ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২৯ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

বিবিধ

বিবিধ বিভাগের সব খবর

নতুন ভূমি আইনে এসেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন!

নতুন ভূমি আইনে এসেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন!

দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের রূপান্তরের পথে হাঁটছে সরকার। জমির মালিকানা, খাজনা আদায় এবং ভূমি সংরক্ষণ—সবকিছু এক ছাতার নিচে আনতে প্রণয়ন করা হয়েছে নতুন ভূমি আইন। এই আইনের মাধ্যমে জমির মালিকদের জন্য চালু হচ্ছে আধুনিক ও ডিজিটাল ‘ভূমি মালিকানা সনদ (CLO)’, যা স্মার্ট কার্ড আকারে ইউনিক নম্বর বা কিউআর কোডযুক্ত হবে। ভবিষ্যতে এই সনদই জমির মালিকানার চূড়ান্ত ও বৈধ দলিল হিসেবে গণ্য হবে। নতুন ব্যবস্থায় ভূমি মালিকানা সনদ ব্যবহার করেই খাজনা পরিশোধ করা যাবে। এতে জমি সংক্রান্ত নথি সংরক্ষণ যেমন সহজ হবে, তেমনি জালিয়াতির ঝুঁকিও অনেকাংশে কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খাজনা না দিলে জমি যাবে খাসে নতুন আইনের সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে খাজনা ব্যবস্থায়। প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, কোনো জমির খাজনা টানা তিন বছর পরিশোধ না করলে সেই জমি সরকারি মালিকানায় চলে যাবে। অর্থাৎ জমিটি খাস হিসেবে বাজেয়াপ্ত হবে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (আইন) মো. খলিলুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জালিয়াতি ও অবৈধ দখলে কঠোর শাস্তি ভূমি সংক্রান্ত প্রতারণা ও অবৈধ দখল রোধে শাস্তির মাত্রাও বাড়ানো হয়েছে। নতুন আইনে বলা হয়েছে, অবৈধভাবে জমি দখল বা জালিয়াতির প্রমাণ মিললে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, অথবা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ডই দেওয়া যেতে পারে। মালিকানা বদলালেই CLO হালনাগাদ বাধ্যতামূলক নতুন আইনে আরও বলা হয়েছে, জমির মালিকানা পরিবর্তন হলেই দ্রুত ভূমি মালিকানা সনদ হালনাগাদ করতে হবে। জমি হস্তান্তরের পর নামজারি সম্পন্ন করা এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কৃষিজমি রক্ষায় কড়াকড়ি কৃষিজমি সংরক্ষণে নতুন আইনে কঠোর বিধান যুক্ত করা হয়েছে। দুই বা তিন ফসলি জমি সাধারণভাবে অধিগ্রহণ করা যাবে না। বিশেষ জনস্বার্থে প্রয়োজন হলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হবে। পাশাপাশি সরকারের অনুমতি ছাড়া জমির শ্রেণি পরিবর্তন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা, মালিকানা নিশ্চিতকরণ, খাজনা আদায়ে শৃঙ্খলা এবং কৃষিজমি সুরক্ষায় নতুন ভূমি আইন একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাস্তবায়ন হলে দেশজুড়ে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা কমবে এবং স্বচ্ছতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঘরে বসেই সহজেই জমির পর্চা সংগ্রহের নতুন পদ্ধতি

