ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ১৪ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

সম্ভাবনাময় মৌসুমের আশা

রাজশাহী অঞ্চলে গাছে গাছে আমের গুটি

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী

প্রকাশিত: ২৩:২৮, ১৩ মার্চ ২০২৬

রাজশাহী অঞ্চলে গাছে গাছে আমের গুটি

রাজশাহী অঞ্চলের গাছে গাছে সোনালি মুকুল ভেদ করে উঁকি দিয়েছে আমের গুটি। গাছের ডগায় হলুদাভ মুকুল ঝরে পাতার ফাঁকে ফাঁকে দেখা মিলেছে সবুজ বর্ণের আমগুটি। আমের এই গুটি অবস্থাকে আমকড়ালিও বলে থাকেন চাষিরা। তাদের ভাষায় গাছে গাছে এখন ক্রমেই মুকুল ঝরে বের হচ্ছে আমের গুটি বা আমকড়ালি।     
এবার মার্চের প্রথম সপ্তাহের পরই রাজশাহী অঞ্চলের গাছে আমের গুটির দেখা দেওয়ায় ভালো ফলনের আশা করছেন চাষিরা। আমের গাছে গাছে তাই আগাম পরিচর্যাও শুরু হয়েছে। রাজশাহী মহানগরী ছাড়াও জেলার বিভিন্ন এলাকায় এরইমধ্যে আমগুটি দেখা গেছে। আমচাষিরা বলছেন, এখন আমের গুটি ক্রমেই বড় হবে। এই সময় গাছের পরিচর্যা খুবই জরুরি। তাই পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগানিরা।
রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে এ বছর রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোর জেলায় ৯২ হাজার ৫৫২ হেক্টর জমিতে আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টন।
এছাড়া শুধুমাত্র রাজশাহী জেলায় চলতি মৌসুমে ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। এবার এ থেকে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের। কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলার প্রায় ৭০ শতাংশ আমগাছে মুকুল এসেছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ফলনের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী কৃষকরা। ইতোমধ্যে গুঁটির দেখা মিলেছে গাছে গাছে। তাই নিরবচ্ছিন্ন পরিচর্যা চলছে বাগানের গাছে গাছে।  
আম গবেষকরাও বলছেন, এ বছর মুকুলের পরিমাণ ও আবহাওয়া দুটোই অনুকূলে থাকায় রাজশাহীর আমচাষিরা পাচ্ছেন সম্ভাবনাময় মৌসুম। রাজশাহীর চারঘাটের আমচাষি ইমরান আলী বলেন, গাছে আমের মুকুল ভালোই এসেছে এবার। এখন গুঁটি হচ্ছে। আশা করছি, এরকম আবহাওয়া থাকলে দ্রুত গুঁটি বাঁধবে, তাহলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে। এবার কুয়াশা কম, বৃষ্টিপাত হয়নি। সব মিলে আমের ভালো মৌসুম ধরা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
জেলার বাঘা উপজেলার আমচাষি নুরুজ্জামান বলেন, আবহাওয়া আম চাষের জন্য উপযোগী রয়েছে এ বছর। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ভালো ফলন হবে তাতে কোনো সন্দেহ  নেই। রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও পবা উপজেলার কয়েকটি বাগান ঘুরে দেখা যায়, আমগাছে সবুজ গুঁটি ধরতে শুরু করেছে। চাষিরা এই পর্যায়ের ফলকে ‘কড়ালি’ বলে থাকেন। এই সময়ে অনেক গাছে হপার পোকার আক্রমণও দেখা যায়। তাই মুকুল ঝরার সময় হপার পোকা দমনে কীটনাশক ব্যবহার করছেন বাগান মালিকরা। পবা উপজেলার বালানগর গ্রামের আমচাষি নাজমুল করিম বলেন, আমাদের সব গাছে মুকুল এসেছিল। এখন গুঁটি হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, এবার ভালো ফলন হবে। বাঘা উপজেলার আমচাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, এবার সব গাছেই মুকুল এসেছে। অনেক গাছে এরই মধ্যে দেখা মিলেছে আমের গুঁটির।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান বলেন, এই বছর আমের ‘অন ইয়ার’। সাধারণত ২০ শতাংশ গাছে এক বছর পর পর ফল আসে। এ কারণে ফলনের তারতম্য কমই ঘটে থাকে। তবে এবার ব্যতিক্রম হয়েছে। প্রায় সব গাছে দেখা মিলেছে আমের মুকুলের। এখন সেই মুকুল ঝরে গুঁটিতে রূপ নিচ্ছে। এই সময় বাড়তি পরিচর্যার পরামর্শ দরকার বলে জানান তিনি।  তিনি বলেন, আবহাওয়া, পরাগায়ণের সমস্যা ও রোগবালাই ইত্যাদি বিষয়ের ওপর ফলন  নির্ভর করে। তিনি মনে করেন এবার সার্বিক পরিস্থিতি সবমিলিয়ে ভালো রয়েছে।
রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, এ বছর শীতের সময় কম ছিল। তাই জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে গাছে মুকুল আসতে শুরু করে। মুকুল পর্যায়ে এই ধরনের আবহাওয়া থাকলে ফল ধারণ ভালো হয়। এখন  গুঁটির সময়। এই ফলগুলো যদি টিকে তাহলে আশা করা যায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে।

প্যানেল / জোবায়ের

×