ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এক হয়েছে ৮ মুসলিম দেশ

প্রকাশিত: ১২:৫০, ১২ মার্চ ২০২৬

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এক হয়েছে ৮ মুসলিম দেশ

রমজান মাসে টানা ১২ দিন আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আটটি আরব ও মুসলিম দেশ। কাতার, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানান।

বুধবার প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, পূর্ব জেরুজালেমের পুরোনো শহর এবং বিভিন্ন উপাসনালয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। দেশগুলো মনে করছে, আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখার এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অবৈধ এবং অযৌক্তিক।

এ ছাড়া আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি বাহিনীর উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং মুসল্লিদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপেরও কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দখলকৃত জেরুজালেম কিংবা সেখানে অবস্থিত ইসলামি ও খ্রিস্টান পবিত্র স্থানগুলোর ওপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌম অধিকার নেই। আল-আকসা মসজিদের পুরো এলাকা মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত বলেও উল্লেখ করা হয়।

যৌথ বিবৃতিতে আল-আকসা মসজিদের প্রশাসনিক দায়িত্বের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, মসজিদটির দেখভাল ও পরিচালনার আইনগত দায়িত্ব জর্ডানের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন জেরুজালেম ওয়াকফ বিভাগের ওপর ন্যস্ত।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে আল-আকসা মসজিদের ফটক খুলে দিতে হবে এবং জেরুজালেমের পুরোনো শহরে প্রবেশের ওপর আরোপিত সব বিধিনিষেধ তুলে নিতে হবে, যাতে মুসল্লিরা বাধাহীনভাবে নামাজ আদায় করতে পারেন। একই সঙ্গে চলমান এই পরিস্থিতি বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপও কামনা করা হয়।

অন্যদিকে ইসরায়েলের দাবি, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থা হিসেবেই এসব সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এ পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনিদের অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। হামাসও আল-আকসা বন্ধ রাখাকে ধর্মীয় স্বাধীনতার গুরুতর লঙ্ঘন এবং একটি বিপজ্জনক নজির বলে মন্তব্য করেছে।

এ.এইচ

×