয়েছে। টাইফয়েড জ্বর পানিবাহিত রোগ সালমোনেলা টাইফি নামক ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে হয়। সংক্রমিত হওয়ার  ১০-১৪ দিন পর জ্বরসহ এ রোগের অন্য লক্ষণগুলো দেখা দেবে। পানিবাহিত সালমোনেলা জীবাণু দূষিত পানি ছাড়াও দুধ অথবা দুগ্ধজাত সামগ্রী ব্যবহারের মাধ্যমে মানবদেহে সংক্রমিত হতে পারে। আর টাইফয়েড জ্বর যে কোনো বয়সেই হতে পারে। তবে পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের তীব্রভাবে এ রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। প্রধানত জ্বর, যা ক্রমান্বয়ে সিঁড়ির ধাপের মতো বাড়তে থাকে, পাশাপাশি বমি, পাতলা পায়খানাসহ মাথাব্যথা হয়।

অটিজম এবং আধুনিক চিকিৎসা

অটিজম এবং আধুনিক চিকিৎসা

অটিজম (AUTISM)- কী এটির পুরো নাম অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (ASD) অটিজম একটি অত্যন্ত পরিবর্তনশীল, নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার, যা তিন বছর বয়স হওয়ার পূর্বেই প্রকাশ পায়। অটিজম শিশুরা সামাজিক যোগাযোগে দুর্বল হয়, পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সক্ষমতা কম হয়। মানসিক সীমাবদ্ধতা ও একই কাজ বারংবার করার প্রবণতা থেকে এদের শনাক্ত করা যায়। ২ এপ্রিল Autism Awareness Day এই রোগের কারণ সর্ম্পকে এখনও কোনো পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়নি। তবে জেনেটিক কারণে এটি হয় বলে প্রমাণ আছে। অটিজম জিনগত এবং পরিবেশগত কারণের সংমিশ্রণের সঙ্গে জড়িত।  ক থেকে দুই বছর বয়সে শিশুর আচরণে এ রোগের লক্ষণ দেখা দিতে থাকে। অভিভাবকরাই সাধারণত প্রথমে এ রোগের লক্ষণ বুঝতে শুরু করেন। লক্ষণ প্রকাশ পেলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। রোগ নির্ণয়ে মূলত শিশুর সম্পূর্ণ আচরণের ইতিহাস এবং স্নায়ুতাত্ত্বিক গণনার হিসাব বিবেচনা করা হয়। আক্রান্ত শিশুর পরিচর্যা করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ অতন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ রোগের ক্ষেত্রে একে জীবনযাপনের একটি বিশেষত্ব মনে করে চিকিৎসা করাই ভালো। অটিজম বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন হারে প্রকাশ পায়। আধুনিক গবেষণা মতে, প্রতিহাজারে ১ থেকে ৩ জন অটিজম রোগে আক্রান্ত হতে পারে। বিশেষ করে ১৯৮০ সালের পর থেকে আক্রান্ত হয়েছে জানা গেছে এমন রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে।  বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ২০১৪ সালের পর থেকে এন্ড্রয়েড ফোন ব্যাপকভাবে শিশুদের ব্যবহার, অটিজমকে ত্বরান্বিত করেছে। তবে উন্নত রোগ নির্ণয় পদ্ধতি এবং সচেতনতা বৃদ্ধি অটিজম চিহ্নিত হওয়ার কারণ হতে পারে।

চুল পড়া বন্ধ করতে

চুল পড়া বন্ধ করতে

মাথা থেকে রোজই কিছু না কিছু চুল ঝরে। আবার স্বাভাবিক নিয়মে তা পূরণ হয়ে যায়। কিন্তু সেটা একটু বাড়তি হলেই দুশ্চিন্তা ও হতাশার দিকে নিয়ে যেতে পারে। ক্লিনিকগুলোতে ত্বক বিশেষজ্ঞরা দেখছেন, মানুষের নিয়মিত উদ্বেগগুলোর একটি হচ্ছে এই অতিরিক্ত চুল পড়া। সমস্যাটি উত্তরণে বিশেষজ্ঞদের দ্বারস্থ হওয়ার মাত্রা গত কয়েক বছরে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। কেন বাড়তি চুল ঝরছে? কেন এভাবে চুল ঝরছে, তা জানাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। চুল কোষের নিজস্ব একটি জীবনচক্র আছে। এটির বৃদ্ধির পর্ব, স্থায়িত্ব ও পরবর্তী সময়ে ঝরে যাওয়া। কিন্তু কখনও কখনও সেই জীবনচক্র বিঘিœত হতে পারে। মানসিক চাপ, নি¤œমানের জীবনযাত্রা, সুষম খাবারের অভাব, ঠিক সময়ে না ঘুমানো কিংবা অপর্যাপ্ত ঘুমেও চুল পড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও প্রচুর ভ্রমণ চুল কোষের জীবনচক্র সমস্যা তৈরি করতে পারে। বড় একটা সময় ধরে চুল ঝরলে তাতে দীর্ঘস্থায়ী চুল খোয়াতে হবে। আর চুল ঝরা তীব্রতর হলে স্বল্প সময়ে চুল হারাতে হতে পারে। এমনটা নিয়মিত ঘটলে মাথা খালি হয়ে টাক পড়ে যাবে। ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি৩ ও লৌহ ঘাটতি কিংবা রক্তশূন্যতা, হরমোন ভারসাম্যহীনতা বা ইনসুলিন নিরোধক, পিসিওএস (পলিসিসটিক ওভারিয়ান সিনড্রম, থাইরয়েড ঘাটতি কিংবা মানসিক চাপ বৃদ্ধি ও সেই সময়টা পার হওয়ার পরে, রোগাক্রান্ত হওয়া কিংবা গর্ভাবস্থার পরে) চুল ঝরে যেতে পারে।