বইমেলা মানেই প্রাণের মেলা, প্রাণের স্পন্দন। বইমেলা মানেই অসামান্য এক নিটোল আনন্দের অনুভূতি। বইমেলা মানে এমন এক আয়োজন যা লেখক, পাঠক, প্রকাশক ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের মহামিলনক্ষেত্র। একটি নৈতিক, মানবিক ও আলোকিত সমাজ গঠন, মানুষে মানুষে সম্প্রীতি স্থাপন ও জ্ঞান-চক্ষু উন্মোচনের ক্ষেত্রে বইমেলা অপরিসীম গুরুত্বের দাবিদার।
মানুষ জীবনে নানা উপায়ে বা নানা কাজের মাধ্যমে আনন্দ খুঁজে পায়, তবে সে আনন্দ ক্ষণিকের। কিন্তু একটি ভালো বই পড়ার যে আনন্দ তার আনন্দ অবিনাশী। কেননা, ভালো বই মানুষের মনকে সমৃদ্ধ করে, চিন্তাকে প্রসারিত করে এবং জীবনকে নতুনভাবে দেখতে শেখায়। মানুষ অন্যভাবে ভাবতে শেখে। অন্যদিকে, বইমেলা মানুষের মধ্যে জ্ঞানের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করে এবং সংস্কৃতির চর্চাকে শক্তিশালী করে।একটি জাতি যখন উন্নত নৈতিকতা ও মূল্যবোধে আকৃষ্ট হয়, নিজেদের জীবনে তা ধারণ ও লালন-পালনে সচেষ্ট হয় তখন সে অন্ধকার পেরিয়ে আলোর পথে যাত্রা শুরু করে। দিশাহীন নাবিক পথ খুঁজে পেলে যেমন আনন্দ উপভোগ করেন, একজন ভালো পাঠকও মণিমুক্তা আহরণের স্বাদ আস্বাদন করেন বই পড়ার মাধ্যমে। তবে দুঃখজনক হলেও একথা সত্য, প্রযুক্তির যুগে মানুষ হয়ে উঠেছে যান্ত্রিক; আবেগ-অনুভূতিতে যেন ভাটা পড়েছে। স্মার্টফোন, ফেইসবুক, মেসেঞ্জার, গুগল, ইউটিউব বা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম স্ক্রোল করতেই দিন-রাতের অধিকাংশ সময় পার হয়ে যায়। বই পড়ার সময় থাকে না। ফলে আমাদের নতুন প্রজন্ম ধীরে ধীরে বই থেকে অনেকটাই দূরে সরে যাচ্ছে। অথচ বই মানুষের উত্তম বন্ধু। মানুষের চিন্তা-চেতনা বিকশিত করতে, মনকে উদার ও মানবিক করতে বইয়ের ভূমিকা অপরিসীম। বইকে যদি বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা যায় তবে অন্ধকার রাস্তায় তা আলোক রশ্মি হিসেবে পথ বাতলে দেবে বৈকি। উন্নত চরিত্র গঠন করতে হলে বই পড়ার অন্য কোনো বিকল্প থাকতে পারে না। আর উন্নত চরিত্রবান ব্যক্তিই গঠন করেন উন্নত সমাজ, গোষ্ঠী কিংবা জাতি- এ কথা আমাদের গ্রন্থিতে গেঁথে থাক, এ কথা যেন আমরা ভুলে না যাই।
তাই আসুন, আমরা বইকে ভালোবাসি। আলোকিত প্রজন্ম গড়ে তুলতে বই পড়ি, বই কিনি, প্রিয়জনকে বই উপহার দেই। তবেই গড়ে উঠবে উন্নত, জ্ঞানভিত্তিক ও আলোকিত সমাজ।
মধুখালী, ফরিদপুর থেকে
প্যানেল/মো.








