ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ০৩ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০

মতামত

মতামত বিভাগের সব খবর

স্বাধীনতা আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

স্বাধীনতা আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

স্বাধিকার, স্বাধীনতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অবিস্মরণীয়। মাতৃসম এ দেশকে শৃঙ্খলমুক্ত করতে অকাতরে রক্ত দিয়েছেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। জাতির যে কোনো সংকট ও সংগ্রামে ন্যায়, বৈষম্যহীনতা ও সুবিচারের পক্ষে এমন গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা সবসময়ই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে থাকে। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্ন থেকেই বিভিন্ন ধাপে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা বাংলার জন্য আন্দোলনে এবং ১৯৬২ সালে বিতর্কিত শিক্ষা নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জীবন দিয়েছে এবং দাবি আদায় করেছে। ১৯৬৬ সালের ৭ জুন ঐতিহাসিক ৬ দফার সপক্ষে এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে মুক্তির দাবিতে সারাদেশে হরতাল পালিত হয়েছিল এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করতে ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকেই রক্তঝরা আন্দোলন সংগ্রাম শুরু হয়েছিল। ’৬৯-এর গণঅভ্যুথানের পুরো নেতৃত্বে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। যখন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সারা বাংলাদেশ একটি সমুদ্রের মোহনায় একীভূত চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে স্বাধীনতা অর্জনের অভিপ্রায়ে সকল মানুষ উদ্বেলিত চিত্তে এক ও অভিন্ন সত্তায় বিলীন হয়ে গেছে, সেখানেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাব ছিল অবিস্মরণীয়।

পশু-পাখির প্রতি সদয়

পশু-পাখির প্রতি সদয়

ব্যক্তি পর্যায়ে হাতি পালনে লাইসেন্স প্রদান ও বিদ্যমান লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছেন হাইকোর্ট। এর ফলে, আদালতের সুরক্ষা পেল বাংলাদেশের বিপন্নপ্রায় প্রাণী হাতি। মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকা হাতির সার্কাস, হাতির পিঠে ভ্রমণ, বিয়ে বাড়িতে শোভাবর্ধন, বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের র‌্যালিতে বিজ্ঞাপন বিভিন্ন বিনোদন কাজে হাতির ব্যবহার বন্ধে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয় ১৮ ফেব্রুয়ারি। অভিনেত্রী জয়া আহসান এবং প্রাণী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন পিপল ফর এনিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা-চেয়ারপারসন স্থপতি রাকিবুল হক এমিল রিটটি দায়ের করেন। উল্লেখ্য, হাতিকে লগ বা কাঠের ভারি গুঁড়ি তোলার কাজে ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ লাইসেন্স দেয় বন বিভাগ থেকে অর্থের বিনিময়ে। কিন্তু লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে অনেক হাতি সার্কাসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। হাতিদের প্রশিক্ষণের নামে সার্কাস পার্টিসহ প্রাইভেট লাইসেন্সধারীরা নিষ্ঠুরভাবে হাতির বাচ্চাদের মায়ের থেকে আলাদা করে। কয়েক মাস ধরে বেঁধে রাখে। এরপর কৌশল শেখানোর জন্য তাদের নির্যাতন করে। হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হাতিরা ‘প্রশিক্ষণ’ নামক অত্যাচার থেকে মুক্তি পাবে- এমনটাই প্রত্যাশা।

বেইলি রোড ট্র্যাজেডি

বেইলি রোড ট্র্যাজেডি

বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর বেইলি রোডে বহুতল একটি ভবনে অগ্নিকান্ডে অন্তত ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ২২ জন। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রেস্টুরেন্টের আধিক্য ছিল ওই ভবনে, গ্যাস সিলিন্ডারও ছিল যথেষ্ট পরিমাণে। এমনকি সিঁড়িতেও রাখা ছিল গ্যাস সিলিন্ডার। ফলে, সেগুলোয় আগুন ধরে গেলে পুরো ভবনটিই মৃত্যুঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। মানুষ সিঁড়ি দিয়ে নামতে পারেননি। আত্মরক্ষায় ছাদে আশ্রয় গ্রহণরতদের ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা একে একে উদ্ধার করেছেন। বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে প্রায় অর্ধশত মানুষের আকস্মিক মৃত্যুতে জনকণ্ঠ পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। আমরা নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি জানাই আন্তরিক সমবেদনা। একই সঙ্গে এই অগ্নিকান্ডে আহত বহু মানুষের দ্রুত আরোগ্য প্রত্যাশা করি।

নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক

নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক

নারী শব্দটি উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে আমার মানসপটে ভেসে ওঠে একজন মা, বোন কিংবা তরুণীর জীবনচক্রের চিত্র। দেশ বদলেছে পেরিয়ে গেছে বহু সময় তবুও কর্মস্থল কিংবা পরিবারে নারীর নিরাপত্তা আজ প্রশ্নবিদ্ধ। নারী নিরাপত্তা নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর সমাজ ব্যবস্থাতেই নারীর নিরাপত্তা বিষয়টি ধোঁয়াশার মধ্যে রয়ে গেছে। পরিবারের জন্য লালন করা এক বুক স্বপ্ন নিয়ে নারীরা কর্মক্ষেত্রে আসেন। কাজের জায়গায় তারা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও নিপীড়নমূলত আচরণের শিকার হয়। প্রতিবাদ করলে ব্ল্যাকমেইলসহ চাকরি হারানোর ভয় থাকে। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে যেখানে চাকরির বাজার মন্দা সেখানে চাকরি হারানোটা নারীদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার ন্যায় অবস্থা। লোকলজ্জা ও সমাজ কী বলবে এই ভয়ে নারীরা মুখ খুলেন না।

ঘরের কাজে পুরুষের অংশগ্রহণ

ঘরের কাজে পুরুষের অংশগ্রহণ

বর্তমান বিশ্বে পুরুষের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রেও নারীদের রয়েছে ব্যাপক ভূমিকা। কিন্তু নিজের ঘরে নারীদের নেই কোনো স্বাধীনতা। নারীরা দিন রাত স্বামীর বাড়িতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যায়। তাদের নেই কোনো কর্মবিরতি। পুরুষরা শুধু পরিবারে অর্থ যোগান দিয়ে ক্ষ্যান্ত হন। কিন্তু নারীরা দিনের শুরু থেকে ঘুমোতে যাওয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত পরিবারের নানা রকম কাজ করেন। নারীরা চাকরি করেন আবার দিন শেষে বাড়িতে ফিরে ক্লান্ত অবস্থায় স্বামী-সন্তান ও শ্বশুর-শাশুড়ির সেবাযতেœ নিজেকে উৎসর্গ করেন। তবুও নারীরা স্বামীর বাড়িতে প্রতিনিয়ত হচ্ছেন অবমাননা ও নির্যাতনের শিকার। নারীরা ঘরের যাবতীয় কাজকর্ম একাই সম্পন্ন করে থাকেন। পুরুষরা যেন ঘরের কোনো কাজে হাত লাগান না। নারী তার নিজের জন্য শখ করে কেনাকাটা বা কিছু খাওয়ার ইচ্ছেও প্রকাশ করেন না।