ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১

বাংলাদেশ

বাংলাদেশ বিভাগের সব খবর

৭০ কেজি শসায় এক কেজি চাল!

৭০ কেজি শসায় এক কেজি চাল!

‘৭০ কেজি শসা বেচে ১ কেজি চাল কিনিবার হয়, ১ কেজি গরুর গোস্ত কিনিবার হইলে শসা বেচাবা হবে ২০ মণ। ৩০ টাকা মণ তাহো কাহো নিবার চাহে না। ঋণ করি শসা করি এলা দিশা দুয়ার পাউনা। খেতত শসা নষ্ট হছে তুলিবার মনটা চাহে না। তুলিবা গেইলেও তো শ্রমিকক ৫০০ টাকা মজুরি দিবা হবে। সার কীটনাশকের দোকানত বাকি। ভয়ত বাজার যাবা মনায় না।’  দারুন কষ্টে কথাগুলো বলছিলেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা হাফিজাবাদ ইউনিয়নের বিষমনি এলাকার শসা চাষি মালেকুল ইসলাম। তার মতো একই দশা জেলার হাজারো শসা চাষির। বাজার দর শূন্যে নেমে আসায় চরম হতাশায় কাটছে তাদের দিন।  চাষিরা জানান, এক মাসের ব্যবধানে পঞ্চগড়ে শসার দাম নেমে এসেছে ৩০ টাকা কেজি থেকে ১ টাকার নিচে। বর্তমানে প্রতি মণ শসা বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা দরে। কেজি পড়ছে ৭৫ পয়সা। এ যেন শায়েস্তা খাঁর আমল। দাম না থাকায় খেতেই পচছে অনেকের শসা। কৃষকের ঘামঝরা পরিশ্রমের বিনিময়ে উৎপাদিত শস্যের এই দশায় দিশেহারা চাষিরা। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে কাটছে হতাশার দিন। লাভের আশা বাদ, আসল তোলা নিয়েই রয়েছে বড় শঙ্কা।  চাষিরা জানান, এবার জেলার পঞ্চগড় উপজেলার হাফিজাবাদ, হাড়িভাসাসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় শসার চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পঞ্চগড়ে শসার বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে শসা চাষ করতে খরচ হয় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। ফলন অনুযায়ী প্রতি বিঘা জমি থেকে ২৫০ থেকে ৩০০ মণ শসা উৎপাদন হওয়ার কথা। কিন্তু হঠাৎই দামে বড় হোঁচট খেল চাষিরা। গত এক সপ্তাহ ধরে শসা বিক্রি হচ্ছে পানির দরে। অনেক চাষিই ধারদেনা করে লাভের শসা চাষ করেছিলেন।

তীব্র গরমে নোনা জল থেকে একদিনে লবণ, বাড়ছে উৎপাদন

তীব্র গরমে নোনা জল থেকে একদিনে লবণ, বাড়ছে উৎপাদন

তীব্র গরমে দেশে যখন হাঁসফাঁস অবস্থা, তখন লবণ উৎপাদন শিল্পে বিরাজ করছে ব্যাপক স্বস্তি। অর্থাৎ যত বেশি গরম, তত বেশি লবণ। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় দেশের সিংহভাগ লবণ উৎপাদন হয়ে থাকে। গত নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে লবণ উৎপাদন মৌসুম। শুরুতে পরিবেশ কিছুটা অনুকূলে ছিল না। কিন্তু পরবর্তীতে পুরোদমে লবণ উৎপাদন এগিয়ে যাচ্ছে। বিসিকের (বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন) লবণ প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, এবারের লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ২৫ লাখ টন। আর দেশে লবণের চাহিদাও রয়েছে সমপরিমাণ। ইতোমধ্যে ছয় মাসে ১৮ লাখ টনেরও বেশি লবণ উৎপাদনের পর মজুত হয়েছে।

