ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ০২ মার্চ ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০

ভিন্নখবর

তিন আন্ডারপাসে বদলে গেছে দৃশ্যপট

তিন আন্ডারপাসে বদলে গেছে দৃশ্যপট

নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রবেশ পথ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিঙ্করোডের ব্যস্ততম তিনটি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নির্মিত তিনটি আন্ডারপাস বদলে দিয়েছে এসব এলাকার দৃশ্যপট। হারিয়ে গেছে যানজট। স্বস্তি পেয়েছে যাত্রী, যানবাহন চালক, শ্রমিক, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ফতুল্লার শিবু মার্কেট, জালকুড়ি ও ভুঁইঘর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এক সময়ে প্রতিনিয়ত যাত্রীরা যানজটের অস্বস্তিতে থাকত। বিগত ৩-৪ মাস ধরে যানজটের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়ে স্বস্তিতে আছেন যাত্রী, পথচারী, যানবাহন চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। সওজ কর্তৃপক্ষের দাবি আনুমানিক সতেরো কোটি টাকা ব্যয়ে শিবু মার্কেট, জালকুড়ি ও ভুঁইঘর বাসস্ট্যান্ডে নির্মিত হয়েছে তিনটি আন্ডারপাস।

ভিন্নখবর বিভাগের সব খবর

অনিয়ন্ত্রিত মেলায় উগ্রতা অসহিষ্ণুতা

অনিয়ন্ত্রিত মেলায় উগ্রতা অসহিষ্ণুতা

বাণিজ্যমেলা এটি নয়। বইমেলা। বাঙালির ভাষা আন্দোলনের অমর স্মৃতি আয়োজনটির সঙ্গে খুব করে জড়িয়ে আছে। অথচ কী কান্ড ! একুশের সেই ভাবগাম্ভীর্য কোথাও তো চোখে পড়ছেই না, উপরন্তু এক ধরনের উদাসীনতা-অবহেলা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বায়ান্নর ইতিহাস মনে করিয়ে দিতে পারে বা জং ধরা উপলব্ধিতে একবার টোকা দিতে পারেÑ তেমন কোনো উপস্থাপনা মেলার কোথাও চোখে পড়ে না। একসময় ভাষা আন্দোলনের অবিনাশী চেতনা এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে উজ্জীবিত পড়ুয়া বিদগ্ধ শ্রেণিটিই ছিল মেলার প্রাণ। ঘুরে ফিরেই দেখা হয়ে যেত খ্যাতিমান লেখক কবি প্রকাশক সাংবাদিক শিক্ষাবিদ চিন্তাবিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বা বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় নিমগ্ন থাকা মানুষজনের সঙ্গে। একটা সুবাতাস তাই সব সময় বইত। নতুন বইয়ের খোঁজখবর নেওয়া, পছন্দ অনুযায়ী কেনা, গল্প-আড্ডা জমানোÑ সবই হতো পরিশীলিত উপায়ে। আয়োজক বাংলা একাডেমিরও এসবের ওপর শক্ত নিয়ন্ত্রণ ছিল। কিন্তু এখন মেলাটি কার তা বোঝার কোনো উপায় নেই। বাংলা একাডেমি চত্বর বা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অপাঠক অপ্রকাশকদের আঁখড়াবাড়িতে পরিণত হয়েছে। এখানে এসে যার যা খুশি করতে পারছে। মেলার ভেতরে এবং চারপাশে যেন হাট বসেছে। বারোয়ারি চেহারা পেয়েছে মেলা।     বইপ্রেমী মানুষের পাশাপাশি বই থেকে, চিন্তা থেকে, বিদ্যা-বুদ্ধির চর্চা থেকে বিচ্যুত অনেক মানুষ ঝাঁকেঝাঁকে মেলায় আসছে এখন। না, তাতে বাধা নেই। