ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

ভোলা উপকূলের শ্রমজীবী নারী জেলে সম্প্রদায় সরকারি সুবিধা পেতে চান 

মোঃ ছানাউল্লাহ, ভোলা জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮:৫৫, ১১ মার্চ ২০২৬

ভোলা উপকূলের শ্রমজীবী নারী জেলে সম্প্রদায় সরকারি সুবিধা পেতে চান 

জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে সাগর ও নদীতে মাছ ধরলেও রাষ্ট্রীয় তালিকায় জেলে হিসেবে স্বীকৃতি না থাকায় সরকারি বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ভোলা উপকূলের হাজারো শ্রমজীবী নারী জেলে।

নারী জেলেদের অভিযোগ, পুরুষতান্ত্রিক সামাজিক প্রথা ও তালিকার অসংগতির কারণে বছরের পর বছর তারা অবহেলিতই থেকে যাচ্ছেন। ফলে পুরুষ জেলেদের মতো নারীদেরও সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে জেলে কার্ড দেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।

মেঘনা, তেতুলিয়া, কালাবাদর, ইলিশা, বেতুয়া ও বুড়াগৌড়ঙ্গসহ অসংখ্য নদী ও সাগরবেষ্টিত দ্বীপাঞ্চল নিয়ে গঠিত ভোলা জেলা। এই জেলার একটি বড় অংশই পেশায় জেলে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারীও দীর্ঘদিন ধরে মৎস্য আহরণের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু সরকারি তালিকায় তাদের নাম না থাকায় জেলে কার্ড, ভিজিএফ চালসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সহায়তা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।

ভোলা সদরের তুলাতুলি মৎস্যঘাটের নদীতে নৌকায় বসবাসরত ষাটোর্ধ্ব নারী জেলে কুলসুম বেগম জানান, জীবিকার তাগিদে স্বামীর সঙ্গে বহু বছর ধরে নদীতে মাছ ধরে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। কিন্তু এখনো কোনো সরকারি সহায়তা পাননি। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, “আর কত বয়স হইলে জেলে কার্ড পামু? এই বয়সে নদীতে না গিয়ে একটু ঘরে থাকতে চাই। সরকার যদি আমাদের একটু খোঁজ নিত, তাহলে ভালো হতো।”

একইভাবে রাজাপুর জোরাখাল এলাকার নৌকায় বসবাসরত ৫৫ বছর বয়সী রাশিদা বেগম বলেন, “আমাগো জন্ম নৌকার মধ্যে। ছোটবেলা থেইকা মাছ ধইরা সংসার চালাই। কিন্তু সরকারের খাতায় আমাগো নাম নাই। আমরা কোনো জেলে কার্ড পাই না।”

আরেক নারী জেলে রোজিনা বেগম জানান, নদীতে বসবাস করে সন্তানদের নিয়ে কঠিন জীবন পার করছেন তারা। পুরুষদের মতো সমান পরিশ্রম করলেও সরকারি কোনো সুবিধা পান না। “জেলে কার্ড বা ফ্যামিলি কার্ড পাইলে অনেক উপকার হইতো,” বলেন তিনি।

স্থানীয় মৎস্যজীবী নেতারাও নারী জেলেদের সরকারি স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন যে দুই থেকে তিন হাজার নারী মৎস্যজীবী রয়েছেন, যারা এখনও জেলে নিবন্ধনের আওতায় আসেননি। ফলে তারা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, সামনে নতুন করে জেলে নিবন্ধনের সময় নারী জেলেদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে তাদের নিজ নিজ উপজেলা ও জেলার নাগরিক হওয়া এবং স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এছাড়া চলতি বছর বিশেষ খাদ্য সহায়তার আওতায় চারশ’ জেলে পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান জানান, নতুন তালিকা প্রণয়নের সময় ভোলার মানতা সম্প্রদায়ের নারীসহ অন্যান্য নারী জেলেদের নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে এবং তাদের সরকারি সহযোগিতা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেওয়া হবে।
নারীনেত্রী এ্যাডভোকেট সাজেদা আক্তার বলেন , নদী ও উপকূলের খেটে খাওয়া নারী মৎস্যজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদের সরকারি তালিকাভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।

 

রাজু

×