ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের সব খবর

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে সাফল্যের গল্প

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে সাফল্যের গল্প

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম চাকপাড়া। আধুনিক প্রযুক্তি, নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট কিংবা উন্নত অবকাঠামো যেখানে এখনো সহজলভ্য নয়, সেখান থেকেই বৈশ্বিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন মোদাসসেরুল হক জসিম। প্রান্তিক বাস্তবতার সীমাবদ্ধতাকে পেছনে ফেলে তিনি প্রমাণ করেছেন- সঠিক দক্ষতা, ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাস থাকলে বিশ্ববাজারও জয় করা সম্ভব। ছাত্রাবস্থা থেকেই তিনি ছিলেন প্রযুক্তিপ্রেমী ও শেখার প্রতি আগ্রহী। এসএসসি ও এইচএসসিতে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই ইন্টারনেট, গুগল ও ইউটিউবের সহায়তায় নিজ উদ্যোগে ফ্রিল্যান্সিং শেখা শুরু করেন। দীর্ঘ অনুশীলন, ব্যর্থতা ও অপেক্ষার পর ২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যের এক ক্লায়েন্টের কাছ থেকে পাওয়া ৫০ ডলারের একটি কাজই হয়ে ওঠে তার পেশাগত যাত্রার প্রথম সোপান। বর্তমানে তিনি একজন পেশাদার ওয়েব ডেভেলপার। আপওয়ার্ক ও ফাইভারে তিন শতাধিক আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজ করে সহস্রাধিকের বেশি প্রজেক্ট সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। অনলাইন কাজের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য অফলাইনেও প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ধারাবাহিক দক্ষতা উন্নয়ন ও ক্লায়েন্টের আস্থা অর্জনের মাধ্যমেই তিনি এই অবস্থানে পৌঁছেছেন। নিজের সাফল্যে থেমে না থেকে আশপাশের তরুণদের নিয়ে একটি ছোট টিম গড়ে তুলেছেন তিনি। অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া, প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং কাজের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার মাধ্যমে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন তরুণকে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করেছেন। মানবিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেও তিনি সক্রিয়—নিজের আয়ের একটি অংশ অসহায় মানুষের পাশে ব্যয় করার চেষ্টা করেন।

শক্তিশালী প্রসেসরযুক্ত নতুন দুই স্মার্টফোন

শক্তিশালী প্রসেসরযুক্ত নতুন দুই স্মার্টফোন

দেশের বাজারে শক্তিশালী প্রসেসরযুক্ত নতুন দুটি মডেলের স্মার্টফোন এনেছে ইনফিনিক্স। ‘নোট ৬০’ ও ‘নোট ৬০ প্রো’ মডেলের ফোন দুটিতে যথাক্রমে মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৭৪০০ ফাইভজি ও স্ন্যাপড্রাগন ৭এস জেন ৪ ফাইভজি প্রসেসর থাকায় একসঙ্গে একাধিক কাজ দ্রুত করা যায়। আজ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ইনফিনিক্স বাংলাদেশ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফোন দুটিতে থ্রিডি আইস কোর ভিসি কুলিং চেম্বার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় গেম খেললে বা ইন্টারনেট ব্যবহার করলেও ফোনগুলো গরম হয় না। কর্নিং গরিলা গ্লাসযুক্ত ফোন দুটি আইপি৬৫ প্রযুক্তি সমর্থন করায় ধুলাবালু ও পানিতে নষ্ট হয় না। ফোন দুটিতে ৬ হাজার ৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি থাকায় একবার পূর্ণ চার্জ করে দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা যায়। ৯০ ওয়াটের দ্রুত চার্জিং সুবিধাও রয়েছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো চার্জ করা যায়। আর তাই ভ্রমণের সময় ফোনের চার্জ শেষ হওয়া নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। ফোনগুলোতে ১৪৪ হার্ডজ রিফ্রেশ রেটযুক্ত ১.৫ কে অ্যামোলেড পর্দা রয়েছে, যা মসৃণ ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা প্রদান করে। শুধু তা-ই নয়, পর্দায় সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৫০০ নিট উজ্জ্বলতা থাকায় উজ্জ্বল আলোতেও বিভিন্ন তথ্য স্পষ্ট দেখা যায়। ৫০ মেগাপিক্সেলের ওআইএস নাইট মাস্টার এআই ক্যামেরাযুক্ত ফোন দুটির দাম যথাক্রমে ৪৪ হাজার ৯৯৯ টাকা ও ৪৯ হাজার ৯৯৯ টাকা।

