ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

জাবি শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং ও হুমকির অভিযোগ

প্রকাশিত: ২৩:৩৮, ১১ মার্চ ২০২৬

জাবি শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং ও হুমকির অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অনলাইনে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার, সাইবার বুলিং ও হুমকির অভিযোগ তুলে প্রক্টর বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়েরই ইংরেজি বিভাগের ৫১ তম ব্যাচের এক নারী শিক্ষার্থী।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম গোলাম রব্বানী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিভাগের ৫০তম আবর্তনের (তৃতীয় বর্ষ) শিক্ষার্থী এবং শেখ রাসেল হলের আবাসিক ছাত্র।

অভিযোগকারী শিক্ষার্থী জানান, সম্প্রতি গোলাম রব্বানী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে বিশ্ববিদ্যালয় ও এর পরিবেশ নিয়ে একটি নেতিবাচক পোস্ট করেন।

ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ইংরেজি বিভাগের ওই শিক্ষার্থী যৌক্তিক ও মার্জিতভাবে নিজের ভিন্নমত প্রকাশ করেন।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ওই মন্তব্যের পর অভিযুক্ত গোলাম রব্বানী ক্ষিপ্ত হয়ে অত্যন্ত অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ এবং আক্রমণাত্মক ভাষায় পাল্টা মন্তব্য করেন। সেখানে নারী শিক্ষার্থীকে লক্ষ্য করে সরাসরি গালিগালাজ এবং হুমকি প্রদান করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তার অভিযোগপত্রে বলেন, ‘একজন নারী শিক্ষার্থী হিসেবে এই ধরনের আচরণ আমাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে।

এটি স্পষ্টতই সাইবার বুলিং এবং অনলাইন হয়রানি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার পরিপন্থী।’ লিখিত অভিযোগের সাথে প্রমাণের কপি (স্ক্রিনশট) সংযুক্ত করা হয়েছে। তার নিরাপত্তা ও মর্যাদার স্বার্থে সুষ্ঠু তদন্ত এবং যথাযথ বিচার দাবি জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী লামিসা জামান, The Ugly নামক পেইজ চালানো এইযে ক্যাম্পাসের টিকটকার বা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর প্রকাশ্যে একটা ক্যাম্পাসের নারী শিক্ষার্থীর রীতিমতো ধর্ষণের হুমকি দিলো, তা ক্যাম্পাসের নারী শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের মনে ভীতির সৃষ্টি করে।

তিনি আরো জানান, এই লোককে আমরা আগেও দেখেছি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে অতিরঞ্জিত মিথ্যাচার জড়িত কন্টেন্ট বানাতে, যা ক্যাম্পাসের ভাবমূর্তির জন্য ও ক্ষতিকর। প্রশাসনের কাছে আজকের ব্যাপারে অভিযোগ গেলে তারা এখনো কিছুই জানায়নি এ ব্যাপারে। আমরা আশা করবো এমন নোংরা মানসিকতা সম্পন্ন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধ প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নিবে।

অভিযোগকারী শিক্ষার্থী কালেরকন্ঠকে জানায়, তিনি দুপুরে একটি অভিযোগপত্র নিয়ে প্রক্টর অফিসে গেলে প্রক্টর এ. কে. এম. রাশিদুল আলম তাকে জানান ফেসবুক সংক্রান্ত ইস্যু বিশ্ববিদ্যালয় খুব একটা আমলে নেয় না। পরবর্তীতে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত কে ডাকা হবে বলে জানান তিনি।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী গোলাম রব্বানী জানান, আমার ফেসবুক পেজে একটা পোস্টে  উনি এগ্রেসিভ কমেন্ট করেন, যার উত্তরে আমি এসব বলেছি। আমি ব্যাক্তিগতভাবে উনাকে চিনি না। উনাকে উদ্দ্যেশ্যমূলক ভাবে আমি কিছুই বলিনি। আমি শুধুমাত্র উনার মন্তব্যের উত্তর দিয়েছিলাম।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আবেদনটি গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী এমন কোনো ফেসবুক সংক্রান্ত আইন নেই। তবুও আগামীকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মিটিং আছে সেখানে তিনি এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন এবং খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।

মিমিয়া

×