ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

দুই শতাধিক পরিবারের জীবিকা এখন তালের হাতপাখা

নিজস্ব সংবাদদাতা, মাগুরা

প্রকাশিত: ২০:৫৮, ১১ মার্চ ২০২৬

দুই শতাধিক পরিবারের জীবিকা এখন তালের হাতপাখা

ছবি: জনকণ্ঠ

গরম পড়ার সাথে সাথে মাগুরার পাখা পল্লী বর্তমানে সরগরম হয়ে উঠেছে। তালের হাতপাখা তৈরিতে শিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাদের এক মুহূর্ত অবসর নেই। মাগুরার তৈরি তালের হাতপাখা দেশের বিভিন্ন জেলায় চালান যাচ্ছে। ফলে দুই শতাধিক পরিবারের মৌসুমি কর্মসংস্থান হয়েছে। এতে মাগুরা পাখার মোকামে পরিণত হয়েছে।

পাখা শিল্পী সূত্রে জানা গেছে, মাগুরা পৌর এলাকার শিবরামপুর, নিজনান্দুয়ালি, সদর উপজেলার সংকচখালি, শক্রুজিতপুর, শালিখার আড়পাড়া, পারিয়াট, ধনেশ্বরগাতি, মহম্মদপুরের বিনোদপুর প্রভৃতি গ্রামে তালের হাতপাখা তৈরি হয়। এসব গ্রামে দুই শতাধিক পরিবার পাখা তৈরির সাথে জড়িত।

প্রথমে তাল পাতা কেটে রোদে শুকিয়ে সুতা দিয়ে বাঁশের শলাকা ব্যবহার করে সেলাই করে তৈরি করা হয় তালের হাতপাখা। এরপর সৌন্দর্যের জন্য রং করা হয়। ফাল্গুন মাস থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত তালের হাতপাখার মৌসুম। একজন পাখা শিল্পী প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি পাখা তৈরি করতে পারেন। প্রতিটি পাখা তৈরিতে খরচ পড়ে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। খুচরা বিক্রি হয় প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

অন্য জেলা থেকে পাইকাররা এখানে এসে পাখা ক্রয় করে নিয়ে যান। বর্তমানে গরম পড়ায় পাখা শিল্পীদের এক মুহূর্ত বসার সময় নেই। পাখা শিল্পীদের বেশিরভাগই মহিলা। তারা দৈনিক ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করে থাকেন।

এক পাখা শিল্পী জানান, বর্তমানে তালের পাতার সংকট রয়েছে, ফলে পাখা তৈরিতে সমস্যা হচ্ছে। প্রতিটি তাল পাতা ২০ টাকা করে কিনতে হয়। এরপর কেটে রোদে শুকাতে হয়। তারপর বাঁশের শলাকা, সুতা ও রং দিয়ে পাখা তৈরি করা হয়।

তিনি বলেন, যে পরিমাণ পরিশ্রম পাখা তৈরি করতে হয়, সে তুলনায় লাভ কম। তারপরও সংসারের কাজের ফাঁকে বাড়তি আয়ের জন্য পাখা শিল্পীরা তালের হাতপাখা তৈরি করেন। বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের সময় গ্রামের স্বল্প আয়ের মানুষের একমাত্র ভরসা তালের হাতপাখা। পাখা শিল্পের সুতায় অনেক পরিবারের সংসার চলে। তাই পাখা শিল্পীদের এক মুহূর্ত বসার সময় নেই।

শহীদ

×