পাগলা মসজিদে এবার মিলেছে ২৭ বস্তা টাকা

পাগলা মসজিদে এবার মিলেছে ২৭ বস্তা টাকা

জেলার ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের সিন্দুকে এবার ২৭ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। চলছে সেই টাকা গণনার কাজ। শনিবার সকাল সাড়ে ৭টায় জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ ও পুলিশ সুপার মো. রাসেল শেখের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এবার সাত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে টাকার পরিমাণ। এছাড়া, বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কারও পাওয়া গেছে। টাকা গণনার কাজে নিয়োজিত রূপালী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  সর্বশেষ এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গণনায় ৫ কোটি ২০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক কাজী মহুয়া মমতাজ বলেন, এবার অন্যবারের তুলনায় টাকা বেশি হবে। তাই গণনার কাজ মধ্যরাত পর্যন্ত চলতে পারে। প্রথমে নয়টি লোহার দানবাক্স খুলে মসজিদের দোতলায় নেওয়া হয় গণনার জন্য। এবার দিন বেশি হওয়ায় একটি ট্রাঙ্ক দেওয়া হয়েছিল। তিন মাস পরপর দানবাক্সগুলো খোলা হলেও এবার রমজানের কারণে ৪ মাস ১০ দিন পর বাক্সগুলো খোলা হয়েছে। অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে এবার নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। টাকা গণনার কাজে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মহুয়া মমতাজ, মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি খলিলুর রহমান ও রূপালী ব্যাংকের এজিএম রফিকুল ইসলাম, মসজিদ কমিটির সদস্য, মসজিদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ মোট ২২০ জনের একটি দল অংশ নেন।  এর আগে সর্বশেষ ২০২৩ সালের ৯ ডিসেম্বর খোলা হয়েছিল পাগলা মসজিদের নয়টি দানবাক্স। তখন রেকর্ড ৬ কোটি ৩২ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। এছাড়া, বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কারও পাওয়া যায়। ২০২৩ সালে মোট ৪ বার খোলা হয় পাগলা মসজিদের দানবাক্স। এতে মোট ২১ কোটি ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার ১৮১ টাকা পাওয়া যায়। টাকার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ হীরা, বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কারও পাওয়া। মসজিদের দান থেকে পাওয়া এসব অর্থ সংশ্লিষ্ট মসজিদসহ জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানার পাশাপাশি সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়।  করোনাকালে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৮০ স্বেচ্ছাসেবককেও অনুদান দেওয়া হয়েছিল এ দানের টাকা থেকে। সংশ্লিষ্টরা জানান, মসজিদটিতে এবার আন্তর্জাতিকমানের দৃষ্টিনন্দন ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে। যার নামকরণ হবে ‘পাগলা মসজিদ ইসলামিক কমপ্লেক্স’। এটি নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ কোটি টাকা। সেখানে ৬০ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন।

বিশেষজ্ঞ প্যানেল ও বারি’র বিজ্ঞানীদের মতবিনিময়

বিশেষজ্ঞ প্যানেল ও বারি’র বিজ্ঞানীদের মতবিনিময়

কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ প্যানেল ও বারি’র জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের মধ্যে মতবিনিময় কর্মশালা শনিবার মহাপরিচালকের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক জাতীয় কৃষি গবেষণা সিস্টেমের ‘ক’ তফসিলভুক্ত ৬টি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মান উন্নয়নের লক্ষ্যে এই বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠিত হয়। বারি’র মহাপরিচালক ড. দেবাশীষ সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সচিব ও বিএআরসি’র সাবেক নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. জহুরুল করিম, ব্রি’র সাবেক মহাপরিচালক ড. এনআই ভুঁইয়া, বিএসএমআরএইউ’র অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. আব্দুল হামিদ, ডিএই’র সাবেক মহাপরিচালক ড. রহিম উদ্দিন আহম্মেদ, বারি’র সাবেক মহাপরিচালক ড. মতিউর রহমান, বারি’র সাবেক পরিচালক (পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন) ড. সৈয়দ নুরুল আলম, বিএআরসি’র সদস্য পরিচালক (শস্য) ড. আবদুছ সালাম, বিএআরসি’র সদস্য পরিচালক (টিটিএমইউ) ড. সুরাইয়া পারভীন, বারি’র পরিচালক ড. তারিকুল ইসলাম, ড. ফেরদৌসী ইসলাম, ড. আব্দুল্লাহ ইউছুফ আখন্দ, ড. মুন্সী রাশীদ আহমদ, ড. আবু হেনা ছরোয়ার জাহান, ড. ছালেহ উদ্দিন, ড. এম এম কামরুজ্জামান এবং ড. মতিয়ার রহমান। এ ছাড়াও উক্ত মতবিনিময় কর্মশালায় বারি’র বিভিন্ন বিভাগ/কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সড়কে ইটভাঁটির মাটির স্তূপ ॥ ঘটছে দুর্ঘটনা

