ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১

সাহিত্য

সাহিত্য বিভাগের সব খবর

ঈর্ষার হ্যাঙ্গারে

ঈর্ষার হ্যাঙ্গারে

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ‘পনেরো-আনা’ প্রবন্ধে দেখিয়েছেন সংসার-পরিবার-সমাজে এক আনা মানুষ প্রয়োজনের দিক দিয়ে অনস্বীকার্য। অপরদিকে পনেরো আনা মানুষ বাহুল্য। অথচ এই বাহুল্য মানুষের দিকেই কবির টান। এতদসত্ত্বেও তিনি সতর্ক করেছেন, ‘যখন পনেরো-আনা এক-আনার মতোই অশান্ত ও আবশ্যক হইয়া উঠিবার উপক্রম করে, তখন জগতে আর কল্যাণ নাই।’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বলে যাওয়া কথাটা যে কতটা প্রাসঙ্গিক এই বর্তমান জগতে তার বড় প্রমাণ ফেসবুক, ইউটিউবসহ অগণিত অ্যাপসের মাধ্যমে রাতারাতি মানুষের বিখ্যাত হবার প্রবণতা, বিখ্যাত হবার প্রচেষ্টায় প্রয়োজনে বিক্রিতির পথ বেছে নেয়। আর সেই পনেরো আনার মানুষের পথ ভ্রষ্টতা আর দেশের স্বনামধন্য নায়কের শ্বশুরের ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যা করার আলোকে সময়ের বর্তমান বাস্তবতাকে ঘিরে কবি-নাট্যকার আসাদুল ইসলাম তার সদ্য রচিত ও প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘ঈর্ষার হ্যাঙ্গারে নারী নক্ষত্র’ এর ভাইরাল মৃত্যু কবিতায় লিখলেন,

ভস্মীভূত বৌদ্ধ গ্রন্থ ও বিলুপ্ত জনগোষ্ঠী

ভস্মীভূত বৌদ্ধ গ্রন্থ ও বিলুপ্ত জনগোষ্ঠী

৭৫০-১১৬১ খ্রিস্টাব্দ গোপালদেব ও তাঁর বংশধরগণ সুদীর্ঘ চারশত বছর প্রাচীন গৌড়-বঙ্গ ও মগধে রাজত্ব করেছেন। তাঁদের রাজত্বকালের ধারাবাহিক কোনো নির্ভরযোগ্য, তথ্যভিত্তিক ইতিহাস নেই। এ সময়ে নালন্দাসহ বরেন্দ্রভূমিতে অসংখ্য বৌদ্ধবিহার গড়ে উঠেছিল; এসব প্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগারে বৌদ্ধ পন্ডিতদের রচিত ঠাসা ছিল শতশত ধর্মীয় ছাড়াও মূল্যবান গ্রন্থরাজি। তৎকালীন সমাজ, সাহিত্য-সংস্কৃতি, রাজাদের শাসন আমলের বর্ণনা ছিল গ্রন্থগুলোতে। তাঁদের রাজ্য অবসানের সময়েই হামলা চালিয়ে বিহারগুলো ধ্বংস করা হয়; অগ্নিসংযোগে ভস্মীভূত হয় এসব মূল্যবান গ্রন্থরাজি। বহির্শত্রুর হামলায় বৌদ্ধ পন্ডিতরা কিছু গ্রন্থ নিয়ে নিরাপদ আশ্রয় নেপালে পালিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পরে পন্ডিত গবেষকরা সেসব নেপালের রাষ্ট্রীয় গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করে। এছাড়াও বিভিন্ন স্থান থেকে প্রাপ্ত পুঁথি, মূর্তি, মুদ্রা, তাম্রশাসন ও শিলালিপি ইত্যাদির পাঠ উদ্ধার করে বৌদ্ধ শাসন আমল সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাঁদের উদ্ধার ও গবেষণা পুঁজি করে আলোচ্য নিবন্ধটি সাজানো হয়েছে।

