ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১

রাজনীতি

সরকার ভিন্ন মতের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে 

সরকার ভিন্ন মতের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে 

ভিন্ন মতের মানুষের ওপর সরকার নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।  মির্জা ফখরুল বলেন, সাজানো মামলায় ফরমায়েশি রায়ের মাধ্যমে অন্যায়ভাবে সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি নির্বাহী কমিটির সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোয় উদ্বেগ প্রকাশ করছি। অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সাজা বাতিল করে  নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বান জানাচ্ছি। ফখরুল বলেন, ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে আওয়ামী লীগ শাসকগোষ্ঠী এখন আরও হিং¯্র হয়ে উঠেছে। মিথ্যাচার, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অপকৌশলের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ গণতন্ত্রমনা বিরোধী দল, ভিন্ন মত ও পথের মানুষদের ওপর নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে অব্যাহতভাবে।  ফখরুল বলেন, বানোয়াট মামলায় সাজা প্রদানসহ জামিন নামঞ্জুর করে বিরোধী নেতাকর্মীদের কারাগারে পাঠানোর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার দেশে নব্য বাকশালী শাসন কায়েম করেছে। সারাদেশে প্রতিনিয়ত সরকারের মদতে বানোয়াট মামলায় বিরোধী নেতাকর্মীদের সাজা প্রদানসহ জামিন নামঞ্জুর করা হচ্ছে। মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনা আওয়ামী জুলুমেরই আরেকটি বহির্প্রকাশ। দেশে দুঃসময় চলছে ॥ দেশে কঠিন দুঃসময় চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত নাগরিক স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। নাগরিক স্মরণ সভার আয়োজন করে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণ সভা উদ্যাপন কমিটি।  ফখরুল বলেন, রাজনৈতিক সংকট, অর্থনৈতিক সংকট ভয়াবহভাবে আমাদের আক্রমণ করেছে। এখানে বিচার ব্যবস্থা পুরোপুরিভাবে দলীয়করণ হয়ে গেছে, এখানে অর্থনীতিকে পুরোপুরিভাবে নিজেদের মতো করে তারা সেখানে লুটপাট চালাচ্ছে। আজকে রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে, নির্বাচনী ব্যবস্থাকে একেবারে উপড়ে ফেলা হয়েছে। কিছু নেই এখন অবশিষ্ট।  ফখরুল বলেন, ঐক্যের কথা আমরা বলি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা আমরা বলি, সেই চেতনার লেশমাত্র অবশিষ্ট নেই। যার জন্যে জাফরুল্লাহ চৌধুরী সাহেবরা লড়াই করছিলেন। সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে যদি আবার আমাদের ফিরিয়ে আনতে হয়, বাংলাদেশকে যদি সত্যিকার অর্থে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আমরা পরিণত করতে চাই তাহলে আমাদের অবশ্যই সকলকে নতুন করে চিন্তা করে নতুনভাবে আবার বলীয়ান হয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর অনুপ্রেরণায় আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। ফখরুল বলেন, আসুন আমরা এই প্রতিজ্ঞা করি, কে কি বলল সেটা ভাবার দরকার নেই, আমাদের মধ্যে যে আশা, যে আকাক্সক্ষা আছে আমরা যারা একাত্তরে যুদ্ধ করেছি, আমরা যারা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছি, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য যারা প্রাণ দিয়েছে, যারা গুম হয়েছে তাদের সকলকে সেই সম্মানটুকু দেওয়ার জন্য আমাদের আজকে একটা মাত্র দায়িত্ব সেটা হচ্ছে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে । মির্জা ফখরুল বলেন, ভয়াবহ দুঃশাসন আমাদের সমস্ত ভালো অর্জনগুলোকে কেড়ে নিয়েছে, আমাদের প্রতিমুহূর্তে পঙ্গু করে ফেলেছে, আমাদের পুরোপুরি একটা দাসে পরিণত করছে। সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এ ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, এই দুঃশাসনের অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমরা হাত-পা ছুড়ছি। আমরা যারা রাজনীতি করি, রাজনৈতিক কর্মী আছি তারা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছি। আমি নিজেই নির্বিচারে নির্যাতিত হচ্ছি, অনেকে তাদের জীবন দিচ্ছেন। তার পরও এ সরকারকে সরানো যাচ্ছে না, এটাই  বাস্তবতা।

