ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে ফ্রান্স। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ছয় মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করে মরক্কোকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় ফ্রান্স। তবে মরক্কোর দৃঢ় রক্ষণ এবং গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর দুর্দান্ত নৈপুণ্যে বারবার হতাশ হন কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলেরা।
২৮তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সোনালি সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি ফ্রান্স। পেনাল্টি থেকে নেওয়া এমবাপের দুর্বল শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন বুনু। এরপর প্রথমার্ধে আর কোনো দল গোলের দেখা না পাওয়ায় বিরতিতে ০-০ সমতায় মাঠ ছাড়ে দুই দল।
বিরতির পরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ফ্রান্স। পাল্টা আক্রমণে মরক্কো কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও দুর্বল ফিনিশিংয়ের কারণে সফল হতে পারেনি। উল্টো ৬০তম মিনিটে জট ভাঙেন এমবাপে। বাম প্রান্ত থেকে বল নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে দারুণ কার্লিং শটে জাল খুঁজে নেন তিনি। পেনাল্টি মিসের হতাশাও মুহূর্তেই ভুলে যান এই গোলে।
গোল হজমের ছয় মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফ্রান্স। ৬৬তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে এগিয়ে এসে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে গোল করেন উসমান দেম্বেলে। বুনু বল স্পর্শ করলেও তা রুখতে পারেননি।
দুই গোল পিছিয়ে পড়ে মরক্কো আক্রমণের তীব্রতা বাড়ালেও ফরাসি রক্ষণ তাদের তেমন সুযোগ দেয়নি। শেষদিকে আশরাফ হাকিমি, আজেদিন উনাহি ও এল আয়নাউই গোলের চেষ্টা করলেও সফল হননি। একবার ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মেনিয়াঁর দুর্দান্ত সেভ এবং আরেকবার হেড সাইড নেটে লাগায় ব্যবধান আর কমানো সম্ভব হয়নি।
এই জয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠল ফ্রান্স। অন্যদিকে ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কোর স্বপ্ন থেমে গেল শেষ আটেই।
এদিন গোল করে টুর্নামেন্টে নিজের অষ্টম গোল পূর্ণ করেন কিলিয়ান এমবাপে। তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলতে নেমেই তিনি বিশ্বকাপে ২০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। এবারের আসরে আট গোল নিয়ে তিনি গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসির সমতায় রয়েছেন।
সেমিফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ হবে স্পেন ও বেলজিয়ামের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনালের বিজয়ী দল।








