ছবি: সংগৃহীত
সরকার পরিচালনায় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনকল্যাণমুখী কাজে গতি আনতে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কঠোর দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১১ মার্চ) বেলা সোয়া ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যার যে দায়িত্ব, তার বাইরে যেন কেউ অহেতুক মন্তব্য না করেন। বিশেষ করে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং চলনে-বলনে মার্জিত থাকার জন্য দলীয় জনপ্রতিনিধিদের পরামর্শ দেন তিনি।
তারেক রহমান সভায় তাঁর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনেকে অনেক সমালোচনা করেছিল। কিন্তু ভোটের আঙুলের কালির দাগ মোছার আগেই আমরা এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি। তিনি গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন, এটাই হচ্ছে বিএনপি এবং দেশের মানুষ এই কর্মঠ ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিএনপিকেই দেখতে চায়। দ্রুত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পাশাপাশি দেশজুড়ে খাল খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকতা শুরু করার কথাও তিনি সভায় জানান।
ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সনদের কিছু বিষয়ে বিভিন্ন মহলের ভিন্নমত বা নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। তবে সরকার সেগুলো বিচার-বিশ্লেষণ করে বাস্তবায়নযোগ্য বিষয়গুলো কার্যকর করার পদক্ষেপ নেবে। এছাড়া আসন্ন ডেঙ্গু মৌসুমকে সামনে রেখে সারা দেশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করতে এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সবাইকে মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
সংসদীয় দলের এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় জাতীয় সংসদের নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পূর্ণ দায়িত্ব সংসদ নেতা তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং অধিবেশনের শুরুতেই এই দুটি পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সভায় উপস্থিত ২০৯ জন সংসদ সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে নেতার সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা প্রকাশ করেন।
বৈঠকের শুরুতে সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি স্বাগত বক্তব্য দেন। এরপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মূলত নবগঠিত সরকারের প্রথম এই সংসদীয় সভায় জনপ্রতিনিধিদের সাধারণ মানুষের সেবক হিসেবে কাজ করার এবং রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচার মেনে চলার কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
এফএ








