মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নাটকীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে পারস্য উপসাগরে একটি মার্কিন তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরায়েলি হামলায় নিজেদের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের হারানোর পর তেহরানের এই সরাসরি পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ ওই অঞ্চলে যুদ্ধের সমীকরণ বদলে দিচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন পেন্টাগন দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
পেন্টাগনের রণকৌশল ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা
মার্কিন সামরিক নীতিনির্ধারকরা ধারণা করছেন, এই অস্থিরতা অন্তত আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ওয়াশিংটন বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে:
সেনা মোতায়েন: মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সৈন্য এবং উন্নত সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
গোয়েন্দা তৎপরতা: পুরো অঞ্চলের গতিবিধির ওপর নজরদারি বাড়াতে পেন্টাগন গোয়েন্দা কার্যক্রমের পরিধি বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে।
নিরাপত্তা পরিষদে উত্তপ্ত বিতর্ক: বিভক্ত বিশ্বশক্তি
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের সাথে রাশিয়া ও চীনের তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
ভোটের ফলাফল ও বিতর্ক: নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের বৈঠকে ইরানবিরোধী নিষেধাজ্ঞা তদারকি কমিটি (১৭৩৭ কমিটি) বাতিলের প্রস্তাব দেয় রাশিয়া ও চীন। তবে ভোটাভুটিতে তা ১১-২ ব্যবধানে বাতিল হয়ে যায় (দুই দেশ ভোটদানে বিরত ছিল)।
ইরানের অবস্থান: জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানী পুনরায় নিশ্চিত করেছেন যে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তেহরান নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা মেনে নেবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরে হামলা এবং নিরাপত্তা পরিষদে পরাশক্তিদের এই বিভক্তি প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্য সংকট এখন আর কেবল আঞ্চলিক সীমাবদ্ধতায় নেই, বরং এটি একটি বৈশ্বিক স্নায়ুযুদ্ধে রূপ নিচ্ছে।
রাজু








