ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

বিএফইউজে ও ডিইউজের ইফতার অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল 

সংসদ হবে সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৩:৫৯, ১১ মার্চ ২০২৬

সংসদ হবে সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ হবে গণতন্ত্র চর্চার কেন্দ্রবিন্দু বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সত্যিকার অর্থে মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠিত করা আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী জহিরউদ্দিন স্বপন বলেন, দেশে গণতন্ত্র রক্ষায় সাংবাদিকরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। 
ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আসুন আমরা সবাই, যারা লিবারেল ডেমোক্রেসিতে বিশ্বাস করি, গণমাধ্যমে বিশ্বাস করি, তারা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ও উদারপন্থি রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করি। তিনি বলেন, বর্তমান সংসদে আমরা নতুন গণতন্ত্রের কথা চিন্তা করছি। আমরা গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেব। পাশাপাশি সংসদকে সকল কর্মকা-ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করব। 
ফখরুল বলেন, আমরা সবসময় সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলি। আমাদের অবশ্যই সেটাকে বিশ্বাস করতে হবে এবং সেই বিশ্বাসে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি ফ্যাসিস্টদের মতো সাংবাদিকদের ওপরে চড়াও হওয়া যাবে না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে গণমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মীদের অত্যন্ত সুসম্পর্ক ছিল। তিনি মরহুম নেত্রীর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলি। তাই আমাদের অবশ্যই সেটিকে বিশ্বাস করতে হবে এবং সেই বিশ্বাসের ভিত্তিতেই কাজ করতে হবে।

ফখরুল বলেন, যারা গণতন্ত্র, উদার গণতন্ত্র এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন, তাদের সবাইকে এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক ও উদার রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ফখরুল বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশে আজ একটি মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিবেশে আবারও সাংবাদিকদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে ইফতারে মিলিত হতে পারা আল্লাহর রহমত। তিনি বলেন, বিভিন্ন সংগ্রামের সময়ে সাংবাদিকদের কাছ থেকে যে সহযোগিতা পাওয়া গেছে, তা সবসময় স্মরণ থাকবে। ফখরুল বলেন, দেশের রাজনীতিতে বর্তমানে একটি নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের সমর্থন ও আস্থার ভিত্তিতে একটি নতুন সরকার গঠিত হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সংসদের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া সম্ভব হবে এবং সংসদ সকল কর্মকা-ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের অধিকার আদায়ে আমরাও এক সঙ্গে কাজ করব। তাদের যে কোনো যৌক্তিক আন্দোলনে আমরা পাশে থাকব। তবে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা সবসময় এই জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের মিলনমেলায় পাশে থাকি।  
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী জহিরউদ্দিন স্বপন বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে সর্বশেষ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ সকল ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। দেশে গণতন্ত্র রক্ষায় সাংবাদিকরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। 
ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলমের সঞ্চালনায় ইফতার মাহফিলে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী, বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন ও মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ,  সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, ডিইউজের সহসভাপতি রাশেদুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্যানেল হু

×