ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩

চিকিৎসকের হাসিমুখে কথা বলা রোগীকে অর্ধেক সুস্থ করে দেয়: স্বাস্থ্যমন্ত্

প্রকাশিত: ০১:৩১, ১২ জুলাই ২০২৬

চিকিৎসকের হাসিমুখে কথা বলা রোগীকে অর্ধেক সুস্থ করে দেয়: স্বাস্থ্যমন্ত্

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, একজন চিকিৎসকের হাসিমুখে কথা বলা একজন রোগীকে অর্ধেক সুস্থ করে দিতে পারে। তাই শুধু ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা নয়, রোগীদের সঙ্গে আন্তরিক, মানবিক ও সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করাও জরুরি।
শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, চিকিৎসা পেশা শুধু একটি চাকরি নয়, এটি মানুষের জীবন রক্ষার মহান দায়িত্ব। একজন মানুষ যখন কঠিন অসুস্থতার মধ্যে থাকেন, তখন আল্লাহর পর সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখেন চিকিৎসকের ওপর। তাই পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও সেবার মানসিকতা ধারণ করতে হবে।
তিনি বলেন, জীবনে শুধু গ্রহণ নয়, মানুষের জন্য কিছু দেওয়ার মানসিকতাও গড়ে তুলতে হবে। নিজের ব্যাংকিং জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, কর্মজীবনের শুরুতে তার প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রতি মাসে বেতনের ১০ শতাংশ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই শিক্ষা থেকেই তিনি উপলব্ধি করেছেন, মানুষের জন্য কাজ করার মধ্যেই প্রকৃত আনন্দ ও তৃপ্তি নিহিত।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসকদের মধ্যে মেডিকেল এথিকস ও নৈতিক মূল্যবোধ আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, রোগীদের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সম্মান প্রদর্শন চিকিৎসাসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একজন চিকিৎসকের মানবিক আচরণ রোগীর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তিনি বলেন, করোনা মহামারি, হাম পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক বন্যার সময় দেশের চিকিৎসকরা দায়িত্ব ও নিষ্ঠার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অনেক চিকিৎসক ছুটি উপেক্ষা করে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকায় গভীর রাত পর্যন্ত চিকিৎসকদের কাজ করার ঘটনাকে তিনি তাদের দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতার অনন্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতিও সরবরাহ করা হচ্ছে। একটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের আবেদনের পর অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে আধুনিক মাইক্রোস্কোপ সরবরাহের বিষয়টি তিনি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
তিনি জানান, দেশের কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলোকে আধুনিক ও আরও কার্যকর করে গড়ে তোলা হবে। আগামী মাস থেকেই এ উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে। রাজধানী ও গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য কমিয়ে দেশের সব মানুষের জন্য সমমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ঢাকার মানুষের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও সমান মানের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রাখেন। তাই দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকদের যৌক্তিক দাবিগুলো সরকার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। তবে রোগীদের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিলম্ব গ্রহণযোগ্য নয়। চিকিৎসক হিসেবে সনদ অর্জনের পর থেকেই জনগণের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত রাখতে হবে।
সমাপনী বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসকদের সময়ানুবর্তিতা, পেশাগত নৈতিকতা ও মানবিক আচরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, চিকিৎসকদের মধ্যে যদি পাংচুয়ালিটি, পেশাগত দক্ষতা ও মেডিকেল এথিকসের চর্চা বজায় থাকে, তাহলে তারা দেশের মানুষের কাছে সবচেয়ে সম্মানিত ও শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত হবেন।

×