কিম জং উন
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার তীব্র সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উন বলেছেন, তেহরানে দুই দেশের যৌথ হামলা অবৈধ। স্থানীয় সময় বুধবার উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার তীব্র নিন্দা জানায় পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া অভিযোগ করেছে- এ হামলার মাধ্যমে আঞ্চলিক শান্তি ধ্বংস করা হচ্ছে এবং ইরানের ওপর অবৈধ সামরিক হামলা চালিয়ে বিশ্বজুড়ে অস্থিতিশীলতা বাড়ানো হচ্ছে। পিয়ংইয়ং বলেছে, ইরানের আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বাইরের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। অন্য কোনো দেশের সরকারকে হেনস্তা করতে হুমকি ও সামরিক পদক্ষেপ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয় বলে সতর্ক করেছে দেশটি। খবর কেসিএনএর।
উত্তর কোরিয়া বলেছে, ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট নতুন যে সুপ্রিম লিডার নির্বাচন করেছে তাকে তারা শ্রদ্ধা জানান এবং এই নির্বাচনে ইরানিদের চাওয়া ফুটে উঠেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে পূর্ব এশিয়ার স্থিতিশীলতা ধ্বংস করার অভিযোগ করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং। দেশ দুটি কোরীয় উপদ্বীপে তাদের ১০ দিনের বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করার পর তিনি এই অভিযোগ করেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্র পরিচালিত কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সির (কেসিএনএ) তথ্যানুসারে, কিম ইয়ো জং বলেছেন, আমাদের রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তা ক্ষেত্রগুলোর কাছে শত্রুপক্ষের শক্তি বৃদ্ধি অকল্পনীয়ভাবে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
তিনি আরও বলেন- শত্রুদের কখনোই আমাদের ধৈর্য, ইচ্ছাশক্তি ও সক্ষমতাকে পরীক্ষা করার চেষ্টা করা উচিত নয়। শত্রুরা আমাদের রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কতটা লঙ্ঘন করছে এবং তারা কী উদ্দেশ্যে এসব করছে- আমরা তা পর্যবেক্ষণ করব।৯ মার্চ শুরু হওয়া যৌথ সামরিক মহড়া ফ্রিডম শিল্ডের পরপরই কিম এই মন্তব্য করলেন। ১০ দিনব্যাপী এই মহড়ায় দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৮ হাজার সেনা সদস্য অংশ নিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কোরিয়া ভিত্তিক বাহিনী জানিয়েছে, এই সামরিক মহড়ার উদ্দেশ্য হলো সমন্বিত ও যৌথ সবক্ষেত্রের অপারেশনাল পরিবেশ উন্নত করা এবং জোটের প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা। দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে-এ বছরের ফ্রিডম শিল্ড মহড়ায় ২২টি ফিল্ড ট্রেনিং ড্রিল অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা গত বছরের তুলনায় অর্ধেকেরও কম।
কিম ইয়ো জং বলেন, এই মহড়া আয়োজনের কোনো যৌক্তিকতা নেই। অতীতে ওয়াশিংটন ও সিউল এই মহড়াকে প্রতিরক্ষামূলক বলে উল্লেখ করলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ২০২৪ সালে ঘোষণা করেন, তিনি আর দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে পুনর্মিলনের চেষ্টা করবেন না। যদিও সিউলের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য এখনো দুই কোরিয়ার সম্পর্ক উন্নয়ন। দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা ইয়োনহাপকে জানান, কিমের মঙ্গলবারের মন্তব্য উত্তর কোরিয়ার সাধারণ বক্তব্যের তুলনায় অপেক্ষাকৃত সংযত ছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, বিবৃতিতে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করা হয়নি এবং পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো হুমকিও দেওয়া হয়নি।
প্যানেল হু








