আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের লা গ্যালারিতে বুধবার শিশুদের আঁকা চিত্রকর্মে সাজানো আর্ট ফর হোপ শীর্ষক প্রদর্শনীর ছবি দেখছেন দর্শনার্থী
তারা সকলেই সুবিধাবঞ্চিত শিশু। সমাজের আর দশটা শিশুর পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা জোটে না তাদের কপালে। তাই বলে থেমে নেই তাদের স্বপ্ন। আগামী দিনের সম্ভাবনাকে সঙ্গী করে সেই সব অনগ্রসর শিশু রঙিন পেন্সিল আর তুলির আঁচড়ে এঁকেছে সবুজ-শ্যামলে আবৃত গ্রাম ও গ্রামীণ জীবনচিত্র, কেউবা ক্যানভাসে মেলে ধরেছে আগামী দিনের রঙিন স্বপ্ন। আর সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মনের এই অব্যক্ত কথা আর সৃৃজনশীল প্রতিভাকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে রাজধানীতে শুরু হলো এক বিশেষ চিত্রকর্ম প্রদর্শনী। একশনএইড বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে এবং আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার সহযোগিতায় দুই দিনব্যাপী চলমান এ শিল্পায়োজনের শিরোনাম ‘আর্ট ফর হোপ’।
বুধবার বসন্ত বিকেলে ধানম-ির আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার গ্যালারিতে এই প্রদর্শনীর সূচনা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মারিয়াম নাসরীন আফসানা, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, খ্যাতিমান অভিনেতা ও চিত্রশিল্পী আফজাল হোসেন এবং প্রখ্যাত কার্টুনিস্ট ও মুরাল শিল্পী মোরশেদ মিশু।
এবারের প্রদর্শনীর অন্যতম বিশেষত্ব হলো ‘হ্যাপি হোম’-এর ২০ বছর পূর্তি উদ্যাপন। গত দুই দশক ধরে যেসব মেয়েশিশু প্রতিকূল বাস্তবতাকে জয় করে নিরাপদ আশ্রয় ও শিক্ষার সুযোগ পেয়েছে মূলত তাদেরই মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে এই প্রদর্শনী। উৎসবমুখর আয়োজনটিতে তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে একশনএইড-এর ‘শিশু বিকাশ কেন্দ্র’র ক্ষুদে শিল্পীরাও।
প্রদর্শনীতে ঠাঁই পাওয়া প্রতিটি ছবির মাঝে উঠে এসেছে এক একটি জীবনের গল্প। যেখানে মিশে আছে শিশুদের দেখা চারপাশের পৃথিবী, দৈনন্দিন চ্যালেঞ্জ আর বাধা পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অদম্য সাহস। অনেক শিশু এমন পরিবেশে বড় হয় যেখানে সৃজনশীলতা বিকাশের সুযোগ সীমিত, কিন্তু একটু সঠিক যতœ আর নিরাপদ পরিবেশ পেলে তারাও যে অনন্য সাধারণ কিছু সৃষ্টি করতে পারে, ‘আর্ট ফর হোপ’ তারই এক উজ্জ্বল প্রমাণ।
উৎসবমুখর এই আয়োজনে শিশুদের আঁকা ছবির মাধ্যমে দর্শনার্থীরা এক অন্যরকম পৃথিবীর দেখা পাবেন, যেখানে প্রতিকূলতার চেয়ে আশার জয়গানই বড় হয়ে ধরা দিয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার শেষ হবে এই প্রদর্শনী। বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে।
এক নজরে হ্যাপি হোম ॥ একশনএইড বাংলাদেশ ২০০৬ সাল থেকে ‘হ্যাপি হোম’ প্রকল্পের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক মেয়েদের জন্য একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করে আসছে। গত ২০ বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা মেয়ে-শিশুদের আবাসন, মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জীবন দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করাই এর মূল কার্যক্রম। হ্যাপি হোমের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে থাকা শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে তাদের আত্মবিশ্বাসী ও আত্মমর্যাদাবান নাগরিক হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা।
প্যানেল হু