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু প্রবণতা অস্বস্তি উদ্বেগ দুটোই বাড়িয়ে দিয়েছে। দেখা যাচ্ছে অনেক উগ্র উচ্ছৃঙ্খল মানুষ মেলায় ঢুকে এর পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিনষ্ট করছে। হৈ হুল্লোড় করছে। অকারণে ছোটাছুটি করছে। যে পথ ধরে এরা যায়, পঙ্গপালের মতো যায়। লক্ষ্য করে দেখা গেছে, আসলে এরা স্কুল-কলেজের অপেক্ষাকৃত কম বয়সী ছেলে-ছোকরা। সারাক্ষণ মোবাইল ফোনে মৌলবাদের বিষ গিলে গিলে  বিভ্রান্ত এক প্রজন্ম। ফেসবুক ইউটিউব দেখে তার ভিত্তিতে মনগড়া সত্য বা মিথ্যা রচনা করছে তারা। সে অনুযায়ী ক্রিয়া করছে। প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। এই প্রতিক্রিয়াশীলদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে বইমেলা। এখানে তারা বাধাহীনভাবে অসুন্দর অসহিষ্ণুতা উগ্রতা ছড়াচ্ছে। এমনকি মেলায় এসে যাকে পছন্দ না তাকে টার্গেট করে অপদস্থ করছে। বের করে দিচ্ছে। একাধিকবার বড় আকারে এমন ঘটনা ঘটায় উদ্বিগ্ন সুশীল সমাজ। তারা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে আরও বড় দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। এমন নিয়ন্ত্রণহীন কী করে হয় একুশের বইমেলা!  এ প্রসঙ্গে হতাশা ব্যক্ত করেছেন বিপুল জনপ্রিয় লেখক শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। স্বভাবসুলভ কোমল কণ্ঠেই কঠিন কথা বলেছেন তিনি। তার ভাষায়, বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষের স্বাধীনভাবে থাকার অধিকার আছে। যাকে আমি পছন্দ করি তার থাকার অধিকার আছে। যাকে পছন্দ করি না তারও সমানভাবে থাকার অধিকার আছে। কেউ যেন বিচারক না হয়ে যায়। কারও লেখা ভালো না হলে পাঠক পড়বে না। অন্যায় কিছু হলে আইনের আশ্রয় নেবে। কিন্তু মেলায় এসে গায়ের জোরে কিছু করা যাবে না বলে সতর্ক করে দেন তিনি।     প্রকাশকরাও মেলার সাম্প্রতিক প্রবণতা দেখে ক্ষুব্ধ। নিজের প্যাভিলিয়নে বসে আগামী প্রকাশনীর কর্ণধার ওসমান গনি বলছিলেন, মেলায় অপাঠক বেশি ভিড় করছে। নতুন নতুন বিশৃঙ্খলার মূলে তারা। আবার এ কথাও না বললে নয় যে, মেলায় অপাঠকদের মতো আছে অপ্রকাশকও। অপ্রকাশকই বেশি। জ্ঞাননির্ভর সৃজনশীল মননশীল বইয়ের প্রকাশক একশ’র বেশি হবে না। অথচ ফটোকপির দোকানদারও মেলার সময় স্টল নিতে চলে আসছে। এরা চটুল বই প্রকাশ করে ছোট ছোট ছেলেমেয়েকে বিকশিত হওয়ার পথ রুদ্ধ করে দিচ্ছে। ফেসবুকনির্ভর বই এবং পাঠক ঘিরেই বেশি উচ্ছৃঙ্খলা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, কখনো কখনো বোঝার উপায় থাকে না মেলার নিয়ন্ত্রণ আসলে কার হাতে!  একই প্রসঙ্গে অ্যাডর্ন পাবলিকেশন্সের সিইও সৈয়দ জাকির হোসাইন আরও একটু গভীরে গিয়ে বলেন, আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের মগজে-মননে মানুষ রাখছি না। তার প্রভাব পড়ছে সমাজে। মেলায়ও পড়বে এটাই স্বাভাবিক। এই ধরনের ভিড় হট্টগোল টাকা পয়সা দিয়ে কেউ করাতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। মেলায় আসা প্রকাশনার মান প্রসঙ্গে বলেন, এবারের মেলা বইমেলার আভিজাত্য হারিয়েছে। তার অভিযোগ, অনেক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি প্রকাশক সেজে মেলায় আছে। তার অভিযোগ, এই মৌসুমি প্রকাশকরা বেশি দামি কাগজ ইত্যাদি ব্যবহার করে বইয়ের দাম বাড়িয়ে ‘ফুটানি’ করছে। ‘ফুটানি’ করলে বইয়ের কন্টেন্ট দিয়ে করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।       