ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

সারি সারি অস্থায়ী দোকানে মিলছে আনুষঙ্গিক পণ্য

ঈদের কেনাকাটায় ফুটপাতই ভরসা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৩:৫৪, ১১ মার্চ ২০২৬

ঈদের কেনাকাটায় ফুটপাতই ভরসা

ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে টুপি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ডিজাইনের টুপি বিক্রি করছেন

ঈদুল ফিতরকে ঘিরে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র গুলিস্তানের ফুটপাতজুড়ে জমে উঠেছে সাশ্রয়ী মূল্যের পোশাকের বাজার। সারাবছরই এখানে তুলনামূলক কম দামে পোশাক, জুতা ও নানা প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাওয়া যায়। তবে ঈদের মৌসুম এলেই কেনাবেচা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সকাল থেকে রাদ দশটা পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে মুখর থাকে পুরো এলাকা। ‘বাইছা লন একশ’, ‘দেইখ্যা লন একশ’ এমন ডাকাডাকির মধ্যেই চলছে ঈদের পোশাক বিক্রি।

ফুটপাতজুড়ে সারি সারি অস্থায়ী দোকানে মিলছে পাঞ্জাবি, পায়জামা, শার্ট, প্যান্ট, থ্রি-পিস, শাড়ি, লুঙ্গি, জুতা, ব্যাগ, আতর, টুপি থেকে শুরু করে নানা ধরনের আনুষঙ্গিক পণ্য। বিশেষ করে নি¤œ ও মধ্যম আয়ের মানুষ সাশ্রয়ী দামে ঈদের পোশাক কিনতে এসব দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন। মঙ্গলবার রাতে সরেজমিনে দেখা যায়, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর-পশ্চিম গেটের সামনে, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ সংলগ্ন হকার্স সমিতি মার্কেট এলাকা এবং গুলিস্তান মোড়ের আশপাশের ফুটপাতে জমজমাট কেনাবেচা চলছে। পোশাক থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের সামগ্রীই মিলছে এসব অস্থায়ী দোকানে। প্যান্ট, শার্ট, পাঞ্জাবি, জুতা, বেল্ট, শিশুদের পোশাক, লুঙ্গি, ট্রাউজার, টি-শার্ট, ঘড়ি, শাড়ি, মানিব্যাগ, চশমাসহ নানা পণ্য ক্রেতাদের নজর কাড়ছে।
বিক্রেতারা জানান, দোকান ও মান ভেদে এখানে ছেলেদের শার্ট বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৫০০ টাকায়। জিন্স প্যান্ট ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা, গ্যাবার্ডিন প্যান্ট ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, টি-শার্ট ১০০ থেকে ৩০০ টাকা, থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং পাঞ্জাবি ৩০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া লুঙ্গি ২০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং শিশুদের ফ্রক ২৫০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যেও মিলছে। 
গুলিস্তানের গোলাপ শাহ মাজারের পূর্ব পাশে টি-শার্টের দোকান বসিয়েছেন শরিফ উদ্দিন। তিনি বলেন, গুলিস্তানে সবসময়ই মানুষের আনাগোনা থাকে। দুপুর থেকে রাত দশটা পর্যন্ত ভালোই বিক্রি হচ্ছে। প্যান্ট বিক্রেতা মো. পাভেল জনকণ্ঠকে বলেন, এই পথ দিয়েই অনেক মানুষ সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল হয়ে বাড়ি ফেরেন। অনেক যাত্রী লঞ্চে ওঠার আগে এখান থেকে পোশাক কিনে নেন। প্রতিদিনই ক্রেতার চাপ বাড়ছে। ঈদের আগের দিনগুলোতে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছি।
নারিন্দা এলাকা থেকে কেনাকাটা করতে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আবদুল হামিদ জনকণ্ঠকে বলেন, ছেলের জন্য পাঞ্জাবি ও পায়জামা কিনতে এসেছি। এখানে বড় মার্কেটের তুলনায় কম দামে পাওয়া যায়, যা আমাদের জন্য সুবিধাজনক। ভালো দামে পেলে নিজের জন্যও কিছু কিনব। তবে গত বছরের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে।
অন্যদিকে মগবাজারের পোশাক শ্রমিক মো. সুমন মিয়া বলেন, ঈদে চেষ্টা করি মা-বাবা ও ভাইবোনদের জন্য কিছু কিনতে। এখানে দরদাম করে কম দামে কেনা যায়। একই জিনিস বড় মার্কেটে গেলে দাম অনেক বেশি পড়ে। আমাদের মতো মানুষের বাজেটের মধ্যে ফুটপাতেও ভালো পোশাক পাওয়া যায়। ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের আগের কয়েকদিন গুলিস্তানের ফুটপাতে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়। শেষ মুহূর্তে অনেক ক্রেতা কেনাকাটায় নামেন, ফলে বিক্রিও বেড়ে যায়। তাই শেষ সময়টাতেই সবচেয়ে ভালো ব্যবসার আশা করছেন তারা।

প্যানেল হু

×