মঙ্গলবার ট্রফি নিয়ে ফটোসেশনে অংশ নেন দুই অধিনায়ক- বাংলাদেশের মেহেদি হাসান মিরাজ (ডানে) ও পাকিস্তানের শাহিন শাহ আফ্রিদি
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল কিংবা র্যাঙ্কিংয়ের সেরা ছয়Ñটাইগার ক্রিকেটে গর্বের যত স্মৃতি সবই ওয়ানডে ঘিরে। প্রিয় সেই ফরম্যাটেই দশ নম্বরে নেমে যাওয়া বাংলাদেশ এখন সরাসরি ২০২৭ বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে শঙ্কায়! এ জন্য আগামী বছর মার্চের মধ্যে অন্তত আট নম্বরে উঠে আসতে হবে মেহেদি হাসান মিরাজের দলকে। আর কঠিন সেই মিশনের শুরুটা হচ্ছে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ দিয়ে। গত দেড় বছর টি২০ বিশ্বকাপ ঘিরে ছোট্ট ফরম্যাটের ক্রিকেটে ব্যস্ত বাংলাদেশ যে সীমিত সংখ্যাক যে ওয়ানডে খেলেছে, সেখানেও ছবিটা কেবল হতাশার।
এই সিরিজে অবশ্য কিছুটা আত্মবিশ্বাসও সঙ্গে থাকছে। সর্বশেষ ২০১৫ সালে ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে ‘হোয়াইটওয়াশ’ করেছিল টাইগাররা। পাঁচ মাস আগে সিরিজ জিতেছিল উইন্ডিজের বিপক্ষেও। আর মিরপুরের চেনা উইকেট তো আছেই! অন্যদিকে টি২০ বিশ্বকাপে প্রত্যাশ পুরণ করতে না পারলেও ওয়ানডেতে টানা দুটি সিরিজে পাওয়া সাফল্য সঙ্গী করে নতুন গল্প লিখতে চান পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। খেলা শুরু দুপুর সোয়া দুইটায়।
দুটি বিষয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। মিরপুরের উইকেট এবং বাংলাদেশের সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার যাত্রা। যে লক্ষ্যে ওয়ানডে স্কোয়াডেও এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। গত অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলা দল থেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজের জন্য ছয়টি পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রায় ১৫ মাস পর জাতীয় দলে ফিরেছেন আফিফ হোসেন ও শরিফুল ইসলাম। এছাড়া চোটের কারণে আগের সিরিজে স্কোয়াডে না থাকা লিটন দাসও ফিরেছেন দলে। ক্যারিবিয়ান সফরের দলে থাকা ছয় ক্রিকেটারকে এবার বাদ দেওয়া হয়েছে। তারা হলেনÑজাকের আলি অনিক, শামীম হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, তানজিম হাসান সাকিব, নাসুম আহমেদ ও হাসান মাহমুদ।
তাদের জায়গায় দলে ফিরেছেন আফিফ হোসেন, শরিফুল ইসলাম, লিটন দাস ও নাহিদ রানা। মঙ্গলবার সিরিজ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মিরাজ বলেছেন,‘বিশ্বকাপের উইকেট সবসময় ভাল হয়ে থাকে এবং আমরা এখন থেকেই ভাল উইকেটে খেলার অভ্যাস করতে চাই। ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের আগে আমাদের অনেকগুলো ওয়ানডে (চলতি বছরেই ২২টা) আছে। পরিকল্পনা হল, ভাল উইকেটে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা। আমরা যদি ভাল উইকেটে বেশি বেশি খেলতে পারি তাহলে আমাদের জন্যই ভাল হবে। একই সাথে আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে বিশ্বকাপে আমাদের সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। তাই আমরা যে দলগুলোর সাথে খেলব সেসব দলের বিপক্ষে আমরা ঘরের কন্ডিশনের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করব। আমাদের লক্ষ্য জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করা।’
বাংলাদেশের মাটিতে ২০১৫ সালে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে পাকিস্তান। ঐ সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল পাকিস্তান। গত বছর তিন ম্যাচের টি২০ সিরিজের জন্য বাংলাদেশ সফর করেছিল পাকিস্তান। সেই সিরিজও ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল পাকিস্তান। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৩৯টি ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। এরমধ্যে বাংলাদেশের জয় ৫টিতে, পাকিস্তান জিতেছে ৩৪ ম্যাচে। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ৫ জয়ের চারটি এসেছে ২০১৫ সালে।
তবে অতীত রেকর্ড খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরমেন্স হতাশাজনক। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওই জয়ের আগে গত বছর টানা চারটি ওয়ানডে সিরিজ হেরেছে। তার মধ্যে দুইবারই আফগানিস্তানের কাছে। একবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কার কাছে। তারপরও অতীত পরিসংখ্যানের বিচারে পাকিস্তানের বিপক্ষে ফেভারিট হিসেবেই শুরু করবে বাংলাদেশ। কারণ ঘরের মাঠের সুবিধা ও রেকর্ডে এগিয়ে টাইগাররা। পাশাপাশি এবার অনভিজ্ঞ দল নিয়ে বাংলাদেশ সফরে এসেছে পাকিস্তান। নেই বাবর আজমসহ একাধিক অভিজ্ঞ ক্রিকেটকার। পাকিস্তান অধিনায়ক আফ্রিদি বলেন,‘অবশ্যই, ঘরের মাঠে যেকোন দলই বাড়তি আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে নামে। এটা খুবই স্বাভাবিক।
আমার মনে হয়, বাংলাদেশের একটি ভাল দল আছে এবং তারা হোম কন্ডিশনে খুব ভাল ক্রিকেট খেলে থাকে।’ তিনি যোগ করেন,‘ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও অন্যান্য দলকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। আমরা দল হিসেবে প্রস্তুত। দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলংকার বিপক্ষে আমরা সর্বশেষ দুই ওয়ানডে সিরিজ জিতেছি। সম্প্রতি ওয়ানডেতে আমরা ভাল খেলেছি। সেই ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।’ গত বছর টি২০ সিরিজ হারের পর প্রকাশ্যে মিরপুরের উইকেটের ব্যাপক সমালোচনা করেছিলেন পাকিস্তান কোচ মাইক হেসন। এবার পিচ দেখে অন্তত সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন এ মাস্টারমাইন্ড। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশের হুঙ্কার ছুড়েছেন।
প্যানেল হু