রাজনীতি বিভাগের সব খবর

উপজেলা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা বিএনপির

উপজেলা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা বিএনপির

উপজেলা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। সোমবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয় বলে মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপির মুখপাত্র ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান। এদিকে এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারের অব্যবস্থাপনায় দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রিজভী বলেন, বিএনপি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ও তার সাজানো নির্বাচন কমিশনের অধীনে এবং প্রশাসন ও পুলিশের প্রকাশ্য একপেশে ভূমিকার জন্য ইতোপূর্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন বর্জন করেছে। এখনো সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়নি। বিদ্যমান অরাজক পরিস্থিতি আরও অবনতিশীল হওয়ায় আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার যৌক্তিক কারণ রয়েছে। রিজভী বলেন, বর্তমান সরকার ভোট, সংবিধান, ভিন্নমত প্রকাশ, বহুদলের অংশগ্রহণে নির্বাচনসহ মানুষের সহজাত অধিকারগুলোকে নির্দয় দমনের কষাঘাতে বিপর্যস্ত করেছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতির একমাত্র ভিত্তি হচ্ছে মানুষকে ভয় দেখিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখা। তাই সহিংস সন্ত্রাসের ব্যাপক বিস্তারের ফলে এ সরকারের অপরাজনীতি ও নির্বাচনী প্রহসনের অংশীদার না হওয়ার বিষয়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বিএনপি ৮ মে থেকে শুরু হওয়া সকল ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিএনপির অনেকেই উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে

বিএনপির অনেকেই উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে

বিএনপির অনেকেই উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি প্রকাশ্যে উপজেলা নির্বাচনের বিরোধিতা করলেও আমাদের জানা মতে, স্থানীয় পর্যায়ে তাদের অনেকেই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। মঙ্গলবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমাদের কতজন প্রার্থী, আমরা সেটা হিসাব করে দেখার তাগিদ অনুভব করিনি। আমরা সবাইকে সুযোগ দিয়েছি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আগামী ৮ মে প্রথম ধাপে ১৫০টি উপজেলায় নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক থাকছে না। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, মন্ত্রী-এমপিদের নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার না করতে। নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, কেউ কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না। এটা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, প্রশাসনও কোথাও কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না। নির্বিঘেœ ভোটদানের ব্যবস্থা করেছে নির্বাচন কমিশন।  উপজেলা নির্বাচনের একজন প্রার্থীকে অপহরণ করা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এত বড় একটা নির্বাচন, তাতে টুকটাক কিছু ঘটনা যে ঘটবে না, এমন তো ঘটেনি। তবে তা নিয়ন্ত্রণে আমরা কাজ করছি। কোথাও ব্যত্যয় ঘটলে প্রশাসনিকভাবে আমরা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি। জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা নির্বাচন বর্জনের আহ্বানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জামায়াতের আহ্বান নিয়ে কোনো প্রকার প্রতিক্রিয়া আমরা দিচ্ছি না। নেতানিয়াহু হিটলারের চেয়েও ভয়ংকর ॥ ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘হিটলারের চেয়েও ভয়ংকর রূপে আবির্ভূত হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের। ফিলিস্তিন-ইসরাইল যুদ্ধ নিয়ে তিনি বলেন, আজ সারা বিশ্বই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। মনে হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের যে দাম্ভিকতা, যুদ্ধংদেহী মনোভাব ছিল সেটা আবারও নতুন করে বিশ্ব রাজনীতিতে দেখতে পাচ্ছি।  তিনি বলেন, হিটলার যে হলোকাস্ট ঘটিয়েছিল ৬০ লাখ ইহুদি হত্যা করে, আজ সেই একইরূপে আবির্ভূত হয়েছে গাজায় গণহত্যার নায়ক ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। এই নেতানিয়াহু জাতিসংঘকে মানে না, হোয়াইট হাউসকে তোয়াক্কা করে না। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথা শোনে না। সে হিটলারের চেয়েও ভয়ংকর রূপে আবির্ভূত হয়েছে। ১৪ হাজার শিশুকে গাজায় ইতোমধ্যে হত্যা করে ফেলছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ইরানের আক্রমণের পর যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো ইসরাইলকে শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু নেতানিয়াহু আবারও ইরানে আক্রমণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে মনে হয় বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে শক্তিধর ব্যক্তি হচ্ছেন নেতানিয়াহু। আপন ইচ্ছায় চলেন, যা খুশি করেন। যাকে ইচ্ছা তাকে মারেনও। ভাতে মারেন, পানিতে মারেন, এয়ার স্ট্রাইক করে মারেন। এটা পৃথিবীর ভয়ংকর চিত্র। তার দাপট মনে হয় হিটলারকেও ছাড়িয়ে যাবে। বাংলাদেশ গণতন্ত্র সূচকে পিছিয়েছে বলে সম্প্রতি দাবি করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমি মান্যবর রাষ্ট্রদূতকে বলব, আপনার দেশ গণতন্ত্র সূচকে কত ধাপ পিছিয়েছে?’ দ্রব্যমূল্য সহনীয় অবস্থায় রাখতে প্রধানমন্ত্রী ‘বিরল এফোর্ড’ দিয়েছেন মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঈদে অর্থপ্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে আমাদের অর্থনীতি কিছুটা চাঙা হয়েছে।