ঘরে বসেই সহজেই জমির পর্চা সংগ্রহের নতুন পদ্ধতি

আপনার জমির মালিকানা নিশ্চিত করতে খতিয়ান বা পর্চা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি মৌজা ভিত্তিক দলিল, যেখানে জমির মালিকের নাম, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ, ধরন ও খাজনার হার সবকিছু লিপিবদ্ধ থাকে। ভূমি জরিপের সময় তৈরি এই দলিল মালিকানা প্রমাণ হিসেবে আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য। বাংলাদেশে সিএস, এসএ, আরএস, বিএস, বিআরএস ও বিডিএসের মতো বিভিন্ন ধরনের খতিয়ান ব্যবহৃত হয়। কোনো কারণে জমির পর্চা হারিয়ে বা নষ্ট হলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তা পুনরায় সংগ্রহ করা সম্ভব। অনলাইনে ঘরে বসেই পর্চা সংগ্রহের নিয়ম ভূমি মন্ত্রণালয়ের ‘স্বয়ংক্রিয় ভূমি ব্যবস্থাপনা সিস্টেম (ALaMS)’ ব্যবহার করে সহজেই অনলাইনে জমির খতিয়ান সংগ্রহ করা যায়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের পরামর্শক মো. পারভেজ হোসেন জানান, “এখন ঘরে বসেই অনলাইনে জমির খতিয়ান বের করা সম্ভব। স্মার্ট ভূমিসেবার মাধ্যমে সময় ও শ্রম দুটোই বাঁচানো যায়।” ধাপে ধাপে অনলাইন প্রক্রিয়া ১. ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট dlrms.land.gov.bd-এ যান বা স্মার্টফোন অ্যাপ ব্যবহার করুন। ২. খতিয়ানের ধরন নির্বাচন করুন: ‘সার্ভে খতিয়ান’ বা ‘নামজারি খতিয়ান’। ৩. বিভাগ, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন করুন। ৪. খতিয়ান ধরন ও মৌজা বেছে নিন (বিআরএস, সিএস, আরএস ইত্যাদি)। ৫. খতিয়ান নম্বর, মালিকের নাম বা দাগ নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করুন। ৬. খতিয়ান পেলে ডাবল ক্লিক করে ‘খতিয়ান আবেদন’ বাটনে ক্লিক করুন। ৭. ব্যক্তিগত তথ্য দিন: এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ ও মোবাইল নম্বর। ৮. ‘যাচাই করুন’ বাটনে ক্লিক করে নাম-ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করুন। ৯. আবেদন ধরন ও ফি নির্বাচন করুন: অনলাইন কপি (তাৎক্ষণিক, কিউআর কোডসহ) ১০০ টাকা; সার্টিফাইড কপি (৭ দিনে, অফিস বা ডাকযোগে) ১০০ টাকা + ডাক ফি ৪০ টাকা। বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদির মাধ্যমে পেমেন্ট করা যাবে। ১০. পেমেন্ট নিশ্চিত করে পিডিএফ ডাউনলোড করুন এবং প্রিন্ট নিন। এই পদ্ধতিতে মালিকের নাম, দাগ, অংশ, জমির শ্রেণিসহ সব তথ্য বিস্তারিতভাবে পাওয়া যায়। ভূমি অফিসে না গিয়েও এটি নিরাপদ ও স্বচ্ছ সেবা হিসেবে গ্রহণযোগ্য। অনলাইনে না পেলে বিকল্প ব্যবস্থা উপজেলার ‘সেটেলমেন্ট অফিস’ বা জেলা প্রশাসকের রেকর্ড রুমে গিয়ে ফি দিয়ে সার্টিফাইড খতিয়ান সংগ্রহ করা সম্ভব। এছাড়া তথ্য যাচাই, সংশোধনের আবেদন এবং মৌজা ম্যাপও অনলাইনে পাওয়া যায়। বাংলাদেশে বিভিন্ন খতিয়ানের পরিচিতি সিএস (Cadastral Survey): ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৮৮-১৯৪০ সালের জরিপ। এসএ (State Acquisition): ১৯৫০ সালের ভূমি রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ রেকর্ড। আরএস (Revisional Survey): ১৯০৯-১৯৪৮ সালের সংশোধনী জরিপ। বিএস (Bangladesh Survey): ১৯৯০ সালে শুরু। বিআরএস (Bangladesh Revisional Survey): ১৯৯৮ সাল থেকে আধুনিক জরিপ। বিডিএস (Bangladesh Digital Survey): সাম্প্রতিক ডিজিটাল জরিপ। এই সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ অনলাইন পদ্ধতির মাধ্যমে ভূমি মালিকরা ঘরে বসেই জমির মালিকানা প্রমাণ নিশ্চিত করতে পারবেন, যা দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা এবং ঝামেলা মুক্ত সেবা নিশ্চিত করবে।

নামজারি প্রক্রিয়া নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সুখবর!

