ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১

হঠাৎ অস্থির পেঁয়াজের বাজার

হঠাৎ অস্থির পেঁয়াজের বাজার

হঠাৎ করেই অস্থির পেঁয়াজের বাজার। সপ্তাহ দুয়েকের ব্যবধানে ৪৫-৫০ টাকা দাম বেড়ে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২৫-১৩০ টাকায়। এবার জুলাই মাসেই পেঁয়াজের বাজারে ‘অক্টোবর আতঙ্ক’ শুরু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দাম বাড়ার কারণে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বাজারে এ পণ্যটির সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। পেঁয়াজের মজুত বাড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরাও ভালো মুনাফার আশায় পেঁয়াজ হাতছাড়া না করে ধরে রাখার কৌশল নিয়েছেন। আবার ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ার কারণে আমদানি হচ্ছে কম। এ অবস্থায় মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ ও বাজারে দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি করা না গেলে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে পেঁয়াজের দাম।

অর্থনীতি বিভাগের সব খবর

আকুর বিল পরিশোধে রিজার্ভ নামল ২০ বিলিয়ন ডলারের ঘরে

আকুর বিল পরিশোধে রিজার্ভ নামল ২০ বিলিয়ন ডলারের ঘরে

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমেছে। গত মে-জুন মাসের এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়েনে (আকু) ১ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের পর রিজার্ভ এ পর্যায়ে নেমেছে বলে জানা গেছে। বুধবার নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে এই দায় সমন্বয় করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ জুলাই আইএমএফ স্বীকৃত বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের স্থিতি ছিল ২ হাজার ১৭৮ কোটি ডলার। আকুর দায় শোধের পর তা ২ হাজার ৪৬ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এটিও প্রকৃত রিজার্ভ নয়। গ্রস রিজার্ভ থেকে আইএমএফ এর পাওনাসহ সব দায় বাদ দিলে নিট রিজার্ভের পরিমাণ আরও নিচে নেমে যাবে। তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে গ্রস রিজার্ভ ছিল ২ হাজার ৬৮১ কোটি ডলার। এখান থেকে আকু দায় বাদ দিলে গ্রস রিজার্ভের স্থিতি দাঁড়ায় ২ হাজার ৬১৭ কোটি ডলার। জাতিসংঘের এশিয়া অঞ্চলের অর্থনীতি ও সামাজিক কমিশনের উদ্যোগে ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় আকু। জাতিসংঘের এশিয়া অঞ্চলের অর্থনীতি ও সামাজিক কমিশনের ভৌগোলিক সীমারেখায় অবস্থিত সকল দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য আকুর সদস্যপদ উন্মুক্ত। এর সদর দপ্তর ইরানের রাজধানী তেহরানে। বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ- এই নয়টি দেশ এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) সদস্য ছিল। তবে রিজার্ভ সংকটে পড়ে ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে আকু থেকে বেরিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। আকুর সদস্য দেশগুলো নিজেদের মধ্যে যে আমদানি-রপ্তানি করে, তার দায় ২ মাস পর পর সমন্বয় করে। এর আগে গত জুনের শেষের দিকে ধার দেনা করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়িয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।  জুনের শেষের দিকে আইএমএফের ঋণের তৃতীয় কিস্তির অর্থ যেমন এসেছে, তেমনই আরও কয়েকটি উৎস থেকে ডলার যোগ হয়েছে। তাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ২ হাজার ৬৫০ কোটি ডলার।

