ছবি: দৈনিক জনকণ্ঠ।
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় গত পাঁচ মাস ধরে অভিভাবকহীন অবস্থায় রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই পদে স্থায়ী কোনো কর্মকর্তা না থাকায় উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা), কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েকশ সুফলভোগী ও জনপ্রতি
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কার্যালয়ের মূল সাইনবোর্ডে সাবেক কর্মকর্তার নাম থাকলেও চেয়ারটি ৫ (পাঁচ) মাস ধরে শূন্য। মধ্যনগর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সপ্তাহে দুই দিন ধর্মপাশায় বসেন। তবে তার মূল কর্মস্থল মধ্যনগর হওয়ায় এবং সেখানেও কাজের চাপ থাকায় ধর্মপাশার প্রকল্পগুলোর সঠিক তদারকি ও ত্বরিত সিদ্ধান্ত নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ফলে জরুরি ফাইলে স্বাক্ষর ও প্রকল্পের তদারকি কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ধর্মপাশা উপজেলার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত পিআইও না থাকায় গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (টিআর), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ও কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) সহ বিভিন্ন প্রকল্পের ফাইল অনুমোদনে বিলম্ব হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি জানান, কর্মকর্তা নিয়মিত না থাকায় জরুরি প্রয়োজনে তাকে পাওয়া যায় না। প্রকল্পের মাস্টার রোল জমা দেওয়া এবং বরাদ্দের চেক সংগ্রহ করতে গিয়ে তাদের বারবার ফিরে আসতে হচ্ছে। কর্মকর্তা না থাকায় মাঠ পর্যায়ের তদারকি ঠিকমতো হচ্ছে না, যার ফলে কাজের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সপ্তাহে মাত্র দুই দিন আসায় অনেক সময় ফাইল জমা দিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এতে সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের গতি ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ধর্মপাশা উপজেলায় একজন স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হোক, যাতে উপজেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও প্রশাসনিক কাজে পূর্ণ গতি ফিরে আসে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান জানান, দুই উপজেলার দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করা কষ্টকর হচ্ছে। তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন সেবা পৌঁছে দিতে। ঊর্ধ্বতনের সাথে কথা বলেছি নতুন একজনকে দেওয়ার জন্য।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হাসিবুল হাসান ডিও জানান, শূন্য পদের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, সে যোগদান করেনাই। আশা করা যাচ্ছে দ্রুতই স্থায়ী কর্মকর্তা নিয়োগের মাধ্যমে এই সংকট দূর হবে।
এম.কে