সায়েন্স ফিকশন ॥ কিটি ভাইরাস

সায়েন্স ফিকশন ॥ কিটি ভাইরাস

খুব ধীরে ধীরে চোখ খুলল ক্লিহান। পাশে বসে থাকা ইভানকা আর রিকি তার হাত দুটো চেপে ধরল। ক্লিহান একটা মুচকি হাসি দিয়ে চোখ দুটো আবার বন্ধ করে ফেলল। তার বুকের ভেতর অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে, কিন্তু কাউকে বুঝতে দিল না সে। ইভানকা অস্থির হয়ে বলল, এখন কেমন লাগছে  ক্লিহান?        ক্লিহান এবার চোখ খুলে তাকাতেই শিউরে উঠল ইভানকা। তার চোখ দুটো রক্তের মতো লাল হয়ে আছে।  রিকি ভয়ার্ত কণ্ঠে বলল, তুমি ঠিক আছো তো  ক্লিহান? ক্লিহান ক্লান্ত গলায় বলল, আমি ঠিক আছি রিকি। তোমরা কি বলবে আমরা এখন কোথায়? আমরা এখন কেপ ক্যানাভেরালে, তোমার সবচেয়ে পছন্দের জায়গা। বিড়বিড় করে বলল ইভানকা।  ক্লিহান উঠে বসার চেষ্টা করল, তার শরীর অসম্ভব দুর্বল। রিকি আর ইভানকার কাঁধে ভর দিয়ে কোনোরকমে উঠে দাঁড়াল সে। - পৃথিবীটা কত সুন্দর তাই না ইভানকা? মানুষ কখনোই এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে যেতে চায় না।   তোমার কিচ্ছু হবে না ক্লিহান। ইভানকার চোখ দুটো ছলছল করে উঠল। রিকি হঠাৎ চিৎকার করে বলল, মানুষ যদি জানতো এই ভয়ংকর কিটি ভাইরাস তাদের ধ্বংসের কারণ হবে, তাহলে কখনোই এই জীবাণু অস্ত্র নিয়ে খেলত না। মানব সভ্যতাকে বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারত না। ক্লিহান ঠোঁটের কোনায় একটা শুষ্ক হাসি ফুটিয়ে বলল, প্রকৃতি কখনো বাড়াবাড়ি পছন্দ করে না রিকি। মানুষ চেয়েছিল প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে, ধ্বংসের লীলাখেলায় মেতে উঠতে। কিন্তু  প্রকৃতিকে কখনো নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। প্রকৃতির নিষ্ঠুরতার কাছে মানুষ বড় অসহায়।  এটুকু বলেই মাটিতে বসে পড়ল ক্লিহান। ইভানকা আর রিকি দুজনেই ভয় পেয়ে গেল। ক্লিহান খুব ধীর কণ্ঠে বলল, আমরা তিনজন ব্যতীত এই পৃথিবীতে আর কেউ বেঁচে নেই। এই ভয়ংকর কিটি ভাইরাস মানব সভ্যতাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। মানুষ ধ্বংস হতে পারে কিন্তু পরাজিত হতে পারে না। ইভানকা আর রিকি একটা কথাও বলল না। ফ্যালফ্যাল চোখে ক্লিহানের দিকে তাকিয়ে থাকল। ক্লিহান তার পকেট থেকে একটা ছোট কাচের শিশি বের করে রিকির হাতে দিয়ে বলল, এটা রেখে দাও। রিকি অবাক হয়ে বলল, এটা কী ক্লিহান? ক্লিহানের নিঃশ্বাস নিতে প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছিল। ইভানকা তার একটা হাত শক্ত করে চেপে ধরল। ক্লিহান ফিসফিস করে বলল, এটা আমার সারা জীবনের গবেষণার ফল। এই ভয়ংকর কিটি ভাইরাসের প্রতিষেধক। ইভানকা আর রিকি দুজনেই একসঙ্গে চিৎকার করে বলল, কী বলছো ক্লিহান! ক্লিহানের চোখের পাতা দুটো ধীরে ধীরে ভারি হয়ে আসছে। অতিকষ্টে সে বলল, সত্যি বলছি। জানি অনেক দেরি হয়ে গেছে। আমি হয়তো পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের জীবন বাঁচাতে পারিনি, কিন্তু পৃথিবীর শেষ দুজন মানুষের জীবন তো বাঁচাতে পারব। ইভানকা ভীষণ চমকে উঠে বলল, তার মানে? -মানে খুব সহজ ইভানকা। আমি বলেছি মানুষ ধ্বংস হতে পারে কিন্তু পরাজিত হতে পারে না। তুমি আর রিকি মিলে বিলুপ্তপ্রায় মানবসভ্যতাকে আবার নতুন করে গড়ে তুলবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই শিক্ষা দিবে যেন মানুষ আর কোনোদিন মারণঘাতী জীবাণু অস্ত্র না বানায়, ধ্বংসের লীলাখেলায় যেন মেতে না ওঠে, প্রকৃতির বিরুদ্ধাচারণ যেন না করে।  ইভানকা কাঁদো কাঁদো গলায় বলল, তোমাকে ছাড়া আমরা বেঁচে থাকতে চাই না ক্লিহান।  রিকি আবেগাপ্লুত গলায় বলল, তোমাকে আমরা মরতে দেব না ক্লিহান। এই প্রতিষেধক আমরা তিনজনই নেব।  ক্লিহান অসহ্য যন্ত্রণার মাঝেও মৃদু হেসে বলল, এখানে শুধু দুজনের ডোজ আছে রিকি। আমি মারা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তোমরা এই প্রতিষেধক নিয়ে নেবে। কেননা এই ভয়ংকর কিটি ভাইরাস তোমাদের শরীরেও ইতোমধ্যে প্রবেশ করেছে। ইভানকা আর রিকি যেন বাকরুদ্ধ হয়ে গেল।     ক্লিহান  আকাশের দিকে তাকিয়ে বুক ভরে একটা শ্বাস নিল। তার চোখেমুখে একটা অদ্ভুত প্রশান্তি ফুটে উঠেছে। বিড়বিড় করে সে বলতে লাগল, মানুষ ধ্বংস হতে পারে কিন্তু কখনো পরাজিত হতে পারে না।   ‘A man can be destroyed but not defeated’ -Ernest Hemingway.