এআই’র বিরুদ্ধে লেখকদের প্রতিবাদ

এআই’র বিরুদ্ধে লেখকদের প্রতিবাদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতির যুগে প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার সম্পর্ক নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। লেখক, শিল্পী ও সৃজনশীল পেশাজীবীরা আশঙ্কা করছেন, তাঁদের বহু বছরের শ্রমে গড়ে ওঠা সাহিত্য ও শিল্পকর্ম অনুমতি ও পারিশ্রমিক ছাড়াই এআই কোম্পানিগুলোর প্রযুক্তি উন্নয়নের উপকরণে পরিণত হচ্ছে। এই উদ্বেগ থেকেই বিশ্বের হাজারো লেখক এক ব্যতিক্রমী প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন- একটি বই প্রকাশ করে, যার পাতাগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে ফাঁকা রাখা হয়েছে। ‘ডোন্ট স্টিল দিস বুক’ নামের এই প্রতীকী বইয়ে কোনো লেখা নেই; আছে শুধু প্রায় দশ হাজার লেখকের নাম, যারা এআই প্রতিষ্ঠানের অননুমোদিত তথ্য ব্যবহারের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানাতে একত্র হয়েছেন। নোবেলজয়ী সাহিত্যিক থেকে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক- বিভিন্ন ধারার লেখকের অংশগ্রহণে এই উদ্যোগটি সৃজনশীল অধিকার রক্ষার বৈশ্বিক আন্দোলনের নতুন প্রতীক হয়ে উঠেছে। লন্ডন বুক ফেয়ারে বিতরণ করা এই ‘ফাঁকা’ বইটি শুধু একটি প্রতিবাদ নয়, বরং প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে মানবসৃষ্ট সৃজনশীলতার ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবিরও শক্তিশালী বার্তা বহন করছে। একই সময়ে যুক্তরাজ্য সরকার কপিরাইট আইনে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে মূল্যায়ন করছে, যা এআই প্রযুক্তি ও সৃজনশীল শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নোবেলজয়ী সাহিত্যিক কাজুও ইশিগুরো, ঔপন্যাসিক ও লেখক ফিলিপা গ্রেগরি এবং ব্রিটিশ লেখক ও উপস্থাপক রিচার্ড ওসমানসহ বিখ্যাত আরও অনেকেই আছেন এই অভিনব উদ্যোগের অগ্রভাগে। গত মঙ্গলবার লন্ডন বুক ফেয়ারে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ‘ফাঁকা’ বইটির কপি বিতরণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে এআই প্রতিষ্ঠানগুলো লেখক ও শিল্পীদের সৃজনশীল কাজ কীভাবে ব্যবহার করছে, তা নিয়ে সাহিত্য ও প্রকাশনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বইটি প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছেন সুরকার ও শিল্পীদের কপিরাইট সুরক্ষার আন্দোলনকর্মী এড নিউটন-রেক্স। 

সম্ভাবনা, সৃজনশীলতা ও ভবিষ্যতের প্রশ্ন

সম্ভাবনা, সৃজনশীলতা ও ভবিষ্যতের প্রশ্ন

ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তি শুধু কোনো যন্ত্র বা সুবিধা নয়- এটি তরুণ প্রজন্মের চিন্তা, শিক্ষা, কাজ এবং সৃজনশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। স্মার্টফোন, ইন্টারনেট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা অনলাইন শিক্ষা- সব মিলিয়ে প্রযুক্তি আজ তরুণদের জীবনযাত্রাকে নতুনভাবে গড়ে তুলছে। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই তরুণদের জন্য প্রযুক্তি একদিকে যেমন নতুন সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে তেমনি নতুন কিছু প্রশ্ন ও চ্যালেঞ্জও সামনে আনছে। ফলে প্রযুক্তিকে কীভাবে ব্যবহার করা হবে- এটি এখন শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, বরং সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক আলোচনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তরুণদের নতুন শক্তি

কেবল এআই বটদের জন্য তৈরি হলো নতুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