সড়কে ইটভাঁটির মাটির স্তূপ ॥ ঘটছে দুর্ঘটনা

ধামরাইয়ে বিভিন্ন এলাকায় অঞ্চলিক সড়কঘেঁষে রয়েছে অনেক ইটভাঁটি। এসব ভাঁটিতে ইট  তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো মাটি। এই মাটি ফসলি জমি থেকে কেটে এনে সড়কের পাশে স্তূপ করে রাখছেন মালিকরা। এসব স্তূপ থেকে কখনো কখনো মাটি সড়কের ওপর এসে পড়ছে। এতে সড়কের ধুলা বৃষ্টি হলে কাদার রাস্তায় পরিণত হচ্ছে। যে কারণে পথচারীদের ভোগান্তিসহ দুর্ঘটনার শিকার হতে হয় অটো-ভ্যান- মোটরসাইকেলসহ ছোটবড় যানবাহন চালকদের। সুতিপাড়া-নান্নার সড়ক, কালামপুর-সাটুরিয়া সড়ক, কাওয়ালীপাড়া- বালিয়া সড়ক, শ্রীরামপুর-সুয়াপুর সড়কের বেশ কিছু জায়গায় সড়কের পাশেই  দেখা যায় মাটির স্তূপ। সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রীরামপুর-সুয়াপুর আঞ্চলিক সড়কের ভাটারখোলায় গড়ে ওঠা এম জে এ ব্রিকস নামের ইটভাঁটির জন্য মাটি কেটে এনে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে সড়কের পাশে। সড়কেই ট্রাক দাঁড় করিয়ে মাটি আনলোড করার কারণে রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহন ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। আবার এ মাটির স্তূপের কারণে এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পথচারীদেরও পড়তে হচ্ছে দুর্ভোগে। প্রায়ই স্তূপ থেকে মাটি নিচের সড়কের ওপর এসে পড়ে ধুলায় পরিণত হচ্ছে আবার সামান্য একটু বৃষ্টি হলে এ ধুলা কাদায় পরিণত হয়। এতে ঘটতে পারে ছোটবড় দুর্ঘটনা। সিএনজি, অটোরিক্সা চালকরা জানান, বৃষ্টি না হলে ধুলা, আবার বৃষ্টি হলে কাদার রাস্তায় পরিণত হয়। আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি, যাত্রীরাও আতঙ্কে থাকে কখন দুর্ঘটনা ঘটে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার খান  আব্দুল্লা আল মামুন বলেন, এ বিষয়ে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেখানে গেলে তারা আগামী ৩ দিনের মধ্যে সরিয়ে  নেবে মর্মে মুচলেকা করেন। না হলে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা  গ্রহণ করা হবে মর্মে জানানো হয়েছে।

ভাইকে প্রার্থী করলেন এমপি

ভাইকে প্রার্থী করলেন এমপি

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নিজ ভাইকে প্রার্থী করে প্রচারে নেমেছেন বরিশাল-৬ আসনের এমপি আব্দুল হাফিজ মল্লিক। উপজেলা নির্বাচন থেকে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিদের আত্মীয়দের সরে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে নির্দেশনা না মানলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করার পর এবার চিঠি দিয়ে এবং সাংগঠনিকভাবে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।  বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে এমপির ভাই আব্দুল সালাম মল্লিকের পক্ষে কাজ করার জন্য আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। তার এই ঘোষণায় উপজেলায় সাধারণ নেতাকর্মীর মাঝে ক্ষোভ ও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। আগামী ৮ মে প্রথম ধাপে বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হবে।