ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৫ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

circluar
circluar
অগ্নিঝরা মার্চ

অগ্নিঝরা মার্চ

১৫ মার্চ, ১৯৭১। উত্তাল-অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে (পূর্ব পাকিস্তান) আসেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাদা রংয়ের গাড়িতে কালো পতাকা উড়িয়ে ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে দেখা করতে যান। ১৬ মার্চ শুরু হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব-ইয়াহিয়া খানের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক। স্বাধীনতার দাবিতে অটল থেকেই তিনি ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে আলোচনায় বসার বিষয়ে সংকল্পবদ্ধ।   অপরদিকে দেশবাসী তাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রস্তুতি নিতে থাকে। দেশবাসীকে তাদের অধিকার বঞ্চিত করার প্রতিবাদস্বরূপ শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীরা তাদের খেতাব বর্জন অব্যাহত রাখেন। চারদিকে শিল্পী এবং বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা যায়। শিল্পাচার্য জয়নুলের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে সাংবাদিক-সাহিত্যিক আবুল কালাম শামসুদ্দীন এবং অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী তাঁদের রাষ্ট্রীয় খেতাব বর্জন করেন।  একাত্তরের এইদিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক ক্যাম্পাসে দুজন ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করেন। এটিই ছিল বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে অসহযোগ আন্দোলন চলাকালীন একমাত্র পদত্যাগ।  বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে এ খেতাব বর্জনের বিষয়টি ব্যাপক সাড়া ফেলে। এদিন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সব শিল্পী, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীকে রাষ্ট্রীয় খেতাব বর্জনের আহ্বান জানান। দেশবাসী আরও বেশী উৎসাহ ও উদ্দীপনা পেয়ে নিজেদের সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত করতে থাকে। এ দিনের ঢাকা শহরে শিল্পী, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, সাহিত্যিক সবার সভা-সমাবেশ চলতেই থাকে।  একাত্তরের এদিনে অধ্যাপক আবুল ফজলের সভাপতিত্বে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান, সাংবাদিক নূর ইসলাম প্রমুখ। বুদ্ধিজীবীদের পাশাপাশি টেলিভিশন নাট্যশিল্পী সংসদ এদিন স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। তাদের সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আবদুল মজিদ। বক্তব্য রাখেন সৈয়দ হাসান ইমাম, ফরিদ আলী, শওকত আকবর, আলতাফ হোসেন, রওশন জামিল, আলেয়া ফেরদৌস প্রমুখ। শহীদ জননী জাহানারা ইমাম তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘একাত্তরের দিনগুলো’তে লিখেছেন, ‘... সিঁড়ির মুখ থেকে জামী চেঁচিয়ে ডাকল, মা, ভাইয়া, শীঘ্রই এসো, খবর শুরু হয়ে গেছে। টিভিতে শেখ মুজিবকে দেখাচ্ছে। হুড়মুড়িয়ে উঠে নিচে ছুটলাম। খবর খানিকটা হয়ে গেছে। শেখ মুজিবের গাড়িতে পতপত করে উড়ছে কালো পতাকা। দেখে প্রাণটা জুড়িয়ে গেল। প্রতিবাদের কালো পতাকা উঁচিয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় গিয়েছেন শেখ মুজিব। এর আগে কোনোদিনও পাকিস্তান সরকার বাঙালির প্রতিবাদের এই কালো পতাকা স্বীকার করে নেয়নি। এবার সেটাও সম্ভব হয়েছে।’ জাহানারা ইমাম সেই সময়কার বিবরণ দিতে গিয়ে আরও লিখেছেন, ‘... সারা দেশ স্বাধীনতার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে, ঢাকায়, রাজশাহীতে, চট্টগ্রামে- সবখানে এই দাবি তুলে শান্তিপ্রিয় বাঙালীরা আজ মরিয়া হয়ে ওঠে, লাঠি-সড়কি যা পাচ্ছে তাই হাতে নিয়ে ছুটে যাচ্ছে গুলির সামনে। ঘরে ঘরে নিজের হাতে বোমা, পটকা, মলোটভ ককটেল বানিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছে প্রতিপক্ষের ওপর।’ একই দিন ঢাকা শহরের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শহরেও সভা, সমাবেশ, মিছিল, মিটিং চলতে থাকে। এদিনে নেত্রকোনায় স্ইুপার ও ঝাড়ুদাররা ঝাড়ু, দা, লাঠি ও কোদাল নিয়ে মিছিল বের করে। বগুড়া, খুলনা, রংপুর, লাকসাম, কুমিল্লা ও কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে স্বাধীনতার স্বপক্ষে মিছিল-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

‘নাহিদ আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে’

‘নাহিদ আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে’

ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ২৪ রান খরচায় ৫ উইকেট শিকার করেন বাংলাদেশি পেসার নাহিদ রানা। দ্বিতীয় ম্যাচে টাইগাররা হারলেও বল হাতে একটি উইকেট নেন নাহিদ। ২৩ বছর বয়সী এই গতি তারকার পারফরম্যান্স দেখে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবেন বলে মন্তব্য করেছে জাতীয় দলের পেস বোলিং কোচ তালহা জুবায়ের। শনিবার মিরপুরে অনুশীলন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন এই কোচ। তালহা বলেন, ‘নাহিদ মূলত তার গতির ওপর বেশি নির্ভর করে, সুইংয়ের ওপর নয়। এই গতির সঙ্গে যদি সে সুইং যোগ করতে পারে, তবে সে বিশ্বের যে কোনো ব্যাটারের জন্যই আরও ভয়ঙ্কর বোলার হয়ে উঠবে।’ নাহিদ রানার ফিটনেস নিয়ে তিনি বলেন, ‘একজন পেস বোলার যখন টানা সাত ওভারের একটি স্পেল করে, তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। নাহিদ রানা এই মুহূর্তে খুবই ফিট। আমি বলব, জাতীয় দলে এখন সবার চেয়ে নাহিদ রানাই সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ফিট আছে।’ ম্যাচে নাহিদকে দিয়ে পুরো ১০ ওভার বল না করানো নিয়ে ভক্তদের মনে প্রশ্ন থাকলেও এর যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন কোচ। তালহা বলেন, ‘অনেকেই বলছেন নাহিদ রানা ১০ ওভার কেন করল না? আসলে তখন ১০ ওভার করার প্রয়োজন ছিল না।’

বিরতি শেষে আসিফের ‘ভুল’

বিরতি শেষে আসিফের ‘ভুল’

দীর্ঘ বিরতি শেষে আবারও নতুন গান নিয়ে ফিরছেন বাংলা গানের যুবরাজ আসিফ আকবর। তবে এবারের ফেরার পেছনে রয়েছে বিশেষ আবেগ। নিজের অডিও ক্যারিয়ারের সূচনালগ্ন যে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে, সেই সাউন্ডটেক থেকেই ঈদে আসছে তার নতুন গান ‘ভুল’। সম্প্রতি গানটির রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে।  ফয়সাল রাব্বিকীনের কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন রেজোয়ান শেখ। গানটির মিউজিক ভিডিও পরিচালনা করছেন সৈকত রেজা। আসিফ আকবর বলেন, ‘ভুল’ শিরোনামের গানটির মাধ্যমেই অনেক দিন পর নতুন গানের রেকর্ডিংয়ে ফিরলাম। কথা, সুর ও সংগীত সব মিলিয়ে কাজটি মনের মতো হয়েছে। আমার বিশ্বাস, গানটি প্রকাশ পেলে শ্রোতাদের ভালো লাগবে। গীতিকবি ফয়সাল রাব্বিকীন বলেন, দীর্ঘদিন পর আসিফ ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হলো। ইচ্ছা ছিল মনের মতো কথামালা দিয়ে একটি গান তৈরি করার, সেটি করতে পেরেছি। আসিফ ভাই নিজেও গানটি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত। জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাউন্ডটেকের ব্যানারে মিউজিক ভিডিওসহ মুক্তি পাবে আসিফ আকবরের এই নতুন গান। গানটির কথা অনেকটা এরকম- ‘ভাবিনি কখনো আসবে দিন, থাকব আমি তোমায় ছাড়া, দুটি পথ হায় দুদিকে যাবে, হয়ে যাব ছন্নছাড়া’।

শ্রম ইস্যুতে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র

শ্রম ইস্যুতে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র

পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশ যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে দেশগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানায়। এর আগে গত বুধবার উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও অতিরিক্ত উৎপাদন করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে দেশটি। ইউএসটিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১(বি) ধারা অনুযায়ী নতুন এ তদন্ত করা হবে। এতে দেখা হবে, পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রমের ব্যবহার থাকলে সেই পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইন, নীতি ও বাস্তব প্রয়োগ কতটা যুক্তিযুক্ত বা বৈষম্যমূলক। একই সঙ্গে যাচাই করা হবে, এসব নীতি বা অনুশীলন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের ওপর কোনো ধরনের বোঝা বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে কি না। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ঐকমত্য থাকা সত্ত্বেও সরকারগুলো তাদের বাজারে জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সেগুলো কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

বাণিজ্য ঘাটতি ১৩.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে

বাণিজ্য ঘাটতি ১৩.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত ব্যালান্স অব পেমেন্ট-এর (বিওপি) সর্বশেষ তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে আমদানি বেড়ে যাওয়া ও রপ্তানি কমে যাওয়ার কারণে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি আরও বেড়েছে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৩.৮০ বিলিয়ন ডলারে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১১.৭৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাতের প্রভাব এই তথ্যে এখনো প্রতিফলিত হয়নি। অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি কমেছে। গত অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ২৬.৩৭ বিলিয়ন ডলার, যা চলতি অর্থবছরের একই সময়ে কমে দাঁড়িয়েছে ২৬.০৯ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে আমদানি ব্যয় ৩৮.১১ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩৯.৮৯ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, বাণিজ্য প্রবাহের পরিবর্তনের কারণেই মূলত এই ঘাটতি বাড়ছে। ‘আমদানি বাড়া ও রপ্তানি কমার কারণে মূলত বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে।   রেমিটেন্সে ভর করে কমেছে চলতি হিসাবে ঘাটতি ॥ বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও আলোচ্য সময়ে দেশের চলতি হিসাবের (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) ঘাটতি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে চলতি হিসাবে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৮১ মিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১.৩৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রেমিটেন্সের প্রবাহ বাড়ার কারণে চলতি হিসাবে ঘাটতি আগের চেয়ে কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, জুলাই-জানুয়ারি সময়ে দেশে রেমিটেন্স এসেছে ১৯.৪৩ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময় এর পরিমাণ ছিল ১৫.৯৬ বিলিয়ন ডলার।