ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

ভিজিএফ চাল কার্ড নিয়ে দন্দ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে পিটুনি 

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর, রাজশাহী

প্রকাশিত: ১৯:৫৪, ১১ মার্চ ২০২৬

ভিজিএফ চাল কার্ড নিয়ে দন্দ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে পিটুনি 

রাজশাহীর দুর্গাপুরে সরকারি ভিজিএফ চালের পছন্দমত তালিকা দিয়ে কার্ড না পাওয়ায় নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত)  চেয়ারম্যান আজাদ আলী সরদার (৬২) পথরোধ করে মারধোর করছেন পরিষদের সাবেক মেম্বার অনুসারীরা। 

১১ মার্চ (বুধবার)  দুপুর দেঁড়টার দিকে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের এ ঘটনা। পরে স্থানীয় লোকজন ইউপি চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নেন। মারধোরের শিকার চেয়ারম্যান আজাদ আলী সরদার নওপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর নান্দিগ্রাম ওয়ার্ড  বিএনপির সভাপতি। 

নওপাড়া ইউনিয়নের ৭নম্বর শ্যামপুর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম বলেন, শ্যামপুর ওয়ার্ডে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে চেয়ারম্যান কার্ডের তালিকা দিয়েছেন। এই তালিকা অনুযায়ী চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এতে এই ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার রেজাউল ও বিএনপি নেতা আফাজের পছন্দ না হওয়া চেয়ারম্যান রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় পথরোধ করে তারা মারধোর করেন।

এদিকে অভিযুক্ত নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার ও শ্যামপুর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মারধোরের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, কার্ড করতে চেয়ারম্যান আজাদ আলী সরদার আমার কাছে থেকে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। এজন্য রাস্তায় ধরে চেয়ারম্যানকে মারধোর করছি আমরা।

নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজাদ আলী সরদার বলেন, পরিষদ থেকে ইউএনও কার্যালয়ে যাওয়ার পথে পথে শ্যামপুর গ্রামে পথরোধ করে সাবেক মেম্বার রেজাউল, আফাজ, বিপ্লব, বেলাল সহ আরো ৫ থেকে ৭জন মিলে আমাকে এলোপাতাড়ি মারধোর শুরু করেন। এসময় আমার কাছে থাকায় দপ্তরের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয় তারা। তাদের কাছে টাকা দাবি করেছি এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট কথা। তাহলে কেন আপনাকে তারা মারধরো করলো জানতে চাইলে চেয়ারম্যান আরও বলেন, সরকারি ভিজিএফ কার্ড পেতে সাবেক মেম্বার রেজাউলসহ ওরা কয়েকজন মিলে ২৪০ জনের নামের একটি তালিকা আমার কাছে দেয়। আমি তাদের আবদার পুরুণ করতে পারিনি। এজন্য আমাকে মারধোর করেছে।

দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, হাসপাতাল থেকে চেয়ারম্যান ফোন দিয়ে ছিলেন। আমি চিকিৎসার নেওয়ার পর থানায় আসতে বলেছি। 

এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাশতুরা আমিনা বলেন, ঘটনার পর চেয়ারম্যান আমাকে  বিষয়টি জানিয়েছেন। আমি নিয়ম অনুযায়ী তাকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছি।

 

রাজু

×