এবারের মেলায় যাওয়া আসা করে রীতিমতো ক্ষুব্ধ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং লেখক গোলাম কুদ্দুছ। তিনি বলছলেন, মেলাটা আসলে বেহাত হয়ে গেছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিশাল বিশাল অফিস করা হয়েছে মেলায়। দেখে মনে হতে পারে ক্যান্টনমেন্ট। অথচ মেলায় যে সে ঢুকে মাস্তানি করতে পারছে। উগ্রতা প্রদর্শন করতে পারছে। পুলিশ বা র‌্যাব নির্বিকার। মেলাটাকে চারপাশ থেকে গিলে খাচ্ছে দোকানপাট। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর লাভ না থাকলে এসব হতে পারত না। বাংলা একাডেমিরও দায় আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।  মজার বিষয় হচ্ছে, প্রায় সব অভিযোগ সত্য বলে স্বীকার করে নিয়েছেন মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব কে এম মুজাহিদুল ইসলামও। তবে দায় নিতে রাজি হননি। তিনি বলেন,  মেলাটিকে আমারও হাট বাজারই মনে হয়। বিনোদনকেন্দ্র হয়ে গেছে। কিন্তু অমরা কত করব? মেলায় বিশৃঙ্খলা হচ্ছে, দেখার  তো কথা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর। আমি ওই সব উচ্ছৃঙ্খল ছেলেদের ভিডিয়ো করে পুলিশের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। উচ্ছৃঙ্খলতার একটি ঘটনার জন্য মিজান পাবলিশার্সকেও দায়ী করেন তিনি।       বইয়ের মান এবং অপ্রকাশক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একাডেমির আরও অনেক কাজ আছে। আলাদা সম্পাদনা পরিষদও নেই যে বইয়ের মান দেখবে। প্রকাশকরা কী করেন? ১১ মাসের জঞ্জাল নিয়ে অনেকে মেলায় ঢুকছেন। তারা নিজেরা কেন দেখেন না বিষয়টা? প্রশ্ন রাখেন তিনি।  নির্বাচিত বই ॥ অমর একুশে বইমেলার ২৬তম দিনে মেলায় নতুন বই এসেছে ২৪৬টি। এখন পর্যন্ত আসা বইগুলোর মধ্যে বিভিন্ন বিবেচনায় ৫টি বইকে আমরা আলাদা করেছি। মাওলা ব্রাদার্স থেকে এসেছে সুমন সাজ্জাদের বই ‘তুলনামূলক সাহিত্য মৃত্যুর মিথ বনাম বাস্তবতা।’ বিষয় বৈচিত্র্যের কারণে সাধারণ পাঠকেরও বইটি ভালো লাগতে পারে। আগামী বের করেছে ‘মুক্তিযুদ্ধের ছোটগল্পে রীতি-নির্মিতি।’ আরজুমান্দ আরা বানুর বই। মুক্তিযুদ্ধকে উপজীব্য করে লেখা ছোটগল্পের ওপর একটা বিশ্লেষণ এখানে পাবেন পাঠক। পাঠক সমাবেশ প্রকাশ করেছে ‘প্লেটো জীবন ও দর্শন।’ লেখক আমিনুল ইসলাম ভুইয়া। প্লেটোর ওপর অনেক বই থাকলেও পাঠক সমাবেশের কিছু বই সহজ করে লেখা। বিষয়ও সুনির্বাচিত। আগ্রহীরা সংগ্রহে রাখতে পারেন।   মেলায় এসেছে দুই বাংলার বিখ্যাত ১৫ কবিতার জন্মকথা নিয়ে লেখা ব্যতিক্রমী বই ‘যেভাবে লেখা হলো বিখ্যাত কবিতা।’ বছরের পর বছর ধরে পাঠকের মুখে মুখে ফেলে এমন ১৫ কবির ১৫টি কবিতার প্রেক্ষাপট বইতে তুলে ধরা হয়েছে। বইটি সম্পাদনা করেছেন কবি মাহমুদ শাওন। প্রকাশ করেছে পুন্ড্রু প্রকাশনী। ঐহিত্য থেকে মেলায় এসেছে মহিউদ্দিন আহমদের বই ‘তেহাত্তরের নির্বাচন।’ বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই নির্বাচনের খুঁটিনাটি নিয়ে গবেষণামূলক গ্রন্থই বলা যায় এটিকে। অবশ্য এটি বিরোধীদের চোখ দিয়ে দেখা। সরকার বিরোধী হিসেবে পরিচিত গণকণ্ঠ পত্রিকা বইটির মূল উৎস। মূল্য  ৭০০ টাকা।

বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ  মোকাবিলা

বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ  মোকাবিলা

সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের অর্থনীতির কথা বলতে গেলে উঠে আসে মূল্য, ডলার সংকট, হুন্ডি, বৈদেশিক মুদ্রার  রিজার্ভ কমে যাওয়া, আর্থিক খাতের বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও বৈষম্য প্রসঙ্গ। সংবাদপত্র ও টিভির টকশোতেও এসব বিষয় নিয়ে নিয়মিত আড্ডা দেখা যায়। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি অবস্থা। এছাড়াও অর্থনীতিতে রয়েছে নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জ। চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে মূল্য নিয়ন্ত্রণে আনা, ডলার বাজারে স্থিতিশীলতা আনা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি করা,  রেমিটেন্স বৃদ্ধি, রপ্তানি বাজার ঠিক রাখা, অর্থপাচার, সিন্ডিকেট দমন, ব্যাংক খাতের সংস্কার ও জ্বালানি তেলের সরবরাহ ঠিক রাখা। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রতিবেদনেও বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান পাঁচটি ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়। এখানে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে জ্বালানি স্বল্পতা কে চিহ্নিত করা হয়েছে।  অন্য ঝুকি গুলো হল  উচ্চমূল্য, প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া, সম্পদ ও আয় বৈষম্য, সরকারি ঋণ বেড়ে যাওয়া ও বেকারত্ব। শিল্প খাতের বড় সমস্যা হলো চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ না থাকা।  ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলো প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছে না । একই সঙ্গে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির কারণে শিল্পের উৎপাদন খরচ বাড়ছে।

রাতের বৃষ্টিতে  জলাবদ্ধতা,  ছন্দপতন

রাতের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, ছন্দপতন

শুরু থেকেই মোটামুটি এক ছন্দে চলছিল সব কিছু। কিন্তু এ পর্যায়ে এসে বাগড়া দিল বৃষ্টি। বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রথমবারের মতো বৃষ্টি হানা দেয় মেলায়। তারপর রাতে অবিরাম বর্ষণ। কয়েক দফা বর্ষণে মেলা প্রাঙ্গণ ভিজে একাকার। আয়োজক বাংলা একাডেমি প্রতিকার কিছু করতে পারেনি। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। অমর একুশে বইমেলার ২৩তম দিনে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘুরে দেখা গেছে, এখানে পানি-ওখানে কাদা। বিশেষ করে উদ্যান অংশে ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল অনেক কিছু। মাঠে অগণিত মানুষের বিচরণের ফলে ঘাস উঠে গিয়েছিল আগেই। ন্যাড়া মাঠে বৃষ্টি পড়তেই কাদা হয়ে গেছে মাটি। কাদায় পা পিছলে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও দেখা গেছে মেলায়।

