ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

ঘিওরে আলুর দামে কৃষকের মাথায় হাত

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঘিওর, মানিকগঞ্জ

প্রকাশিত: ২২:০৬, ১১ মার্চ ২০২৬

ঘিওরে আলুর দামে কৃষকের মাথায় হাত

ঘিওরে খেত থেকে আলু সংগ্রহ করছেন কৃষক

মানিকঞ্জের ঘিওর উপজেলায় চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। এ নিয়ে কৃষকদের আনন্দের সিমা নেই। তবে বাজারে আলুর মূল্য ধস নেমেছে। উৎপাদন খরচ দুরের কথা আসল টাকাও তারা পাচ্ছে না। তুলনামূলক দামে আলু বিক্রি করতে পারছে না। বিভিন্ন হাট বাজারে প্রতি কেজি আলু ৯/১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ উৎপাদন খরচ পড়েছে গড়ে ১৫  থেকে ২০ টাকা। ফলে মৌসুমের শুরুতেই চাষিরা বড় ধরনের লোকসানের শঙ্কায় পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করবেন নাকি বাড়িতেই রাখবেন তা নিয়ে এলাকার শত শত কৃষকের চরম দুশ্চিতায় রয়েছে। 
ঘিওর উপজেলার উত্তরঘিওর, চরবাইলজুরী, বালিয়াবাঁধা, মাইলাগী, সিংজুরী, পয়লা, কুষ্টিয়া, বালিয়াখোড়া, আঙ্গরপাড়া, বৈলট, বড়টিয়া, কলিয়া, ঠাকুরকান্দি, হিজুলিয়া, গোলাপনগর, কাহেতারা, কৃষ্ণপুর এলাকাতে দেখা যায় দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠে আলু আর আলু। 
উপজেলার চরবাইলজুরী গ্রামের মামুন বলেন, তিনি ১ বিঘা জমিতে আলু আবাদ করেছেন। জমিতে ভালো আলু হয়েছে তবে দাম কম থাকায় তিনি এখনো আলু জমি থেকে উত্তোলন করেনি।  চরঘিওর এলাকার কৃষক আমজাদ বলেন তিনি ৪ বিঘা জমিতে গ্র্যানুলা আলু রোপণ করেছেন। আলু হিমাগারে রাখবেন কি না, বাসায় রাখবেন সেই চিন্তায় তিনি অস্থির হয়ে পরেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জমিতে আলু আবাদ করতে আলু, লাগানো, সার, কীটনাশক, আগাছা দমন করেছেন। আলুতে আগাছা দমন, সার, কীটনাশক আলু উত্তোলনসহ মোট ৪৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

কিন্তু তিনি এ পর্যন্ত মাত্র ১৮ হাজার টাকার আলু  বিক্রি করেছেন। উৎপাদন কম, দামও কম দুই দিক থেকে ক্ষতির মুখে পরেছি। গাইলাগী গ্রামের কৃষক শাহজাহান বলেন, এবার ভেবে ছিলাম, পরিস্থিতি ভালো হবে। কিন্তু এখন আলুর বাজারে ধস নেমেছে। কেজি প্রতি গ্র্যানুলা ৯ টাকা, সানসান ৮ টাকা, এস্টেরিক্র ৮ টাকা, কুমারিকা ৮ টাকা ডায়মন্ড ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এভাবে চললে আলু চাষ বন্ধ করে দিতে হবে। আলু ব্যবসায়ী বাহাদুর জানান, বাজারে চাহিদা কম থাকায় তারা আলু কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না এবার। বাজারে আলু সরবরাহ অনেব বেশি। কিন্তু চাহিদা একেবারেই কম। আমরা আলু পাইকারি কিনলে বিক্রি করতে পারছি না। তবে বেশি দামে কিনে সংরক্ষণ করলে লাকসান হতে পারে।

তবে চলতি মৌসুমে আলু উৎপাদনে খরচ অনেকটাই বেড়েছে। বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক মজুরি বেড়ে যাওয়ার কারণে প্রতি হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত ৪০ হাজার ৪৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়া গত বছরে  সরকারি বীজের দাম ছিল ২৮/৩০ টাকা। যা এবার বেড়ে ৫০/৬০ টাকা হয়। বেসরকারি বীজের দাম ও কেজি প্রতি ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০/৮০ টাকায় পৌঁছে। এতে মাঠ পর্যায়ে আলুর উৎপাদন খরচ পড়েছে কেজি প্রতি ১৬/১৮ টাকা। কিন্তু বর্তমানে বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৯/১০ টাকা। ফলে মোটা অংকের লোকসানের মুখে পড়েছে এলাকার কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে গেছে, চলতি মৌসুমে ঘিওর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ৫০৬ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৫৩৪ হেক্টর ধরা হয়েছে। তবে আলুর টার্গেট ছিল ৫৩৪ হেক্টর জমিতে।    
উপজেলা কৃষি অফিসার  তহমিনা খাতুন জানান, ঘিওর উপজেলার উৎপাদিত আলু দেশের বিভিন্ন জেলার সরবরাহ করা হতো। কিন্তু এবার  আলুর দাম কম থাকায় কৃষকদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে আলুর পাশাপাশি আমরা কৃষকদের বিকল্প ফসল চাষ করার পরামর্শ দিচ্ছি যাতে ভবিষ্যতে তারা লোকসানের ঝুঁকি কমাতে পারেন।

প্যানেল হু

×