ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরে হামলা

ওয়াহেদ রাজু

প্রকাশিত: ১৭:৪৮, ১১ মার্চ ২০২৬

মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরে হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দীর্ঘ উত্তেজনার পর মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে ইরান শুরু করেছে তাদের বহুল আলোচিত ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর সর্বশেষ এবং সবথেকে ধ্বংসাত্মক পর্যায়। মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই প্রলয়ঙ্করী অভিযানে আকাশপথে শত শত ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টিতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো অঞ্চল।

তেল আবিব ও হাইফায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি
ইরানের আইআরজিসি (IRGC)-এর জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে অভিযানের ৩৭তম ঢেউ পরিচালিত হয়েছে। টানা তিন ঘণ্টার এই মাল্টিলেয়ারড হামলায় ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। প্রধান লক্ষ্যবস্তুগুলো ছিল:

তেল আবিব: শহরের প্রাণকেন্দ্র এবং উপকণ্ঠে অবস্থিত বের ইয়াকুভ সামরিক ঘাঁটিটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে।

দক্ষিণ তেল আবিব: এই অঞ্চলে অবস্থিত ইসরায়েলের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রে দ্বিতীয়বারের মতো সফল আঘাত হেনেছে তেহরান।

হাইফা বন্দর: দখলকৃত হাইফা বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতেও আছড়ে পড়েছে বিধ্বংসী সব প্রজেক্টাইল।

মার্কিন নৌবহর ও ঘাঁটিতে সরাসরি আঘাত
ইরানের এই ‘প্রতিশোধের আগুন’ থেকে বাদ পড়েনি মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনকৃত মার্কিন বাহিনীও। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী:

বাহরাইন: মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিট (5th Fleet) সদর দপ্তর লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে।

ইরাকি কুর্দিস্তান: কুর্দিস্তানের বিলে অবস্থিত অত্যন্ত সংবেদনশীল মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে সরাসরি আঘাত হেনেছে আইআরজিসি।

লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগর: লোহিত সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এবং ভারত মহাসাগরে অবস্থানরত বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকন ও একটি ডেস্ট্রয়ারকে লক্ষ্য করে হাইপারসোনিক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

ব্যবহৃত মারণাস্ত্রের শক্তি
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই অভিযানে তাদের সবথেকে শক্তিশালী অস্ত্রশস্ত্র মোতায়েন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে:

খাইবার সেকান ও খোরামসার: ধ্বংসাত্মক ক্ষমতার জন্য পরিচিত এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুকে মুহূর্তেই ধুলোয় মিশিয়ে দিতে সক্ষম।

কাদের মিসাইল: প্রতিটি ‘কাদের’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় এক টন ওজনের মাল্টিপল ওয়ারহেড বহন করছিল।

ফাত্তাহ ও এমাদ: হাইপারসোনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ব্যবহার করা হয়েছে তেল আবিব ও বেদশেমেশ এলাকায়।

তেহরানের কড়া বার্তা
মঙ্গলবার সকালেও এই লড়াই থামার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যতক্ষণ না পর্যন্ত ইরানের মাটি থেকে যুদ্ধের ছায়া ও বিদেশি আগ্রাসন সম্পূর্ণ দূর হচ্ছে, ততক্ষণ এই অপারেশন বন্ধ হবে না। পবিত্র আল-কুদস থেকে শুরু করে ইসরায়েলের প্রযুক্তি হাব বেরশেবা—শত্রুপক্ষের কোনো স্থাপনাই এই প্রতিশোধ থেকে রেহাই পাবে না।

রাজু

×