চট্টগ্রামে কমছে মাছ ও সবজির দাম, মাংস ঊর্ধ্বমুখী

চট্টগ্রামে কমছে মাছ ও সবজির দাম, মাংস ঊর্ধ্বমুখী

সবজি ও মাছের দাম কমতে শুরু করেছে চট্টগ্রামে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে স্থিতিশীল কাঁচাবাজার। মাছের দামও ক্রমান্বয়ে কমছে। তবে মাংসের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় বিপাকে সাধারণ ক্রেতারা। চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন বাজার ও অলিগলির দোকানে প্রতি কেজি ফার্মের মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকায়। একেকটি মুরগির ওজন দেড় কেজি বা তার চেয়ে বেশি হওয়ায় অনেকের চাহিদা থাকলেও সামর্থ্য নেই। ক্রেতারা ক্ষোভ জানিয়ে বলেছেন, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় পকেট কাটছে সিন্ডিকেট। ভ্রাম্যমাণ আদালত ছাড়া মুরগির দাম কমবে না।  শুক্রবার চট্টগ্রামের রেয়াজুদ্দিন বাজার, বক্সিরহাট, ফিরিঙ্গিবাজার ঘুরে দেখা গেছে, আপাতত সিন্ডিকেটের রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত মাছ-সবজি। কিন্তু বিপরীত অবস্থা মাংসের দামে। চট্টগ্রামে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৯শ’ টাকায়। অপরদিকে ছাগলের মাংসের কেজি ১ হাজার ১৫০ টাকা। কবুতরের জোড়া ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা। দেশি মুরগির কেজি ৫৫০ থেকে ৬শ’ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৪০ টাকা।  অপরদিকে সামুদ্রিক, নদী ও পুকুরের মাছের প্রাচুর্য বৃদ্ধি পাওয়ায় কমেছে রুই, কাতলা, বাইলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের। ছোট আকারের পোয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৮০ টাকা থেকে ২শ’ টাকায়। আকারে মাঝারি পোয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজি ৩শ’ টাকায়, রূপবান পোয়া বিক্রি হচ্ছে কেজি ৩২০ টাকায়, ছোট কোরাল মাছের কেজি সাড়ে ৪শ ও মাঝারি ৫শ টাকা। চিংড়ি আকার ও মানভেদে সাড়ে ৫শ’ থেকে সাড়ে ৮শ’, রূপচান্দা ৫শ’ থকে ৮শ’, রুই মাছ (৫শ গ্রাম ওজন) কেজি ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে এক কেজি ওজনের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়। এ ছাড়া কাতলা মাছের কেজি ৩২০ টাকা। ছুরি মাছ ৩শ’, প্রতি কেজি সামুদ্রিক বাইলা (আমদানি করা) ২৮০ টাকা , মাগুর ৫শ’, কই মাছ আড়াইশ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে শীত মৌসুম শেষ হয়ে এলেও পর্যাপ্ত পরিমাণে রঙিন সবজির জোগান রয়েছে বাজারগুলোতে। প্রতি কেজি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। বাঁধাকপি কেজি ২০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া কেজি ৩৫-৪০ টাকা, আলুর কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, পেঁয়াজ পাতার কেজি ২০, গাজরের কেজি ২০, টমেটো ৩০ এবং শসা ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  সবজি বিক্রেতারা জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গ থেকে প্রতিদিন সবজিবাহী ট্রাক ঢুকছে রেয়াজুদ্দিন বাজারে। চাহিদার তুলনায় জোগান ভালো থাকায় সবজির দাম নাগালে মধ্যে। ফিশারিঘাটের মাছের আড়তদাররা জানিয়েছেন, সাগরের আবহাওয়া অনুকূল। এ জন্য সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ বেড়েছে। এ অবস্থা থাকলে দাম আরও কমতে পারে। তবে মাংসের দাম নিয়ে ক্ষুব্ধ নগরীর বাসিন্দারা। তারা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মুরগির বাজার নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন।