ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৪ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০

অর্থনীতি বিভাগের সব খবর

বাজার মূলধন কমল দেড় হাজার কোটি টাকা

বাজার মূলধন কমল দেড় হাজার কোটি টাকা

গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া চার কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবসেই দেশের শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। সপ্তাহজুড়ে মূল্য সূচক কমার পাশাপাশি দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠান। এতে এক সপ্তাহেই প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা কমে গেছে। এর মাধ্যমে টানা তিন সপ্তাহের পতনে ডিএসইর বাজার মূলধন ১১ হাজার কোটি টাকার ওপরে কমে গেছে। বাজার মূলধন ও মূল্য সূচক কমলেও লেনদেনের গতি কিছুটা বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ৪ শতাংশের ওপরে। অপরদিকে প্রধান মূল্য সূচক কমেছে ১৯ পয়েন্টের বেশি। দাম বাড়ার তুলনায় দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে প্রায় দ্বিগুণ প্রতিষ্ঠান। গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৩৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৩২টির। আর ৩১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ ৫৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দাম কমায় সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৬০ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা। যা গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৭ লাখ ৬২ হাজার ১৪ কোটি টাকা।

ভোক্তা ঋণের সুদহার ছাড়াল ১৪ শতাংশ

ভোক্তা ঋণের সুদহার ছাড়াল ১৪ শতাংশ

নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় কষ্টে আছে সাধারণ মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণহীন মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে বাজারে টাকার সরবরাহ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে সুদহার। বছরের তৃতীয় মাস মার্চে ঋণের সুদহার হচ্ছে ১৩ দশমিক ১১ শতাংশ। তবে ভোক্তা ঋণের সুদহার পড়বে ১৪ দশমিক ১১ শতাংশ। যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ১২ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং ১৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ আর জানুয়ারিতে ছিল ১১ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং ভোক্তা ঋণের সুদহার ১২ দশমিক ৮৯ শতাংশ ছিল। এখন যে পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে ঋণের সুদহার নির্ধারিত হচ্ছে, তা হলো ‘এসএমএআরটি’ বা ‘স্মার্ট’ ‘এসএমএআরটি’ বা ‘স্মার্ট’ তথা সিক্স মান্থ মুভিং এভারেজ রেট অব ট্রেজারি বিল হিসেবে পরিচিত। প্রতি মাসের শুরুতে এই হার জানিয়ে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৮২ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের ছয় মাসের গড় সুদহার (স্মার্ট রেট) ছিল ৭ দশমিক ১০ শতাংশ, আগস্টে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বরে বেড়ে হয় ৭ দশমিক ২০ শতাংশ, অক্টোবরে ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ, নভেম্বরে ৭ দশমিক ৭২ শতাংশ, ডিসেম্বরে ৮ দশমিক ১৪ শতাংশে, জানুয়ারিতে ছিল ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সবশেষ ফেব্রুয়ারিতে স্মার্ট রেট প্রায় এক শতাংশ বেড়ে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশে উঠেছে। ফেব্রুয়ারিতে স্মার্ট রেট বেড়ে যাওয়ায় ঋণের সুদহার মুদ্রানীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে এবং অর্থনৈতিক গতিশীলতা বজায় রাখতে ঋণের সুদহার নির্ধারণের ‘স্মার্ট’ মার্জিন রেট দশমিক ২৫ শতাংশ কমিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত বৃহস্পতিবার এক সার্কুলার জারি করে এ সুদহার কমানোর এ ঘোষণা দিয়েছে। যা ১ মার্চ থেকে কার্যকর হবে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন ‘স্মার্ট’ এর সঙ্গে ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে মার্জিন বা সুদ যোগ হবে যা এতদিন ছিল ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। প্রি-শিপমেন্ট রপ্তানি ও কৃষি ও পল্লী ঋণের ‘স্মার্ট’ হারের সঙ্গে সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে মার্জিন যোগ হবে যা আগে ছিল ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসের ‘স্মার্ট’ হারের সঙ্গে এখন সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে মার্জিন বা সুদ যোগ করে মার্চে ঋণ দিতে পারবে ব্যাংকগুলো। ফেব্রুয়ারিতে ‘স্মার্ট’ হারের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে মার্জিন বা সুদ যোগ করে মার্চে ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক। সেই হিসাবে, ২০২৪ সালের তৃতীয় মাস মার্চে বড় অঙ্কের ঋণে সর্বোচ্চ ১৩ দশমিক ১১ শতাংশ শতাংশ সুদ নিতে পারবে। প্রি-শিপমেন্ট রপ্তানি ও কৃষি ও পল্লী ঋণের ‘স্মার্ট’ হারের সঙ্গে সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে মার্জিন যোগ হবে।