ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১৯ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১

মতামত

মতামত বিভাগের সব খবর

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন মাত্রা

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন মাত্রা

অতিসম্প্রতি ভারতের ১৮তম লোকসভা নির্বাচন সুসম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শ্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে তৃতীয় বারের মতো সরকার গঠন ইতোমধ্যে সুস্পষ্ট রূপ পরিগ্রহ করেছে। ৯ জুন নতুন সরকারের প্রধান চার মন্ত্রণালয়ে পূর্ববর্তী সরকারের মন্ত্রীরাই পুনঃনিয়োগ পেয়েছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সশরীরে উপস্থিত থেকে শপথ অনুষ্ঠান উপভোগ করেছেন। পার্শ্ববর্তী দেশ হিসেবে অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার মর্যাদা ছিল অপরিসীম। বিভিন্ন আলাপ-আলোচনা এবং সম্মানিত অতিথিরূপে তাঁর সরব উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত গৌরবদীপ্ত। এটি সকলের জানা, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রাম-মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে ভারত সরকার-জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন-সাহায্য-সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ চিরঋণী। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী প-িত জওহরলাল নেহরুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে নরেন্দ্র মোদি তৃতীয় বারের মতো ক্ষমতায় আরোহণ নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বাংলাদেশের সরকার গঠনের ধারাবাহিকতায় ভারত সরকারের সঙ্গে সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন নবতর মাত্রিকতায় প্রত্যাশিত।

সুষ্ঠু ঈদ আয়োজন

সুষ্ঠু ঈদ আয়োজন

কাল বাদে পরশু ঈদ। ঈদুল ফিতরের তুলনায় ঈদুল আজহা বা কোরবানি ঈদ আয়োজনে কিছু বাড়তি বিষয় থাকে। পশু কোরবানি, পশুর হাট বসানো এবং কোরবানির পরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। এছাড়াও নিয়মিত কিছু বিষয় থাকে যাতে অনিয়ম কাম্য নয়। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা সুষ্ঠুভাবে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কোরবানির পশুর সহজলভ্যতা, পরিবহন, হাট ব্যবস্থাপনা, অনলাইন মার্কেট মনিটরিং, ঈদযাত্রা, কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, চামড়া সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা, ঈদ ফিরতি যাত্রাসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে একটি সমন্বিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।   

আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক

আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কানগরীতে এবার হজ পালিত হচ্ছে ১৫ জুন। এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ২০ লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসলমান হজ পালনের সুযোগ পেয়েছেন। তবে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অবস্থান, চলাচল ও হজ প্রক্রিয়া পালন করতে হবে সৌদি সরকারের নির্দেশ মোতাবেক। পবিত্র ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি হচ্ছে হজ। আর্থিকভাবে সচ্ছল, দৈহিকভাবে সক্ষম ও সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন প্রত্যেক মুসলমানের জন্য হজ পালন ফরজ করা হয়েছে। সৎপথে উপার্জিত অর্থ দ্বারা হজ পালন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অবশ্য কর্তব্য। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের গুরুত্বপূর্ণ ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ অনুষ্ঠান এই হজব্রত পালনের লক্ষ্যে সারাবিশ্ব থেকে নানা বর্ণের, নানা ভাষার লাখ লাখ মুসলমান নর-নারী পবিত্র মক্কা নগরীতে সমবেত হন। এবারও হজ পালনের লক্ষ্যে সারাবিশ্ব থেকে অগণিত মুসলমান সৌদি আরবে মহান আল্লাহতালার নির্দেশ পালনে একত্রিত হয়েছেন। বাংলাদেশের বেশ সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসলমানও অংশ নিয়েছেন হজে।  বাংলা ভাষায়ও খুতবা প্রচারিত হয় এখন। এ ধরনের বিশাল ধর্মীয় সমাবেশ পৃথিবীর আর কোথাও হয় না। সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজেকে পরিপূর্ণভাবে সমর্পণের মাধ্যমে আত্মার পরিশুদ্ধির অন্যতম লক্ষ্য নিয়েই এই ভাবগম্ভীর সমাবেশ। ফলে, এর গুরুত্ব অপরিসীম। সুশৃঙ্খল নিয়মের মধ্য দিয়ে হজ পালিত হয়। ইহরাম বাঁধা, কাবা শরীফ তাওয়াফ করা, আরাফাতের ময়দানে অবস্থানÑ সবটার মধ্যেই রয়েছে নির্দিষ্ট নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলার নির্দেশ। হজ পালনের উদ্দেশ্যে সমবেত বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তা মেনে চলেন। প্রতিবছর হজ পালনের সময় মক্কা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে বিশাল আরাফাত ময়দানে লাখ লাখ মুসলমান লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক উচ্চারণ করতে করতে সমবেত হন। মূলত আল্লাহপাকের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই হজের এই মহান সম্মিলন।  হজের মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়, মুসলমানদের পারস্পরিক সমতা এবং বিভেদহীন ঐক্য। আরাফাতের ময়দানে মানুষ সব বৈষম্য ভুলে যায়। বিশ্বের সব মুসলমানের মধ্যে গড়ে ওঠে সাম্য ও সৌভ্রাতৃত্বের পবিত্র বন্ধন। প্রত্যেক মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি, তাঁরই অনুগত দাস এবং হযরত মুহাম্মদের (সা) উম্মত। হজ পালনের সময় ভাষা, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সবাইকে পরিধান করতে হয় সেলাইবিহীন ইহরাম। পবিত্র ইসলাম সাম্য ও শান্তির বাণী প্রচার করার জন্যই রাসুলুল্লাহ (সা) কর্তৃক প্রতিষ্ঠা ও পূর্ণতা পেয়েছে। বস্তুত সমগ্র মানবজাতিকে শান্তি ও সম্প্রীতির চেতনায় উজ্জীবিত করার প্রকৃত আবেদন এই সুবিশাল মহাসমাবেশের এক পরম শিক্ষা। বিশ্বের সব মুসলমানের মধ্যে ইসলামের মৌলিক সত্যটি উদ্ভাসিত হয়ে উঠুক, শান্তি ও সাম্যের সুবাতাস প্রবহমান থাকুক, এটিই প্রত্যাশা।  

হজ এবং কুরবানি ॥ ইতিহাসে অনুভবে

হজ এবং কুরবানি ॥ ইতিহাসে অনুভবে

আরবী ভাষায় ‘হজ’ শব্দের অর্থ জিয়ারতের সংকল্প করা। যেহেতু খানায়ে-কা’বা জিয়ারতের উদ্দেশ্যে তাবৎ প্রেমিক-ভক্তগণ পৃথিবীর চারিদিক হতে পঙ্গপালের মতো এসে পবিত্র মক্কা নগরীতে জমায়েত হয়, তাই এর নাম রাখা হয়েছে হজ। কখন কিভাবে হজ সূচনা হয়েছিল এবং যুগে যুগে এ হজব্রত পালনের প্রকৃতি কেমন ছিল, সে ইতিহাস অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক এবং শিক্ষাপ্রদ। হজ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুকন। পবিত্রস্থান সমূহ দর্শন এবং সে স্থানগুলোতে বিশেষ রীতিনীতি শিষ্টাচারের সঙ্গে অনুষ্ঠান পালনের প্রথা প্রাচীনকাল থেকে চালু রয়েছে।  সকল ধর্মের অনুসারীদের নিকট কোনো না কোনো স্থান রয়েছে, যেগুলোকে তারা পবিত্র বলে মনে করে থাকেন। সে সকল স্থানে গিয়ে তারা নিজ নিজ আকিদা ও বিশ্বাস অনুসারে ধর্মীয় অনুষ্ঠান সমূহ পালন করে থাকেন। না হলে কিতাবের মাঝে ইহুদিদের মধ্যে পবিত্র স্থানসমূহের জিয়ারতের প্রথা পূর্বেও চালু ছিল। তারা বায়তুল মুকাদ্দাস কেন্দ্রিক বছরে তিনবার হাজির হয়ে এ অনুষ্ঠান পালন করত।