ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ

প্রকাশিত: ১৮:৫৭, ১১ মার্চ ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ

ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার মোতাবেক দরিদ্র পরিবারের জন্য সামাজিক নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সরকারের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ একটি চমৎকার উদ্যোগ। প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার এ সিদ্ধান্ত দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আমাদের বিশ্বাস। সরকার জানিয়েছে, পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১৩টি জেলার নির্দিষ্ট কিছু ওয়ার্ডে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে এই ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে। যা নারীর ক্ষমতায়নের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের জন্য জেলা, উপজেলা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, শিক্ষা, আয়-ব্যয়, সম্পদ এবং জীবনযাত্রার মান বিবেচনায় এনে নির্বাচন করা হয়েছে উপকারভোগী। একই সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেইস তৈরি করা হচ্ছে, যাতে একজন ব্যক্তি একাধিক ভাতা না নিতে পারে। এই প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। 
সামাজিক সুরক্ষায় জাতি, ধর্ম-বর্ণ-গোত্র, দল-মত নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি প্রান্তিক নাগরিক যেন পর্যায়ক্রমে এই কার্ডের আওতাভুক্ত হয়ে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। তবে বাস্তবতা হলো, স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীকালে পর্যায়ক্রমে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ এখনও ন্যূনতম অর্থনৈতিক নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত। এই বাস্তবতায় নারীপ্রধান দরিদ্র পরিবারের জন্য সরকার যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করতে যাচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগ। শহুরে কিংবা  গ্রামীণ সমাজে নিম্নআয়ের নারীরা প্রায়ই অর্থনৈতিক ও সামাজিক চরম বৈষম্যের  শিকার হন। কখনো কখনো এমনও দেখা যায়, স্বামী পরিত্যক্ত নারীদের কাঁধেই সন্তানসহ পুরো পরিবারের দায়িত্ব বর্তায়, যা এক দুর্বিষহ জীবনযুদ্ধ। এই কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নারীকে পরিবারপ্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। নারীর হাতে সাহায্য পৌঁছানো মানে  পুরো পরিবারের খাদ্য, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক গবেষণায়ও দেখা যায়, নারীর হাতে দেওয়া আর্থিক সহায়তা সাধারণত পরিবারের কল্যাণেই ব্যয় হয়। 
অতীতে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি কিংবা প্রশাসনিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যম সূত্রে আমরা জানতে পারি, দেশের কোথাও কোথাও কতিপয় পেশাদার দুর্বিত্ত দলীয় পরিচয়ে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে প্রান্তিক নারীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছে। তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি দিতে হবে।যদি এই কার্ড সত্যিকার অর্থে একটি সমন্বিত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় পরিণত হয়, তবে তা বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে। আমরা মনে করি, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি অসহায় মানুষের জীবনে আশার আলো জ্বালাবে। তবে প্রকৃত সুফল পেতে প্রয়োজন সুষ্ঠু বাস্তবায়ন, জবাবদিহি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। রাষ্ট্রের সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতিফলন হিসেবে এই উদ্যোগ যেন সত্যিকার অর্থেই প্রান্তিক মানুষের জীবনে পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে আসে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

প্যানেল/মো.

×