ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

গাছ কাটতে গিয়ে ধরা পড়ল চক্র, আদালতের নির্দেশে কারাগার

নিজস্ব সংবাদদাতা, চুয়াডাঙ্গা

প্রকাশিত: ২১:২০, ১১ মার্চ ২০২৬

গাছ কাটতে গিয়ে ধরা পড়ল চক্র, আদালতের নির্দেশে কারাগার

ছবি: জনকণ্ঠ

চুয়াডাঙ্গার শিবনগরে গাছ চুরির অপরাধে ৪ জনকে জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার তাদেরকে দামুড়হুদার আমলি আদালতে নিলে আদালতের বিচারক জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পরান ঢালী আসামিদের জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

মঙ্গলবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ তাদেরকে গাছ চুরির অপরাধে গ্রেপ্তার করে।

জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলার শিবনগরে ব্যক্তি মালিকানাধীন ১৮ বিঘা জমির একটি আমবাগানে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে একদল দুর্বৃত্ত প্রায় ১১ লাখ ২৮ হাজার টাকার ১১০টি গাছ চুরি করে কেটে নিয়ে যায় এবং কিছু আম গাছের ডাল ক্ষতি সাধন করে।

এ ঘটনায় জমির মালিক দামুড়হুদার চন্দ্রবাস গ্রামের মৃত মওলা বকসের ছেলে বাহালুল হক বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৮/১০ জনের বিরুদ্ধে দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, দামুড়হুদার শিবনগর ডিসি ইকো পার্কের সামনে মামলার বাদীর প্রায় ১৮ বিঘা জমিতে মেহগনি, লম্বু, আমসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের বাগান আছে। গত ৯ মার্চ আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে গোপন সূত্রে খবর পান কে বা কারা গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। পরবর্তীতে বাদী বাগানে গিয়ে গাছ কাটার কারণ জিজ্ঞাসা করলে আসামিরা গালি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরবর্তীতে থানায় এসে মামলা দায়ের করেন।

এ মামলায় অন্য আসামিরা হলেন দামুড়হুদার বোয়ালমারি গ্রামের মৃত তৈয়বের ছেলে মজনু (৬০), চন্দ্রবাস গ্রামের দুরুনের ছেলে ছানোয়ার (৪৫), মুন্সিপুর গ্রামের রফিকুল (৪৫), চন্দ্রবাস গ্রামের সুলতানের ছেলে তরিকুল (৩৫), মৃত কাজেমের ছেলে নজির (৫০), শিবনগর গ্রামের জালালের ছেলে রহমান (৪০) এবং অজ্ঞাত ৮/১০ জন।

বাদীর মামলায় এজাহারভুক্ত উল্লেখিত ১০ আসামির মধ্যে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন— শহরের পৌর এলাকার মুক্তি পাড়ার মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের চুয়াডাঙ্গা শাখার ম্যানেজার করিমুজ্জামান ওরফে মিঠু (৫৫), কোর্টপাড়ার মৃত হায়দার আলীর ছেলে বকুল শেখ (৫১), দামুড়হুদা উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের সুরত আলী মণ্ডলের ছেলে নজরুল ইসলাম (৬৫) এবং একই গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে ওসমান আলী (৪৫)। আসামিদের বিরুদ্ধে ৪৪৭/৩৭৯/৪২৭/৫০৬/৩৪ পেনাল কোডে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

চুরি যাওয়া গাছগুলোর মধ্যে রয়েছে— ১৫টি মেহগনি, ৫টি লম্বু, ১৮টি কচালম্বু, ২টি একাশি এবং ৭০টি বাঁশ। যার দাম আনুমানিক ৯ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। এছাড়া আম গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের ডাল ভেঙে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে।

দামুড়হুদা মডেল থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক শুভজিৎ পাল বলেন, চুরি হওয়া গাছ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এ মামলায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদেরকে জেল কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এছাড়াও এজাহারভুক্ত বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।

শহীদ

×