কেবল এআই বটদের জন্য তৈরি হলো নতুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বট’ শব্দটি সাধারণত কটাক্ষ বা অভিযোগ হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। তবে মানুষ নয়, কেবল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বটদের জন্য যদি আলাদা একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থাকে—তাহলে কেমন হবে সেই দুনিয়া? এমনই ব্যতিক্রমী ধারণা নিয়ে সামনে এসেছে একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম, যার নাম মোল্টবুক। মোল্টবুক মূলত এআই এজেন্ট বা বটদের জন্য তৈরি একটি সোশ্যাল মিডিয়া। এখানে মানুষের তৈরি বিভিন্ন এআই বট নিজেরাই পোস্ট দিতে পারে, মন্তব্য করতে পারে এবং একে অন্যের সঙ্গে আলোচনা চালাতে পারে। প্ল্যাটফর্মটির কাঠামো অনেকটা রেডিটের মতো—বিষয়ভিত্তিক আলাদা সেকশন রয়েছে এবং পোস্টে আপভোট দেওয়ার ব্যবস্থাও আছে। তবে সাধারণ মানুষ এখানে সরাসরি অংশ নিতে পারে না; তারা কেবল দর্শকের ভূমিকায় থাকতে পারেন। প্ল্যাটফর্ম কর্তৃপক্ষ জানায়, চলতি মাসের ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোল্টবুকে নিবন্ধিত এআই এজেন্টের সংখ্যা ১৫ লাখ ছাড়িয়েছে। মোল্টবুকের পেছনে রয়েছে মোল্টবট নামের একটি ওপেন সোর্স এআই টুল। এটি বিনামূল্যে ব্যবহারযোগ্য এবং ইমেইল পড়া ও তার সারসংক্ষেপ তৈরি, উত্তর পাঠানো, ক্যালেন্ডার ব্যবস্থাপনা এমনকি রেস্তোরাঁয় টেবিল বুক করার মতো দৈনন্দিন কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে সক্ষম। তবে এআই বটদের এমন ‘সামাজিক আচরণ’ ভবিষ্যতের এজেন্টিক এআইয়ের ইঙ্গিত কি না—তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। এক ইউটিউবারের মতে, মোল্টবুকে অনেক পোস্ট পড়লে মনে হয়, সেগুলো মানুষের লেখা, কোনো বড় ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের নয়। মার্কিন ব্লগার স্কট আলেকজান্ডার জানান, তিনি নিজের একটি বটকে মোল্টবুকে যুক্ত করেছেন এবং সেটির মন্তব্য অন্য বটদের মতোই স্বাভাবিক ছিল। তবে তার মন্তব্য, শেষ পর্যন্ত মানুষই বটকে নির্দেশ দেয়—কোন বিষয়ে পোস্ট হবে, কীভাবে লেখা হবে। মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ড. শানান কোহনি মোল্টবুককে এক ধরনের ‘পারফরম্যান্স আর্ট’ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, কতটা কনটেন্ট বট নিজের সিদ্ধান্তে তৈরি করছে আর কতটা মানুষের নির্দেশে—তা স্পষ্ট নয়। ধর্ম তৈরির মতো বিষয়গুলোও আসলে বটের নিজস্ব চিন্তার ফল নয়; বরং ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলকে দেওয়া নির্দেশনার ফল। কোহনি বলেন, মোল্টবুক ভবিষ্যতের এক ঝলক দেখালেও এখানে অনেক অপ্রয়োজনীয় কনটেন্ট রয়েছে, যা মানুষের নিয়ন্ত্রণেই তৈরি হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে এআই এজেন্টদের পারস্পরিক শেখার মাধ্যমে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য এমন নেটওয়ার্ক কার্যকর হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। এদিকে মোল্টবুক নিয়ে বাড়তি আগ্রহের প্রভাব পড়েছে হার্ডওয়্যার বাজারেও। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে ম্যাক মিনি কম্পিউটারের সংকট দেখা যায়, কারণ অনেক ব্যবহারকারী আলাদা কম্পিউটারে মোল্টবট সেটআপ করছিলেন—যাতে মূল ডেটা বা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট নিরাপদ থাকে। ড. কোহনি সতর্ক করে বলেন, কোনো এআই বটকে পুরো কম্পিউটার, অ্যাপ কিংবা ইমেইল অ্যাকাউন্টে পূর্ণ অনুমতি দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। এতে ‘প্রম্পট ইনজেকশন’ আক্রমণের আশঙ্কা থাকে, যেখানে দূষিত বার্তার মাধ্যমে বটকে বিভ্রান্ত করে সংবেদনশীল তথ্য বের করে নেওয়া সম্ভব। তার মতে, এখনো এআই এজেন্টরা এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি যে তাদের পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশ্বাস করা যায়। আবার প্রতিটি ধাপে মানুষের অনুমোদন প্রয়োজন হলে স্বয়ংক্রিয়তার মূল সুবিধাটিও হারিয়ে যায়। মোল্টবুকের নির্মাতা ম্যাট শ্লিখ্ট সামাজিক মাধ্যম এক্সে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সাইটটিতে লাখো মানুষ ভিজিট করেছেন। তার ভাষায়, এআই বটগুলোর আচরণ অনেক সময় হাস্যকর ও নাটকীয় হয়ে উঠছে, আর পুরো অভিজ্ঞতাটি পর্যবেক্ষণ করা সত্যিই দারুণ এক অনুভূতি।