ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

বিদেশ বিভাগের সব খবর

ইউরোপে  তাপপ্রবাহে প্রাণ গেল প্রায় ১০ হাজার  মানুষের

ইউরোপে  তাপপ্রবাহে প্রাণ গেল প্রায় ১০ হাজার  মানুষের

ইউরোপজুড়ে বয়ে যাওয়া তীব্র তাপপ্রবাহে মাত্র আট দিনেই ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ইউরোপভিত্তিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউরোমোমো (Euromomo)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ উদ্বেগজনক তথ্য। রোববার (১২ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুনের শেষ সপ্তাহে কআঘাত হানা এই তাপপ্রবাহ জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। ইউরোমোমো, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭টি সদস্যরাষ্ট্র এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সহযোগিতায় পরিচালিত একটি পর্যবেক্ষণ সংস্থা, জানিয়েছে—গত ২০ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত সময়ে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে প্রায় ৯ হাজার জনের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত গরমে হিট স্ট্রোক, হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া ব্যাহত হওয়া এবং শ্বাসতন্ত্রের জটিলতার কারণে অধিকাংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সংস্থাটির মতে, এই প্রাণহানির পেছনে তীব্র তাপপ্রবাহই ছিল প্রধান কারণ। ইউরোমোমোর কর্মকর্তা এবং ডেনমার্কের স্ট্যাটেন্স সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান চিকিৎসক লাসে ভেস্টারগার্ড প্রতিবেদককে বলেন, “এই মৃত্যুগুলো সরাসরি তাপপ্রবাহের ফল। এর অন্য কোনো ব্যাখ্যা নেই। বছরের এই সময়ে এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যু মোটেও স্বাভাবিক নয়। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।” তবে কোন দেশে কতজনের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে পৃথক কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি ইউরোমোমো। সংস্থাটি জানিয়েছে, মৃতদের বড় একটি অংশ ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের বাসিন্দা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত গরম ও তাপপ্রবাহের কারণে ইইউভুক্ত কয়েকটি দেশে গত আট সপ্তাহ ধরে প্রতি সপ্তাহে গড়ে প্রায় ৫০০ জনের মৃত্যু হচ্ছে। এতে স্পষ্ট, চলমান তাপপ্রবাহের প্রভাব স্বল্পমেয়াদি নয়; বরং দীর্ঘ সময় ধরে জনস্বাস্থ্যের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এদিকে ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (ইসিডিপিসি) জানিয়েছে, ইউরোপে এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ অতিরিক্ত মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছিল করোনা মহামারির সময়। ২০২০ সালের মে-জুনে মহামারির সবচেয়ে ভয়াবহ পর্যায়ে এক সপ্তাহে ১ হাজার ৬৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। বিজ্ঞানীদের মতে, সাম্প্রতিক এই তাপপ্রবাহের পেছনে মানুষসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সতর্কবার্তা, জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী বছরগুলোতে ইউরোপে আরও ঘন ঘন এবং আরও তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

জর্ডান ও কাতারে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি

জর্ডান ও কাতারে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র করে জর্ডান ও কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটি এবং কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে পৃথক হামলা চালানো হয়েছে। রোববার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়, হামলায় ঘাঁটির একটি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার এবং এমকিউ-৯ ড্রোন সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত একটি হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে। এ ছাড়া পৃথক আরেকটি বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের দাবি, ওই হামলায় একটি যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কেন্দ্র এবং একটি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংস হয়েছে। তবে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমার দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। ফলে হামলায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ইরান ও কাতারের বক্তব্যে স্পষ্ট ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যকর অবরোধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুদ্রাস্ফীতির চাপও বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নভেম্বরের আগাম নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংকট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও বড় ধরনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কয়েকটি জাহাজ অনুমোদনহীন পথে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করেছিল। তাদের গতিপথ পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি। এ কারণেই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। আইআরজিসি আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার নীতি বহাল থাকবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে অঞ্চলে থাকা ‘শত্রুপক্ষের নতুন ঘাঁটিগুলোও’ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, আইআরজিসির বিবৃতি প্রকাশের প্রায় এক ঘণ্টা পর স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে সামরিক অভিযান শুরু হয়। তাদের দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই এ-সংক্রান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

দ্বিতীয় দফায় কুয়েত ও বাহরাইনের চার মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র

দ্বিতীয় দফায় কুয়েত ও বাহরাইনের চার মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র

কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের চারটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। মঙ্গলবারের পর বুধবার রাতেও এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি। আইআরজিসির বরাত দিয়ে আইআরআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি লঙ্ঘন করে দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বাহিনীর হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ইরানের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী যৌথভাবে কুয়েতের আরিফান ও আল সালেম ঘাঁটি এবং বাহরাইনের জাফাইর ও শেখ ইসা ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা নতুন করে আগ্রাসী পদক্ষেপ নিলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত আরও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে কঠোর অভিযান চালানো হবে। এর আগে, ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে গত ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করে আইআরজিসি। ওই ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতে দক্ষিণ ইরান ও হরমুজ প্রণালি এলাকায় ইরানের ৮০টি সামরিক স্থাপনা ও অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম। মার্কিন হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে অল্প সময়ের মধ্যেই কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে প্রথম দফায় হামলা চালানোর দাবি করে আইআরজিসি। এরপরও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকে। এদিকে বুধবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শেষ হয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তার এই বক্তব্যের পর বুধবার দ্বিতীয় দফায় ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম। এর জবাব হিসেবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত চারটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। তবে এ হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ৬০০ ছাড়াল

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ৬০০ ছাড়াল

ভেনেজুয়েলায় ১২৬ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ৬৪৫ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৬৬৬ জনের বেশি। গত ২৪ জুন ভোরে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে দেশটিতে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) তথ্য অনুযায়ী, এ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভেনেজুয়েলার দুর্যোগ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৬২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ৮৬ হাজার ১১৭টি পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্পে ৮৮৫টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১৮৯টি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। সরকারের তথ্যমতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ৩ হাজার ৩০০-এর বেশি উদ্ধারকর্মী উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৩০ হাজার সরকারি কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক দুর্গত এলাকায় কাজ করছেন। তবে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। সংস্থাটির ধারণা, প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, হাজারো বাস্তুচ্যুত মানুষ বিশুদ্ধ পানির সংকট, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও চিকিৎসাসেবার অভাবে মানবিক সংকটে রয়েছেন। অবকাঠামো ধ্বংস হওয়ায় সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বেড়েছে। এদিকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ৯০০ সেনাসদস্য মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত রানওয়ে মেরামত, নৌবাহিনীর জাহাজ মোতায়েন এবং অতিরিক্ত সহায়তা কর্মী পাঠানো হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের মানবিক সহায়তা ঘোষণা করেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, প্রধান ভূমিকম্প দুটির পর এ পর্যন্ত ৮৯০টি পরাঘাত (আফটারশক) রেকর্ড করা হয়েছে। এতে দুর্গত এলাকায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

মিয়ানমারে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ, কেঁপে উঠল টেকনাফ সীমান্ত

মিয়ানমারে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ, কেঁপে উঠল টেকনাফ সীমান্ত

স্টাফ রিপোর্টার মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু শহরে রাত সাড়ে ৯টার পর থেকে মুহুর্মুহু বিমান হামলার বিকট শব্দে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশ সীমান্তের হোয়াইক্যং, হ্নীলা, টেকনাফ সদর ও সাবরাংসহ বেশ কয়েকটি এলাকা। ওপার থেকে আসা তীব্র বিস্ফোরণের শব্দে এপার সীমান্তের বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (১ জুলাই) রাত ৯টা ৩৫ মিনিট থেকে ভয়াবহ শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। ​টেকনাফের বাসিন্দারা বলেন, মিয়ানমারের রাখাইনে তীব্র বিমান হামলায় টেকনাফ সীমান্ত এলাকা কেঁপে উঠেছে। এত ভয়ঙ্কর শব্দ ও ঝাঁকুনি আগে কখনো এ এলাকার মানুষ টের পায়নি। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হচ্ছিল যেন বাড়িঘরের জানালার কাচ সব ভেঙে পড়বে। ​সীমান্তবর্তী হোয়াইক্যং এলাকার বাসিন্দারা জানান, এটি বিমান হামলা নাকি তীব্র মর্টারশেল বিস্ফোরণের শব্দ, তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও শব্দের তীব্রতা ছিল ভয়াবহ। ​এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, আমরাও ওপার থেকে ভেসে আসা বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছি। ওপারে মিয়ানমারের মংডু ও বুচিডং এলাকায় বিমান হামলা চলছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিজিবি) ও কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, ভয়ের কোনো কারণ নেই। ​উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা থেকে তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আমাদের সদস্যরা সীমান্তে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।