ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

ভূমি হারানোর শঙ্কায় হাজারো পরিবার

তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন

নুরুল্লাহ ভূইয়া, চরফ্যাশন, ভোলা

প্রকাশিত: ২২:১৫, ১১ মার্চ ২০২৬

তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন

চরফ্যাশনে বাবুরহাট লঞ্চঘাট সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

চরফ্যাশনে বাবুরহাট লঞ্চঘাট সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতাসহ একটি অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে। এতে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নদী রক্ষা বাঁধ বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে নদী ভাঙনে ভিটে বাড়ি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে নজরুল নগর ও মুজিবনগর ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নজরুলনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরহাট লঞ্চঘাট সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদী থেকে দিনের আলোতেই চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। এসব বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে অন্তত ৭ থেকে ৮টি বিশালাকার ড্রেজার জাহাজ। যা দিয়ে প্রতিনিয়ত নদীর তলদেশ থেকে বালু তোলা হচ্ছে। এতে নদীর তলদেশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে এবং নদী শাসনের জন্য ফেলা কংক্রিট ব্লকগুলো ধীরে ধীরে নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে।
বাবুরহাট ঘাটের ব্যবসায়ী রিয়াজ হোসেন, সমাজকর্মী জাহিদ হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তিরা জানান, নজরুলনগর ইউনিয়নের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।  নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ড্রেজার চালক জানান, প্রতিটি ড্রেজার জাহাজ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার টাকা করে চাঁদা নিয়েই অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করেন এই সিন্ডিকেট। বাবুরহাট লঞ্চঘাট এলাকার আনিসুর রহমান জুলফিকার বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদী শাসনের জন্য ফেলা বড় বড় ব্লকগুলো ধীরে ধীরে নদীর গভীরে তলিয়ে যাচ্ছে।

এতে করে আমাদের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।”স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী হাসান মুন্সি বলেন, “ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশে বড় বড় গর্ত তৈরি হচ্ছে। সামনে বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙন তীব্র হলে নজরুলনগর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। 
উপকূলীয় সামাজিক সংগঠন রাইটস ফর কোস্টাল পিপল এর মহাসচিব উপাধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল সবুজ বলেন, নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় অবৈধ উপায়ে বালি উত্তোলনের ফলে ভাঙ্গনরোধী ব্লক নদীর গভীরে তলিয়ে গিয়ে আরো ভাঙ্গন সৃষ্টি হবে। নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের জন্য এ যেন “মরার উপর খাড়ার ঘা”। প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া অনুরোধ করছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভোলা-২ এর উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী নিয়াজ মোরশেদ বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর চিঠি প্রদান করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এমাদুল হোসেন বলেন, অসাধু চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে মর্মে এলাকাবাসীর কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে চক্রকে ধরতে কয়েকবার অভিযান চালিয়েছি, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই  চক্রটি পালিয়ে যায়। আরো অভিযান চালাবো। না পেলে এদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হবে ।

প্যানেল হু

×