ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

মাধবপুরে ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়ম, প্রতিবাদকারীকে পিটুনির অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা,মাধবপুর, হবিগঞ্জ 

প্রকাশিত: ১৮:৪৫, ১১ মার্চ ২০২৬

মাধবপুরে ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়ম, প্রতিবাদকারীকে পিটুনির অভিযোগ

সরকারি বরাদ্দের ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় সোহেল মিয়া নামে এক দরিদ্র উপকারভোগীকে শারীরিকভাবে হেনস্তা ও মারধর করা এমন অভিযোগ মাধবপুর উপজেলার ৩নং বহরা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ফরিদ মিয়া ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে মাধবপুর উপজেলার বহরা  ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার সোহেল মিয়ার বাড়ি বহরা ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকাল থেকে বহরা  ইউনিয়নে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত প্রায় ১৪ টন ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রম চলছিল। ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের দরিদ্র ও অসহায় মানুষ চাল নিতে ইউনিয়ন পরিষদে জড়ো হন। তবে এ সময় কয়েকজন উপকারভোগী অভিযোগ করেন যে, তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও তারা চাল পাচ্ছেন না।

এক পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের পাশের একটি দোকান থেকে ৪ থেকে ৫ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। অভিযোগ ওঠে, ওই চাল বিতরণের আগেই গোপনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় উপস্থিত মানুষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এ সময় সোহেল মিয়া নামে এক দরিদ্র ব্যক্তি চাল বিতরণে অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরেন এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে বিষয়টি জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান ফরিদ মিয়া তার ছেলে ও গ্রাম পুলিশের কয়েকজন সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে সোহেল মিয়াকে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

ঘটনার সময় চাল বিতরণের তদারকি কর্মকর্তা এবং মাধবপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী তুষার পাল এবং মনতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মামুনসহ পুলিশের কয়েকজন সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। 

মারধরের শিকার সোহেল মিয়া বলেন, চাল পাচারের বিষয়টি আমি সবার সামনে তুলে ধরেছিলাম। এর ফল হিসেবে আমাকে মারধর করা হয়েছে। একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে তিনি কীভাবে একজন অসহায় মানুষকে এভাবে মারধর করতে পারেন? আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

তবে প্যানেল চেয়ারম্যান ফরিদ মিয়া তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সোহেল মিয়ার অভিযোগ সত্য নয়। চাল বিতরণের সময় সে গোলযোগ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। তাকে শুধু শাসন করা হয়েছে।

স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা সাবানা চৌধুরী বলেন, “আমি ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছি। একজন অসহায় মানুষকে এভাবে মারধর করা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং মানবাধিকারের পরিপন্থী। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।”

চাল বিতরণের তদারকি কর্মকর্তা তুষার পাল বলেন, “ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”

এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাশেম বলেন, “ভুক্তভোগী যদি লিখিত অভিযোগ দেন, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

রাজু

×