ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

পাঁচ বছরে ১ কোটি বৈদেশিক কর্মসংস্থানের লক্ষ্য সরকারের

প্রকাশিত: ১৫:২৩, ৭ জুলাই ২০২৬

পাঁচ বছরে ১ কোটি বৈদেশিক কর্মসংস্থানের লক্ষ্য সরকারের

আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি বাংলাদেশির জন্য বৈদেশিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে শ্রমবাজারের বহুমুখীকরণ, দক্ষতা উন্নয়ন, অভিবাসন ব্যয় হ্রাস, সেবার ডিজিটালাইজেশন এবং প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণমূলক সুবিধা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর এক সাক্ষাৎকারে জানান, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, সাশ্রয়ী এবং দক্ষতাভিত্তিক করা হবে। বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা বিশ্লেষণ করে প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা চিহ্নিত করা হয়েছে, যা লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

বর্তমানে প্রতিবছর প্রায় ১১-১২ লাখ বাংলাদেশি বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যান। দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে ধীরে ধীরে এ সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

অভিবাসন সংস্কারের চারটি প্রধান অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে—প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ব্যয় কমানো, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রবাসী কল্যাণ নিশ্চিতকরণ। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দালাল নির্ভরতা কমাতে ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে প্রবাসগামী কর্মীরা এক জায়গা থেকেই সব সেবা পান।

অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে দেশভিত্তিক ব্যয় কাঠামো প্রণয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে। একই সঙ্গে অদক্ষ শ্রমিকের পরিবর্তে দক্ষ কর্মী তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে দেশের ১১০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।

সরকার প্রশিক্ষিত কর্মীদের একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করছে, যার মাধ্যমে বিদেশি নিয়োগকর্তারা সরাসরি দক্ষ কর্মী বাছাই করতে পারবেন। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে।

শ্রমবাজার সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ইউরোপ ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে নতুন সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এসব অঞ্চলে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশের সঙ্গে শ্রম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং আরও দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

জাপানে ১ লাখ কর্মী পাঠানোর চুক্তি কার্যকর থাকলেও নিয়োগ প্রক্রিয়া ধীরে এগোচ্ছে। কর্মীদের দক্ষতা ও কাজের মান যাচাই শেষে নিয়োগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। দুই দেশ স্বচ্ছ ও প্রায় শূন্য ব্যয়ে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। এতে কর্মী শোষণ ও অতিরিক্ত ব্যয় কমবে।

প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণে ডিজিটাল ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংকিং সুবিধা ও কিউআর-কোডভিত্তিক যাচাইকরণ থাকবে। এছাড়া অভিবাসন সংক্রান্ত সেবা অনলাইনে সম্পন্ন করার ব্যবস্থাও চালু হচ্ছে।

দেশে ফিরে আসা প্রবাসীদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে বিশেষায়িত হাসপাতাল, স্কিল ইনভেস্টমেন্ট পার্ক, আবাসন প্রকল্প এবং ‘প্রবাসী সিটি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রবাসীদের সন্তানদের জন্য বৃত্তি, আহত কর্মীদের আর্থিক সহায়তা এবং বিপদগ্রস্ত অভিবাসীদের পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু বেশি কর্মী বিদেশে পাঠানো নয়, বরং তারা যেন নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে কাজ করতে পারে এবং পুরো অভিবাসন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়, তা নিশ্চিত করা।

সূত্র: বাসস

×