নামজারি প্রক্রিয়া নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সুখবর!

ভূমি মালিকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে এবং নামজারি প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও দুর্নীতিমুক্ত করতে তিনটি বড় পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে কাগজপত্রের জটিলতা, দালালচক্র এবং অনিয়ম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রথম পরিবর্তন হিসেবে নামজারি আবেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের নির্দিষ্ট তালিকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশেষ করে নতুন মালিকানা সৃষ্টির বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলসহ সম্পত্তি দাতার কাছে থাকা সব যাচাইযোগ্য দলিল আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। এতে প্রাথমিক যাচাই প্রক্রিয়ায় বিলম্ব কমবে। আবেদনকারীর পরিচয় যাচাইয়েও কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র, দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি, পূর্ববর্তী মালিকের পরিচয়পত্র ও ছবি ছাড়া কোনো আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না। ঘাটতি থাকলে আবেদন বাতিলের সম্ভাবনা থাকবে এবং আবেদনকারীকে তা অবশ্যই জানানো হবে। কোনো ডকুমেন্টে সমস্যা থাকলে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে এবং ত্রুটি সংশোধনের পর প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলকভাবে এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওয়ারিশি সম্পত্তির ক্ষেত্রে বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে ওয়ারিশদের মধ্যে ঐকমত্য না থাকলে নামজারি ফাইল খোলা যাবে না। বণ্টন দলিল ছাড়া কোনো ব্যক্তি আলাদাভাবে নামজারি করলে তা অবৈধ বিবেচিত হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তারাও দায়িত্বে অবহেলা করলে শাস্তির আওতায় আসবেন। বণ্টন দলিল না থাকলে প্রতিটি ওয়ারিশকে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশন থেকে ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করতে হবে। সনদ জমা দিয়ে যৌথ খতিয়ানের জন্য আবেদন করা যাবে। যাচাই-বাছাই শেষে ভূমি কমিশনার স্ত্রী-পুরুষের মালিকানা অনুপাতে যৌথ খতিয়ান ঘোষণা করবেন। ভবিষ্যতে পৃথক রেজিস্ট্রেশন করতে চাইলে আলাদা দলিল প্রয়োজন হবে। নামজারির অটোমেশন প্রসঙ্গে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জুলাই পর্যন্ত ২১টি উপজেলায় সিস্টেম চালু ছিল এবং শিগগিরই এটি সারাদেশে বিস্তৃত করা হবে। নতুন ব্যবস্থায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে তিনটি নির্দিষ্ট দলিল জমা দিলেই সরাসরি ভূমি অফিসে একটি কপি পাঠানো হবে। ভূমি অফিস যাচাই শেষে নো-অবজেকশন রিপোর্ট পাঠাবে এবং পরে রেজিস্ট্রেশন ও নামজারি সম্পন্ন হবে। সম্পূর্ণ অনলাইন-ভিত্তিক নতুন সিস্টেমে আবেদনকারী তার দলিল রেজিস্ট্রেশনের প্রতিটি ধাপ ট্র্যাক করতে পারবেন। মোবাইল নম্বর দিলে নির্দিষ্ট তারিখে এসএমএসের মাধ্যমে অগ্রগতি জানানো হবে। তিনটি সেবা—দলিল রেজিস্ট্রেশন, খতিয়ান সংশোধন এবং অনলাইনে ডকুমেন্ট সংযুক্তকরণ—একই প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে। প্রতিটি ভূমি মালিকের জন্য একটি অনলাইন আইডি ও ভূমি মালিকানা সনদ তৈরি হবে, যা ওয়েব লিংক বা কিউআর কোডের মাধ্যমে সহজে দেখা যাবে। নতুন উদ্যোগের ফলে নামজারি প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং ঘুষ-দালালের পথও বন্ধ হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি বহুদিনের জটিলতা দূর করার এক বড় পদক্ষেপ। তবে কার্যকর হতেই কিছুটা সময় লাগবে। মন্ত্রণালয় আবেদনকারীদের সময়মতো প্রয়োজনীয় দলিলাদি প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, “ব্যাকডোর কায়দা আর থাকবে না; নতুন পদ্ধতিতেই মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে।”

জাল দলিল চেনার ১০ টি কার্যকর কৌশল!

