ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১

মতামত

আরব রাষ্ট্রগুলোর ঐক্য প্রতিষ্ঠায় আরব লীগ

আরব রাষ্ট্রগুলোর ঐক্য প্রতিষ্ঠায় আরব লীগ

আরব দেশগুলোর স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার অঙ্গীকার করা হয়েছিল আরব লীগের সংবিধানে। তাতে বলা হয়েছে, যে কোনো বিদেশী আগ্রাসন রোধে সদস্য দেশগুলোর পাশে থাকবে আরব লীগ। নিজেদের অভ্যন্তরীণ সংকটেও শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। কয়েক দশক ধরে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত আরব রাষ্ট্রগুলোকে অন্তত ফিলিস্তিনের অধিকার প্রশ্নে এক রাখতে পেরেছিল। কিন্তু ২০১১ সালে আরব বসন্ত শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুর বাইরে আরও তিনটি ইস্যুতে আরব রাষ্ট্রগুলোর অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন ছিল। এগুলো হলো- ইরানের কার্যকলাপে উদ্ভূত হুমকিমূলক পরিস্থিতি, আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ও রাজনৈতিক ইসরাইলের উত্থান। এসব কারণে আরব দেশগুলোর মধ্যকার ঐক্য বিনষ্ট হয়েছে

মতামত বিভাগের সব খবর

সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সম-উন্নয়ন

সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সম-উন্নয়ন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। এজন্যই স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানে জাতীয় মূলনীতি হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতাকে স্থান দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘এ দেশের মুসলমানেরা তাদের ধর্ম পালন করবে, তাদের বাধা দেয়ার ক্ষমতা এই রাষ্ট্রের কারো নেই। হিন্দুরা তাদের ধর্ম পালন করবে, খ্রিস্টানরা তাদের ধর্ম পালন করবে, বৌদ্ধরা তাদের ধর্ম পালন করবে, তাদের কেউ বাধা দিতে পারবে না। ধর্ম অতি পবিত্র জিনিস। পবিত্র ধর্মকে কেউ রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা চলবে না। যদি কেউ বলে ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হয়েছে, আমি বলবো, ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হয়নি। সাড়ে সাত কোটি মানুষের ধর্মীয় অধিকার রক্ষা করার ব্যবস্থা করেছি।’ মূলত, বঙ্গবন্ধুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাঁরই সুযোগ্যকন্যা প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ ও আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে জনগণকে কখনো ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত করা হয় না। বরং তিনি বারবার বলেছেন, আপনারা নিজেদের কেউ সংখ্যালঘু ভাববেন না। এদেশে কেউ সংখ্যাগুরু, সংখ্যালঘু নেই। তিনি এটি হৃদয় দিয়ে বিশ্বাস করেন বলেই সকল ধর্মীয় বিশ্বাসের মানুষকে একইভাবে মর্যাদা দেন। সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সমভাবে কাজ করেন।

অসাধারণ সাহসী পূর্ণাঙ্গ রাজনীতিক

অসাধারণ সাহসী পূর্ণাঙ্গ রাজনীতিক

তাঁর সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি। দেখেছি একজন মেধাবী মানুষ কঠোর পরিশ্রম, অসাধারণ সাহসী ভূমিকা এবং আনুগত্যের মাধ্যমে কিভাবে হয়ে উঠেছিলেন জাতীয় নেতা। শুধু গুণী পিতার সন্তান হিসেবেই নয়, নিজের যোগ্যতা এবং একাগ্রতায় গঠন করেছিলেন নিজস্ব সত্তা, হয়ে উঠেছিলেন পরিপূর্ণ রাজনীতিক। সাংবাদিকতার সুবাদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পর তাঁর খুব কাছে ছিলাম দীর্ঘ সময়। তিনি প্রয়াত সাবেক সফল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও চার জাতীয় নেতার অন্যতম ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর পুত্র এবং মেধাবী, তরুণ ও উদীয়মান নেতা তানভীর শাকিল জয়ের পিতা। গত ১৩ জুন ছিল তাঁর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী। করোনা মহামারি ছোবলে অনেকের সঙ্গে তিনিও চলে গিয়েছিলেন কোটি কোটি অনুগামী, ভক্তকে ছেড়ে। দিনটি স্মরণ করে স্মৃতির পাতা থেকে কিছু অংশ পাঠকের জন্য তুলে ধরতে চাই। প্রত্যক্ষদর্শীর এই বিবরণ হয়তো কোনো দিন সমাজ পরিবর্তন নিয়ে গবেষকদের কাজে লাগতে পারে।  