মোংলা সমুদ্রবন্দরে রাজস্ব আয় ৩১৯ কোটি টাকা

মোংলা সমুদ্রবন্দরে রাজস্ব আয় ৩১৯ কোটি টাকা

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক সমুদ্র বন্দর মোংলার আধুনিকায়নে বর্তমান সরকারের সুদূরপ্রসারী বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ায় বন্দরে বেশি সংখ্যক জাহাজ আগমনের পাশাপাশি বিদেশী রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি, কন্টেনার হ্যান্ডলিং, কার্গো ক্যান্ডলিং এবং রাজস্ব আদায়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোংলা বন্দরের সাফল্য ছিল চোখে পড়ার মতো। পদ্মা সেতু ও মোংলা-খুলনা রেল নেটওয়ার্কে মোংলা বন্দর যুক্ত হওয়ায় উন্নত হিন্টারল্যান্ড যোগাযোগ ও অবকাঠামো সক্ষমতার সুযোগে পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে মোংলা বন্দরের ওপর ব্যবহারকারীদের নির্ভরতা দ্রুত বাড়ছে। অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বন্দরটিতে বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজের আগমন বেড়েছে। ভারতের পাশাপাশি নেপাল ও ভুটান নিয়মিত মোংলা বন্দর ব্যবহার শুরু করলে বন্দরে জাহাজ আরও বাড়বে। কাজে আসবে বন্দরের বর্ধিত সক্ষমতা। বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজের আগমন বৃদ্ধি পাওয়ায় মোংলা বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমে কর্মচাঞ্চলতা বেড়েছে। এক বছরের ব্যবধানে বন্দরের রাজস্ব আয় বেড়েছে ১৭ কোটি টাকা। বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মো. মাকরুজ্জামান জনকণ্ঠকে জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বন্দরে ৮৪০টি বিদেশী জাহাজ আনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। ৬টি বেড়ে এ অর্থবছরে মোংলায় জাহাজ এসেছে ৮৪৬টি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোংলা বন্দর রাজস্ব আয় করেছে ৩১৯ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বন্দরের রাজস্ব আয় ছিল ৩০২ কোটি টাকা। এক বছরে আয় বেড়েছে ১৭ কোটি টাকা।

এক মাসে কৃষি ঋণ বিতরণ কমেছে ২৪৪ কোটি টাকা

এক মাসে কৃষি ঋণ বিতরণ কমেছে ২৪৪ কোটি টাকা

চলমান সঙ্কোচনমুখী মুদ্রানীতির প্রভাবে কমেছে কৃষকের ঋণ। যদিও কৃষি খাতে একাধিক তহবিল চালু রয়েছে। অন্যদিকে গত মে মাসে সামগ্রিক বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে। কিন্তু কৃষি ঋণ উল্টা কমেছে। জানা গেছে, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসে ব্যাংকগুলোর কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ ও আদায় কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে দেশের ব্যাংকগুলো কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ করেছিল ৩ হাজার ৪৩৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আর পরের মাস মে’তে ব্যাংকগুলো কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ করেছে ৩ হাজার ১৯১ কোটি ৯২ লাখ টাকা। সেই হিসেবে চলতি বছরের এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ কম হয়েছে ২৪৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এ ছাড়া বিতরণকৃত ঋণ আদায়ের পরিমাণও কমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, চলতি বছরের এপ্রিলে ব্যাংকগুলো কৃষকদের কাছ থেকে বিতরণকৃত ঋণ আদায় করেছিল ৩ হাজার ৫৩৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। আর চলতি বছরের মে মাসে ব্যাংকগুলো ঋণ আদায় করেছে ৩ হাজার ৪২৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। সেই হিসেবে চলতি বছরের এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসে কৃষি ঋণ আদায় কম হয়েছে ১১২ কোটি টাকা। তবে অর্থবছর হিসেবে ব্যাংকগুলোর কৃষি ঋণ বিতরণ কিছুটা বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) ব্যাংকগুলো কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ করেছে ৩৩ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। আর আগের ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে ব্যাংকগুলো কৃষি ঋণ বিতরণ করেছিল ২৯ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা। সেই হিসাবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে কৃষি ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৩ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, চলতি বছরের মে মাস শেষে কৃষি খাতে মোট বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৫৬ হাজার ৩৩১ কোটি ১৭ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৫১ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৩২ শতাংশ। জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের ব্যাংকগুলোর জন্য কৃষি খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। তথ্যানুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ করেছিল ২৫ হাজার ৫১১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, ২০২১-২২ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ করেছিল ২৮ হাজার ৮৩৪ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ করেছিল ৩২ হাজার ৮২৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।