ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

নিরাপদ ঈদযাত্রা নিয়ে শঙ্কা

ঝুঁকিপূর্ণ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল

প্রকাশিত: ২২:০৫, ১১ মার্চ ২০২৬

ঝুঁকিপূর্ণ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক

ঢাকা-বরিশাল মহসড়কের বিভিন্ন অংশে বিটুমিন উঠে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ

দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর সাথে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগের একমাত্র ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কটি দীর্ঘদিন থেকে অপ্রশস্ত। এরমধ্যে মহাসড়কের ভাঙা থেকে বরিশাল পর্যন্ত অংশের কোথাও বিটুমিন ওঠে গেছে, কোথাও তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। আবার কোথাও সড়ক দেবে গেছে, কোথাও টিউমারের মতো ফুলে উঠেছে।
ব্যস্ততম মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করায় এবারের ঈদযাত্রায় এ মহাসড়ক দিয়ে ঘরে ফেরা মানুষ দুর্ভোগে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন বরিশালবাসী। সরেজমিনে দেখা গেছে, বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া থেকে আশোকাঠী পর্যন্ত মহাসড়কের ডান পাশে বর্ধিতকরণের কাজ চলছে। তাছাড়া বামরাইল থেকে বাটাজোড় বাসস্ট্যা- হয়ে মাহিলাড়া পর্যন্ত মহাসড়কের কোথাও বিটুমিন ওঠে গেছে, কোথাও তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। আবার কোথাও সড়ক দেবে গেছে, কোথাও টিউমারের মতো ফুলে উঠেছে। এমনিতেই ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের এ অংশ অপ্রশস্ত। তার ওপর রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে যান চলাচল অনেক বেড়েছে। বর্ধিতকরণের জন্য গর্ত করে মাটি তোলায় মহাসড়কের অবস্থা আরও নাজুক হয়ে উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বরিশাল থেকে ফরিদপুরের ভাঙা পর্যন্ত দূরত্ব ৯৭ কিলোমিটার। এরমধ্যে ২৪ ফুট প্রশস্তের এই মহাসড়কটিতে সারাবছরই অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ থাকে। গত বর্ষা মৌসুমে মহাসড়কের বড় অংশেই তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বর্ষাকালে খানাখন্দে ভরা মহাসড়কের যানচলাচল সচল রাখতে বরিশাল অংশে জরুরি মেরামতের আওতায় বালু, পাথর ও পিচ দিয়ে সাময়িক সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু ছয় মাস যেতে না যেতেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে মহাসড়কের অনেক জায়গা। বিশেষ করে বরিশালের কাশিপুর চৌমাথা থেকে বাবুগঞ্জের রহমতপুর বিমানবন্দর পর্যন্ত মহাসড়কের অংশে বড় বড় গর্ত এখন যাত্রী ও চালকদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মহাসড়ক ঘুরে দেখা গেছে, কাশিপুর চৌমাথা থেকে বাবুগঞ্জের রহমতপুর পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় খানাখন্দ ও বালুর স্তুপ। কোথাও বিটুমিন ওঠে গিয়ে নিচের ইটের সুরকি বের হয়ে আছে। এরমধ্যে বরিশাল নগরীর শেষ অংশের গড়িয়ারপাড় থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলার শিকারপুর সেতু পর্যন্ত একদল শ্রমিক মহাসড়ক বর্ধিতকরণের কাজ করছেন। কোথাও খননযন্ত্র দিয়ে মাটি তোলার কাজ চলছে, আবার কোথাও খনন করা অংশে বালু ফেলা হয়েছে।

একই অবস্থা উজিরপুর উপজেলার জয়শ্রী থেকে গৌরনদীর কাসেমাবাদ পর্যস্ত মহাসড়কের অংশে। এছাড়াও মহাসড়কের আশোকাঠী, গৌরনদী বাসস্ট্যা-, মদিনাস্ট্যা-, টরকী, নীলখোলা, সাউদের খালপাড়, কটকস্থল, বাথী, ইল্লা ও ভূরঘাটা বাসস্ট্যা- পর্যন্ত বিভিন্নস্থানের মহাসড়কে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে ও টিউমারের মতো ফুলে ওঠায় যানচলাচল করতে হচ্ছে চরম ঝুঁকি নিয়েছে।
ব্যস্ততম এ মহাসড়কে চলাচলকারী বাসের চালক শাহিন তালুকদার বলেন, বর্ধিতকরণের কাজ করতে গিয়ে গর্ত করে রাখায় এখন রাস্তা আরও সরু হয়ে গেছে। দ্রুতগতির যানবাহন যখন অন্য গাড়িকে অতিক্রম করে তখন মনে হয় বাস খাদে পরে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে খুবই ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। ঈদের সময় এটা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম বলেন, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যে পরিমাণ যানবাহন চলাচল করে, সেই তুলনায় সড়কটি খুবই অপ্রশস্ত। তহবিলসংকট থাকায় ধাপে ধাপে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ করা হচ্ছে। বর্তমানে দুটি গুচ্ছে মোট ১২ কিলোমিটার অংশে বর্ধিতকরণের কাজ চলছে। একটির কাজ আগামী জুনের মধ্যে এবং অন্যটির কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যেসব স্থানে বড় বড় খানাখন্দ রয়েছে, সেগুলো ঈদের আগেই মেরামতের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এতে যান চলাচলে সাময়িক ভোগান্তি ও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় একইভাবে বিটুমিন ওঠে খানাখন্দের সৃষ্টিসহ মহাসড়কের দুই পাশে উঁচু-নিচু হয়ে টিউমারের মতো অবস্থায় রয়েছে ভুরঘাটা থেকে ভাঙা পর্যন্ত। ব্যস্ততম এ মহাসড়কে যাত্রী পরিবহনকারী এনা পরিবহনের চালক মো. ইউসুফ মিয়া বলেন, একদিকে মহাসড়কটি সরু, অন্যদিকে ভাঙাচোরাতো আছেই। তারমধ্যে অবাধে তিন চাকার অবৈধ যানের কারণে মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমছে না। প্রতিনিয়ত এই মহাসড়কে ছোট-বড় দুর্ঘটনা লেগেই রয়েছে। তিনি আরও বলেন, একটি সাধারণ দুর্ঘটনা হলেও পুরো মহাসড়ক বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। যে কারণে ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

বরিশালের একাধিক পরিবহন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মহাসড়কের ভাঙা থেকে বরিশাল পর্যন্ত গাড়ি চালানো এক প্রকার যুদ্ধ করার মতো অবস্থা। মহাসড়ক যেমন বেহাল, তেমনি সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ। এসবের কারণে গাড়ির গতি বাড়ানো যায় না। যারা একটু গতিতে চলে তারা দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এসব থেকে পরিত্রান পেতে ভাঙা থেকে বরিশাল পর্যন্ত মহাসড়ককে যতোদ্রুত সম্ভব ছয়লেনে উন্নীত করার কোন বিকল্প নেই।
হাইওয়ে থানার দায়িত্বশীল একটি সূত্রে জানা গেছে, ব্যস্ততম এ মহাসড়কে আগের চেয়ে যানবাহনের চাপ বেড়েছে বহুগুণ। প্রতিদিন এ মহাসড়কে ১৮ থেকে ২০ হাজার ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙা থেকে বরিশাল অংশে গত ছয় মাসে ছোট-বড় কমপক্ষে অর্ধশতাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে শতাধিক মানুষ আহত ও গুরুত্বর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন কমপক্ষে ১০ জন। এছাড়া দুর্ঘটনায় ২৫ জন নিহত হয়েছেন।

প্যানেল হু

×