ছবি: সংগৃহীত
ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলা রহস্যের অবসান ঘটিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোতে যে খবর ছড়িয়েছিল, তাকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্টের ছেলে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং বর্তমানে তিনি একটি নিরাপদ স্থানে থেকে স্বাভাবিকভাবেই রাষ্ট্রীয় ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত দাপ্তরিক কার্যাবলি পরিচালনা করছেন।
কিছুদিন ধরে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছিল যে, যুদ্ধের শুরুর দিকেই মার্কিন-ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মোজতবা খামেনির পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে তাঁর পিতা আলী খামেনির মৃত্যুর পর দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে তাঁকে জনসমক্ষে দেখা না যাওয়ায় এই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। তবে প্রেসিডেন্টের পরিবারের পক্ষ থেকে এই দাবিকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
ইরানের সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, আকাশপথে হামলার ঝুঁকি থাকায় এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোজতবা খামেনি বর্তমানে একটি সুরক্ষিত স্থান থেকে শাসন ব্যবস্থা তদারকি করছেন। তাঁর সুস্থতা নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই এবং সঠিক সময়েই তিনি দেশবাসীর সামনে সরাসরি উপস্থিত হবেন। মূলত জনমনে তৈরি হওয়া উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তা কাটাতেই এই আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে আনা হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের এই চরম মুহূর্তে শীর্ষ নেতার আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে শত্রু পক্ষ ইরানি জনগণের মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তেহরান এই ধরনের তথ্য প্রবাহকে একটি ‘মনস্তাত্ত্বিক লড়াই’ হিসেবে দেখছে। প্রেসিডেন্টের পরিবারের সরাসরি এই বিবৃতি ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং অপপ্রচার রুখতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতি এখনও চরম উত্তেজনাপূর্ণ হলেও তেহরান এই বার্তার মাধ্যমে বিশ্বকে স্পষ্ট জানিয়ে দিল যে, তাদের নতুন নেতৃত্ব অটুট ও সক্রিয় রয়েছে। মোজতবা খামেনির নেতৃত্বেই ইরান বর্তমান সংকট মোকাবিলায় তাদের সামরিক ও রাজনৈতিক কৌশল সাজাচ্ছে।
এফএ