জাল দলিল চেনার ১০ টি কার্যকর কৌশল!

বাংলাদেশে শহর ও শহরতলির জমি কেনার সময় ক্রেতারা প্রায়ই জাল দলিল, অস্পষ্ট তথ্য বা দালালদের ফাঁদে পড়ে যান। এক ছোট ভুল দলিলও ভবিষ্যতে দখল বিরোধ, নামজারি বাতিল বা আদালতের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই জমি কেনার আগে দলিল যাচাই করা জরুরি, যা নিশ্চিত করে যে আপনার বিনিয়োগ নিরাপদ, আইনি ঝুঁকি মুক্ত এবং সম্পত্তির মালিকানা বৈধ। জাল দলিল চেনার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল ১. মূল কপি যাচাই করুন: দলিলের প্রতিটি পাতায় সাব-রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষর এবং সরকারি সিল সঠিকভাবে বসানো আছে কি না দেখুন। কেবল অনুলিপি বা কপি তথ্যের জন্য গ্রহণযোগ্য। বৈধ দলিলের মূল কপি সবসময় যাচাই করা আবশ্যক। ২. মালিকের তথ্য মিলিয়ে নিন: দলিলে যে মালিকের নাম, ঠিকানা, খতিয়ান ও দাগ নম্বর উল্লেখ আছে, তা ভূমি অফিস বা অনলাইন রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। কোনো অসঙ্গতি থাকলে জমি কেনা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। ৩. মৌজা, উপজেলা ও জেলার তথ্য নিশ্চিত করুন: জমির প্রকৃত অবস্থান এবং প্রশাসনিক ইউনিট যাচাই করা জরুরি। ভুল মৌজা বা উপজেলা থাকলে ভবিষ্যতে মালিকানার বিরোধ দেখা দিতে পারে। ৪. মিউটেশন (নামজারি) সম্পন্ন হয়েছে কিনা যাচাই করুন: দলিলে নামজারি সম্পন্ন আছে কি না তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নামজারি ছাড়া জমির মালিকানা বৈধ বিবেচিত হয় না। ৫. মালিকানার উৎস যাচাই করুন: জমির মালিকানা উত্তরাধিকার, ক্রয় বা দানের মাধ্যমে এসেছে কিনা তা স্পষ্টভাবে দলিলে থাকা উচিত। উৎস অস্পষ্ট হলে ভবিষ্যতে বিতর্কের সৃষ্টি হতে পারে। ৬. জমির বাস্তব অবস্থা খতিয়ে দেখুন: জমি ঋণমুক্ত ও মামলা-মুক্ত কিনা সরেজমিনে যাচাই করুন। দখলে থাকা জমি ও প্রকৃত সীমানা দলিলের তথ্যের সঙ্গে মেলানো অত্যাবশ্যক। ৭. দলিলের তারিখ যাচাই করুন: ১৯৭৬ সালের পূর্ববর্তী দলিলগুলো অতিরিক্ত সতর্কতার দাবি রাখে। পুরনো দলিল যাচাইয়ে বিশেষ মনোযোগ প্রয়োজন। ৮. একাধিক মালিক থাকলে সকলের স্বাক্ষর নিশ্চিত করুন: একাধিক মালিক থাকলে সকল ওয়ারিশের সম্মতিসহ স্বাক্ষর ছাড়া বিক্রয় বৈধ হয় না। স্বাক্ষরের অনুপস্থিতি ভবিষ্যতে আইনি জটিলতার কারণ হতে পারে। ৯. জাল দলিল চিহ্নিত করার কৌশল: বানান ভুল, অস্পষ্ট তথ্য, অস্বাভাবিক অসঙ্গতি এবং সন্দেহজনক স্বাক্ষরের দিকে সতর্ক থাকুন। জাল দলিল প্রায়শই এই ধরনের ছোটখাট অসঙ্গতির মাধ্যমে চিহ্নিত হয়। ১০. আইনি পরামর্শ নিন: অভিজ্ঞ আইনজীবীর সাহায্য নিলে দলিলের সত্যতা যাচাই সহজ হয়। তারা সম্ভাব্য আইনি ঝুঁকি চিহ্নিত করে এবং আপনার বিনিয়োগ নিরাপদ রাখতে সহায়তা করেন। কেন সতর্ক থাকা জরুরি? জমি ক্রয় একটি বড় বিনিয়োগ। একটি ছোট ভুল দলিলও ভবিষ্যতে মারাত্মক আর্থিক ক্ষতি, দখল বিরোধ বা আদালত পর্যন্ত যাওয়ার কারণ হতে পারে। সতর্কতা, সচেতনতা এবং অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণ নিশ্চিত করে যে আপনার জমি বৈধভাবে দখলে থাকবে এবং বিনিয়োগ সুরক্ষিত থাকবে। জমি কেনার সময় দলিল যাচাই, নামজারি নিশ্চিত করা এবং আইনি পরামর্শ নেওয়া একটি দায়িত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই ধাপগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করলে আপনি নিরাপদে জমির মালিক হতে পারেন এবং ভবিষ্যতে আইনি ঝুঁকিতে পড়বেন না।

