ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ১৪ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

রিশাদ-মিরাজের ভেল্কির পর আফ্রিদির তাণ্ডব

শাকিল আহমেদ মিরাজ

প্রকাশিত: ২৩:৩৬, ১৩ মার্চ ২০২৬

রিশাদ-মিরাজের ভেল্কির পর আফ্রিদির তাণ্ডব

বিশ্ব ক্রিকেটের বড় ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ এক দল পাকিস্তান, যাদের নিয়ে পূর্বানুমান অসম্ভব। এমন অননুমেয় তকমায় বাংলাদেশও অবশ্য কম যায় না। মিরপুরে দুটি ম্যাচেই দেখা  গেল সেই চিত্র। তিন মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে মাত্র ১১৪ রানে গুঁড়িয়ে ৮ উইকেটের বিশাল জয়ে রেকর্ড ৫ উইকেট নিয়ে নায়ক বনে যান নাহিদ রানা। সেই শেরেবাংলা স্টেডিয়ামেই শুক্রবার দ্বিতীয় ম্যাচে বিপরীত দৃশ্য। দুহাতে রান বিলিয়ে হতাশ করলেন পেসাররা। আবার একটা সময় যখন মনে হচ্ছিল, পাকিস্তান সাড়ে তিনশ’ রান করে ফেলবে, সেখানে ৪৭.৩ ওভারে তাদের ২৭৪ রানে গুটিয়ে দিয়েছে টাইগার স্পিনাররা। ৯.৩ ওভারে ৫৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন। ১০ ওভারে ২ মেডেন, ৩৪ রানে মেহেদি হাসান মিরাজের শিকার ২টি। তবে সালমান আগাকে দৃষ্টিকটুভাবে রান আউট করে আলোচনায় বাংলাদেশ অধিনায়ক। জবাব দিতে নেমে শুরুতেই পাক পেসারদের তোপের মুখে পড়ে স্বাগতিকরা। সাইফ হাসান ১২, তানজিদ তামিম ১ ও নাজমুল হোসেন শান্ত ০ রানে সাজঘরে ফিরলে পঞ্চম ওভারে ১৫ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
তানজিদ ও শান্তকে ফিরিয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক আফ্রিদি। আরেক পেসার মোহাম্মদ ওয়াসিমের শিকার সাইফ। রাতে এ রিপোর্ট লেখার সময় বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ ছিল। উড়ন্ত শুরুর পর ১৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে হঠাৎ এলোমেলো হয়ে যায় পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন। সেখান থেকে সালমান আলী আগা এবং মোহাম্মদ রিজওয়ানের ব্যাটে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে সফরকারীরা। কিন্তু সালমান রান আউট হয়ে ফিরলে এই জুটি ভাঙে। এই রান আউট নিয়েই চলছে তর্ক-বিতর্ক। পাকিস্তানের ৩৮ তম ওভারের ঘটনা। মিরাজের করা সে ওভারের চতুর্থ বলটি ফ্লিক করেন রিজওয়ান। বল চলে যাচ্ছিল নন স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা সালমানের দিকে। কিছুটা দৌড়ে বল ধরার জন্য যাচ্ছিলেন মিরাজ। সালমানও বল তুলে স্বাগতিক অধিনায়ককে দেওয়ার চেষ্টায় ছিলেন। কিন্তু তার আগেই মিরাজ বল তুলে স্টাম্প ভাঙেন। তখন পপিং ক্রিজের বাইরে ছিলেন সালমান। আবেদন করতেই টিভি রিপ্লে দেখে আউট দেন থার্ড আম্পায়ার। যেটা মেনে নিতে পারেননি সালমান; মাঠেই অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তিনি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে লিটন দাসের সঙ্গে তর্কও হয় সালমানের। পরিস্থিতি শান্ত করেন রিজওয়ান। মাঠ ছাড়ার সময় রাগে নিজের হেলমেট ও গ্লাভস ছুঁড়ে বাউন্ডারি লাইনের বাইরে ফেলে দেন সালমান। এই আউটে পাকিস্তানের ১০৯ রানের জুটি ভাঙে। ৬২ বলে ৬৪ রান করেন সালমান। শুরু হয় পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে ছন্দপতন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আইন প্রণয়নকারী মেরিলিবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসির) ধারা ৩৮.১-এ লেখা,‘বল চলাকালীন যে কোনো সময় কোনো ব্যাটার যদি তার সীমানার বাইরে থাকেন এবং ফিল্ডারের সরাসরি অংশগ্রহণে উইকেট সঠিকভাবে ভাঙা হয়, তবে তিনি রান আউট বিবেচিত হবেন। এমনকি ‘নো বল’ ডাকা হলেও এটি কার্যকর হতে পারে (ধারা ৩৮.২. ২.২ এর পরিস্থিতি ছাড়া) এবং ব্যাটার রান নেওয়ার চেষ্টা করেন বা না করেন তাতে কিছু যায়-আসে না।’ মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা। ম্যাচ চলাকালীন ধারাভাষ্যে তিনি বলেন,‘টেকনিক্যাল দিক থেকে এবং ক্রিকেটের আইন অনুযায়ী তিনি আউট ছিলেন। কিন্তু খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব? আমার মনে হয় সেটি বড়সড় একটি ধাক্কা খেয়েছে।’ মিরপুরে এদিনও টস জিতে ফিল্ডিং নেন মিরাজ। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন পাকিস্তানি ওপেনার সাজ সাদাকাত। মাত্র ৩১ বলে ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। সাহিবজাদা ফারহানকে নিয়ে উদ্বোধনী জুটিতেই ১০৩ রান যোগ করেন সাদাকাত।
ইনিংসের ১৩তম ওভারে ব্যক্তিগত ৭৫ রানে (৪৬ বল) সাদাকাতকে ফিরিয়ে ব্রেক-থ্রু এনে দেন অধিনায়ক মিরাজ। তাঁর ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৫টি ছক্কার মার। সাদাকাতের বিদায়ের পর দ্রুত ফেরেন ফারহান (৩১) ও শামিল হুসাইন (৬)। তবে চতুর্থ উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন অভিজ্ঞ মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আগা। এই জুটি থেকে আসে গুরুত্বপূর্ণ ১০৯ রান। সালমান ৬৪ ও রিজওয়ান ৪৪ রান করে আউট হওয়ার পরই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের লোয়ার অর্ডার। বাংলাদেশি বোলারদের তোপে দাঁড়াতে পারেননি পাকি লেজকাটা ব্যাটাররা।

প্যানেল / জোবায়ের

×