পবিত্র ঈদুল আজহা

পবিত্র ঈদুল আজহা

আগামীকাল পবিত্র ঈদুল আজহা। পবিত্র এই দিনটিতে মুসলমানরা ঈদগাহে গিয়ে একসঙ্গে নামাজ শেষ করে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন। ঈদের দিনসহ তিনদিন কোরবানি দেওয়ার বিধান রয়েছে। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সব বয়সী মুসলমান ভাবগম্ভীর পরিবেশে নামাজ আদায় এবং পরস্পর কুশলাদি বিনিময়ের পাশাপাশি কোলাকুলি করেন। ঈদগাহে সমবেত সব মুসল্লি আল্লাহপাকের দরবারে মোনাজাত করেন পার্থিব এবং পারলৌকিক কল্যাণের আশায়। মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য দুই ঈদই অশেষ সংহতি ও সম্প্রীতি বয়ে আনে। কোরবানির মাংসের একটি অংশ দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়। এতে ঈদের আনন্দ পায় ভিন্ন মাত্রা। হজরত ইব্রাহিম (আ) যে উদাহরণ সৃষ্টি করে গেছেন, সেটাকেই মর্যাদা দিয়ে বিশ্বের মুসলমানরা ঈদ-উল-আজহা পালন করে থাকেন। মূলত কোরবানির মধ্য দিয়ে আত্মোৎসর্গের এক পরম মহিমার নজির স্থাপন করে গেছেন হজরত ইব্রাহিম (আ)। শরিয়তের বিধান অনুসারে কোরবানির পশুর মাংস তিন ভাগ করে এক ভাগ নিজে, এক ভাগ আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের এবং এক ভাগ দরিদ্রদের মধ্যে বিলি করার নির্দেশ রয়েছে। ইসলাম ধর্ম সাম্য, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং পরোপকারের ওপর গুরুত্বারোপ করে। কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে লোক দেখানো আনুষ্ঠানিকতাকে। পরিতাপের বিষয়, ইসলামের সঠিক বিধিবিধানকে অনেকেই গুরুত্ব না দিয়ে অবাঞ্ছিত প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পদ্ধতিগত উন্নয়ন

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পদ্ধতিগত উন্নয়ন

নতুন সরকারে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া আবুল হাসান মাহমুদ আলী সম্প্রতি বাজেট ঘোষণাপরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে একের পর এক মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত প্রশ্নে কিছুটা জেরবার হয়ে কখনো বিরক্ত, কখনো কিছুটা উত্তেজিত হয়ে পড়েছেন এমন সংবাদ গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত তাঁর এ সময়ের দুয়েকটি ছবি দেখলে যে-কেউই বুঝবে, অভিব্যক্তিতে অহিষ্ণুতার প্রকাশ ঘটছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করে পররাষ্ট্র ক্যাডার এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী (২০১৪-১৮) হওয়া হাস্যোজ্জ্বল মানুষটিকে সামনাসামনি দেখে ও কথা বলে কখনোই অধৈর্য্য-অসহিষ্ণু মনে হয়নি। তার ওপর তিনি দীর্ঘ সময় কূটনীতিকের জীবন কাটিয়েছেন। নিজে একজন অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবে মনে হয়েছে, আমাদের ধীরস্থির অর্থমন্ত্রী উচ্চ মূল্যস্ফীতি, খেলাপি ঋণ, রিজার্ভ সংকট এবং সামগ্রিকভাবে চাপে থাকা সামষ্টিক অর্থনীতির দায়িত্ব নিয়ে নিজেও কিছুটা চাপে পড়ে গেছেন। তাঁর এই চাপে পড়াটা স্বাভাবিক, সাংবাদিকদের অবুঝ প্রশ্নে কিছুটা অসহিষ্ণু হয়ে পড়াটাও অস্বাভাবিক নয়। অর্থনীতি শাস্ত্রে উচ্চতর শিক্ষা অর্জন করা অর্থমন্ত্রী অতীতের অর্থমন্ত্রীদের চেয়ে অর্থনীতি নিশ্চয়ই একটু বেশিই ভালো জানেন। মূল্যস্ফীতি কমাতে নানা পদক্ষেপ নিয়েও বাঘা হিসাববিদ বিগত অর্থমন্ত্রী আর বাঘা বাঘা আমলা গভর্নররা যখন কিছু করতে পারলেন না, তখন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একজন অর্থনীতির শিক্ষক ও কূটনীতিককে। তাকে একটু সময় না দিয়েই মূল্যস্ফীতির কমানোর জন্য চাপাচাপি করা বিরক্তি উদ্রেককারী তো বটেই। সে যাই হোক, মূল্যস্ফীতি কেন কমছে না তা নিয়ে অর্থনীতি শাস্ত্রের মানুষ হওয়ায় কিছু বিষয়ে আলোকপাত করা যাক।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন মাত্রা

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন মাত্রা

অতিসম্প্রতি ভারতের ১৮তম লোকসভা নির্বাচন সুসম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শ্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে তৃতীয় বারের মতো সরকার গঠন ইতোমধ্যে সুস্পষ্ট রূপ পরিগ্রহ করেছে। ৯ জুন নতুন সরকারের প্রধান চার মন্ত্রণালয়ে পূর্ববর্তী সরকারের মন্ত্রীরাই পুনঃনিয়োগ পেয়েছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সশরীরে উপস্থিত থেকে শপথ অনুষ্ঠান উপভোগ করেছেন। পার্শ্ববর্তী দেশ হিসেবে অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার মর্যাদা ছিল অপরিসীম। বিভিন্ন আলাপ-আলোচনা এবং সম্মানিত অতিথিরূপে তাঁর সরব উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত গৌরবদীপ্ত। এটি সকলের জানা, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রাম-মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে ভারত সরকার-জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন-সাহায্য-সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ চিরঋণী। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী প-িত জওহরলাল নেহরুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে নরেন্দ্র মোদি তৃতীয় বারের মতো ক্ষমতায় আরোহণ নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বাংলাদেশের সরকার গঠনের ধারাবাহিকতায় ভারত সরকারের সঙ্গে সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন নবতর মাত্রিকতায় প্রত্যাশিত।

সুষ্ঠু ঈদ আয়োজন

সুষ্ঠু ঈদ আয়োজন

কাল বাদে পরশু ঈদ। ঈদুল ফিতরের তুলনায় ঈদুল আজহা বা কোরবানি ঈদ আয়োজনে কিছু বাড়তি বিষয় থাকে। পশু কোরবানি, পশুর হাট বসানো এবং কোরবানির পরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। এছাড়াও নিয়মিত কিছু বিষয় থাকে যাতে অনিয়ম কাম্য নয়। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা সুষ্ঠুভাবে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কোরবানির পশুর সহজলভ্যতা, পরিবহন, হাট ব্যবস্থাপনা, অনলাইন মার্কেট মনিটরিং, ঈদযাত্রা, কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, চামড়া সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা, ঈদ ফিরতি যাত্রাসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে একটি সমন্বিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।   

আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক

আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কানগরীতে এবার হজ পালিত হচ্ছে ১৫ জুন। এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ২০ লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসলমান হজ পালনের সুযোগ পেয়েছেন। তবে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অবস্থান, চলাচল ও হজ প্রক্রিয়া পালন করতে হবে সৌদি সরকারের নির্দেশ মোতাবেক। পবিত্র ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি হচ্ছে হজ। আর্থিকভাবে সচ্ছল, দৈহিকভাবে সক্ষম ও সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন প্রত্যেক মুসলমানের জন্য হজ পালন ফরজ করা হয়েছে। সৎপথে উপার্জিত অর্থ দ্বারা হজ পালন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অবশ্য কর্তব্য। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের গুরুত্বপূর্ণ ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ অনুষ্ঠান এই হজব্রত পালনের লক্ষ্যে সারাবিশ্ব থেকে নানা বর্ণের, নানা ভাষার লাখ লাখ মুসলমান নর-নারী পবিত্র মক্কা নগরীতে সমবেত হন। এবারও হজ পালনের লক্ষ্যে সারাবিশ্ব থেকে অগণিত মুসলমান সৌদি আরবে মহান আল্লাহতালার নির্দেশ পালনে একত্রিত হয়েছেন। বাংলাদেশের বেশ সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসলমানও অংশ নিয়েছেন হজে।  বাংলা ভাষায়ও খুতবা প্রচারিত হয় এখন। এ ধরনের বিশাল ধর্মীয় সমাবেশ পৃথিবীর আর কোথাও হয় না। সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজেকে পরিপূর্ণভাবে সমর্পণের মাধ্যমে আত্মার পরিশুদ্ধির অন্যতম লক্ষ্য নিয়েই এই ভাবগম্ভীর সমাবেশ। ফলে, এর গুরুত্ব অপরিসীম। সুশৃঙ্খল নিয়মের মধ্য দিয়ে হজ পালিত হয়। ইহরাম বাঁধা, কাবা শরীফ তাওয়াফ করা, আরাফাতের ময়দানে অবস্থানÑ সবটার মধ্যেই রয়েছে নির্দিষ্ট নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলার নির্দেশ। হজ পালনের উদ্দেশ্যে সমবেত বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তা মেনে চলেন। প্রতিবছর হজ পালনের সময় মক্কা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে বিশাল আরাফাত ময়দানে লাখ লাখ মুসলমান লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক উচ্চারণ করতে করতে সমবেত হন। মূলত আল্লাহপাকের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই হজের এই মহান সম্মিলন।  হজের মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়, মুসলমানদের পারস্পরিক সমতা এবং বিভেদহীন ঐক্য। আরাফাতের ময়দানে মানুষ সব বৈষম্য ভুলে যায়। বিশ্বের সব মুসলমানের মধ্যে গড়ে ওঠে সাম্য ও সৌভ্রাতৃত্বের পবিত্র বন্ধন। প্রত্যেক মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি, তাঁরই অনুগত দাস এবং হযরত মুহাম্মদের (সা) উম্মত। হজ পালনের সময় ভাষা, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সবাইকে পরিধান করতে হয় সেলাইবিহীন ইহরাম। পবিত্র ইসলাম সাম্য ও শান্তির বাণী প্রচার করার জন্যই রাসুলুল্লাহ (সা) কর্তৃক প্রতিষ্ঠা ও পূর্ণতা পেয়েছে। বস্তুত সমগ্র মানবজাতিকে শান্তি ও সম্প্রীতির চেতনায় উজ্জীবিত করার প্রকৃত আবেদন এই সুবিশাল মহাসমাবেশের এক পরম শিক্ষা। বিশ্বের সব মুসলমানের মধ্যে ইসলামের মৌলিক সত্যটি উদ্ভাসিত হয়ে উঠুক, শান্তি ও সাম্যের সুবাতাস প্রবহমান থাকুক, এটিই প্রত্যাশা।  

হজ এবং কুরবানি ॥ ইতিহাসে অনুভবে

হজ এবং কুরবানি ॥ ইতিহাসে অনুভবে

আরবী ভাষায় ‘হজ’ শব্দের অর্থ জিয়ারতের সংকল্প করা। যেহেতু খানায়ে-কা’বা জিয়ারতের উদ্দেশ্যে তাবৎ প্রেমিক-ভক্তগণ পৃথিবীর চারিদিক হতে পঙ্গপালের মতো এসে পবিত্র মক্কা নগরীতে জমায়েত হয়, তাই এর নাম রাখা হয়েছে হজ। কখন কিভাবে হজ সূচনা হয়েছিল এবং যুগে যুগে এ হজব্রত পালনের প্রকৃতি কেমন ছিল, সে ইতিহাস অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক এবং শিক্ষাপ্রদ। হজ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুকন। পবিত্রস্থান সমূহ দর্শন এবং সে স্থানগুলোতে বিশেষ রীতিনীতি শিষ্টাচারের সঙ্গে অনুষ্ঠান পালনের প্রথা প্রাচীনকাল থেকে চালু রয়েছে।  সকল ধর্মের অনুসারীদের নিকট কোনো না কোনো স্থান রয়েছে, যেগুলোকে তারা পবিত্র বলে মনে করে থাকেন। সে সকল স্থানে গিয়ে তারা নিজ নিজ আকিদা ও বিশ্বাস অনুসারে ধর্মীয় অনুষ্ঠান সমূহ পালন করে থাকেন। না হলে কিতাবের মাঝে ইহুদিদের মধ্যে পবিত্র স্থানসমূহের জিয়ারতের প্রথা পূর্বেও চালু ছিল। তারা বায়তুল মুকাদ্দাস কেন্দ্রিক বছরে তিনবার হাজির হয়ে এ অনুষ্ঠান পালন করত।