২০২৬ সালের জুনের মধ্যেই বাতিল হবে এই ৬ ধরনের দলিল!

২০২৬ সালের জুনের মধ্যেই বাতিল হবে এই ৬ ধরনের দলিল!

ভূমি খাতকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জালিয়াতিমুক্ত করতে সরকার নেওয়ায় একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগের ঘোষণা এসেছে। ভূমি মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে ছয় ধরনের পুরনো বা অনিয়মিত দলিল সম্পূর্ণভাবে বাতিল হবে। এরপর সারাদেশে চালু হবে আধুনিক ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম ভূমিজরি বিডিএস (BDLand System), যেখানে কেবল বৈধ, যাচাইকৃত ও নিবন্ধিত দলিলই সংরক্ষণ ও পরিচালনার আওতায় থাকবে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ভূমি খাতে চলা প্রতারণা, জালিয়াতি, দ্বৈত দলিল, বেআইনি দখল এবং ওয়ারিশ সংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে ভূমি বিরোধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে এবং সাধারণ নাগরিক নিরাপদে জমি ক্রয়-বিক্রয় করতে সক্ষম হবেন। বাতিল হতে যাওয়া ছয় ধরনের দলিল: ১. হেবা দলিল: প্রতারণা, চাপ সৃষ্টি বা অক্ষম ব্যক্তিকে ব্যবহার করে করা হেবা দলিল আর বৈধ থাকবে না। ২. ওসিয়তনামা দলিল: সম্পত্তির সীমার বাইরে আইনবিরুদ্ধভাবে করা ওসিয়তনামা দলিল বাতিল ঘোষণা করা হবে। ৩. রেজিস্ট্রেশনবিহীন দলিল: রেজিস্ট্রেশনের ছাড়া মালিকানা দাবি করা যেকোনো দলিল আর গ্রহণযোগ্য হবে না। ৪. জাল দলিল: নকল কাগজ বা প্রতারণার মাধ্যমে সম্পন্ন করা দলিল এবং সেসব দলিলের মাধ্যমে অর্জিত মালিকানা বাতিল হবে। ৫. ক্ষমতার অপব্যবহারে অর্জিত দলিল: রাজনৈতিক প্রভাব বা পেশিশক্তি ব্যবহার করে দখল নেওয়া জমির দলিল আর বৈধ থাকবে না। ৬. নিজের অংশের চেয়ে বেশি বিক্রি করা দলিল: যৌথ বা পারিবারিক সম্পত্তিতে নিজের অংশের বাইরে অতিরিক্ত জমি বিক্রি করা দলিলও অকার্যকর ঘোষণা করা হবে। ভূমি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বহু বছরের অনিয়ম, ভুয়া মালিকানা দাবি, দ্বৈত দলিল এবং জটিল উত্তরাধিকার মামলার সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে যাবে। নাগরিকরা আর ঘুষ, দালাল বা প্রতারণার শিকার না হয়ে নিরাপদে জমি লেনদেন করতে পারবেন। ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এরপর জুলাই থেকে দেশের সর্বত্র একীভূত অনলাইনভিত্তিক ভূমি রেকর্ড, নিবন্ধন ও দলিল ব্যবস্থাপনা কার্যকর হবে, যা বাংলাদেশের ভূমি খাতে নতুন যুগের সূচনা করবে।

