ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

দাপুটে জয়ে সিরিজ শুরু টাইগারদের

শাকিল আহমেদ মিরাজ

প্রকাশিত: ০০:৩৫, ১২ মার্চ ২০২৬

দাপুটে জয়ে সিরিজ শুরু টাইগারদের

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বুধবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৫ উইকেট নিয়ে সতীর্থদের সঙ্গে মাঠ ছাড়ছেন টাইগার পেসার নাহিদ রানা

তিন মাস পর নিজেদের আঙিনায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। সম্প্রতি ভারতের ভূরাজনীতির ফাঁদে পড়ে বাংলাদেশ টি২০ বিশ্বকাপ থেকে বঞ্চিত হলে যারা পাশে দাঁড়িয়েছিল প্রতিপক্ষ সেই পাকিস্তান। কেউ কেউ বলছেন, বাংলাদেশই পাকিস্তানের ফাঁদে পড়েছিল! সব মিলিয়ে বুধবার মিরপুরে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ঘিরে ছিল অন্যরকম আবহ। নাহিদ রানার আগুন ঝড়নো বোলিংয়ে ৮ উইকেটের বড় জয়ে সেই আবহ রাঙাল টাইগাররা।

দুপুরে টস জিতে ফিল্ডিং নেন অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। স্বাগতিকদের সাঁড়াশি বোলিংয়ের মুখে ৩০.৪ ওভারে ১১৪ রানে অলআউট শাহিন শাহ আফ্রিদির পাকিস্তান। জবাবে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের (৪২ বলে অপরাজিত ৬৭) দারুণ ব্যাটিংয়ে ১৫.১ ওভারেই ২ উইকট হারিয়ে জয়ের উল্লাসে মাতে টাইগাররা। ৫ শিকারে পাকিদের বিপক্ষে দেশের হয়ে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়ে ম্যাচসেরা নাহিদ রানা।  
৭ ওভার বল করে দিয়েছেন মাত্র ২৪ রান। আর সবকিছু ছাপিয়ে তাই আলোচনায় কেন্দ্রে ছিলেন নাহিদ। তবু মাটিতে পা রাখছেন সেনসেশনাল এ ডানহাতি পেসার,‘আমি নিজেকে কোনো ব্র্যান্ড মনে করি না, আমি নিজেকে সাধারণ মানুষ মনে করি। ৫ উইকেট কাউকে ডেডিকেট করছি না।’ ম্যাচ শেষে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলছিলেন নাহিদ। দলে সতীর্থ পেসারদের নিয়ে নাহিদ আরও বলেন,‘আমরা হচ্ছি ভাই-ব্রাদার টাইপের, মাঠের ভেতর যেমন আমরা মজা করি, মাঠের বাইরেও। সবাই সবাইকে সব সময় কনফিডেন্স দেওয়ার ট্রাই করে। এই বন্ডিংটা আমাদের মধ্যে খুবই ভালো।’ মিরপুরের স্লো উইকেটে বরাবরই বাড়তি সুবিধা পান স্পিনাররা। স্পিন স্বর্গেই এবার রীতিমতো আগুন ঝড়িয়েছেন নাহিদ রানা।

তরুণ এই পেসারের গতি আর বাউন্সে চোখে সর্ষে ফুল দেখেছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান-সালমান আগারা! ক্যারিয়ারে প্রথমবার ওয়ানডেতে ফাইফার পেয়েছেন তিনি। ম্যাচ শেষে নাহিদকে নিয়ে পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি বলেন,‘আমার মনে হয় আমরা শুরুটা ভালোই করেছিলাম। কিন্তু এরপর নাহিদ এসে আমাদের চাপে ফেলে দেয়। কিন্তু পরে বল হাতে সত্যিই ভালো করেছি। প্রথম ম্যাচে যে ধরনের শুরু আমরা চেয়েছিলাম, তা পাইনি। এটি একটি তরুণ দল, আর আমি শেষ পর্যন্ত এই দলটির ওপর আস্থা রাখব।’ দলের হার নিয়ে তিনি বলেন,‘আপনি যখন একটি ম্যাচ হারেন, তখন অনেক বিষয়ই তুলে ধরা যায়। ওয়ানডে ক্রিকেটে ব্যাটিং এবং বোলিং দুই ক্ষেত্রেই পার্টনারশিপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এখনও দুটি ম্যাচ বাকি আছে, আর আমরা এখন পরের ম্যাচটির (শুক্রবার) দিকেই মনোযোগ দেব।’ বাংলাদেশ অধিনায়ক মিরাজ বলেন,‘প্রথম ১০ ওভারে আমরা কোনো উইকেট পাইনি, কিন্তু রানা যেভাবে বল করেছে, সে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট এনে দিয়েছে। প্রথম কয়েক ওভারে তাসকিন এবং ফিজও খুব ভালো বল করেছে। রানা বারবার সঠিক জায়গায় বল ফেলেছে, আমরা তাকে সেটাই বলেছিলাম। সে কন্ডিশন ও উইকেট বুঝে সেই অনুযায়ী নিজের লেংথ ঠিক করেছে।’ 
দলের এমন হারের পর সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের কোচ মাইক হেসন বলেন,‘উইকেট ভালো ছিল, আমার মতে এটা (উইকেট) ভালো আচরণ করেছে। নাহিদ রানা অসাধারণ ছিল। সে বোলিংয়ে আসার আগ পর্যন্ত আমরা ঠিকঠাকই এগোচ্ছিলাম। সে এসে খেলাটা বদলে দিয়েছে। নাহিদ উইকেট টু উইকেট বল করেছে, বোলিংয়ে বৈচিত্র্য ছিল এবং তার গতিতে এটাই প্রত্যাশিত। আমাদের যেমন জবাব দেওয়ার কথা ছিল, সেটা দিতে পারিনি। তাই পুরোটাই নাহিদের কৃতিত্ব।’ নাহিদকেও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন হেসন,‘আসলে প্রথমবার আমি তাকে লাইভ দেখলাম। টিভিতে অনেক দেখেছি।

আমি মনে করি, সে খুব সুন্দরভাবে বোলিং করেছে, এমনকি ওয়ার্ম-আপেও। তার টাইমিং ভালো হচ্ছিল। সে কঠিনভাবে উইকেটে বল ঢোকায়, সিম উপস্থাপন করে, ক্রস-সিম করে। সে খুবই প্রতিশ্রুতিশীল বোলার। আমরা এমন পেসের মুখোমুখি হই সবসময়। তবে সে ভালো জায়গায় বল করেছে, আক্রমণাত্মক ছিল, ভালো বাউন্সার করেছে। সে যা পেয়েছে, তা তার প্রাপ্য। আমি মনে করি, সে খুব ভালো বোলিং করেছে।’ নিজের শিষ্যদের ব্যাটিং পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে হেসন বলেন, ‘লজ্জা করে কোনো লাভ নেই, বলতেই হবে এটা খুব হতাশাজনক ব্যাটিং পারফরম্যান্স। শুধু তরুণরাই যে বাজে খেলেছে এমন নয়, ভালো বোলিংয়ের সামনে আমাদের দক্ষতাগুলো কাজে আসেনি এবং আমরা খোলসে আবৃত হয়ে গিয়েছিলাম। আমাদের দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে হবে।’ 
ঘুরে দাঁড়াতে চান হেসন,‘তরুণদের শিখতে হবে এবং তাদের শেখার ও বড় হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। আমরা চাই, তারা অভিষেকেই সেঞ্চুরি করে ফেলুক, কিন্তু আসলে তাদের কিছু কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তাই পরের ম্যাচগুলোতে আমাদের ধৈর্য দেখাতে হবে এবং ভালোভাবে লড়াই করতে হবে। এই পারফরম্যান্স নিয়ে একটু ভাবতে হবে। আমরা খারাপ ছিলাম তা অস্বীকার করব না, ব্যাটিংয়ে আমরা খোলসে ঢুকে গিয়েছিলাম। শুধু তরুণরাই নয়, আমাদের সবাইকে দাঁড়াতে হবে এবং ব্যাটিংয়ে ভালো পারফরম্যান্স দিতে হবে। পরের দুই ম্যাচে সেটাই চেষ্টা থাকবে।’ 
সংক্ষিপ্ত স্কোর: পাকিস্তান: ১১৪/১০ (৩০.৪ ওভার; সাহিবজাদা ২৭, সাদাকাত ১৮, শামিল ৪, রিজওয়ান ১০, সালমান ৫, তালাত ৪ ০, ফাহিম ৩৭,; তাসকিন ১/২৯, মুস্তাফিজ ১/১৮, মিরাজ ৩/২৯, নাহিদ ৫/২৪)  বাংলাদেশ: ১১৫/২ (১৫.২ ওভার; সাইফ ৪, তানজিদ ৬৭*, শান্ত ২৭, লিটন ৩*; আফ্রিদি ১/৩৫, ওয়াসিম ১/২৪) ফল: বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী।

প্যানেল হু

×