বিএনপি ক্ষমতায় আসে নিতে, আওয়ামী লীগ দিতে

বিএনপি ক্ষমতায় আসে নিতে, আওয়ামী লীগ দিতে

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে দেশের জনগণকে কিছু দেওয়ার জন্য, আর বিএনপি আসে শুধুই নিতে। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে দেশের মানুষকে সব সময় কিছু দেয়। আর বিএনপি শুধু নেয়। আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণের পাশে থাকে এবং তাদের কল্যাণে কাজ করে।  বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে দলীয় নেতা-কর্মী, বিভিন্ন পেশাজীবী, বিচারক, বিদেশী কূটনীতিক এবং পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরে রবিবার বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ভিডিওবার্তায় দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী তাঁর দলকে ভোট দিয়ে বারবার ক্ষমতায় আনার জন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। একইসঙ্গে তাঁর নির্দেশে রমজান মাসে ইফতার পার্টি না করে জনগণের মধ্যে ইফতারসামগ্রী বিতরণ করায় দলীয় নেতাকর্মীদেরও প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রমজান মাসে বিএনপি এক হাজার ইফতার পার্টি করেছে এবং খাবার খেয়েছে আর আওয়ামী লীগ জনগণের মধ্যে ইফতারসামগ্রী বিতরণ করেছে। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে, দেশের মানুষকে সব সময় কিছু দেয়। দেশের মানুষের কল্যাণ করে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা এবং পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকেও দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, যারা আজ গণভবনে এসেছেন, তাদের জন্য সীমাহীন আনন্দ। ঈদ সবার জীবনে বয়ে আনুক আনন্দ। তিনি এ সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পথ অনুসরণ করে দেশবাসীর জন্য খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এ সময় জাতির পিতার কনিষ্ঠ কন্যা ও প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা এবং আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।  দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর ॥ রবিবার শুভ বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে এক শুভেচ্ছা বার্তায় (ভিডিও) দেশবাসীকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আসুন, নতুন বছরে অতীতের সকল ব্যর্থতা-দুঃখ-গ্লানি পেছনে ফেলে সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের লক্ষ্যে একযোগে কাজ করি। ভিডিও শুভেচ্ছা বার্তায় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে উদ্দেশ করে বলেন, বর্ষ পরিক্রমায় আবারও আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে নতুন বছর। আপনারা যারা দেশ-বিদেশে অবস্থান করছেন বাংরাদেশের সকল ভাইবোনকে জানাই বঙ্গাব্দ ১৪৩১-এর শুভেচ্ছা। শুভ নববর্ষ।  টানা চতুর্থবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কবি সুফিয়া কামালের ভাষায় উচ্চারণ করে বলেন- ‘পুরাতন গত হোক। যবনিকা করি উন্মোচন করি এসো হে নবীন/ হে বৈশাখ। নববর্ষ। এসো হে নতুন।’ শুভ নববর্ষ।  শহীদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ঈদের উপহার ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুর গজনবী রোডে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্র (মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১) এ বসবাসরত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ফলমূল ও মিষ্টি পাঠিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকু, উপ প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার, সহকারী প্রেস সচিব এবিএম সরওয়ার-ই-আলম সরকার এবং এসাইনমেন্ট অফিসার মুহাম্মদ আরিফুজ্জামান নূরনবী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ফল ও মিষ্টি পৌঁছে দেন। যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যরা এ সময় প্রতিটি রাষ্ট্রীয় দিবস ও উৎসবে যেমন স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, পবিত্র ঈদ এবং বাংলা নববর্ষের দিনে তাঁদের স্মরণ করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যগণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।  তাঁরা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনাই দেশকে সঠিক নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ ছাড়া কোনো সরকার সাধারণ মানুষ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য চিন্তা করেনি। তাঁরা বলেন, একমাত্র শেখ হাসিনার হাত ধরেই বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশে পরিণত হতে পারে। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

জেলে থাকা নেতাকর্মীর সংখ্যা নিয়ে মিথ্যাচার করছে বিএনপি

জেলে থাকা নেতাকর্মীর সংখ্যা নিয়ে মিথ্যাচার করছে বিএনপি

বিএনপি জেলে থাকা তাদের নেতাকর্মীর সংখ্যা নিয়ে মিথ্যাচার করছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ছিল ২০ হাজার এখন সেটা ৬০ লাখ হলো কী করে? বিএনপি মহাসচিবকে এ বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করে এই ৬০ লাখ বন্দির তালিকা প্রকাশ করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তালিকা প্রকাশ করুন, না হয় মিথ্যাচারের জন্য জাতির কাছে মির্জা ফখরুলকে ক্ষমা চাইতে হবে। সোমবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপিকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ দিবস। সেই দিনটিকে তারা অস্বীকার করে। ১০ এপ্রিল প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার গঠন হয়, সেটা অস্বীকার করে। স্বাধিকার আন্দোলনের মাইলফলক ৭ জুন অস্বীকার করে বিএনপি।

গণতন্ত্রের প্রতি বিএনপির দায়বদ্ধতা নেই

গণতন্ত্রের প্রতি বিএনপির দায়বদ্ধতা নেই

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, গণতন্ত্রের হত্যাকারীরা আজ যখন গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলে- তখন বুঝতে হবে, তাদের ভিন্ন উদ্দেশ্য আছে। এটা গণতন্ত্রের জন্য তাদের মায়াকান্না ছাড়া আর কিছু নয়। গণতন্ত্রের প্রতি বিএনপির কোনো দায়বদ্ধতা নেই। গণতন্ত্রের জন্য তাদের এই আহাজারি মূলত একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ড, হাওয়া ভবন-খোয়াব ভবনের অধিপতি, দুর্নীতি-সন্ত্রাস ও দুর্বৃত্তায়নের বরপুত্র তারেক রহমানের দুঃশাসনের যুগে দেশকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য। এদেশের গণতন্ত্রকামী দেশপ্রেমিক নাগরিক সমাজ এই অন্ধকারের অপশক্তির বিরুদ্ধে আজ ঐক্যবদ্ধ। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি নেতৃবৃন্দের মিথ্যাচার ও দুরভিসন্ধিমূলক বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এই বিবৃতি দেওয়া হয়। বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে বাংলাদেশ স্বপ্নের পথে যাত্রা শুরু করে।