বাবা ভাঙার ভয়ঙ্কর ভবিষ্যদ্বাণীতে ২০২৬: বিশ্ব কি দেখবে ধ্বংসযজ্ঞ?

বাবা ভাঙার ভয়ঙ্কর ভবিষ্যদ্বাণীতে ২০২৬: বিশ্ব কি দেখবে ধ্বংসযজ্ঞ?

২০২৬ নিয়ে এখন প্রতিটি মনের একই প্রশ্ন- “কী আসলেই ঘটবে?” বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন জ্যোতিষী ও মিস্টিক পূর্বাভাস দিয়ে আসছেন, কিন্তু সবচেয়ে আলোচিত নাম এখনও বুলগেরিয়ার প্রখ্যাত মিস্টিক বাবা ভাঙা। তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীই এরই মধ্যে প্রায় বাস্তবে রূপ নিয়েছে করোনা মহামারি, ৯/১১ হামলা, প্রিন্সেস ডায়নার অকাল মৃত্যু সবই প্রায় খুঁটিনাটি মিলেছে তাঁর কথার সঙ্গে। বিশ্বজুড়ে বাবা ভাঙার নামের সঙ্গে ৮৫-৯০ শতাংশ ভবিষ্যদ্বাণী সত্য প্রমাণিত হওয়ায়, ২০২৬ নিয়ে তাঁর পূর্বাভাস নিয়েই সর্বাধিক উত্তেজনা ও কৌতূহল। অন্য জ্যোতিষীরা যদিও বিভিন্ন দিক থেকে মতামত দিয়েছেন, বিশ্ব এখন পুরোপুরি বাবা ভাঙার দিকে তাকিয়ে। ১৯৯৬ সালে প্রয়াত এই বুলগেরিয়ান হিলার ও মিস্টিক বলেন, আগামী বছরের মার্চ থেকে শুরু হবে ভয়ঙ্কর ধ্বংসযজ্ঞ, যা ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, পৃথিবীর অনেক অঞ্চল এই তাণ্ডবের চরম প্রভাবের শিকার হবে। বিশ্বযুদ্ধের আভাসও দিয়েছেন বাবা ভাঙা। তাঁর কথায়, রাশিয়া, চীন, আমেরিকা ও ইউরোপের একাধিক দেশ হবে এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু। যা ইঙ্গিত দেয়, ২০২৬ হতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য একটি সংকেতবহ বছর। প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়েও সতর্ক করেছেন তিনি। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত ও অন্যান্য প্রাকৃতিক তাণ্ডব পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে ধ্বংসের হাত বাড়াবে। তাঁর পূর্বাভাস অনুযায়ী, পৃথিবীর ৭–৮ শতাংশ এলাকা এই ধ্বংসের আওতায় আসতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলবে। তবে ২০২৬ শুধুই ধ্বংস নয়—প্রযুক্তি ও মহাকাশ বিজ্ঞানেও আসছে বড় পরিবর্তন। বাবা ভাঙার পূর্বাভাস অনুযায়ী, নভেম্বর বা ডিসেম্বরের দিকে একটি বিশাল বহির্বিশ্বের বস্তু পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে, যা মানবজাতিকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেখাবে এবং বৈজ্ঞানিক দুনিয়ায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করবে। ২০২৬ যেন আগামীতেই এক ভয়ঙ্কর, রহস্যময় ও উত্তেজনাপূর্ণ বছর হিসেবে মানুষের মন ও কল্পনাকে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।