ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২

জাতীয়

জাতীয় বিভাগের সব খবর

মন্ত্রী-এমপিরা ঈদ করবেন  নির্বাচনী এলাকায়

মন্ত্রী-এমপিরা ঈদ করবেন  নির্বাচনী এলাকায়

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পর দেশে নতুন সরকার গঠিত হওয়ায় এবার ঈদকে কেন্দ্র করে রাজনীতি জমজমাট। রাজনৈতিক দলের নেতারা নতুন উদ্যোগে নিজ নিজ এলাকায় ঈদ উদযাপন করবেন। বিশেষ করে মন্ত্রী-এমপিরা ঈদ করবেন যার যার নির্বাচনী এলাকায়। সেই সঙ্গে তারা এলাকার সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের খোঁজখবর রাখবেন এবং সর্বসাধারণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।  চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০ মার্চ অথবা ২১ মার্চ দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবার সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। আর জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা, শফিকুর রহমান মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।   প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ স্বজনদের নিয়ে গুলশানের বাসায় ঈদ উদযাপন করবেন। এ সময় তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭ এর বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন।  বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী  মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দিনাজপুরে নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ উদযাপন করে ঢাকায় আসবেন। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভোলায় ঈদ করে ঢাকায় আসবেন। এ ছাড়া বিএনপির  স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কুমিল্লা, সংসদ সদস্য ড. মঈন খান নরসিংদী, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজার, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন দিনাজপুর, সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় নিজ নির্বাচনি এলাকা কেরানীগঞ্জে স্থানীয় নেতাকর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

ঈদযাত্রায় দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া ২০ বছরের রেকর্ড ভাঙছে এবারের নৈরাজ্য

ঈদযাত্রায় দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া ২০ বছরের রেকর্ড ভাঙছে এবারের নৈরাজ্য

সরকারি ঘোষণা উপেক্ষা করে পবিত্র ঈদুল ফিতরের যাত্রায় বিভিন্ন শ্রেণির বাস ও মিনিবাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের মহোৎসব চলছে। বুধবার থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন নগরীর সিটি সার্ভিসেও এই নৈরাজ্য শুরু হয়েছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির দাবি, এবারের স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রায় ভাড়া আদায়ের এই নৈরাজ্য গত ২০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করতে চলেছে বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ করেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঈদে বাসে ও মিনিবাসে শুধুমাত্র অতিরিক্ত ভাড়া হিসেবেই যাত্রীদের পকেট থেকে প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা বাড়তি   হাতিয়ে নেওয়া হবে। সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এবারের ঈদে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দূরপাল্লার বাস-মিনিবাসে প্রায় ৪০ লাখ ট্রিপ এবং সিটি সার্ভিসে আরও প্রায় ৬০ লাখ ট্রিপ যাত্রী যাতায়াত করতে পারে। গত ১৪ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৮৭ শতাংশ বাস ও মিনিবাসেই সরকারি চার্ট অমান্য করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ঢাকা থেকে পাবনা ও নাটোরগামী ৫৫০ টাকার নিয়মিত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১২০০ টাকা। ঢাকা থেকে রংপুরের ৫০০ টাকার ভাড়া ১৫০০ টাকা এবং ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের ২৫০ টাকার লোকাল বাস ভাড়া ৬০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। একইভাবে ঢাকা থেকে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও খুলনার রুটে নিয়মিত ভাড়ার চেয়ে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি নেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে লক্ষ্মীপুর ও ভোলার রুটেও ভাড়ার হার প্রায় দ্বিগুণ। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ভাড়ার এই হার ততই বাড়ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ৫২ আসনের বাসে যাত্রী সচেতনতার অভাবে ৪০ আসনের ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট গন্তব্যের টিকিট নেই বলে যাত্রীদের কৌশলে দূরের গন্তব্যের টিকিট কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। সিএনজি ও ডিজেলচালিত উভয় ধরনের বাসেই সমহারে এই নৈরাজ্য চলছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, সরকার বাস-লঞ্চের ভাড়া নির্ধারণের সময় চালক ও সহকারীদের বেতন-ভাতা ও বোনাস ভাড়ার সঙ্গে যুক্ত করলেও মালিকরা তা পরিশোধ করেন না। ফলে শ্রমিকরা ঈদ বোনাস তুলে নিতে যাত্রীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এছাড়া দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি এবং মালিকদের বাড়তি মুনাফা লুফে নেওয়ার আকাক্সক্ষাকে এই নৈরাজ্যের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “সরকার এই ভাড়া নৈরাজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে মালিকদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী বক্তব্য দিচ্ছে। মনিটরিং ভিজিল্যান্স টিমে যাত্রী সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব না থাকায় যাত্রীস্বার্থ দেখার কেউ নেই।” সমীক্ষা অনুযায়ী, দূরপাল্লার ৪০ লাখ ট্রিপে ৮৭ শতাংশ যাত্রীর কাছ থেকে গড়ে ৩৫০ টাকা হারে বাড়তি ১২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা আদায় করা হবে। পাশাপাশি সিটি সার্ভিসের ৬০ লাখ ট্রিপে ৮৭ শতাংশ যাত্রীর কাছ থেকে গড়ে ৫০ টাকা হারে বাড়তি ২৬ কোটি ১০ লাখ টাকা আদায় হবে। অর্থাৎ এবারের ঈদে বাসে মোট বাড়তি আদায়ের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা। সংগঠনটি মনে করে, এই ভাড়া নৈরাজ্যের ফলে সামাজিক অস্থিরতা, দুর্নীতি এবং সড়ক দুর্ঘটনা বাড়বে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে গণপরিবহনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাড়া আদায় নিশ্চিত করা, নগদ লেনদেন বন্ধ করা এবং সিসি ক্যামেরা পদ্ধতির মাধ্যমে মহাসড়কে প্রসিকিউশন চালুর জোর দাবি জানিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

