ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

এবার ক্যালিফোর্নিয়ায় সরাসরি হামলার প্রস্তুতি সম্পন্ন ইরানের

প্রকাশিত: ১২:৫৮, ১২ মার্চ ২০২৬

এবার ক্যালিফোর্নিয়ায় সরাসরি হামলার প্রস্তুতি সম্পন্ন ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর পরিস্থিতি কার্যত সংঘাতময় রূপ নিয়েছে। এর জবাবে ইরান ইতোমধ্যে অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলি বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য ক্যালিফোর্নিয়াকে ঘিরে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির সতর্কবার্তা দিয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা Federal Bureau of Investigation (এফবিআই)। বুধবার (১১ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ABC News।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এফবিআইয়ের কিছু নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য ড্রোন হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।

গোয়েন্দা তথ্য বলছে, সমুদ্রে অবস্থান করা কোনো অজ্ঞাত জাহাজ থেকে ড্রোন উড়িয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হতে পারে। যদিও সম্ভাব্য হামলার সময় বা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি, তবু যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন বিষয়টিকে সম্ভাব্য ‘হঠাৎ হামলার’ ঝুঁকি হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে।

এই সতর্কবার্তা এমন এক সময় সামনে এলো, যখন প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে তেহরানের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন লস অ্যাঞ্জেলেসে এফবিআইয়ের এক মুখপাত্র। একইভাবে হোয়াইট হাউস থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সম্প্রতি আরেকটি বিষয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মেক্সিকান মাদক চক্রগুলোর মধ্যে ড্রোন ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে এবং সীমান্ত এলাকায় এই প্রযুক্তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহারের আশঙ্কাও রয়েছে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত একটি গোয়েন্দা বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়, একটি অসমর্থিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে মেক্সিকান কার্টেল নেতারা যুক্তরাষ্ট্র–মেক্সিকো সীমান্তে মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছেন।

অন্যদিকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করেছে ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন। অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর Gavin Newsom–এর দপ্তর জানিয়েছে, তারা স্থানীয় ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে লস অ্যাঞ্জেলেস শেরিফ বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও উপাসনালয়গুলোতে নিরাপত্তা টহল বাড়িয়েছে।

এদিকে চলমান সংঘাত বন্ধের বিষয়ে তিনটি শর্ত সামনে এনেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian। বুধবার রাশিয়া ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার সময় তেহরান এই শর্তগুলো তুলে ধরে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উসকানিতে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ইরানের তিনটি শর্ত মেনে নিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের বৈধ অধিকার স্বীকৃতি দেওয়া, সাম্প্রতিক হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসন না চালানোর বিষয়ে বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা দেওয়া।

তিনি এই সংঘাতের জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেন এবং একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতি ইরানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

এ.এইচ

×