ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

ইরানের পাশে অস্ট্রেলিয়া, জানা গেল কারণ

প্রকাশিত: ১১:৫৬, ১১ মার্চ ২০২৬

ইরানের পাশে অস্ট্রেলিয়া, জানা গেল কারণ

এএফসি নারী এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিল ইরানের জাতীয় নারী ফুটবল দল। তবে টুর্নামেন্টে ভালো করতে পারেনি তারা। গ্রুপ পর্বে টানা তিন ম্যাচে হেরে শুরুতেই প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিতে হয় দলটিকে। এরই মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা শুরু হওয়ায় বিদেশে থাকা খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

এই পরিস্থিতিতে মানবিক কারণে ইরান নারী ফুটবল দলের পাঁচ সদস্যকে আশ্রয় দেওয়ার প্রস্তাব দেয় অস্ট্রেলিয়া সরকার। পরে আরও একজন খেলোয়াড় ও দলের একজন সহায়ক স্টাফকেও একই ধরনের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক। তিনি বলেন, আগে যেভাবে পাঁচ খেলোয়াড়কে মানবিক ভিসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, নতুন এই দুই সদস্যকেও সেই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তারা চাইলে এমন একটি মানবিক ভিসা পেতে পারেন, যা ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে অস্ট্রেলিয়ায় থাকার পথও তৈরি করতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তারা সিডনি বিমানবন্দরে দলের বেশিরভাগ সদস্যের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন এবং তাদের সামনে সম্ভাব্য বিভিন্ন বিকল্প তুলে ধরেন। তবে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করার পর কয়েকজন খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার প্রস্তাব গ্রহণ করেননি এবং দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

দলের প্রধান কোচ মারজিয়া জাফরি জানিয়েছেন, বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই যত দ্রুত সম্ভব ইরানে ফিরতে চায়। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ। তিনি বলেছেন, ইরান সরকার নিজ দেশের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম এবং তারা দেশে ফিরলে তাদের নিরাপত্তা দেওয়া হবে। এদিকে ইরানের ফুটবল ফেডারেশন অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফুটবলের বিষয়েও সরাসরি রাজনৈতিক প্রভাব খাটাচ্ছেন।

এর আগে ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ইরানের নারী ফুটবল খেলোয়াড়দের আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে দলের বাকি সদস্যদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলোয়াড়দের সংগঠন ফিফপ্রো।

এদিকে এশিয়ান কাপের একটি ম্যাচের আগে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে খেলতে নামার আগে ইরানের খেলোয়াড়রা জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন তাদের ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ বলে আখ্যা দিলে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ে। যদিও পরবর্তী ম্যাচে তারা জাতীয় সংগীত গেয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার সময়ই নারী এশিয়ান কাপে নিজেদের অভিযান শুরু করেছিল ইরান। সেই সময় হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। পরে গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচেই হেরে গত রোববার টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় দলটি।

অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত কিছু ইরানি নাগরিক এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভও করেছেন। গোল্ড কোস্টে হোটেল থেকে বিমানবন্দরের উদ্দেশে দলটি রওনা হলে বিক্ষোভকারীরা খেলোয়াড়দের বহনকারী বাস ঘিরে ধরেন। পরে সিডনি বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক টার্মিনালেও অনেক মানুষ জড়ো হতে দেখা যায়।

অন্যদিকে ইরানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় নারী ফুটবল দলের বাকি সদস্যদের শান্তভাবে ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দেশে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

এ.এইচ

×