ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

কুপির আলোতে পড়া শিক্ষার্থী অথই পেল বিদ্যুতের আলো

নিজস্ব সংবাদদাতা, ধামরাই,ঢাকা

প্রকাশিত: ২৩:৩৪, ১১ মার্চ ২০২৬

কুপির আলোতে পড়া শিক্ষার্থী অথই পেল বিদ্যুতের আলো

দীর্ঘ প্রায় ৬৫বছর ধরে অন্ধকারেই কাটছিল এক অসহায় পরিবারের জীবন। কুপির ক্ষীণ আলোয় বসে রাত জেগে পড়াশোনা করতেন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও এসএসসি পরীক্ষার্থী অথই সরকার। বিদ্যুৎ না থাকায় পড়ালেখা চালিয়ে যেতে তাকে প্রতিনিয়তই নানা কষ্ট ও বাধার মুখোমুখি হতে হতো। তবে অবশেষে সেই অন্ধকার দূর হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ধামরাই উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী ইসরাফিল ইসলাম খোকন ও সদস্য নুপুরের মানবিক উদ্যোগে গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) অথইদের ঘরে পৌঁছেছে বিদ্যুতের আলো।

জানা যায়, ঢাকার ধামরাই উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাটারখোলা গ্রামের একটি অবহেলিত হিন্দু পরিবারের মেয়ে অথই সরকার এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তার পিতা আসানন্দ সরকার ও মাতা অর্চনা রানি সরকার দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করে সংসার চালিয়ে আসছেন।

অথই স্থানীয় আশরাফ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সামনে এসএসসি পরীক্ষা হওয়ায় প্রতিদিন রাত জেগে পড়াশোনা করতে হতো তাকে। কিন্তু ঘরে বিদ্যুৎ না থাকায় সন্ধ্যা নামলেই চারপাশে নেমে আসত অন্ধকার। সেই অন্ধকারে কুপির ক্ষীণ আলোয় বসেই বই নিয়ে পড়তে বসতেন অথই। অনেক সময় ধোঁয়া ও অল্প আলোয় চোখে ব্যথা ও নানা সমস্যার মধ্যেও থেমে থাকেনি তার পড়াশোনার চেষ্টা।

স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ধামরাই উপজেলা শাখার  প্রধান সমন্বয়কারী ইসরাফিল ইসলাম খোকন। একজন শিক্ষার্থীর এমন সংগ্রামের গল্প শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত হন এবং দ্রুত বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ নেন। পরে তার সার্বিক সহযোগিতা ও তৎপরতায় অল্প সময়ের মধ্যেই অথইদের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা হয়।

বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার পর যেন নতুন করে স্বস্তি ফিরেছে পরিবারটিতে। এখন রাতে আলো জ্বেলে নিশ্চিন্তে পড়াশোনা করতে পারছে অথই সরকার। পরিবারের সদস্যরা জানান, এতদিন কুপির আলোয় মেয়ের পড়াশোনা করতে দেখে তাদের খুব কষ্ট লাগত।

এ বিষয়ে এনসিপি নেতা ইসরাফিল ইসলাম খোকন বলেন, একজন শিক্ষার্থী যেন অন্ধকারে বসে কষ্ট করে পড়াশোনা না করে-এটা আমাদের সবার দায়িত্ব। বিষয়টি জানার পর মনে হয়েছে যত দ্রুত সম্ভব তাদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যদি এভাবেই মানবিক উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসেন, তাহলে অনেক অসহায় পরিবারের জীবনেও আলো ফিরে আসবে এবং শিক্ষার্থীরা তাদের স্বপ্ন পূরণের পথে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যেতে পারবে। ভবিষ্যতেও অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থাকতে চাই।

রাজু

×