আপাদমস্তক অসাম্প্রদায়িক

আপাদমস্তক অসাম্প্রদায়িক

কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬খ্রি:)-এর সঙ্গে ২৫ এপ্রিল ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ ১২ বৈশাখ ১৩৩১ বঙ্গাব্দ শুক্রবার বাদ জুমা কলকাতা ৬নং হাজী লেনে আশালতা সেনগুপ্তের শুভ পরিণয় সম্পন্ন হয়। এই বিয়ের প্রেক্ষাপট নিয়ে সাক্ষী খান মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন তাঁর ‘যুগ¯্রষ্টা নজরুল’ গ্রন্থে লিখেছেন- ‘বিয়ের আগে কথা উঠেছিল, কোন মতে বিয়ে হবে? হিন্দু মতে হতে পারে না। এক হতে পারে সিভিল ম্যারেজ। আর হতে পারে মুসলমানী মতে। সিভিল-ম্যারেজ আইন অনুযায়ী বর-কনে উভয়কে এক স্বীকৃতি এই বলে দিতে হয়ে যেÑ ‘আমি কোনো ধর্ম মানি না’। কবি এতে প্রবল আপত্তি জানালেন। বললেন, আমি মুসলমান মুসলমানী রক্ত আমার শিরায় শিরায় ধমনীতে ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে, এ আমি অস্বীকার করতে পারবো না’।...যাক! অনেক আলাপ-আলোচনায় স্থির হয়েছিল, মুসলমানি মতেই বিয়ে হবে।  গিয়ে বললাম, ‘কনে কে মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করতে বলা হোক।’ কবি এতে রাজি হলেন না। বললেন, কারুর কোন ধর্মমত সম্বন্ধে আমার কোন জোর নেই। ইচ্ছে করে তিনি মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করলে,পরেও করতে পারবেন।’ ইতিহাসের বহু নজির তিনি উপস্থিত করলেন। কবির মত মেনে নিয়ে আমাদের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হলো-‘আহলে কেতাব’ দিগের সঙ্গে স্ব-স্ব ধর্ম বজায় রেখে বিয়ে হওয়া মুসলমানী আইন মতে অসিদ্ধ নয়। এখন কথা হচ্ছে এই যে, ‘হিন্দুগণ আহলে- কেতাব’ কিনা। এক লক্ষ চব্বিশ হাজার পয়গম্বর পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছেন বলে মুসলমানেরা বিশ্বাস করেন। এই সকল পয়গম্বর যুগে যুগে বিভিন্ন দেশে জন্মগ্রহণ করেছেন। ভারতবর্ষেও পয়গম্বরের আবির্ভার অসম্ভব নয়। অতএব এ-বিয়ে হওয়া সম্ভবত আইন মতে অন্যায় হবে না।’  বিয়ের পরে নজরুল তাঁর স্ত্রীর নাম রাখেন প্রমীলা নজরুল। নজরুল প্রমীলার বিয়ের খবর সংবাদপত্র মারফত প্রচারিত হওয়ার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ব্রাহ্মসমাজের একটা অংশ খুশি হতে পারেনি। ব্রাহ্মদের এই নজরুল বিরোধিতার ইন্ধন জুগিয়েছিলেন এককালের পরম ব্রাহ্মবিরোধী নজরুল সুহৃদ মোহিতলাল মজুমদার। ‘ছোলতান’ ও ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকা কড়া ভাষায় নজরুলের বিরুদ্ধে ধর্মদ্রোহিতার অভিযোগ আনে। বিভিন্ন দিকে থেকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রমীলাকে ধর্মান্তরিত না করে বিবাহ নিয়ে নজরুলের যে অভিমত তা তাঁর অসাস্প্রদায়িক চেতনার বহির্প্রকাশ। এমনকি পরবর্তীতে তাঁর সন্তানদের নাম রেখেছিলেন দুই ধর্মের মিলিত ঐতিহ্যকে ধারণ করে। প্রথম সন্তানের নাম রেখেছিলেন- কৃষ্ণ মুহাম্মদ। পার্যায়ক্রমে অন্য তিন সন্তানের নাম ছিল অরিন্দম খালেদ বুলবুল, কাজী সব্যসাচী সানী ও কাজী অনিরুদ্ধ নিনি। আর ধর্মদ্রোহিতা! তিনি তাঁর রচনায় বলেছেন- ‘মানুষ এনেছে ধর্ম, ধর্ম আনেনি মানুষ কোনো।’ বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের শ্রেষ্ঠ কবিতা ‘বিদ্রোহী’ পাঠ করলে আমরা এর পঙ্ক্তিতে-পঙ্ক্তিতে অসম্প্রদায়িকতার প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই। ১৪৬ পঙ্ক্তির এই দীর্ঘ কবিতায় বিভিন্ন ধর্মের ৭১টি পৌরাণিক শব্দের সন্ধান পাওয়া যায়। এর মধ্যে- হিন্দু পুরাণ-৫৮টি মুসলিম পুরাণ-৯টি খ্রিস্ট পুরাণ-২টি বৌদ্ধ পুরাণ-১টি গ্রিক পুরাণ-১টি শব্দগুলি-হিমাদ্রি, রুদ্র, নটরাজ, ভীম, ধূর্জটি,পুরোহিত, সন্ন্যাসী, ব্যোমকেশ, ইস্রাফিল, শিঙ্গা, দুর্বাসা, দেবশিশু, বোররাক, বাসুকি, বিষ্ণু, শ্যাম, অর্ফিয়াস, জটাজাল ইত্যাদি। ৬ জানুয়ারি ১৯২২Ñএ যেদিন বাংলা সাহিত্যের দীর্ঘ, শ্রেষ্ঠতম কবিতা ‘বিদ্রোহী’ প্রকাশিত হয় সেদিন যুবক নজরুলের বয়স ছিলো মাত্র ২২ বছর ৭ মাস ১১দিন। অথচ কবি খ্যাতির শীর্ষে- ভাবা যায়! বিভিন্ন ধর্মের ইতিহাস-ঐতিহ্যগত শব্দ ব্যবহার করে, সম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প উড়িয়ে দিয়ে অসাম্প্রদায়িকতার ঝা-া হিমালয়ের চূড়ায় পত্পত্ করে উড়েছে কেবল একবারÑ তা ‘বিদ্রোহী’ কবিতার মাধ্যমে। নিজ ধর্মের শ্রেষ্ঠত্বের দোহাই দিয়ে অন্য ধর্মের অনুসারীদের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ ছড়ানো আজ এক ধরনের অলিখিত প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নজরুল এদের নাম দিয়েছেন ধর্ম মাতাল। এরা সত্যের আলো পান করে নাই, শাস্ত্রের এলকোহল পান করেছে। এদের থেকে মুক্ত হতে আজীবন যিনি সংগ্রাম করেছেন তিনি হলেন মানবতার কবি, অসাম্প্রদায়িক কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি যে কতটা অসাম্প্রদায়িক  ছিলেন তা তাঁর ‘হিন্দু-মুসলমান’ প্রবন্ধ পাঠ করলে আমাদের উপলদ্ধি হয়। তিনি লিখেছেনÑ ‘নদীর পাশ দিয়ে চলতে চলতে দেখি, একটা লোক ডুবে মরছে, মনের চিরন্তন মানুষটি তখন এ-প্রশ্ন করবার অবসর দেয় না যে, লোকটা হিন্দু না মুসলমান, বা মুসলমান যদি দেখে লোকটা হিন্দুÑ তার জন্য ত তার আত্মপ্রসাদ একটুকু ক্ষুণœ হয় না। তার মনে বলে, আমি একজন মানুষকে বাঁচিয়েছি- আমারই মত একজন মানুষকে।’ ‘মন্দির ও মসজিদ’ প্রবন্ধেও অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির নজির মেলে ‘মারো শালা যবনদের! মারো শালা কাফেরদের! আবার হিন্দু মুসলমানি কান্ড বাঁধিয়া গিয়াছে। প্রথমে কথা-কাটাকাটি, তারপর মাথা-ফাটাফাটি আরম্ভ হইয়া গেল আল্লার এবং মা কালীর ‘প্রেস্টিজ’ রক্ষার জন্য যাহারা এতক্ষণ মাতাল হইয়া চিৎকার করিতেছিল তাহারাই যখন মার খাইয়া পড়িয়া যাইতে লাগিল, দেখিলামÑ তখন আর তাহারা আল্লা মিয়া বা কালী  ঠাকুরানীর নাম লইতেছে না।