মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র করে জর্ডান ও কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটি এবং কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে পৃথক হামলা চালানো হয়েছে। রোববার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়, হামলায় ঘাঁটির একটি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার এবং এমকিউ-৯ ড্রোন সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত একটি হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে।
এ ছাড়া পৃথক আরেকটি বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের দাবি, ওই হামলায় একটি যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কেন্দ্র এবং একটি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংস হয়েছে।
তবে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমার দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। ফলে হামলায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ইরান ও কাতারের বক্তব্যে স্পষ্ট ভিন্নতা দেখা দিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যকর অবরোধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুদ্রাস্ফীতির চাপও বাড়ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নভেম্বরের আগাম নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংকট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও বড় ধরনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কয়েকটি জাহাজ অনুমোদনহীন পথে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করেছিল। তাদের গতিপথ পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি। এ কারণেই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।
আইআরজিসি আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার নীতি বহাল থাকবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে অঞ্চলে থাকা ‘শত্রুপক্ষের নতুন ঘাঁটিগুলোও’ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, আইআরজিসির বিবৃতি প্রকাশের প্রায় এক ঘণ্টা পর স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে সামরিক অভিযান শুরু হয়। তাদের দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই এ-সংক্রান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।








