ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

সিপিডি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির কারণে দেশ ১৩২৭ কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে

প্রকাশিত: ২০:৫৪, ১১ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির কারণে দেশ ১৩২৭ কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক ‘রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ চুক্তির ফলে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। 

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক বাজেট সুপারিশমালা বৈঠকে সংস্থাটি জানায়, এই চুক্তির ফলে সরকার বছরে কেবল শুল্ক বাবদই ১ হাজার ৩২৭ কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে। এছাড়া ডব্লিউটিও-র নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য দেশকেও একই সুবিধা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক ঝুঁকি আরও ঘনীভূত হয়েছে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন জানান, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সাড়ে ৪ হাজার মার্কিন পণ্যকে এখনই শুল্কমুক্ত সুবিধা দিতে হবে। এছাড়া আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে আরও ২ হাজার ২১০ প্রকার পণ্যে এই সুবিধা প্রসারিত হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই চুক্তি মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে একতরফা সুবিধা প্রদান করেছে, যা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এর ফলে ডব্লিউটিও-র সদস্য দেশগুলোও একই সুবিধা দাবি করতে পারে, যা রাজস্ব আদায়ে ধস নামাবে।

চুক্তির একটি বিতর্কিত দিক হলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্দিষ্ট পণ্য ক্রয়ের বাধ্যবাধকতা। সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এই চুক্তি আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ এটি নির্ধারণ করে দিচ্ছে আমরা কার কাছ থেকে পণ্য কিনব আর কার কাছ থেকে কিনব না। বেসরকারি খাতকে চড়া দামে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আনতে বাধ্য করতে সরকারকে বড় অংকের ভর্তুকি দিতে হতে পারে, যা বাজেটের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশনার প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করে সিপিডি।

বিশাল রাজস্ব ঘাটতি: জানুয়ারি পর্যন্ত রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে বাকি সময়ে ৫৯.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন, যা প্রায় অসম্ভব।

ব্যাংক ঋণের বোঝা: রাজস্ব কম হওয়ায় সরকার ব্যাংক থেকে ৫৯ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ কমিয়ে দিচ্ছে।

এডিপি বাস্তবায়নে স্থবিরতা: বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার মাত্র ২০.৩ শতাংশ, যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

মূল্যস্ফীতির চাপ: ৮ শতাংশের উপরে থাকা মূল্যস্ফীতি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকটে আরও অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নে সরকারকে ‘উচ্চাভিলাষী প্রবণতা’ থেকে সরে আসার পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি। সংস্থাটি মনে করে, বর্তমান কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৬.৮ শতাংশ, যা নির্বাচনি ইশতেহারের ১৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক দূরে। তাই কেবল কাগুজে লক্ষ্যমাত্রা না বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদী রাজস্ব সংস্কার, অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় হ্রাস এবং কর্মসংস্থানমুখী বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এফএ

×