ঈদ আনন্দ ঘরে ঘরে

ঈদ আনন্দ ঘরে ঘরে

বছর ঘুরে মুসলিম উম্মাহর দুয়ারে আবার হাজির হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। সারা মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলমানদের ঘরে ঘরে ঈদ নিয়ে এসেছে আনন্দের বারতা। বাংলাদেশের আকাশে আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল শুক্রবারই পালিত হবে ঈদ। আর চাঁদ দেখা না গেলে ঈদ হবে শনিবার। বিশ্লেষকদের মতে, আজ চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম। তাছাড়া দেশের এক শ্রেণির মুসলমান সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একই দিনে ঈদ উদযাপন করেনে। নিয়মানুযায়ী পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার তথ্য পর্যালোচনা ও মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণ করতে আজ বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। ইসলামের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঈদের একটি বিরাট ও সুদূরপ্রসারী আবেদন হচ্ছে, ভ্রাতৃত্ব বোধ ও ব্যাপক ঐক্য স্থাপন। সদকার মাধ্যমেও এই আবেদন অনেকটা পূরণ করা সম্ভব। তথাপি, আল্লাহর প্রতি সদকার মাধ্যমে এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সাথে জামাত সহকারে ঈদের নামাজ আদায় করার মধ্যেও একই উদ্দেশ্য নিহিত রয়েছে। জামাত সহকারে নামাজ আদায় করার জন্য মসজিদের পরিবর্তে ঈদগাহ নির্ধারণ হতে ঈদের উদ্দেশ্য অনুধাবন করা যেতে পারে। ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়া মহানবী (সা.)-এর সুন্নত, তিনি সব সময় ঈদগাহে নামাজ আদায় করতেন।

নাড়ির টানে প্রিয়জনের কাছে ফিরছে মানুষ

নাড়ির টানে প্রিয়জনের কাছে ফিরছে মানুষ

ঈদুল ফিরতরের আর মাত্র এক বা দুইদিন বাকি। তাই পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে শেষ মুহূর্তে ঢাকা ছাড়ছেন রাজধানীবাসী। আজ বৃস্পতিবার যদি শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায় তাহলে শুক্রবার সারাদেশে উদযাপিত হবে ঈদুল ফিতর। না হলে শনিবার। আত্মীয়-স্বজন ও আপনজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ। এ বছর ঈদ উদযাপনের ঢাকা বাইরে যাবে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি মানুষ। ঈদের দীর্ঘ ছুটি উপভোগের জন্য মানুষ ঢাকার বাইরে বেড়াতে যাচ্ছেন বেশি। একসঙ্গে এত লোক যাতায়াত করায় চাপ বেড়েছে গণপরিবহনের ওপর। তাই বুধবার রাজধানীর বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালে ছিল ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। প্রতিটি গণপরিবহনেই ছেড়ে যাত্রী বোঝাই করে। যাত্রাপথে পরিবহন সংকট, ঈদ বকশিসের নামে অতিরিক্ত ভাড়া, মহাসড়কে থেমে থেমে যানজট ও ঢাকা থেকে বের হওয়ার পথে দীর্ঘ যানজটসহ নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ঘরমুখো মানুষদের। তবুও আপনের জনের সঙ্গে ঈদ করতে পারাটা যেন সকল ভোগান্তি ম্লান হয়ে যায়। পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করা যেন অন্য রকম আনন্দ বলে জানান তারা।  সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন টার্মিনালে ঘুরে দেখা গেছে, বুধবার সকাল থেকে বিভিন্ন বাস টার্মিনালে ছিল ঘরমুখো মানুষের ভিড়। বেলা বাড়ার সঙ্গে এই ভিড় আরও বাড়তে থাকে। সন্ধ্যায় প্রতিটি বাস কাউন্টারে ছিে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। পরিবার-পরিজন নিয়ে সবাই নির্দিষ্ট গন্তব্যের বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে তাদের। অনেকই বিভিন্ন রুটের বাসের টিকিট সন্ধান করতে দেখা গেছে।     রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে সুরুজ মিয়া নামের শ্যামলী পরিবহনের এক কাউন্টারম্যান জানান, ঈদের এক বা দুইদিন আগের সব অগ্রিম টিকিট অনেক আগেই বিক্রয় হয়ে গেছে। তাই শেষ সময়ে কোন টিকিট বিক্রয় হচ্ছে না। তবে যদি কোনো যাত্রী টিকিট ফিতর দেয়। তা বিক্রয় করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কোনো বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না।   চাঁপাইনবাবগঞ্জের টিকিটের খোঁজে আসা আব্দুল আলিম নামের এক যাত্রী জানান, শেষ মুহুর্তে টিকিট নেই এটা জেনেই এসেছি। কিন্তু যদি কেউ ফেরত দেন, তাহলে সেটি নিয়েই রওনা হবেন। এছাড়া অনেক পরিবহনে পিছনের সিট ও ইঞ্জিন কভারে টিকিট পাওয়া যায় কিনা তা খোঁজ করেন তিনি।  এদিকে বুধবার রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন করেন সড়ক, রেল ও নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ সময় তিনি বলেন, সব বাস কাউন্টার থেকে নির্ধারিত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ভোগান্তি বা অভিযোগ আমরা পাইনি। রাস্তায় কোনো যানজট নেই। সার্বিকভাবে ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক রয়েছে। যাত্রীরা শৃঙ্খলার সঙ্গে ঢাকার বাইরে যাতায়াত করতে পারছেন এবং কোথাও বড় ধরনের বিঘœ ঘটার খবর পাওয়া যায়নি। গত ১৫ মার্চ রাত ১১টা থেকে পর্যাপ্ত তেল দেওয়া হচ্ছে। যমুনা সেতু দিয়ে মঙ্গলবার ৩২ হাজার গাড়ি বেশি চলাচল করেছে। তারা তেল পেয়েছে বলেই তো যেতে পারছে। কেউ না পেলে অভিযোগ করতে পারবে। গণপরিবহনে ফুয়েল ঘাটতি নেই।’

রেশনিং উঠলেও জ্বালানি সংকট কাটেনি

রেশনিং উঠলেও জ্বালানি সংকট কাটেনি

রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়ার চারদিন পরও দেশে জ্বালানি তেলের সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পেট্রোল পাম্পে তেল না পাওয়া এবং দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষার চিত্র এখনো চোখে পড়ছে। বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, কিছু পাম্পে সরবরাহ আগের তুলনায় বাড়লেও সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। কোথাও তেলের সম্পূর্ণ অভাব, আবার কোথাও সীমিত সরবরাহের কারণে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও বাসের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। ঈদের ছুটিতে যানবাহনের চাপ কিছুটা কমলেও যেসব পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে সেখানে ভিড় কমেনি। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একই চিত্র দেখা গেছে। শেওড়াপাড়ার দুইটি পাম্প এবং তালতলা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি পাম্প বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে শেরাটন হোটেলের বিপরীত পাশের পাম্প খোলা থাকলেও সেখানে দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। হাজিপাড়া পেট্রোল পাম্পের এক কর্মচারী জানান, আমাদের চাহিদা ৯ হাজার লিটার হলেও সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৪ হাজার লিটার। তেল আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। এ অবস্থায় পাম্প চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। পাম্প মালিকদের অভিযোগ, রেশনিং তুলে নেওয়ার ঘোষণা বাস্তবে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। বিশেষ করে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির বিরুদ্ধে চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম সরবরাহ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে দ্রুত তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং অনেক পাম্প বাধ্য হয়ে বিক্রি বন্ধ রাখছে। পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কো-কনভেনর মিজানুর রহমান রতন বলেন, কাগজে-কলমে রেশনিং তুলে নেওয়া হলেও বাস্তবে সরবরাহ এখনো সীমিত। এতে সাধারণ মানুষ ও পাম্প মালিক উভয়ই ভোগান্তিতে পড়েছেন। ডিলারদের মতে, ডিপো পর্যায়ে সরবরাহ না বাড়ানোয় সংকট কাটছে না। অনেকেই অভিযোগ করছেন, এখনো আগের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমিত পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, যা মাঠ পর্যায়ে বিভ্রান্তি  তৈরি করছে। অন্যদিকে পাম্প মালিকদের আরেক অংশের সভাপতি নাজমুল হক জানান, দীর্ঘদিন রেশনিং চালু থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থার ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। হঠাৎ করে তা স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সব মিলিয়ে সরবরাহ বাড়ানোর আশ্বাস থাকলেও বাস্তবে জনভোগান্তি এখনো কমেনি। সামনে ঈদযাত্রা থাকায় জ্বালানি সংকট পুরোপুরি নিরসন না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।